দেশে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং অনিয়ন্ত্রিত দ্রব্যমূল্যের সমালোচনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সরকারের নীতি ও ব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “সরকারের পাঁচ মাসেই এই অবস্থা। ইংরেজিতে একটি কথা আছে—‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’। অর্থাৎ দিন কেমন যাবে, তা সকালেই বোঝা যায়। বর্তমান সরকার লুটপাটে ব্যস্ত, জনদুর্ভোগ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।”
আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “উনারা বিরোধী দল দমন এবং নতুন নতুন ন্যারেটিভ তৈরিতে ব্যস্ত। কিন্তু দ্রব্যমূল্য, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। অথচ গ্যাসের তীব্র সংকট, বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিং এবং নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম মানুষের নগরজীবনকে দুঃসহ করে তুলেছে।”
সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া গ্যাস সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “কয়েকদিন আগে দেখা গেল রাজপথে গৃহিণীরা হাঁড়ি, কড়াই ও খুন্তি নিয়ে মিছিল করছেন। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। তিতাস, বিবিয়ানা, হবিগঞ্জ ও রশিদপুরের মতো অভ্যন্তরীণ গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন কমলেও নতুন কোনো তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের পরিকল্পনা এই সরকারের দেখা যাচ্ছে না। এলএনজি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ফলেই এই সংকট।”
জামায়াতের এই নেতা আরও যোগ করেন, গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর গৃহস্থালির রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চেপেছে। একই সাথে পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না, ফলে সারাদেশে ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে। পোশাক, ইস্পাত, সিরামিক ও সার কারখানাসহ শিল্প উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের কারণে পরিবহন খাতেও ভোগান্তি বাড়ছে।
বিদ্যুৎ খাতের তীব্র সংকট ও অতিরিক্ত খেসারতের বিষয়ে পরওয়ার বলেন, “২৬ সালের জুনে এসে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৬.৬৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের বিল আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ‘ভূতুরে বিলের’ হয়রানি। যা ব্যবহার হয়নি, তার চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ বিল মানুষের বাড়িতে পাঠোনো হচ্ছে। সরকার তদন্ত ও সমাধানের কথা বললেও বাস্তবে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে গেছে। কাঁচা মরিচের দাম এখন কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। সরকার অবিলম্বে এসব জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংকট সামনে আরও ঘনীভূত হবে।”