Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

জিম করবেট: এক হাতে বন্দুক, আর হাতে ক্যামেরা

সুদীপ্ত সালাম

সুদীপ্ত সালাম

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১: ৫৬
জিম করবেট: এক হাতে বন্দুক, আর হাতে ক্যামেরা

কিংবদন্তি শিকারি জিম করবেট যদি কলম না ধরতেন, তাহলে হয়তো তাকে একজন প্রকৃতি ধ্বংসকারী হিসেবে মনে রাখা হতো। তার লেখা থেকেই জানা যায়, তিনি শুধু বন্দুক নিয়ে হিংস্র পশুদের পেছনে ছুটে বেড়াননি–তার সঙ্গে ক্যামেরাও থাকত। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও সমবেদনা তারও কম ছিল না। তার বন্দুকের নিশানায় ছিল প্রধানত মানুষখেকো পশু। যাদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়েই স্থানীয়রা জিম করবেটের শরণাপন্ন হতো।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ভারতের ঔপনিবেশিক ইতিহাসে এডওয়ার্ড জেমস ‘জিম’ করবেট ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। একদিকে তিনি উত্তর ভারতের কুমায়ুন ও গাড়োয়াল অঞ্চলে মানুষখেকো পশু শিকারের করে কিংবদন্তি হয়ে আছেন, অন্যদিকে তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের অন্যতম প্রবক্তা এবং প্রকৃতির নিবেদিত পর্যবেক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। উপমহাদেশের প্রথম দিকের ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফারদের অন্যতম হিসেবেও তিনি গণ্য হতে পারতেন, কিন্তু শিকারি ও লেখক হিসেবে যে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তার ছায়ায় ঢেকে গেছে তার আলোকচিত্রী সত্তা।

জিম করবেট প্রধানত বাঘ শিকার করতেন। তবে বাঘ শিকার তার কাছে কখনো ট্রফি ছিল না–শখ তো নয়ই। ছবি: সংগৃহীত
জিম করবেট প্রধানত বাঘ শিকার করতেন। তবে বাঘ শিকার তার কাছে কখনো ট্রফি ছিল না–শখ তো নয়ই। ছবি: সংগৃহীত

তার জন্ম ১৮৭৫ সালের ২৫ জুলাই, ভারতে উত্তরাখণ্ডের নৈনিতালে। হিমালয়ের পাদদেশের নৈসর্গিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে তার বেড়ে ওঠা। কুমায়ুনি ভাষা ও স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে তার যোগসূত্র সেই অল্প বয়স থেকেই। বনের সঙ্গে বসবাসের ফলেই তিনি পেয়েছিলেন প্রাণীদের পায়ের চিহ্ন, তাদের ডাক, গন্ধ ও আচরণ বিশ্লেষণের অসামান্য দক্ষতা। এই প্রাকৃতিক জ্ঞানই পরে তাকে মানুষখেকো পশুদের ধরাশায়ী করতে সাহায্য করেছিল।

জিম করবেট প্রধানত বাঘ শিকার করতেন। তবে বাঘ শিকার তার কাছে কখনো ট্রফি ছিল না–শখ তো নয়ই। বরং আমৃত্যু তিনি পশুপাখির অধিকারের পক্ষে ছিলেন। তিনি এমন বাঘ বা চিতাবাঘ শিকার করতেন–যেগুলো লোকালয়ে ঢুকে মানুষ মারা শুরু করেছিল। বাঘ মানুষ শিকার করা শুরু করে কয়েকটি কারণে–আহত বা বয়স হওয়ার কারণে শিকার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেললে এবং বনাঞ্চল কমে যাওয়ার কারণে শিকারের সংখ্যা কমে গেলে। বাঘ আসলে পেটের দায়েই লোকালয়ে আসে। করবেট লিখেছেন, গুলিতে বা ফাঁদে পড়ে আহত হয়ে কিংবা দাঁত ও নখ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় শিকার করতে না পেরে অধিকাংশ বাঘ মানুষখেকো হয়ে ওঠে। তার সে সময়ের পর্যবেক্ষণ এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখনও মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যকার সংঘাত নিয়ে গবেষণায় জিম করবেটের সেই পর্যবেক্ষণ আলোচিত হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
বাবার ক্যামেরায় ফ্রিদা কাহলোFrida_1

