ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় ‘পদদলিত হয়ে’ ৬ জনের মৃত্যুর যে তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে, তা সত্য নয় বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত শিশু ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়, আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন তখন বলেন, নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম (৫০), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮) ও জাহানারা (৫০) এবং তারাকান্দা উপজেলার কুলসুমা (৩৫)।
আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুও মারা গেছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তবে মধ্যরাতের দিকে হাসপাতাল থেকে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে পদদলিত হয়ে কেউ মারা গেছেন এমন প্রমাণ তিনি কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত পাননি। এ ধরনের কোনো প্রমাণ পেলে তিনি সেটা যাচাই করে দেখবেন।
হুমায়ুন কবির দাবি করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জাহানারা নামে এক নারী মৃতের তালিকায় আছেন, অথচ তিনি হাসপাতালের ১০ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে এখনও ভর্তি রয়েছেন।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস, ইমার্জেন্সি, মর্গ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেই আমরা নিশ্চিত হয়েছি, ছয় জনের মৃত্যুর খবর সত্য নয়। এত বড় একটি হাসপাতাল, প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার রোগী ভর্তি থাকে। প্রতিদিনই এখানে বেশ কয়েকজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়।”
পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে তার দেওয়া তথ্যের সত্যতা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ৬ জনের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছিল।”
এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) জাহিদুল হাসান বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। কোনো কোনো গণমাধ্যম মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করলেও এটি নিয়ে প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি।
‘গণমাধ্যমে আসা খবরটি অসত্য’ দাবি করে তিনি বলেন, “হাসপাতালে আমরা কোনো মরদেহ পাইনি। হাসপাতালের ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ ও মর্গে খোঁজ নিচ্ছি এবং স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলছি। তবে এখন পর্যন্ত কনক্রিট এভিডেন্স আসেনি।”
এদিকে, এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।