চরচা ডেস্ক

দ্য কনভারসেশন সাময়িকীর একটি বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে চলমান নজিরবিহীন ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের ভয়াবহ রূপ এবং এর পেছনে থাকা নানাবিধ কারণ ও মানবিক সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত ও পাকিস্তানের জন্য গরম কোনো নতুন বিষয় নয়। প্রতি বছরই জুনের শুরুতে মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা আসার আগে মে মাসের এই সময়টাতে গরমের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করে।
কিন্তু ২০২৬ সালের এই বছরের গরম পূর্বের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে এক ভিন্ন মাত্রায় রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই এই অঞ্চলে তীব্র ও একটানা তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে, যা মে মাসের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। অনেক এলাকায় দৈনিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে, যা বছরের এই সময়ের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি। এই একটানা তীব্র গরমের কারণে ভারতে বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ মানুষ জীবন বাঁচাতে ব্যাপকভাবে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি ব্যবহার করছে। একই সাথে এই চরম গরম দুই দেশের প্রায় ১০ লাখ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে চলমান খরা পরিস্থিতিকে আরও মারাত্মক করে তুলেছে।
তবে এই তীব্র গরম যখন উচ্চ আর্দ্রতার সাথে মিশে যায়, তখন তা মানবদেহের জন্য চরম প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। কারণ এমন আবহাওয়ায় মানুষের শরীর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিজেকে ঠান্ডা করতে পারে না। ইতিমধ্যেই এই তাপপ্রবাহের কারণে ভারতে অন্তত ৩৭ জন এবং পাকিস্তানে ১০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সংখ্যাটিকে প্রকৃত মৃত্যুর তুলনায় অনেক কম বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ভারতে তাপপ্রবাহ জনিত মৃত্যুর তথ্য পদ্ধতিগতভাবেই সবসময় প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম গণনা করা হয়।
প্রতিবেদনে এই চরম ও অস্বাভাবিক গরমের পেছনে থাকা আবহাওয়াজনিত তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী কারণগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সাধারণত বর্ষা বা মৌসুমি বায়ুর জন্য অপেক্ষার এই সময়টা গরম হলেও বেশ কিছু বায়ুমণ্ডলীয় উপাদানের কারণে পরিস্থিতি এবার অনেক বেশি শোচনীয় হয়ে উঠেছে। চলতি বছরে এই তীব্র সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো স্থায়ী উচ্চ-চাপ আবহাওয়া ব্যবস্থা বা ‘পারসিস্টেন্ট হাই-প্রেশার ওয়েদার সিস্টেমস’। বায়ুমণ্ডলের এই উচ্চ-চাপ বলয়গুলো যখন কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর স্থির হয়ে বসে থাকে, তখন তা মেঘ গঠনে বাধা সৃষ্টি করে এবং শীতলকারী বৃষ্টির সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেয়।
এই বছর ঠিক এমন একটি শক্তিশালী উচ্চ-চাপ বলয় ভারত ও পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ অংশের ওপর জেঁকে বসেছে, যা ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি গরম বাতাসকে আটকে রেখেছে এবং দিনের পর দিন ধরে তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধির সুযোগ করে দিয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ার ফলে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা যেমন বাড়ছে, তেমনি মাটির আর্দ্রতাও সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটির এই শুষ্কতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। কারণ মাটি শুকিয়ে গেলে সূর্য থেকে আসা তাপ মাটির ভেতরের পানি বা আর্দ্রতা বাষ্পীভবন করার কাজে ব্যয় হতে পারে না, ফলে সেই শক্তির পুরোটা সরাসরি ভূখণ্ডকে উত্তপ্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
