বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের অধীনে নানা সময়ে বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়েছে। সময়ের প্রয়োজন এবং নানা কৌশলগত কারণেই এসব বাহিনী গড়ে তোলা হয়। আবার অকার্যকারিতার ফলে কিছু বাহিনী বিলুপ্ত করা হয়। তেমনি আবার বাহিনীর সদস্যদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে নাম পরিবর্তনের নজিরও আছে।
দেখা যাক, পুলিশের অধীনে এখন পর্যন্ত কী কী বাহিনী গঠন করা হয়েছে।
অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)
বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে সবচেয়ে পুরাতন বিশেষ বাহিনী হল অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশের পুলিশের অধীনে ভিন্ন ভিন্ন নামে থাকা বিশেষায়িত বাহিনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন মডেল সিআইডি। এর ইতিহাস প্রায় শতবছরের। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০২-১৯০৩ সালে পুলিশ বাহিনীর সাংগঠনিক ও কার্যকরী কাঠামো পুনর্গঠনের জন্য সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে লর্ড কার্জন একটি কমিশন গঠন করেন।
ওই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ঔপনিবেশিক পুলিশ বাহিনীকে আরও সুসংগঠিত করা হয়। সুপারিশগুলোর একটি ছিল প্রতিটি প্রদেশে একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রশাসনিক নেতৃত্বে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট বা সিআইডি গঠন করা। পরবর্তীতে ১৯০৫ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত সরকার কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ করে এবং ১৯০৭ সালের মধ্যে প্রতিটি প্রদেশে এই বিভাগ চালু করার নির্দেশ দেয়।
বাংলায় ১৯০৬ সালের ১ এপ্রিল কলকাতায় সদর দপ্তর স্থাপনের মাধ্যমে সিআইডির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে ঢাকায় সদর দপ্তর স্থাপনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান সিআইডির কাজ শুরু হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সিআইডি তার যাত্রা শুরু করে।
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের তদন্ত করে সিআইডির সাইবার পুলিশ ইউনিট। এছাড়াও সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ অপরাধীদের শনাক্ত করতে আঙুলের ছাপ, পায়ের ছাপ, রক্ত, চুল, অস্ত্র-গুলি, হাতের লেখা ও সাক্ষর এসব পরীক্ষা করে। সারাদেশে প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় সিআইডির কার্যক্রম রয়েছে।
স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)
জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন, দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন এবং বিদেশিদের বাংলাদেশে ভিসা অনুমোদন দিতে কাজ করে পুলিশের এই বিশেষ শাখার কর্মকর্তারা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার আগে থেকে এসবি পুলিশের সাথে কাজ করে আসছে।
রেলওয়ে পুলিশ
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়। রেলপথে ভ্রমন করা যাত্রীদের নিরাপত্তা , সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে রেলওয়ে পুলিশ। সকল উন্মুক্ত রেললাইন অর্থাৎ যেসব রেললাইন দিয়ে জনসাধারণের যাত্রী, পশু বা পণ্য পরিবহন করা হয় সেসব রেললাইনের রেলওয়ে সীমানার ভেতরের পুরো এলাকা রেলওয়ে পুলিশের আওতাধীন।
আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়ন (এপিবিএন)
আমর্ড পুলিশ ব্যাটলিয়ন অধ্যাদেশ ১৯৭৯ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়ন রুল ১৯৯১ অনুসারে যাত্রা শুরু করে আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়ন। তবে বাহিনী গঠিত হয় ১৯৭৫ সালের ১ অক্টোবর। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা, সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের অপরাধমূলক কার্যক্রম দমন, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে সহায়তা করার লক্ষ্যে এপিবিএন কাজ করে। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬’ সংসদে পাশ হওয়ায় আরও কিছু নতুন ক্ষমতা পায় এই বিশেষ ইউনিটটি।
ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত অন্যান্য আইন মেনে এপিবিএনের সদস্যরা অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, আলামত ও মালামাল জব্দ এবং সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন। বর্তমানে এপিবিএন এর ১২টি ব্যাটলিয়ন কাজ করে। ১১টি ব্যাটলিয়ন জেলাভিত্তিক কাজ করলেও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটেলিয়ন (এসপিবিএন) দেশি-বিদেশি সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদমর্যাদার ব্যাক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)
বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট গোয়েন্দা শাখা ১৯৯৭ সালে গঠিত হয়। গোয়েন্দা শাখার কাজ হলো চাঞ্চল্যকর ও সাইবার অপরাধ শনাক্ত করা এবং অপরাধীদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা এবং যেকোন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ছায়া তদন্ত করা। এছাড়াও সর্বোচ্চ পদমর্যাদার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেয়া হয় ডিবির কর্মকর্তাদের। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ডিভিশন ভিত্তিক গোয়েন্দা শাখার কার্যক্রম রয়েছে।
র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট)
২০০৩ সালের জানুয়ারিতে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গঠন করা র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট)। ইউনিট প্রধান ছিলেন পুলিশের একজন উপকমিশনার। অভিযানের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের দমনে এই বাহিনী গঠন করা হয়। তখনকার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী লিয়াকত হোসেনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই বাহিনী আলোচনায় উঠে আসে। আবার তখনকার পুলিশের অন্যান্য বাহিনীর তুলনায় তারা খুব আলাদা ভূমিকাও রাখতে পারছিল না। তখন বাহিনীটি ব্যাটলিয়নে রূপ দেওয়া সামরিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের অর্ন্তভুক্ত করার কথা চলতে থাকে। এরপর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র্যাব) গঠন করার কথা ওঠে। র্যাটকে অনেকটা র্যাব গঠনের টেস্ট কেসও বলেন অনেকে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছবি: বাসস
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র্যাব)
২০০৪ সালের ২৬শে মার্চ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে বহুল আলোচিত র্যাব। তবে বাহিনীটি তাদের কর্মকাণ্ড শুরু করে সেই বছরের জুন মাসে। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, তখনকার বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি), পুলিশ, আনসার থেকে সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হয় এই বাহিনী। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে র্যাব গঠন করা হয়েছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাব ও এর সাবেক কয়েক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। নানা সমালোচনার মুখে গত ১৭ আগষ্ট নাম বদলে করা হয় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
কোবরা
২০০৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে কোবরা নামের একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়। সন্ত্রাসীদের দমনে তারা র্যাবের সাথে কাজ করতো। অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, তাদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য ‘কোবরা’ নামে এই বাহিনী গঠন করা হয়েছিল।
চিতা
২০০৪ সাল নভেম্বরে গঠন করা হয় পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট চিতা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে ১০ জন করে চারটি টিম নিয়ে এই বিশেষ ইউনিট কাজ করে। অপারেশন ক্লিন হার্টের সফলতা ধরে রাখতে এই বাহিনী গঠন করা হয়। অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের তধ্য সংগ্রহে সাদা পোশাকে মাঠে থাকে ইউনিটের সদস্যরা।
হাইওয়ে পুলিশ
২০০৫ সালের ১১ জুন পুলিশের অধীনে গঠন করা হয় হাইওয়ে পুলিশ। হাইওয়ে পুলিশ শুধুমাত্র মোটর ভেহিক্যালস অর্ডিন্যান্স ১৯৮৩ এর অধীনে সংঘটিত অপরাধ তদন্ত করতে পারে। দেশের মহাসড়কগুলোতে মানুষ ও যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং পরোক্ষভাবে বৈদেশিক রপ্তানি বৃদ্ধিতে হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করে।
স্পেশাল উইপন্স এন্ড ট্যাকটিক্স (সোয়াট)
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে ২০০৯ সালেল ২৮ ফেব্রুয়ারি স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাকটিক্স (সোয়াট) ইউনিটটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার অভিযান, বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করে সোয়াট। ২০১৬ সালে রাজধানীর কল্যানপুরে ‘স্ট্রোম ২০২৬’ নামে জঙ্গি বিরোধী অভিযান, ২০২৩ সালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে সোয়াট।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ
২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর দেশের শিল্পাঞ্চল গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠন করা হয়। আটটি শিল্পাঞ্চলে কাজ করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ।
ট্যুরিস্ট পুলিশ
২০১০ সালে জাতীয় পর্যটন নীতিমালা ঘোষণা করা হয়। সেই নীতিমালার ৬.৯ অনুচ্ছেদে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে পর্যটন কেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশ গঠনের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়। ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, জীব-বৈচিত্র রক্ষা এবং পর্যটন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিরাপদ রাখতে পুলিশের অধিনে একটি বিশেষ ইউনিট ট্যুরিস্ট পুলিশ গঠন করা হয়। চারটি বাভাগে ১১টি রিজিয়নে ১৩৬ পর্যটন স্পটে কাজ করে ট্যুরিস্ট পুলিশ। ২০২০ সালে ট্যুরিস্ট পুলিশের বিধি গেজেট আকারে জারি করা হয়।
স্পেশাল সিকিউরিটি এন্ড প্রোটেকশন ব্যাটলিয়ন (এসপিবিএন)
২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর গঠন করা হয় স্পেশাল সিকিউরিটি এন্ড প্রোটেকশন ব্যাটলিয়ন (এসপিবিএন)।
রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে এসপিবিএন। এছাড়াও দেশি-বিদেশি সর্বোচ্চ পদমর্যাদার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এসপিবিএন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)
২০১২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হাইটেক ,রহস্যময় এবং চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে গঠন করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। আটটি বিভাগ এবং ২৯ জেলায় পিবিআই এর কার্যালয় রয়েছে। যেকোনো ঘটনায় ছায়া তদন্ত করে পিবিআই।
নৌ পুলিশ
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নদী পথে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর অধিনে নৌ পুলিশ গঠন করা হয়। বিশেষ করে চোরাচালান, জলদস্যু নিয়ন্ত্রণ, নদীর পরিবেশ ঠিক রাখতে কাজ করে নৌ পুলিশ।
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)
২০১১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশকে নিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশ ব্যুরো নামের একটি ইউনিট খোলার প্রস্তাব দেয়। পরে ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলাটন পুলিশ কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিসিসি) গঠন করে। সিটিটিসির সাথে ট্যাকটিক্যাল টিম হিসেবে কাজ করে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট (বিডিইউ), স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাকটিক্স (সোয়াট) এবং ডগ স্কোয়াড কেনাইন। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের প্রস্তাব অনুযায়ী গত ৮ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয় থেকে পাঠানো এক প্রস্তাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসি ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)’ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)
বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পুলিশের অধিনে সন্ত্রাসবাদ, সহিংস উগ্রবাদ এবং জঙ্গিবাদ দমনে গঠন করে এটিইউ। এই ইউনিট সারা বাংলাদেশে আটটি বিভাগে তাদের কর্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এটিইউ্র বিধিমালা ২০১৯ এর মোতাবেক এই ইউনিট পরিচালিত হয়। অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট দরকারে স্পেশাল উইপেন অ্যান্ড ট্যাকটিক্সের মতো স্কোয়াড গঠন করতে পারবে। জঙ্গিবাদে অর্থায়নে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, চরমপন্থা থেকে ফিরিয়ে আনতে কাউন্সিলিং, জিম্মি সংকট মোকাবেলা, উগ্রবাদীদের ওপর প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং সন্ত্রাসীদের হুমকি মোকাবেলায় কাজ করে এটিইউ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই বাহিনী নিয়ে বির্তক তৈরি হওয়ায় নাম পাল্টে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট নাম করার প্রস্তাব করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) পুলিশ
২০২৩ সালের ২৪ মে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ২৩১টি পদ অনুমদন দিয়ে যাত্রা শুরু করে এমআরটি পুলিশ। মেট্রোরেলে ভ্রমণ করা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে এই ইউনিট। রাজধানী ঢাকাতে ২০২২ সালে মেট্রোরেল যাত্রা শুরুর পর থেকে এমআরটি গঠনের কাজ শুরু হয়।