
ব্যাংক-এমএফএস কর্মকর্তার পরিচয়ে আর্থিক প্রতারণা, তদন্ত কি আদৌ হয়?
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমানে প্রযুক্তিগত ত্রুটির চেয়ে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার ঘটনা বেশি ঘটছে।

দেশজুড়ে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেন জনপ্রিয় করতে ‘বাংলা কিউআর’ চালু হলেও একটা দুশ্চিন্তা থেকে গিয়েছিল। সেটা হলো মার্চেন্ট ফি। নতুন পর্যায়ে বাংলা কিউআর চালুর পর মানুষের এক ধরনের আগ্রহ দেখা গেলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা পর্যায়ে প্রশ্ন থেকে গিয়েছিল এই মার্চেন্ট ফি নিয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় এর একটি মীমাংসার আভাস মিলেছে।
বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা ‘মার্চেন্ট ফি’ দেওয়ার বিধান রাখা হয়। এতে লেনদেন বাড়লেও বাড়তি খরচের বোঝা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। অনেক ব্যবসায়ীই এই অতিরিক্ত খরচের কারণে গ্রাহকের কাছ থেকে বাংলা কিউআরে পেমেন্ট নিতে আগ্রহ দেখাতেন না। এখানেই বদলের আভাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণায় বলা হয়েছে, বাংলা কিউআরে লেনদেনের ক্ষেত্রে আর কোনো মার্চেন্ট ফি দিতে হবে না। এই ফি পুরোপুরি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায়ী কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন।
গত ২৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে গভর্নর এ ঘোষণা দেন। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ১০০ কোটি টাকার একটি প্রণোদনা তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা থেকে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সুবিধা বা প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর উদ্দেশ্য- ফি না থাকলেও সেবার মান যেন ব্যাহত না হয়।
লেনদেন কি বাড়ছে?
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালে বাংলা কিউআর ব্যবস্থা প্রবর্তন করে। দেশজুড়ে ইন্টারঅ্যাপারেবল, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে সব ব্যাংকের অ্যাপভিত্তিক লেনদেন নিষ্পত্তিতে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করে। এ ব্যবস্থায় এরই মধ্যে যুক্ত হয়েছে ৩৭টি ব্যাংক।
নতুন অর্থবছরের শুরুতে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার কিছু ফল এরই মধ্যে পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বাংলা কিউআর ব্যবহারে দৈনিক লেনদেন ছিল যথাক্রমে ৭ কোটি ও সাড়ে ৬ কোটি টাকা। আর নতুন নিয়ম চালুর পর প্রথম দুদিনেই; অর্থাৎ, ৩০ জুন ও ১ জুলাইয়ের মধ্যেই বাংলা কিউআর কোড ব্যবহারে মোট ২২ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ৩৫ হাজার থেকে ৩৭ হাজার বার এই কিউআর কোড স্ক্যান করা হচ্ছে। এর দৈনিক আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ থেকে ১২ কোটি টাকা।
তবে লেনদেনের এই পরিমাণ আশানুরূপ নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ক্ষেত্রেই সামনে এসেছে মার্চেন্ট ফির প্রসঙ্গটি।
ব্যবসায়ীরা কী বলছেন?
