Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

চীনের পোড়ামাটির সেনাবাহিনী যে কথা বলে

সুদীপ্ত সালাম

সুদীপ্ত সালাম

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ০৫
চীনের পোড়ামাটির সেনাবাহিনী যে কথা বলে
টেরাকোটা আর্মি। ছবি: ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি এনসাইক্লোপিডিয়া

১৯৭৪ সালের মার্চ মাসে কয়েকজন কৃষক চীনের লিনটং জেলায় কুয়া খোঁড়ার সময় হঠাৎ মাটির নিচে এক অদ্ভুত জিনিসের সন্ধান পান। আরও খোঁড়াখুঁড়ি করলে বেরিয়ে আসে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ-আকৃতির মাটির মূর্তি। এই ঘটনার পরই চীনা প্রত্নতাত্ত্বিকরা এলাকাটি খনন করতে শুরু করেন এবং আবিষ্কার করেন চীনের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বলছি চীনের ‘টেরাকোটা আর্মি’ বা পোড়ামাটির সেনাবাহিনীর কথা। দেশটির শানসি প্রদেশের সিয়ান শহরের কাছে মাটির নিচে লুকিয়ে ছিল মাটির তৈরি হাজার হাজার যোদ্ধা, ঘোড়া আর রথ। এগুলো ২ হাজার ২০০ বছরের প্রাচীন। মূর্তিগুলোর গড়পড়তা উচ্চতা ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলোর একটি এটি, আর অনেকে তো একে ‘বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য’ বলে থাকে।

নির্মাণের নেপথ্য কাহিনি

এই বিশাল সমাধিসেনা তৈরি করিয়েছিলেন চীনের প্রথম সম্রাট চিন শি হুয়াং। মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে বসার পরপরই, ২৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে তিনি নিজের সমাধি এবং এই সেনাবাহিনী নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। যদিও সমাধিটি সেনাবাহিনী থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রাচীন চীনা বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পরও পরকালে ক্ষমতা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন। সেই বিশ্বাস থেকেই এই বিস্ময়কর নির্মাণ, যাতে পরকালেও সম্রাট সুরক্ষিত থাকেন। এই নির্মাণযজ্ঞ ছিল দীর্ঘমেয়াদী। প্রায় ৪ দশক ধরে ৭ লাখেরও বেশি শ্রমিক ও কারিগর এই প্রকল্পে কাজ করেছেন। ২১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সম্রাট চিন শি হুয়াংয়ের মৃত্যু হলে তার উত্তরসূরি কাজ চালিয়ে যান। ২০৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যাপক কৃষক বিদ্রোহের কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
ওডিসি থাকলেও হারিয়ে গেল টেলেগনি, কী ছিল তাতে?Odysee_1

যেভাবে সাজানো রণক্ষেত্র

বর্তমানে এই ক্ষেত্রটি একটি জাদুঘর। তিনটি প্রধান খননস্থল বা ভল্ট এবং একটি প্রদর্শনী হল নিয়ে এই জাদুঘর। প্রত্নতাত্ত্বিক হিসাব বলছে, মাটির নিচে প্রায় ৮ হাজার সৈনিক, শতাধিক রথ এবং কয়েক শ ঘোড়ার মূর্তি রয়েছে। ‘পিট ওয়ান’ হিসেবে পরিচিত প্রথম গর্তেই পাওয়া গেছে হাজারেরও বেশি মূর্তি, আর সেখানে প্রায় ছয় হাজার যোদ্ধা-ঘোড়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয় গর্তে জটিল রণকৌশলে সাজানো আছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মূর্তি।

পুরো প্রত্নকেন্দ্রটি এখন একটি জাদুঘর। ছবি : স্মার্ট হিস্ট্রি
পুরো প্রত্নকেন্দ্রটি এখন একটি জাদুঘর। ছবি : স্মার্ট হিস্ট্রি

আর তৃতীয় গর্তে পাওয়া গেছে ৬৮টি মূর্তি, সম্ভবত এটিই সেনা পরিচালনার কেন্দ্র ছিল। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, প্রতিটি মূর্তির মুখাবয়ব, চুলের বাঁধন, উচ্চতা ও পোশাক–সবকিছুই আলাদা। কোনো একটি মূর্তি দেখতে হুবহু অন্যটির মতো নয়। ব্রোঞ্জের অস্ত্রশস্ত্রে খোদাই করা নামের মধ্যে সম্রাটের প্রধানমন্ত্রী লু বুওয়েই-এর নামও রয়েছে।

শুধু কি যোদ্ধা?

না। সামরিক মূর্তির পাশাপাশি এই সমাধিক্ষেত্র থেকে পাওয়া গেছে সরকারি কর্মকর্তা, কসরতবিদ (অ্যাক্রোব্যাট), বলবান পুরুষ ও বাদ্যযন্ত্র বাদকদের মূর্তিও। এসব থেকে বোঝা যায়, সম্রাট তার পরকালের রাজত্বে শুধু সামরিক শক্তি নয়, বরং পুরো একটি রাজদরবারের প্রতিরূপ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। আমরা মিশরীয় সভ্যতায়ও কিন্তু একই ধরনের চর্চা লক্ষ্য করি।