এই উচ্চ-চাপ ব্যবস্থাগুলো সাধারণত অনেক দিন ধরে একই স্থানে অবস্থান করতে পারে, যা চরম তাপমাত্রাকে আরও ঘনীভূত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। এই পরিস্থিতি শহরের এলাকাগুলোতে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ বলা যায়। শহরের কংক্রিট এবং পিচঢালা রাস্তা দিনের বেলা প্রচুর তাপ শোষণ করে এবং রাতের বেলা তা খুব ধীরে ধীরে বাতাসে ছাড়ে। এর ফলে রাতের বেলাও শহরের তাপমাত্রা কমে না, যা শীতলীকরণের সুযোগবঞ্চিত সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
তাৎক্ষণিক এই কারণগুলোর পেছনে যে মূল এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবকটি কাজ করছে, তা হলো বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন। বিশ্বজুড়ে যেভাবে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে, তার সরাসরি প্রভাবে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ২৯ এপ্রিলের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় যে প্রথম বড় তাপপ্রবাহটি আঘাত হেনেছিল, তা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই প্রায় তিন গুণ বেশি সম্ভাব্য এবং প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। বর্তমানে বিশ্বে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ প্রাক-শিল্পায়নের যুগের চেয়ে প্রায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি রয়েছে, যার মানে হলো এই অঞ্চলের মানুষকে এখন প্রতি পাঁচ বছরে অন্তত একবার এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
কিন্তু বর্তমানের বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের ধারা বজায় থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। যদি সত্যি তেমনটি ঘটে, তবে এই ধরণের তীব্র তাপপ্রবাহ প্রতি দুই থেকে তিন বছর পর পর এই অঞ্চলে আঘাত হানবে এবং এর তাপমাত্রা বর্তমানের চেয়ে আরও ২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উত্তপ্ত ও ভয়ানক হবে।
দ্য কনভারসেশনের প্রতিবেদনে থার্মোমিটারের সংখ্যার চেয়েও বড় যে বিপদের কথা বলা হয়েছে, তা হলো আর্দ্রতা বা হিউমিডিটি, যা গরমকে আরও বেশি প্রাণঘাতী করে তোলে। ভারত ও পাকিস্তানের অনেক অঞ্চল প্রাকৃতিকভাবেই অত্যন্ত আর্দ্র। যখন তীব্র গরমের সাথে এই উচ্চ আর্দ্রতা যুক্ত হয়, তখন মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর তা দ্বিগুণ বিপর্যয় ডেকে আনে। দুঃখজনকভাবে, এই অঞ্চলের অনেক অংশে আর্দ্রতার মাত্রা ক্রমান্বয়ে আরও খারাপ হচ্ছে। এর কারণ হলো অত্যন্ত আর্দ্র আবহাওয়ায় মানুষের শরীর প্রাকৃতিকভাবে নিজেকে শীতল করতে পারে না। মানবদেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রধানতম প্রাকৃতিক উপায় হলো ঘাম তৈরি করা। ত্বক থেকে যখন এই গরম পানির ফোঁটা বা ঘাম বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মিলিয়ে যায়, তখন তা শরীরের ভেতরের অতিরিক্ত তাপকে সাথে করে নিয়ে যায় এবং শরীর শীতল হয়।
কিন্তু বাতাস যখন আগে থেকেই প্রচুর জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতায় পূর্ণ থাকে, তখন ত্বক থেকে ঘাম বাষ্পীভূত হতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় নেয় কিংবা ঘাম একেবারেই শুকাতে চায় না। এর ফলে শরীর ক্রমাগত ঘামতে থাকা সত্ত্বেও ভেতরের তাপমাত্রা একটুও কমে না, বরং ক্রমশ বাড়তে থাকে। বিজ্ঞানীরা এই যৌথ পরিস্থিতিকে লেথাল হিউমিডিটি বা প্রাণঘাতী আর্দ্রতা বলে অভিহিত করছেন। যা মানুষকে দ্রুত অসুস্থ করে এবং মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। এই প্রক্রিয়ায় মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়; যেখানে প্রথমেই শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বা কোর বডি টেম্পারেচার বাড়তে শুরু করে। শরীর তাপ বর্জনের জন্য আরও বেশি ঘাম উৎপাদন করে, কিন্তু আর্দ্রতার কারণে তা কাজ করে না। এই অবস্থা থেকে দ্রুত মুক্তি না মিললে শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে যায় এবং মানুষ ‘হিটস্ট্রোক’-এর শিকার হয়, যা মানব মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দেয়। জরুরি চিকিৎসা এবং দ্রুত শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা না করা হলে এই পরিস্থিতি নিশ্চিত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তাপ এবং আর্দ্রতার এই সম্মিলিত বিপদ পরিমাপের জন্য বিজ্ঞানীরা ওয়েট-বুল্ব টেম্পারেচার বা সিক্ত-থার্মোমিটার তাপমাত্রা পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এটি মূলত নির্দেশ করে যে, ঘামের মাধ্যমে শরীরকে সর্বোচ্চ কতটা শীতল করা সম্ভব। পূর্বে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে, মানুষের বেঁচে থাকার সর্বোচ্চ সীমা হলো ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওয়েট-বুল্ব তাপমাত্রা। কিন্তু নতুন গবেষণা দেখাচ্ছে যে, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার বিভিন্ন কম্বিনেশন বা সংমিশ্রণে এর চেয়ে কম মাত্রাও মানুষের জন্য সমান প্রাণঘাতী হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একজন বয়স্ক মানুষ যিনি বাইরে কাজ করছেন, তার জন্য ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ৯০ শতাংশ আর্দ্রতার যে পরিবেশ, তা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ৩০ শতাংশ আর্দ্রতার পরিবেশের মতোই সমান মারাত্মক।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার তাপপ্রবাহের সময় এই বিপজ্জনক মাত্রাগুলো ইতিমধ্যেই স্পর্শ করেছে। এমনকি ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সুস্থ ও তরুণেরাও ৪০ শতাংশ আর্দ্রতা এবং ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পরিবেশে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। চলমান এই তীব্র গরমের সময়ে উপমহাদেশের কিছু কিছু এলাকা ইতিমধ্যেই এই জীবনধারণের চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া দপ্তরগুলো সাধারণত তাদের বুলেটিনে ওয়েট-বুল্ব তাপমাত্রার পরিবর্তে কেবল সাধারণ বায়ুর তাপমাত্রা প্রকাশ করায় এই বিপজ্জনক মাত্রার সুনির্দিষ্ট তথ্য সবসময় জানা সম্ভব হয় না।
এই তীব্র তাপ ও আর্দ্রতার ঝুঁকি সমাজের সব স্তরের মানুষ সমানভাবে ভোগ করে না, বরং এই বিপর্যয় অত্যন্ত অসমভাবে আঘাত হানে। সমাজের ধনী ও সচ্ছল ব্যক্তিরা ঘরের ভেতরে এসি চালিয়ে কিংবা তীব্র গরমের সময়ে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে খুব সহজেই এই বিপদ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারেন। কিন্তু অনানুষ্ঠানিক বসতি বা বস্তিতে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষের পক্ষে এই গরম থেকে বাঁচার কোনো উপায় থাকে না। একইভাবে নির্মাণ শ্রমিক, কৃষক, ডেলিভারি চালক এবং অন্যান্য পেশার মানুষ, যাদের জীবিকার তাগিদে বাইরে তীব্র শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়, তারা এই নরকগুলজার পরিস্থিতি থেকে কোনোভাবেই নিজেদের আড়াল করতে পারেন না। এর সাথে আরও একটি বড় ঝুঁকি যুক্ত হয়েছে, তা হলো রাতের তাপমাত্রা। তীব্র দিনের গরমের পর মানবদেহের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ফিরে পাওয়ার জন্য রাতে তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু শহরের উত্তপ্ত পরিকাঠামোর কারণে যখন রাতের বেলাও এই গরম অব্যাহত থাকে, তখন মানুষের শরীর বিশ্রাম বা পুনরুদ্ধারের কোনো সুযোগ পায় না। যদিও গ্রামীণ এলাকাগুলো শহরের চেয়ে কিছুটা কম গরম থাকে, তবুও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এই তাপ ও আর্দ্রতার সমান ঝুঁকিতে থাকে। কারণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে অধিকাংশ কাজই উন্মুক্ত আকাশের নিচে করতে হয়, সেখানে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা অনেক দূরে অবস্থিত এবং কৃত্রিম শীতলীকরণের বা এসির সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।