এ নিয়ে গতকাল রোববার কথা হয় রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুদি দোকানদার আহসান হাবিবের সঙ্গে। মার্চেন্ট ফি নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলেও তিনি এরই মধ্যে বাংলা কিউআর নিয়েছেন। চরচাকে তিনি বলেন, “আমি শুরুর দিকেই বাংলা কিউআর নিয়েছি। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পছন্দ করি। কিন্তু ফি বেশি হওয়ার কারণে দুশ্চিন্তায় ছিলাম।”
মার্চেন্ট ফি’র প্রসঙ্গ তুলে আহসান বলেন, “মনে করেন, গ্রাহক একটা পণ্যের দাম ১০০০ টাকা দিল। কিন্তু ক্যাশ আউট করতে গিয়ে আমাকে ১০ টাকা খরচ করতে হলো। অর্থাৎ, আমার অতিরিক্ত ১০ টাকা চলে গেল। এটা তো আমার লস। আমি মনে করি, কোনো ব্যবসায়ী এটা পছন্দ করবে না।”
চার্জ ফ্রি করে দেওয়ার ঘোষণায় স্বস্তি প্রকাশ করে এই ব্যবসায়ী বলেন, “সরকারের এই উদ্যোগের ফলে আমাদের মতো ছোট দোকানদারদের খুব ভালো হবে।”
সরকারের এই কৌশলগত উদ্যোগ ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য অর্জনকে সহজ করবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম চরচাকে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাংলা কিউআর নিতে আগ্রহী হবেন।”
প্রকল্পটি সঠিকভাবে এগিয়ে নিতে ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করে তিনি বলেন, “প্রকৃতপক্ষে যারা এর সঙ্গে জড়িত, তারা এর ভালো-মন্দ উভয় দিকই জানে। তাই তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। প্রয়োজনে তাদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া যেতে পারে।”
তবে আহসান হাবিবের মতো ব্যবসায়ীর সংখ্যা কম। অধিকাংশ ব্যবসায়ীই এখনো বাংলা কিউআর নেননি। মো. বাবুল হোসেন নামের আরেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি চরচাকে বলেন, “বাংলা কিউআর কী জিনিস, আমি তা জানি না। আমার বিকাশ অ্যাকাউন্ট আছে। তাতেই লেনদেন করি। আমার আশপাশের কেউ এখনো বাংলা কিউআর অ্যাকাউন্ট খোলেনি।”
ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার যে লক্ষ্য, তা অর্জনে বাংলা কিউআর আনা হলেও এ নিয়ে প্রচার এখনো সীমিত। এ ক্ষেত্রে একটি ইকো সিস্টেম গড়ে তোলার ওপর জোর দেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। চরচাকে তিনি বলেন, “ধরুন, আমি একটা টুলস চালু করলাম। কিন্তু এটা যারা ব্যবহার করবেন, তারা এই বিষয়ে তেমন কিছুই জানে না। তাহলে কাজ হবে না।”
বাংলাদেশের মতো একটি দেশের সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করার সুপারিশ করে এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে উঠলে সেটা দেশেরই লাভ। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে এই খাতে বিভিন্ন প্রোণোদনা বা যা যা লাগে, তা দিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা।”
অন্য দেশের অভিজ্ঞতা কী বলে
মার্চেন্ট ফি বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে নির্ধারণ করেছে সেই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটা একেক দেশে একেকভাবে কাজ করে।
যুক্তরাষ্ট্রে কিউআর কোড বা যেকোনো ডিজিটাল পেমেন্টে সাধারণত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট গেটওয়েগুলো কাজ করে। তাই পেপাল বা স্কয়ারের মতো মাধ্যমে কিউআর কোড ব্যবহারে মার্চেন্টদের প্রায় দেড় থেকে ২ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত মার্চেন্ট ফি দিতে হয়। ছোট ব্যবসায়ীরা এই ফিকে বোঝা হিসেবেই দেখে। তাই দেশটির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখনো কিউআর কোডের জায়গায় প্রচলিত কার্ড বা ক্যাশ পেমেন্টে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
যুক্তরাজ্যে মার্চেন্টরা ডিজিটাল বা কিউআর পেমেন্ট গ্রহণ করলে তাদের প্রসেসিং ফি গুনতে হয়। দেশটিতে পেপালের মতো বড় পেমেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কিউআর পেমেন্টে মার্চেন্টদের প্রতি লেনদেনে প্রায় দেড় থেকে ২ শতাংশ ফি এবং নির্দিষ্ট কিছু ফিক্সড চার্জ দিতে হয়। কার্ডভিত্তিক অনলাইন লেনদেনের চেয়ে এটি কিছুটা সাশ্রয়ী হলেও অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
ডিজিটাল ও কিউআর পেমেন্টের ক্ষেত্রে চীন বিশ্বজুড়ে একটি বড় উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। দেশটির জনপ্রিয় উইচ্যাট পে এবং আলিপে মার্চেন্টদের কাছ থেকে খুব সামান্য, সাধারণত ০ দশমিক ৩৮ শতাংশ থেকে ০ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত সার্ভিস ফি নেয়। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা রাস্তার পাশের দোকানদারদের জন্য এ ফি আরও কম। আবার কোথাও কোথাও নির্দিষ্ট শর্তে একদম ফ্রি থাকে। এই উদ্যোগ চীনের ক্যাশলেস বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়েছে।

ভিয়েতনামে ‘ভিয়েতকিউআর’, মালয়েশিয়ার ‘ডুইটনাউ কিউআর’ ও থাইল্যান্ডের ‘প্রম্পটপ’ সেবার পেমেন্ট ব্যবস্থা বেশ সহজ। দেশগুলোতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ কেনাকাটার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো ফি নেওয়া হয় না। ভিয়েতনামে ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ কিউআর লেনদেনে মার্চেন্টদের প্রায় কোনো ফি দিতে হয় না। থাইল্যান্ডে বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ধরনভেদে সামান্য প্রসেসিং চার্জ কাটা হয়। এ কারণে উভয় দেশে এ সেবা বেশ জনপ্রিয়।
মালয়েশিয়ায় অবশ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত লেনদেনে কোনো মার্চেন্ট ফি রাখা হয়নি। বর্তমানে দেশটিতে সাধারণ লেনদেনে ব্যাংকভেদে প্রায় ০ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ০ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রসেসিং ফি নির্ধারণ করা হলেও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় নগণ্য হিসেবেই দেখা হয়।
সিঙ্গাপুরের ‘এসজিকিউআর’ ব্যবস্থা সরাসরি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ছোট ব্যবসায়ীদের সাধারণত কোনো ফি দিতে হয় না। তবে ক্রেডিট কার্ড লিংক করা অ্যাপের মাধ্যমে কিউআর স্ক্যান করলে ক্ষেত্রভেদে ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত মার্চেন্ট ফি প্রযোজ্য হয়।
ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘পিক্স’ পেমেন্ট সিস্টেম ও কিউআর সিস্টেম দ্রত সাফল্য পেয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ে লেনদেন সম্পূর্ণ ফ্রি হলেও মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে লেনদেনের ধরনভেদে খুব নগণ্য বা ০ দশমিক ৫ শতাংশের কাছাকাছি সার্ভিস ফি কাটা হয়। তবে এটা প্রথাগত কার্ড পেমেন্টের চেয়ে বহুগুণ সাশ্রয়ী। ব্রাজিল সরকারের এই বিশেষ নীতির ফলে দেশটির ছোট-বড় সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহার ব্যাপক বেড়েছে।
পাকিস্তানে ডিজিটাল পেমেন্ট জনপ্রিয় করতে সেই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘রাস্ট’ (আরএএএসটি) নামের একটি তাৎক্ষণিক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছে। এই সিস্টেমের আওতায় কিউআর কোডে কেনাকাটা ও লেনদেনে কোনো অতিরিক্ত ফি বা মার্চেন্ট চার্জ কাটা হয় না। ফলে দেশটির সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনের প্রবণতা বাড়ছে।
মোটাদাগে মার্চেন্ট ফি নগন্য বা একদম না থাকলে এ ধরনের ব্যবস্থা জনপ্রিয় হতে দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে নির্দিষ্ট হারে ফি থাকার কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই লেনদেন ব্যবস্থাটি এখনো তেমন জনপ্রিয় নয়। কিউআর কোড ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে মার্চেন্ট ফি তুলে দিয়ে সাফল্য পেয়েছে ভারত।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটটি ভারতের সঙ্গে তুলনীয়। ২০১৭ সালে ভারতে সিঙ্গেল কিউআর কোড (ভারত কিউআর) চালুর সময় ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ কার্যকর ছিল। শুরুতে ২ হাজার টাকার নিচের লেনদেনে সাধারণত ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ২ হাজার টাকার বেশি লেনদেনে ১ শতাংশ পর্যন্ত মার্চেন্ট ফি নেওয়া হতো।
সেই বছরের শেষের দিকের নিয়ম কিছুটা বদলে মার্চেন্ট ফি কমিয়ে আনা হয়। কিন্তু কম হলেও এই মার্চেন্ট ফির কারণে অনেক ছোট দোকানদার কিউআর কোড ব্যবহারে অনীহা দেখানোয় ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই ফি পুরোপুরি উঠিয়ে নেয়।
