রাজশাহী নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে এক নারীসহ পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমকে আটক করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে তাদের উদ্ধার করে চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হাজির মোড়সংলগ্ন ওই ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন আন্নি আক্তার নামের এক নারী। নিজেকে মাহবুবের ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন, ভেতরে তার স্বামী অন্য এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ডাকাডাকি সত্ত্বেও ভেতর থেকে দরজা না খোলায় তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দরজা খোলা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন এবং ভেতরে থাকা সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামের এক নারীকে উদ্ধার করেন।
আটক মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির নিকট থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে মাহবুব আলম নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।
বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও ছুটি বা অনুমতি ছাড়া রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছেন ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ। তিনি বলেন, “মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশাহীতে যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।”
উদ্ধারের পর মাহবুব আলম দাবি করেন, সঙ্গে থাকা সানজিদা মৌ তার স্ত্রী এবং চার দিন আগেই তিনি আন্নি আক্তারকে তালাক দিয়েছেন। তবে সানজিদার সঙ্গে বিয়ের কোনো কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি।
অন্যদিকে আন্নি আক্তার বলেন, “তিনি তালাকের কোনো কাগজ পাননি এবং মাহবুবের বিরুদ্ধে একাধিক নারীঘটিত প্রতারণার অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ করছেন।”
চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, “মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগের কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”