আগেই বলেছি, জিম করবেট ভারতীয় উপমহাদেশে বন্যপ্রাণী-আলোকচিত্রের পথিকৃৎদের একজন। সে সময় ভারী ও সীমাবদ্ধ প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার করে তিনি বাঘ, হরিণ, পাখি, স্থানীয় মানুষ, ল্যান্ডস্কেপ ও বনজীবনের দুর্লভ দৃশ্য ধারণ করেছেন। বন্যপ্রাণীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ এবং ক্যামেরাবন্দি করার ক্ষেত্রে তার পরিশ্রম ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তী প্রজন্মের ওয়াইল্ডলাইফ আলোকচিত্রীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। তার তোলা কিছু ছবি ছাপা হয়েছে তার বইগুলোতে। তার ছবিগুলো ভারতের নৃতাত্ত্বিক ও বন্যপ্রাণীবিষয়ক ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বিবেচিত।

করবেটের লেখা জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ম্যান-ইটার্স অব কুমায়ুন’ (১৯৪৪), ‘দ্য ম্যান-ইটিং লেপার্ড অব রুদ্রপ্রয়াগ’ (১৯৪৭), ‘মাই ইন্ডিয়া’ (১৯৫২), ‘জঙ্গল লোর’ (১৯৫৩), ‘দ্য টেম্পল টাইগার অ্যান্ড মোর ম্যান-ইটার্স অব কুমায়ুন’ (১৯৫৪) ইত্যাদি। গল্পের মতো করে বলা দুঃসাহসিক শিকার-কাহিনিগুলো ভারতবর্ষের বন, বন্যপ্রাণী, স্থানীয় জনজীবন ও ঔপনিবেশিক সমাজ-বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ দলিল। শুধু তাই নয়–তার লেখায় প্রাণীদের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধও স্পষ্ট।

JIM_4.jpg

সেই মমত্ববোধ থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন ভারতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা। তিনি ‘ইউনাইটেড প্রভিন্সেস’ (বর্তমান উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশের অংশ)-এ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করেছিলেন এবং ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যান–‘হেইলি ন্যাশনাল পার্ক’। পরে এর নাম রাখা হয় ‘জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক’। এখন এটি ভারতের প্রাচীনতম জাতীয় উদ্যান এবং ‘প্রজেক্ট টাইগার’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভয়ারণ্য।

ভারত স্বাধীন হওয়ার পর জিম করবেট কেনিয়ায় চলে যান। সেখানেও তিনি প্রকৃতি সংরক্ষণের কাজ, ফটোগ্রাফি ও লেখালেখি চালিয়ে যান। ১৯৫৫ সালের ১৯ এপ্রিল সেখানেই তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

ব্রিটিশ বনবিদ ডব্লিউ এফ চ্যাম্পিয়নকে (১৮৯৩-১৯৭০) বলা হয় ‘ফাদার অব ক্যামেরা ট্র্যাপ ফটোগ্রাফি’। তিনি বনেবাদাড়ে দিনের পর দিন থেকে বন্যপ্রাণীর ছবি তুলতেন। ক্যামেরাকে ফাঁদের মতো স্থাপন করে দূর থেকে তিনি পশুপাখির ছবি তুলতেন। তার তোলা ছবি ও লেখা নিয়ে ১৯২৭ সালে ‘উইথ এ ক্যামেরা ইন টাইগার ল্যান্ড’ এবং ১৯৩৪ সালে ‘দ্য জঙ্গল ইন সানলাইট অ্যান্ড শ্যাডো’ শিরোনামের বই প্রকাশিত হয়। বয়সে ছোট হলেও করবেট চ্যাম্পিয়নকে ছবি তোলায় সহায়তা করতেন। চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে থেকেই বাঘের ছবি তুলতে আগ্রহী হন করবেট। তিনি লিখেছেন, “চ্যাম্পিয়নের বই ‘উইথ এ ক্যামেরা ইন টাইগার ল্যান্ড’ দেখতে দেখতেই আমার প্রথম বাঘের ছবি তোলার কথা মনে হয়। চ্যাম্পিয়নের আলোকচিত্রগুলো স্থির ক্যামেরায় ফ্ল্যাশ লাইটে তোলা, এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমি চলচ্চিত্রের ক্যামেরায় দিনের আলোয় ছবি তোলা স্থির করলাম।”

করবেটের বিভিন্ন লেখায় তার ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি চর্চার উল্লেখ আছে। তার বেল অ্যান্ড হাওয়েলের ১৬ মি. মি. ক্যামেরাটি ছিল বেশ বড়। ক্যামেরা বহন করতে করবেটকে একজন লোক সঙ্গে নিতে হতো। তার লেখাগুলো প্রধানত শিকার-কাহিনি। এই কাহিনিগুলোর ভিড়ে তার ছবি তোলার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি লেখা আমরা পাই। ‘ম্যান-ইটার্স অব কুমায়ুন’ বইয়ে আছে ‘জাস্ট টাইগার্স’ শিরোনামের একটি ছোট্ট রচনা। এই রচনায় করবেট তার ছবি তোলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। লেখাটি থেকে জানা যায়, “একটা ভালো ছবি তোলা শিকারিকে বাঘ মারার ট্রফি পাওয়ার থেকেও অনেক বেশি আনন্দ দেয়।” অন্তত জিম করবেট তাই মনে করতেন। ১৯৫১ সালে বের হয় মহাশ্বেতা দেবী সম্পাদিত দুই খণ্ডের ‘জিম করবেট অমনিবাস’। সেই অনুবাদ বইয়ে করবেটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখাসহ রয়েছে ‘শুধুই বাঘ’ লেখাটিও (জাস্ট টাইগার্স-এর বঙ্গানুবাদ)। সেই লেখাটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো।

বার্ট্রান্ড রাসেল ৯৫ বছর বয়সে কেন সিনেমা করতে রাজি হলেন?bastrend russell

শুধুই বাঘ

আমার মনে হয় সব শিকারিই যাঁদের রাইফেল এবং ক্যামেরা এই দুটি জিনিস দিয়ে বাঘ শিকারের দ্বৈত অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সুযোগ হয়েছে তাঁরা আমার সঙ্গে একমত হবেন যে এই দুই ধরনের শিকারের মধ্যে বিরাট পার্থক্য-এ পার্থক্য যদি বেশি না-ও হয় তাহলেও অনেকটা হালকা ছিপ নিয়ে পাহাড়ের বরফগলা ঝরনায় ট্রাউট মাছ ধরা আর রৌদ্রতপ্ত পুকুরপাড়ে একটা স্থির ছিপ দিয়ে মাছ মারার পার্থক্যের রিহি

করবেটের বিভিন্ন লেখায় তার ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি চর্চার উল্লেখ আছে। ছবি: সংগৃহীত
করবেটের বিভিন্ন লেখায় তার ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি চর্চার উল্লেখ আছে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যামেরা এবং রাইফেল দিয়ে শিকারের মধ্যে খরচের ব্যবধানের কথা এবং ব্যাঘ্রকুলের দ্রুত বিলুপ্তির মূলে এর অবদানের কথা বাদ দিলেও বলা যায় যে একটা ভালো ছবি তোলা শিকারিকে বাঘ মারার ট্রফি পাওয়ার থেকেও অনেক বেশি আনন্দ দেয়; তা ছাড়া ছবি আনন্দ দেয় বন্যপ্রাণী সম্বন্ধে উৎসাহী সবাইকে আর ট্রফি লাভের আনন্দ শুধু ট্রফি বিজেতার ব্যক্তিগত। উদাহরণস্বরূপ আমি ফ্রেড চ্যাপম্যানের দৃষ্টান্ত দেখাব। চ্যাম্পিয়ন যদি ক্যামেরার বদলে রাইফেল দিয়ে বাঘ শিকার করতেন ওঁর ট্রফিগুলো সব গৌরব হারিয়ে এতদিনে ডাস্টবিনে স্থান পেত কিন্তু ওঁর ক্যামেরায় ধরা তথ্যগুলো ওঁর নিজের কাছে একটা চিরন্তন আনন্দের উৎস এবং পৃথিবীর সর্বপ্রান্তের শিকারিদের কাছে গভীর আগ্রহের জিনিস।