২০১৯-২০ অর্থবছরে মার্চেন্ট ফি প্রত্যাহারের ঠিক আগে দেশটিতে বার্ষিক ইউপিআই লেনদেনের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ২৫১ কোটি। আর মার্চেন্ট ফি পুরোপুরি উঠিয়ে দেওয়ার পরের দুই বছরে তা বেড়ে চার গুণ হয়। এই সময়ে বার্ষিক লেনদেন হয় গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৫৯৬ কোটি। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বার্ষিক লেনদেন ২৪ হাজার ১৬২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর কারণ শূন্য মার্চেন্ট ফি। এ নীতির ফলে ছোট চা-দোকানদার থেকে শুরু করে বড় শপিং মল পর্যন্ত সবাই নির্দ্বিধায় কিউআর পেমেন্ট গ্রহণ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মোসতাকুর রহমানের সাম্প্রতিক ঘোষণা দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আগ্রহী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা বাড়তি কিছু সুবিধাও পাবেন।
ব্যবসায়ীদের যেসব সুবিধা হবে
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, শহরের ফুটপাতের চা-দোকানি, হকার কিংবা গ্রামীণ বাজারের ছোট মুদি দোকানদার, এদের সিংহভাগ লেনদেনই এতদিন সম্পূর্ণ নগদ অর্থ বা ক্যাশের ওপর নির্ভর করে চলত। বাংলা কিউআরের ফলে তাদেরই সবচেয়ে বেশি সুবিধা হবে।
ব্যবসায়ীক খরচে সাশ্রয় ও ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ দিতে ফি তুলে নেওয়া হলে ছোট ব্যবসায়ীদের পকেট থেকে এখন আর একটি টাকাও বাড়তি খরচ হবে না। ১০০ টাকার কেনাকাটায় পুরো ১০০ টাকাই তাদের হিসাবে জমা হবে। ফলে ক্যাশ পেমেন্ট গ্রহণের ঝামেলা, যেমন- ভাঙতি টাকার সংকট, ছেঁড়া-ফাটা নোটের ঝুঁকি বা নগদ টাকা চুরি যাওয়ার ভয় থেকে তারা মুক্তি পাবেন।
দেশে অধিকাংশ ভাসমান বা অনানুষ্ঠানিক খাতের ব্যবসায়ীর কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বা ‘ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন’-এ আনার ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর একটি সেতু হিসেবে কাজ করবে।
ব্যাংক বা এমএফএসগুলো এখন সহজে ‘পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট’ বা ‘ক্ষুদ্র মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট’ খোলার সুবিধা দিচ্ছে। এর জন্য জটিল কোনো কাগজপত্র বা ট্রেড লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করেই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এই অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান চরচাকে বলেন, “প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা যখন প্রতিদিনের বেচাকেনার টাকা ক্যাশে না নিয়ে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে তাদের ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে জমা করবেন, তখন তাদের একটি ‘ডিজিটাল ট্রানজেকশান হিস্ট্রি’ তৈরি হবে। আগে যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যাংকের দরজায় গিয়ে ঋণ পেতেন না, এখন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য দেখেই তাদের ব্যবসার সঠিক টার্নওভার বুঝতে পারবে। তখন এর ওপর ভিত্তি করেই কোনো জামানত ছাড়াই ঋণ পাবেন তারা। অর্থাৎ, একজন দোকানদার হয়তো দিনে অনেক টাকার বেচাকেনা করেন। কিন্তু তিনি যখন ব্যাংকে ঋণ নিতে বা অন্য কোনো সেবা নিতে যান, তখন তিনি তা পান না। কারণ, ব্যাংক তাকে চেনে না। বাংলা কিউআরে লেনদেন করলে সেই দোকানদারকে ব্যাংক চিনতে পারবে।”

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমানে প্রযুক্তিগত ত্রুটির চেয়ে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার ঘটনা বেশি ঘটছে।

অবশেষে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে ডিজিটাল ব্যাংক। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই ব্যাংকগুলো অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। শুরুতেই ১২ থেকে ১৩টি ডিজিটাল ব্যাংককে অনুমোদন দেওয়া হবে। নীতিগত প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে কমপক্ষে ছয় থেকে আট ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস পাচ্ছেন সিএনজি চালকরা। অনেক ফিলিং স্টেশনে সিএনজি ঢুকতেও দেয়া হয় না। শুধু গাড়ি থাকলে গ্যাস নিতে দেয়া হয়।

বৈঠকের আগে থেকেই বিএনপির একাধিক নেতা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণই হবে বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।