ইউনেস্কোর স্বীকৃতি

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯৮৭ সালে চিন শি হুয়াংয়ের সমাধিক্ষেত্রসহ টেরাকোটা আর্মিকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যে হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এখন প্রতি বছর বিশ্বের লাখ লাখ পর্যটক এই জাদুঘর দেখতে আসে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাকই এই স্থানকে ‘বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার মতো অনেকের মতে, এই প্রত্নস্থল না দেখলে চীন ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

জিম করবেট: এক হাতে বন্দুক, আর হাতে ক্যামেরাJIM_1.jpg

খনন এখনো অব্যাহত

এই প্রত্নকেন্দ্রে গত ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে খননকাজ চলছে। গত কয়েক বছরে আরও প্রায় ২০০টি নতুন মূর্তি, ১২টি ঘোড়া ও দুটি রথ আবিষ্কৃত হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু ব্রোঞ্জের অস্ত্রও পাওয়া গেছে। খননকাজের সঙ্গে যুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক শেন মাওশেং জানিয়েছেন, নতুন পাওয়া মূর্তিগুলোর বেশির ভাগই বর্শা বা ধনুক হাতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া রয়েছে। এই মূর্তিগুলো প্রাচীন চীনা সামরিক বাহিনীর যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে নতুন তথ্য দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মাটির নিচে এখনও হাজার হাজার মূর্তি লুকিয়ে আছে। মজার ব্যাপার হলো, সম্রাটের মূল যে সমাধিকক্ষ, তা কিন্তু আজ পর্যন্ত খনন করা হয়নি। কারণ, সেখানে উচ্চমাত্রায় পারদের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে, আর প্রাচীন লেখায় বলা হয়েছে, সমাধিকক্ষে যাতে সহজে ঢোকা না যায়, তার জন্য তৈরি করা হয়েছিল ফাঁদ। তাই গবেষকরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন। আজ হোক কাল হোক, সেখানেও খনন শুরু হবে।

এর গুরুত্ব

টেরাকোটা আর্মি শুধু একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়–এটি প্রাচীন চীনের শিল্পকলা, ধাতুবিদ্যা, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সামরিক সংগঠনের এক জলজ্যান্ত দলিল। চীনা রাজ্যগুলোর মধ্যে যুদ্ধ লেগে থাকত, সম্রাট চিন শি হুয়াংই রাজ্যগুলোকে একত্রিত করে চীনকে এক মহান সাম্রাজ্যে পরিণত করেছিলেন। তার শাসনামলে চীনা প্রযুক্তিরও বিকাশ ঘটে। পাশাপাশি তার নিষ্ঠুরতার কাহিনিও ইতিহাসে লেখা আছে। এই যে টেরাকোটা আর্মি–এই বিশাল প্রকল্পে কাজ করতে গিয়েও বহু শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছিল। সমাধির গোপনীয়তা রক্ষা করতেও অনেককে হত্যা করা হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এখানে প্রতিটি নতুন খনন মানবজাতির সামনে তুলে ধরছে প্রাচীন চীনা সভ্যতার নতুন নতুন অধ্যায়। মাটির নিচে ঘুমিয়ে থাকা এই সেনাবাহিনী এখনও তার সব রহস্য উন্মোচন করেনি। আমরা অপেক্ষায় আছি।

তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ডট কম, ওয়ার্ল্ড হিস্টোরি এনসাইক্লোপিডিয়া, চায়না হাইলাইটস

বিষয়: চীনইউনেস্কোসেনাবাহিনী
সর্বশেষ
  • ১

    ফ্ল্যাটে নারীসহ সাবেক ওসি, ধরিয়ে দিলেন ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’

  • ২

    বরিশালে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক ১

  • ৩

    নাগেশ্বরীতে সার না পেয়ে ফের কৃষকদের সড়ক অবরোধ

  • ৪

    হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর প্রাণহানি

  • ৫

    শিক্ষক রনজিলা হত্যা, ২ বাহিনীর তদন্ত, ৫ গ্রেপ্তার: আসল আসামি কারা?

সম্পর্কিত
  • শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু কীভাবে?

    শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু কীভাবে?

    মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শিল্প খাতে বাড়বে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ–গত সোমবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে এমন আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ বেড়েছেও। কিন্তু কীভাবে? হঠাৎ করে বাড়তি গ্যাস কোথা থেকে এল?

  • বাংলাদেশকে নিয়ে কী বলছে মুডি’স রেটিং?

    বাংলাদেশকে নিয়ে কী বলছে মুডি’স রেটিং?

    বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এমনকি দেশের ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা বিশ্লেষণ করে ক্রেডিট রেটিং দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম মুডি’স। নিউইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি গতকাল বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং বা ঋণমান নিয়ে নতুন মূল্যায়ন দিয়েছে।

  • পুলিশের যত বিশেষায়িত বাহিনী

    পুলিশের যত বিশেষায়িত বাহিনী

    বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের অধীনে নানা সময়ে বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়েছে। সময়ের প্রয়োজন এবং নানা কৌশলগত কারণেই এসব বাহিনী গড়ে তোলা হয়। আবার অকার্যকারিতার ফলে কিছু বাহিনী বিলুপ্ত করা হয়। তেমনি আবার বাহিনীর সদস্যদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের

  • প্লাটিলেট আসলে কেন কমে?

    প্লাটিলেট আসলে কেন কমে?

    বাংলাদেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ যেন নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অসচেতনতা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে, যা আজ জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি।