সুদীপ্ত সালাম

প্রায় ৩ হাজার বছর আগে লেখা হোমারের বিখ্যাত মহাকাব্য ‘দ্য ওডিসি’ অবলম্বনে নির্মিত ক্রিস্টোফার নোলানের সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পরপরই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভাবলাম আমরাও কিছু কথা বলি।
ট্রোজান যুদ্ধ শেষে রাজা ওডিসিউসের নিজ রাজ্যে ফিরে আসার গল্প ওডিসি। কিন্তু দীর্ঘ দুঃসাহসিক অভিযানের পর রাজা যখন দেশে ফিরলেন, তখন কী ঘটেছিল? কেমন ছিল ওডিসিউসের জীবনের শেষ পর্ব? গ্রিক মহাকবি হোমারের লেখা ওডিসির মোট ২৪টি খণ্ড রয়েছে। এই খণ্ডগুলোতে এই প্রশ্নের উত্তর নেই।
তবে রাজার পরিণত কী হয়েছিল তা নিয়ে ঠিকই লেখা হয়েছিল। তাহলে? পরের পর্বটি কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। সেই খণ্ডটির নাম ছিল ‘দ্য টেলেগনি’। সেই অধ্যায়ে রাজা ওডিসিউসের জীবনের এক ট্র্যাজিক এবং বিস্ময়কর সমাপ্তি ফুটে উঠেছে।
ওডিসি যেখানে শেষ, সেখান থেকেই মূলত শুরু হয় ‘দ্য টেলেগনি’র গল্প। এই কাব্যটিতে আছে রাজার শেষজীবনের অ্যাডভেঞ্চার এবং তার পুত্র টেলেগোনাসের কাহিনি। কিন্তু মন খারাপ করা কথা হলো, মূল প্রাচীন গ্রিক পাণ্ডুলিপিটির মাত্র দুটি লাইন বর্তমানে টিকে আছে। মজার ব্যাপার হলো, এটি হোমার লেখেননি। ধারণা করা হয় গ্রিক কবি সিনাইথন অথবা ইউগামন এটি লিখেছিলেন। ওডিসিউসের কিংবদন্তিকে বাঁচিয়ে রাখতেই এই সিক্যুয়েলটি রচনা করা হয়েছিল।
জানার চেষ্টা করা যাক–কী আছে শেষ অধ্যায়ে। রাজা ওডিসিউস তো দেশে ফিরলেন। তারপর তিনি আবারও অভিযানে বেরিয়েছিলেন। তিনি থেসপ্রোটিয়া নামে এক দ্বীপে পৌঁছান। সেখানে তিনি ক্যালিসাইড নামের এক রমণীকে বিয়ে করেন এবং তাদের একটি পুত্র সন্তান হয়। রাজা সেই দ্বীপে একাধিক যুদ্ধ করেন। রানীর মৃত্যুর পর রাজা ছেলেকে সেই রাজ্যের রাজা করে আবার নিজ দেশে ফিরে আসেন।