এই চরম দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে এই অঞ্চলের মানুষ কবে নাগাদ মুক্তি পেতে পারে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে একটি সম্ভাব্য সময়ের উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত জুন মাসের শুরুতে দক্ষিণ ভারতে মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা প্রবেশ করে এবং জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তা পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে পাকিস্তানে এই বর্ষা কিছুটা দেরিতে, সাধারণত জুলাইয়ের শুরুতে প্রবেশ করে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা এলে ঘন মেঘের আস্তরন এবং দেশজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে দিনের বেলার তাপমাত্রা অনেকটাই কমে আসে, যদিও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ তখনও বেশ উচ্চ থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এই স্বস্তির বৃষ্টি আর বেশি দেরি না হওয়াই শ্রেয়। তবে আশঙ্কার কথা হলো, এটিই এই অঞ্চলের জন্য শেষ বিপর্যয় নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব যেভাবে দ্রুত তরান্বিত হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে এই দুই দেশের মানুষকে আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র মাত্রার চরম তাপপ্রবাহ ও প্রাণঘাতী আর্দ্রতার মুখোমুখি হতে হবে, যা সমগ্র অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য এক দীর্ঘমেয়াদী এবং ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

দ্য কনভারসেশন সাময়িকীর একটি বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে চলমান নজিরবিহীন ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের ভয়াবহ রূপ এবং এর পেছনে থাকা নানাবিধ কারণ ও মানবিক সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত ও পাকিস্তানের জন্য গরম কোনো নতুন বিষয় নয়। প্রতি বছরই জুনের শুরুতে মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা আসার আগে মে মাসের এই সময়টাতে গরমের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করে।
কিন্তু ২০২৬ সালের এই বছরের গরম পূর্বের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে এক ভিন্ন মাত্রায় রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই এই অঞ্চলে তীব্র ও একটানা তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে, যা মে মাসের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। অনেক এলাকায় দৈনিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে, যা বছরের এই সময়ের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি। এই একটানা তীব্র গরমের কারণে ভারতে বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ মানুষ জীবন বাঁচাতে ব্যাপকভাবে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি ব্যবহার করছে। একই সাথে এই চরম গরম দুই দেশের প্রায় ১০ লাখ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে চলমান খরা পরিস্থিতিকে আরও মারাত্মক করে তুলেছে।
তবে এই তীব্র গরম যখন উচ্চ আর্দ্রতার সাথে মিশে যায়, তখন তা মানবদেহের জন্য চরম প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। কারণ এমন আবহাওয়ায় মানুষের শরীর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিজেকে ঠান্ডা করতে পারে না। ইতিমধ্যেই এই তাপপ্রবাহের কারণে ভারতে অন্তত ৩৭ জন এবং পাকিস্তানে ১০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সংখ্যাটিকে প্রকৃত মৃত্যুর তুলনায় অনেক কম বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ভারতে তাপপ্রবাহ জনিত মৃত্যুর তথ্য পদ্ধতিগতভাবেই সবসময় প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম গণনা করা হয়।