চ্যাম্পিয়নের বই ‘উইথ এ ক্যামেরা ইন টাইগার ল্যান্ড’ দেখতে দেখতেই আমার প্রথম বাঘের ছবি তোলার কথা মনে হয়। চ্যাম্পিয়নের আলোকচিত্রগুলো স্থির ক্যামেরায় ফ্ল্যাশ লাইটে তোলা, এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমি চলচ্চিত্রের ক্যামেরায় দিনের আলোয় ছবি তোলা স্থির করলাম। একজন অত্যন্ত সহৃদয় বন্ধুর উপহার, একটি বেল অ্যান্ড হাওয়েলের ১৬ মি. মি. ক্যামেরা আমার ঠিক প্রয়োজনমতো অস্ত্রটি আমার হাতে তুলে দিল এবং যে ‘অরণ্যের স্বাধীনতা’র অধিকারী আমি তা আমাকে একটা বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অবাধে ঘুরে বেড়াবার সুযোগ দিয়েছিল। দশ বছর ধরে আমি ব্যাঘ্র অধ্যুষিত অঞ্চলে শয়ে শয়ে মাইল ঘুরে বেড়াই। কোনো কোনো সময়ে বাঘরাই তাদের মড়ির কাছে আমার এগোনো বিশেষ পছন্দ না করায় আমায় বিদায়জ্ঞাপন করে আর অন্যান্য সময় বাঘিনীরা তাদের বাচ্চাদের কাছে আমার এগুনোর প্রতিবাদে আমায় জঙ্গল থেকে তাড়িয়ে দেয়। এই সময়টিতে আমি বাঘদের স্বভাব ও আচার-ব্যবহার সম্বন্ধে সামান্য কিছু শিখি এবং যদিও বাঘ সম্ভবত দু’শ বার দেখেছি তবু আমি সন্তোষজনক কোনো ছবি তুলতে সমর্থ হইনি। ফিল্ম আমি বহুবার এক্সপোজ করেছি কিন্তু প্রতিবারই বেশি আলো, কম আলো, ঘাস পাতায় বাধা বা লেন্সে মাকড়সার জাল হওয়ার দরুন ফল হতাশাজনক হয়েছে; একবার ছবি খারাপ হয়ে গিয়েছিল ধোয়ার সময়ে ফিল্মের ওপরের প্রলেপটি গলে যাওয়ার দরুন।