হোমারের ওডিসিতে আমরা ডাইনি সার্সিকে দেখেছি। রাজার সঙ্গে এই ডাইনির সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তাদের একটি পুত্র সন্তানও হয়। টেলেগনি কাব্যের মূল ট্র্যাজেডি শুরু হয় সার্সি ও সেই পুত্র–টেলেগোনাসকে কেন্দ্র করে। টেলেগোনাস বড় হয়ে তার বাবাকে খুঁজতে বের হয়। তার মা সার্সি তাকে দেবতা হেফেস্টাসের তৈরি একটি বিশেষ বর্শা দেয়, যার মাথায় যুক্ত ছিল একটি বিষাক্ত স্টিংরে মাছের হুল।
টেলেগোনাসের জাহাজ এসে ভেড়ে ওডিসিউসের রাজ্য ইথাকার উপকূলে। ক্ষুধার্ত টেলেগোনাস ও তার সঙ্গীরা ইথাকার রাজ্যের গবাদি পশু চুরি করতে শুরু করে। এই চুরি ঠেকাতে রাজা ওডিসিউস নিজেই চোরদের সর্দার টেলেগোনাসের মুখোমুখি হয়। কেউ কাউকে চেনে না, তার ওপর ছিল অন্ধকার। শুরু হয় লড়াই। টেলেগোনাসের বিষাক্ত বর্শার আঘাতে ওডিসিউসে মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগমুহূর্তে রাজা জানতে পারেন, হত্যাকারী এই তরুণ তারই সন্তান। এই টেলেগোনাসের নাম থেকেই কাব্যের নাম হয় ‘টেলেগনি’।
তারপর? ওডিসিউসের মৃত্যুর পর তার মরদেহ নিয়ে টেলেগোনাস, ওডিসিউসের স্ত্রী পেনেলোপি ও তার বড় ছেলে টেলেমেকাস ডাইনি সার্সির দ্বীপে যায়। সার্সি জীবিত সবাইকে অমরত্ব দান করে। শেষে টেলেগোনাস বিয়ে করে তার সৎমা পেনেলোপিকে আর ওডিসিউসের বড় ছেলে টেলেমেকাস বিয়ে করে ডাইনি সার্সিকে!
তখনও, এখনও, অনেকে ওডিসির মূল কাহিনির সঙ্গে এই কাহিনিকে মেলাতে পারেন না। অনেকে ‘দ্য টেলেগনি’কে একটি ‘ফ্যান ফিকশন’ হিসেবে দেখেন। স্টার ওয়ার্স, ডিসি বা মার্ভেল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যেমন মূল স্রষ্টার চলে যাওয়ার পরও বছরের পর বছর নতুন গল্প তৈরি হতে থাকে, টেলেগনিও ছিল অনেকটা সেরকম।
গল্প বলছি; কিন্তু বলা হলো না–কীভাবে টেলেগনির গল্পটি জানা গেল। কারণ আমরাই তো বললাম, পাণ্ডুলিপিটির মাত্র দুটি লাইন টিকে আছে। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে প্রোক্লাস নামে একজন বিখ্যাত গ্রিক পণ্ডিত ও ব্যাকরণবিদ ‘দ্য টেলেগনি’ মহাকাব্যের মূল কপিটি পড়েছিলেন। তখনও পুরো পাণ্ডুলিপি টিকে ছিল। তিনি টেলেগনিসহ সেসময়ের গ্রিক পৌরাণিক মহাকাব্যগুলোর মূল কাহিনির একটি বিশদ গদ্য-সারসংক্ষেপ লিখে রেখেছিলেন। তার লেখা সেই বইটির নাম ‘ক্রিস্টোম্যাথি’।
তথ্যসূত্র: জাস্ট ওয়াচ, ব্রিটানিকা, মেন্টাল ফ্লস, দ্য আল্টিমেট এনসাইক্লোপিডিয়া অব মিথলোজি (আর্থার কটেরেল এন্ড র্যাচেল স্টর্ম)

প্রায় ৩ হাজার বছর আগে লেখা হোমারের বিখ্যাত মহাকাব্য ‘দ্য ওডিসি’ অবলম্বনে নির্মিত ক্রিস্টোফার নোলানের সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পরপরই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভাবলাম আমরাও কিছু কথা বলি।
ট্রোজান যুদ্ধ শেষে রাজা ওডিসিউসের নিজ রাজ্যে ফিরে আসার গল্প ওডিসি। কিন্তু দীর্ঘ দুঃসাহসিক অভিযানের পর রাজা যখন দেশে ফিরলেন, তখন কী ঘটেছিল? কেমন ছিল ওডিসিউসের জীবনের শেষ পর্ব? গ্রিক মহাকবি হোমারের লেখা ওডিসির মোট ২৪টি খণ্ড রয়েছে। এই খণ্ডগুলোতে এই প্রশ্নের উত্তর নেই।
তবে রাজার পরিণত কী হয়েছিল তা নিয়ে ঠিকই লেখা হয়েছিল। তাহলে? পরের পর্বটি কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। সেই খণ্ডটির নাম ছিল ‘দ্য টেলেগনি’। সেই অধ্যায়ে রাজা ওডিসিউসের জীবনের এক ট্র্যাজিক এবং বিস্ময়কর সমাপ্তি ফুটে উঠেছে।
ওডিসি যেখানে শেষ, সেখান থেকেই মূলত শুরু হয় ‘দ্য টেলেগনি’র গল্প। এই কাব্যটিতে আছে রাজার শেষজীবনের অ্যাডভেঞ্চার এবং তার পুত্র টেলেগোনাসের কাহিনি। কিন্তু মন খারাপ করা কথা হলো, মূল প্রাচীন গ্রিক পাণ্ডুলিপিটির মাত্র দুটি লাইন বর্তমানে টিকে আছে। মজার ব্যাপার হলো, এটি হোমার লেখেননি। ধারণা করা হয় গ্রিক কবি সিনাইথন অথবা ইউগামন এটি লিখেছিলেন। ওডিসিউসের কিংবদন্তিকে বাঁচিয়ে রাখতেই এই সিক্যুয়েলটি রচনা করা হয়েছিল।
জানার চেষ্টা করা যাক–কী আছে শেষ অধ্যায়ে। রাজা ওডিসিউস তো দেশে ফিরলেন। তারপর তিনি আবারও অভিযানে বেরিয়েছিলেন। তিনি থেসপ্রোটিয়া নামে এক দ্বীপে পৌঁছান। সেখানে তিনি ক্যালিসাইড নামের এক রমণীকে বিয়ে করেন এবং তাদের একটি পুত্র সন্তান হয়। রাজা সেই দ্বীপে একাধিক যুদ্ধ করেন। রানীর মৃত্যুর পর রাজা ছেলেকে সেই রাজ্যের রাজা করে আবার নিজ দেশে ফিরে আসেন।