প্রতিবেদনে এই চরম ও অস্বাভাবিক গরমের পেছনে থাকা আবহাওয়াজনিত তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী কারণগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সাধারণত বর্ষা বা মৌসুমি বায়ুর জন্য অপেক্ষার এই সময়টা গরম হলেও বেশ কিছু বায়ুমণ্ডলীয় উপাদানের কারণে পরিস্থিতি এবার অনেক বেশি শোচনীয় হয়ে উঠেছে। চলতি বছরে এই তীব্র সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো স্থায়ী উচ্চ-চাপ আবহাওয়া ব্যবস্থা বা ‘পারসিস্টেন্ট হাই-প্রেশার ওয়েদার সিস্টেমস’। বায়ুমণ্ডলের এই উচ্চ-চাপ বলয়গুলো যখন কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর স্থির হয়ে বসে থাকে, তখন তা মেঘ গঠনে বাধা সৃষ্টি করে এবং শীতলকারী বৃষ্টির সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেয়।
এই বছর ঠিক এমন একটি শক্তিশালী উচ্চ-চাপ বলয় ভারত ও পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ অংশের ওপর জেঁকে বসেছে, যা ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি গরম বাতাসকে আটকে রেখেছে এবং দিনের পর দিন ধরে তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধির সুযোগ করে দিয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ার ফলে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা যেমন বাড়ছে, তেমনি মাটির আর্দ্রতাও সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটির এই শুষ্কতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। কারণ মাটি শুকিয়ে গেলে সূর্য থেকে আসা তাপ মাটির ভেতরের পানি বা আর্দ্রতা বাষ্পীভবন করার কাজে ব্যয় হতে পারে না, ফলে সেই শক্তির পুরোটা সরাসরি ভূখণ্ডকে উত্তপ্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
এই উচ্চ-চাপ ব্যবস্থাগুলো সাধারণত অনেক দিন ধরে একই স্থানে অবস্থান করতে পারে, যা চরম তাপমাত্রাকে আরও ঘনীভূত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। এই পরিস্থিতি শহরের এলাকাগুলোতে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ বলা যায়। শহরের কংক্রিট এবং পিচঢালা রাস্তা দিনের বেলা প্রচুর তাপ শোষণ করে এবং রাতের বেলা তা খুব ধীরে ধীরে বাতাসে ছাড়ে। এর ফলে রাতের বেলাও শহরের তাপমাত্রা কমে না, যা শীতলীকরণের সুযোগবঞ্চিত সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
তাৎক্ষণিক এই কারণগুলোর পেছনে যে মূল এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবকটি কাজ করছে, তা হলো বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন। বিশ্বজুড়ে যেভাবে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে, তার সরাসরি প্রভাবে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ২৯ এপ্রিলের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় যে প্রথম বড় তাপপ্রবাহটি আঘাত হেনেছিল, তা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই প্রায় তিন গুণ বেশি সম্ভাব্য এবং প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। বর্তমানে বিশ্বে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ প্রাক-শিল্পায়নের যুগের চেয়ে প্রায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি রয়েছে, যার মানে হলো এই অঞ্চলের মানুষকে এখন প্রতি পাঁচ বছরে অন্তত একবার এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
কিন্তু বর্তমানের বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের ধারা বজায় থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। যদি সত্যি তেমনটি ঘটে, তবে এই ধরণের তীব্র তাপপ্রবাহ প্রতি দুই থেকে তিন বছর পর পর এই অঞ্চলে আঘাত হানবে এবং এর তাপমাত্রা বর্তমানের চেয়ে আরও ২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উত্তপ্ত ও ভয়ানক হবে।