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ছবি তুলতেন কেমন?Upendra.jpg

অবশেষে ১৯৩৮ সালে আমি পুরো শীতকালটা একটা ভালো ছবি তোলার শেষ চেষ্টায় কাটাব ঠিক করলাম। অভিজ্ঞতার থেকেই আমি বুঝেছিলাম যে যেমন-তেমনভাবে বাঘের ছবি তোলা সম্ভব হবে না। আমার প্রথম চিন্তাই হলো একটা ভালো জায়গা বেছে নেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত আমি একটা খোলা পঞ্চাশ গজ চওড়া গিরিবর্ত বেছে নিলাম, তার মধ্যিখান দিয়ে বয়ে যাচ্ছে ছোট্ট একটা ঝরনা আর দুপাড়ে ঘন গাছ আর ঝোপঝাড়ের ভিড়। খুব কাছাকাছি ছবি নেওয়ার সময়ে ক্যামেরার আওয়াজ বন্ধ করাবার জন্য আমি ঝরনাটা কয়েক জায়গায় আটকে কয়েক ইঞ্চি উঁচু ছোট ছোট জলপ্রপাতের মতো তৈরি করলাম। এবার আমি বাঘের খোঁজ করলাম এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন তিনটি জায়গায় সাতটি বাঘের খোঁজ পেয়ে তাদের কয়েক গজ করে আমার জঙ্গলের স্টুডিওর দিকে আকৃষ্ট করতে আরম্ভ করলাম। এটা খুব সময়সাপেক্ষ এবং পরিশ্রমসাধ্য ব্যাপার-এর প্রতি পদে বাধা এবং হতাশা, কারণ যে অঞ্চলটায় আমি এই প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলাম সেখানে বহু শিকার হয়ে গেছে এবং একমাত্র দৃষ্টির বাইরে রেখেই অবশেষে আমি বাঘগুলোকে ঠিক যে জায়গাটিতে চাই সেখানে নিয়ে আসতে পারলাম। একটি বাঘ আমার না জানা কোনো কারণে পৌছনোর পরদিনই চলে যায় কিন্তু আমি তার একটা ভালো ছবি নেওয়ার আগে নয়। আর ছটিকে একত্রে করে আমি তাদের ওপর প্রায় হাজার ফুট ফিল্মে আলোকসম্পাত করি। দুর্ভাগ্যক্রমে সে শীতটা ছিল আমার অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে বেশি ভিজে স্যাঁতসেঁতে এবং লেন্সের ওপর জলকণা জমে, ক্যামেরায় কম আলো যাওয়ার ফলে, এবং তাড়াতাড়ি ও সযত্নে ফিল্মের রিল গোটানোর দরুন বেশ কয়েকশ ফুট ফিল্ম নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমার প্রায় ছ’শ ফুট ফিল্ম আছে যার সম্বন্ধে আমার গর্ব অসীম কারণ সেটি হচ্ছে ছটি পূর্ণবয়স্ক বাঘের জীবন্ত আলেখ্য-তার মধ্যে চারটি পুরুষ-দুটির দৈর্ঘ্য দশ ফুটেরও বেশি আর দুটি বাঘিনী, দুটির মধ্যে একটি সাদা বাঘিনী-ছবিটি তোলা দিনের আলোয়, দশ থেকে ষাট ফুট দূরত্বের মধ্যে।

পুরো ছবি তোলার ব্যাপারটা শুরু থেকে শেষ অবধি সাড়ে চার মাস সময় লেগেছিল আর যে অগুনতি ঘণ্টা আমি আমার ছোট্ট ঝরনা আর খুদে জলপ্রপাতগুলোর কাছে শুয়ে কাটাই একটি বাঘও আমায় কোনোদিন দেখতে পায়নি।

ছটি বাঘের কাছে দিনের আলোয় কয়েক ফুটের মধ্যে এগুনো একটা অসম্ভব ব্যাপার সেইজন্য রাত চলে যাওয়ার পর দিনের আলো ফোটার আগে খুব ভোরে এগোতে হয় ওদের দিকে শীতকালের জমে থাকা শিশিরের দরুনই সম্ভব হতো সেটা আর ছবি তুলতে হয়েছিল যেমন আলো আর সুযোগ পাওয়া গিয়েছিল সেই অনুযায়ী। ১৬ মি. মি. ফিল্ম পর্দায় প্রতিফলনের পর যতই পরিষ্কার দেখাক না কেন এর এনলার্জমেন্ট ভালো হয় না। যাই হোক এই বইয়ের সঙ্গে ছবিগুলোর থেকে আমার অরণ্য স্টুডিও এবং আমার ছবির বিষয়বস্তুদের আকার এবং অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা করতে পারবেন।

তথ্যসূত্র :

  • মহাশ্বেতা দেবী সম্পাদিত ‘জিম করবেট অমনিবাস’, ১৯৫১
  • With A Camera In Tiger Land, F W Champion
  • ntca.gov.in (National Tiger Conservation Authority)
  • corbettgov.org (Jim Corbett National Park)
  • corp.oup.com (Oxford University Press)
বিষয়: বইছবিক্যামেরা
সর্বশেষ
  • ১

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ২

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৩

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৪

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

  • ৫

    ‘২৪ ঘণ্টা হল খোলা চাই, এইখানে একটা মিসলিডিং আছে’

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া