হোমারের ওডিসিতে আমরা ডাইনি সার্সিকে দেখেছি। রাজার সঙ্গে এই ডাইনির সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তাদের একটি পুত্র সন্তানও হয়। টেলেগনি কাব্যের মূল ট্র্যাজেডি শুরু হয় সার্সি ও সেই পুত্র–টেলেগোনাসকে কেন্দ্র করে। টেলেগোনাস বড় হয়ে তার বাবাকে খুঁজতে বের হয়। তার মা সার্সি তাকে দেবতা হেফেস্টাসের তৈরি একটি বিশেষ বর্শা দেয়, যার মাথায় যুক্ত ছিল একটি বিষাক্ত স্টিংরে মাছের হুল।
টেলেগোনাসের জাহাজ এসে ভেড়ে ওডিসিউসের রাজ্য ইথাকার উপকূলে। ক্ষুধার্ত টেলেগোনাস ও তার সঙ্গীরা ইথাকার রাজ্যের গবাদি পশু চুরি করতে শুরু করে। এই চুরি ঠেকাতে রাজা ওডিসিউস নিজেই চোরদের সর্দার টেলেগোনাসের মুখোমুখি হয়। কেউ কাউকে চেনে না, তার ওপর ছিল অন্ধকার। শুরু হয় লড়াই। টেলেগোনাসের বিষাক্ত বর্শার আঘাতে ওডিসিউসে মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগমুহূর্তে রাজা জানতে পারেন, হত্যাকারী এই তরুণ তারই সন্তান। এই টেলেগোনাসের নাম থেকেই কাব্যের নাম হয় ‘টেলেগনি’।
তারপর? ওডিসিউসের মৃত্যুর পর তার মরদেহ নিয়ে টেলেগোনাস, ওডিসিউসের স্ত্রী পেনেলোপি ও তার বড় ছেলে টেলেমেকাস ডাইনি সার্সির দ্বীপে যায়। সার্সি জীবিত সবাইকে অমরত্ব দান করে। শেষে টেলেগোনাস বিয়ে করে তার সৎমা পেনেলোপিকে আর ওডিসিউসের বড় ছেলে টেলেমেকাস বিয়ে করে ডাইনি সার্সিকে!
তখনও, এখনও, অনেকে ওডিসির মূল কাহিনির সঙ্গে এই কাহিনিকে মেলাতে পারেন না। অনেকে ‘দ্য টেলেগনি’কে একটি ‘ফ্যান ফিকশন’ হিসেবে দেখেন। স্টার ওয়ার্স, ডিসি বা মার্ভেল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যেমন মূল স্রষ্টার চলে যাওয়ার পরও বছরের পর বছর নতুন গল্প তৈরি হতে থাকে, টেলেগনিও ছিল অনেকটা সেরকম।
গল্প বলছি; কিন্তু বলা হলো না–কীভাবে টেলেগনির গল্পটি জানা গেল। কারণ আমরাই তো বললাম, পাণ্ডুলিপিটির মাত্র দুটি লাইন টিকে আছে। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে প্রোক্লাস নামে একজন বিখ্যাত গ্রিক পণ্ডিত ও ব্যাকরণবিদ ‘দ্য টেলেগনি’ মহাকাব্যের মূল কপিটি পড়েছিলেন। তখনও পুরো পাণ্ডুলিপি টিকে ছিল। তিনি টেলেগনিসহ সেসময়ের গ্রিক পৌরাণিক মহাকাব্যগুলোর মূল কাহিনির একটি বিশদ গদ্য-সারসংক্ষেপ লিখে রেখেছিলেন। তার লেখা সেই বইটির নাম ‘ক্রিস্টোম্যাথি’।
তথ্যসূত্র: জাস্ট ওয়াচ, ব্রিটানিকা, মেন্টাল ফ্লস, দ্য আল্টিমেট এনসাইক্লোপিডিয়া অব মিথলোজি (আর্থার কটেরেল এন্ড র্যাচেল স্টর্ম)

বৈঠক শেষে বার্নহ্যাম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে যাবেন। যেখানে দেশের নতুন নেতা হিসেবে তিনি তার প্রথম ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পুরো ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং এটি যুক্তরাজ্যজুড়ে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৩ হাজার ৯২ মেগাওয়াট। তবে জ্বালানি সংকটে উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। চলতি বছরের ২০ মে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে মন্ত্রণালয়কে।