দ্য কনভারসেশনের প্রতিবেদনে থার্মোমিটারের সংখ্যার চেয়েও বড় যে বিপদের কথা বলা হয়েছে, তা হলো আর্দ্রতা বা হিউমিডিটি, যা গরমকে আরও বেশি প্রাণঘাতী করে তোলে। ভারত ও পাকিস্তানের অনেক অঞ্চল প্রাকৃতিকভাবেই অত্যন্ত আর্দ্র। যখন তীব্র গরমের সাথে এই উচ্চ আর্দ্রতা যুক্ত হয়, তখন মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর তা দ্বিগুণ বিপর্যয় ডেকে আনে। দুঃখজনকভাবে, এই অঞ্চলের অনেক অংশে আর্দ্রতার মাত্রা ক্রমান্বয়ে আরও খারাপ হচ্ছে। এর কারণ হলো অত্যন্ত আর্দ্র আবহাওয়ায় মানুষের শরীর প্রাকৃতিকভাবে নিজেকে শীতল করতে পারে না। মানবদেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রধানতম প্রাকৃতিক উপায় হলো ঘাম তৈরি করা। ত্বক থেকে যখন এই গরম পানির ফোঁটা বা ঘাম বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মিলিয়ে যায়, তখন তা শরীরের ভেতরের অতিরিক্ত তাপকে সাথে করে নিয়ে যায় এবং শরীর শীতল হয়।
কিন্তু বাতাস যখন আগে থেকেই প্রচুর জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতায় পূর্ণ থাকে, তখন ত্বক থেকে ঘাম বাষ্পীভূত হতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় নেয় কিংবা ঘাম একেবারেই শুকাতে চায় না। এর ফলে শরীর ক্রমাগত ঘামতে থাকা সত্ত্বেও ভেতরের তাপমাত্রা একটুও কমে না, বরং ক্রমশ বাড়তে থাকে। বিজ্ঞানীরা এই যৌথ পরিস্থিতিকে লেথাল হিউমিডিটি বা প্রাণঘাতী আর্দ্রতা বলে অভিহিত করছেন। যা মানুষকে দ্রুত অসুস্থ করে এবং মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। এই প্রক্রিয়ায় মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়; যেখানে প্রথমেই শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বা কোর বডি টেম্পারেচার বাড়তে শুরু করে। শরীর তাপ বর্জনের জন্য আরও বেশি ঘাম উৎপাদন করে, কিন্তু আর্দ্রতার কারণে তা কাজ করে না। এই অবস্থা থেকে দ্রুত মুক্তি না মিললে শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে যায় এবং মানুষ ‘হিটস্ট্রোক’-এর শিকার হয়, যা মানব মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দেয়। জরুরি চিকিৎসা এবং দ্রুত শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা না করা হলে এই পরিস্থিতি নিশ্চিত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তাপ এবং আর্দ্রতার এই সম্মিলিত বিপদ পরিমাপের জন্য বিজ্ঞানীরা ওয়েট-বুল্ব টেম্পারেচার বা সিক্ত-থার্মোমিটার তাপমাত্রা পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এটি মূলত নির্দেশ করে যে, ঘামের মাধ্যমে শরীরকে সর্বোচ্চ কতটা শীতল করা সম্ভব। পূর্বে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে, মানুষের বেঁচে থাকার সর্বোচ্চ সীমা হলো ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওয়েট-বুল্ব তাপমাত্রা। কিন্তু নতুন গবেষণা দেখাচ্ছে যে, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার বিভিন্ন কম্বিনেশন বা সংমিশ্রণে এর চেয়ে কম মাত্রাও মানুষের জন্য সমান প্রাণঘাতী হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একজন বয়স্ক মানুষ যিনি বাইরে কাজ করছেন, তার জন্য ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ৯০ শতাংশ আর্দ্রতার যে পরিবেশ, তা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ৩০ শতাংশ আর্দ্রতার পরিবেশের মতোই সমান মারাত্মক।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার তাপপ্রবাহের সময় এই বিপজ্জনক মাত্রাগুলো ইতিমধ্যেই স্পর্শ করেছে। এমনকি ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সুস্থ ও তরুণেরাও ৪০ শতাংশ আর্দ্রতা এবং ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পরিবেশে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। চলমান এই তীব্র গরমের সময়ে উপমহাদেশের কিছু কিছু এলাকা ইতিমধ্যেই এই জীবনধারণের চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া দপ্তরগুলো সাধারণত তাদের বুলেটিনে ওয়েট-বুল্ব তাপমাত্রার পরিবর্তে কেবল সাধারণ বায়ুর তাপমাত্রা প্রকাশ করায় এই বিপজ্জনক মাত্রার সুনির্দিষ্ট তথ্য সবসময় জানা সম্ভব হয় না।
এই তীব্র তাপ ও আর্দ্রতার ঝুঁকি সমাজের সব স্তরের মানুষ সমানভাবে ভোগ করে না, বরং এই বিপর্যয় অত্যন্ত অসমভাবে আঘাত হানে। সমাজের ধনী ও সচ্ছল ব্যক্তিরা ঘরের ভেতরে এসি চালিয়ে কিংবা তীব্র গরমের সময়ে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে খুব সহজেই এই বিপদ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারেন। কিন্তু অনানুষ্ঠানিক বসতি বা বস্তিতে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষের পক্ষে এই গরম থেকে বাঁচার কোনো উপায় থাকে না। একইভাবে নির্মাণ শ্রমিক, কৃষক, ডেলিভারি চালক এবং অন্যান্য পেশার মানুষ, যাদের জীবিকার তাগিদে বাইরে তীব্র শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়, তারা এই নরকগুলজার পরিস্থিতি থেকে কোনোভাবেই নিজেদের আড়াল করতে পারেন না। এর সাথে আরও একটি বড় ঝুঁকি যুক্ত হয়েছে, তা হলো রাতের তাপমাত্রা। তীব্র দিনের গরমের পর মানবদেহের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ফিরে পাওয়ার জন্য রাতে তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু শহরের উত্তপ্ত পরিকাঠামোর কারণে যখন রাতের বেলাও এই গরম অব্যাহত থাকে, তখন মানুষের শরীর বিশ্রাম বা পুনরুদ্ধারের কোনো সুযোগ পায় না। যদিও গ্রামীণ এলাকাগুলো শহরের চেয়ে কিছুটা কম গরম থাকে, তবুও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এই তাপ ও আর্দ্রতার সমান ঝুঁকিতে থাকে। কারণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে অধিকাংশ কাজই উন্মুক্ত আকাশের নিচে করতে হয়, সেখানে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা অনেক দূরে অবস্থিত এবং কৃত্রিম শীতলীকরণের বা এসির সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।

এই চরম দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে এই অঞ্চলের মানুষ কবে নাগাদ মুক্তি পেতে পারে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে একটি সম্ভাব্য সময়ের উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত জুন মাসের শুরুতে দক্ষিণ ভারতে মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা প্রবেশ করে এবং জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তা পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে পাকিস্তানে এই বর্ষা কিছুটা দেরিতে, সাধারণত জুলাইয়ের শুরুতে প্রবেশ করে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা এলে ঘন মেঘের আস্তরন এবং দেশজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে দিনের বেলার তাপমাত্রা অনেকটাই কমে আসে, যদিও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ তখনও বেশ উচ্চ থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এই স্বস্তির বৃষ্টি আর বেশি দেরি না হওয়াই শ্রেয়। তবে আশঙ্কার কথা হলো, এটিই এই অঞ্চলের জন্য শেষ বিপর্যয় নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব যেভাবে দ্রুত তরান্বিত হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে এই দুই দেশের মানুষকে আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র মাত্রার চরম তাপপ্রবাহ ও প্রাণঘাতী আর্দ্রতার মুখোমুখি হতে হবে, যা সমগ্র অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য এক দীর্ঘমেয়াদী এবং ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

একসময় কোরবানির ঈদের দিন বিকেলের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলা শহর, হাট-বাজার ও মহল্লায় কাঁচা চামড়ার নগদ বেচাকেনা শেষ হয়ে যেত। মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা কিংবা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানতেন—চামড়া হাতে মানেই নগদ টাকা। দাম নিয়ে কিছু দর-কষাকষি থাকলেও বাজারে ক্রেতা থাকত, নগদ অর্থ থাকত, এবং দ্রুত চামড়া সংগ্রহ করে আড়

প্রধানত শিয়া মুসলমানরা ‘ঈদুল গাদির’ পালন করে। তাদের কাছে অন্য দুই ঈদের চেয়েও এই ঈদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আশুরার পরই এই দিনটির অবস্থান। ঈদুল আজহা তো পালিত হয় জিলহজ মাসের দশম দিনে, ঈদুল গাদির পালিত হয় একই মাসে, ১৮তম দিনে। ঈদুল গাদিরে অবশ্য পশু কোরবানি দেওয়া হয় না। মূলত বিশেষ নামাজ আদায় ও রোজা রাখা হয়।