Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শর্ত: সমঝোতার দরজা কি সত্যিই খুলছে?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ১৩
ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শর্ত: সমঝোতার দরজা কি সত্যিই খুলছে?
তেহরানের রাস্তায় ব্যানারে একসঙ্গে ইরানের তিন সর্বোচ্চ নেতা। ছবি: রয়টার্স

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানে আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা নমনীয়তা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানকে তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ‘অর্থপূর্ণভাবে’ কমাতে হবে। এই বক্তব্য আগের সেই কঠোর মার্কিন অবস্থানের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন, যেখানে তেহরানকে কার্যত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি পরিত্যাগ করার দাবি করা হয়েছিল। তবে আল জাজিরার বিশ্লেষণ থেকে এটিও স্পষ্ট যে, এই পরিবর্তনকে এখনই বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্যের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা, ইরানের জব্দ সম্পদ, মার্কিন নৌ অবরোধ, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ—সবকিছু মিলিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে বড় বাধা এখনো রয়ে গেছে।

Advertisement

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। ছবি: রয়টার্স
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। ছবি: রয়টার্স

ভ্যান্সের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। তিনি রয়টার্সকে বলেছেন, কোনো দেশ যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না চায়, তাহলে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ জ্বালানি কেন প্রয়োজন—এ প্রশ্নের উত্তর ইরানকে দিতে হবে। তার যুক্তি, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হিসেবে তেহরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ বা কমানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক দেখা যায়। ওয়াশিংটন এখন অন্তত আলোচনার পরিসরে এমন একটি সমঝোতার সম্ভাবনা রাখছে, যেখানে ইরান সীমিত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ প্রশ্নটি আর কেবল ‘ইরান সমৃদ্ধ করবে কি করবে না’—এ পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং কতটা সমৃদ্ধকরণ গ্রহণযোগ্য এবং তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের ছাড় দেবে, সেটিও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তবে এই তুলনামূলক নমনীয়তার বিপরীতে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অন্য প্রান্তে রয়েছে কঠোর ভাষা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান অতীতে একাধিকবার সমঝোতার সুযোগ নষ্ট করেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে’ এবং দেশটির অর্থনীতি ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক পতনের’ দিকে যাচ্ছে। তার বক্তব্যে নিষেধাজ্ঞাকে আরও চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিতও রয়েছে। ফলে ভ্যান্সের তুলনামূলক নরম বক্তব্য এবং রুবিওর কঠোর অবস্থান পাশাপাশি রাখলে বোঝা যায়, ওয়াশিংটনের নীতিতে এখনো একটি দ্বিমুখিতা রয়েছে—একদিকে আলোচনার সম্ভাবনা খোলা রাখা, অন্যদিকে সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখা।

এই দ্বিমুখিতা আরও স্পষ্ট হয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে। তিনি সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ শেষ হবে ‘ভালোভাবে অথবা ভালো নয় এমনভাবে’—অর্থাৎ কূটনৈতিক সমঝোতা সম্ভব হলেও সামরিক চাপের বিকল্প তিনি পুরোপুরি সরিয়ে নিচ্ছেন না। এ অবস্থায় ইরানের জন্য আলোচনার টেবিলে বসা মানে কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কথা বলা নয়; বরং যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করাও। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে যে কেবল পারমাণবিক ইস্যুতে ছাড় দিয়ে ইরানকে সমঝোতায় আনা সম্ভব, তাহলে সেটি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।

ইরানের অবস্থানও একইভাবে দ্বিমুখী। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘নিরর্থক’। তার অভিযোগ, ইরান যখনই আলোচনার টেবিলে বসেছে, তার পরপরই যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তিনবার ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এমন একটি পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা কঠিন, যে একদিকে আলোচনার কথা বলে, অন্যদিকে হত্যা, নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও হুমকি অব্যাহত রাখে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, তেহরানের কাছে সমস্যাটি কেবল পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ইরানের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।

trump-and-pezeskian
ফাইল ছবি

তবে পেজেশকিয়ানের কঠোর বক্তব্যের মধ্যেও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি গত ৪ অক্টোবর তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ন্যায় ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে’ আলোচনা হলে সংঘাতের অবসান সম্ভব। এই বক্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায় যে ইরানের ভেতরেও আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। অর্থাৎ তেহরানের আপত্তি মূলত আলোচনার অস্তিত্বের বিরুদ্ধে নয়; বরং কীভাবে আলোচনা হবে, তার শর্ত কী হবে এবং আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের আচরণ করবে—এই প্রশ্নে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য প্রথম প্রয়োজন হতে পারে পারস্পরিক আস্থার অন্তত ন্যূনতম ভিত্তি তৈরি করা।

ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের দিকে তাকালেও বিষয়টি পরিষ্কার হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তেহেরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধ সব ফ্রন্টে বন্ধ করার কথা বলা হয়, যার মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা বলা হয়েছিল। অর্থাৎ তেহরানের প্রস্তাবের কাঠামো ছিল ‘আগে যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপ কমানো, তারপর পারমাণবিক প্রশ্নে আলোচনা’।

এই অবস্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গির মূল পার্থক্য হলো পদক্ষেপের ক্রম। আল জাজিরাকে ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক সাইমন মাবন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নিজের অবস্থান কিছুটা নরম করার চেষ্টা করছে, কিন্তু ইরানের কাছে এটিই আসল সমস্যা নয়। তেহেরানের প্রধান উদ্বেগ হলো নৌ অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ফেরত পাওয়া এবং অঞ্চলজুড়ে সংঘাতের অবসান। এই বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে বোঝা যায় যে ওয়াশিংটন যে সমস্যাটিকে কেন্দ্র করে সমঝোতা খুঁজছে, তেহেরান হয়তো সেটিকে একইভাবে দেখছে না।

এখানেই সম্ভাব্য চুক্তির সবচেয়ে বড় জটিলতা। যদি যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে ইরানের সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা হলো চুক্তির প্রধান শর্ত, কিন্তু ইরান মনে করে নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও যুদ্ধ বন্ধ করাই প্রধান বিষয়– তাহলে উভয় পক্ষ একই আলোচনার টেবিলে বসেও ভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজবে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো সমঝোতা হলেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। কারণ ইরান চাইবে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা; আর যুক্তরাষ্ট্র চাইবে পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর দৃশ্যমান ও যাচাইযোগ্য সীমাবদ্ধতা।

এ প্রসঙ্গে ২০১৫ সালের জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন-এর অভিজ্ঞতাও সামনে আসে। সেই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করেন। আল জাজিরাকে অধ্যাপক মাবন মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান যুদ্ধের আগেও পারমাণবিক সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও এমন আলোচনা হয়েছিল, যেখানে একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়া হয়। এই অতীত অভিজ্ঞতা বর্তমান আলোচনায় ইরানের অবিশ্বাসকে আরও গভীর করতে পারে।

ইরানের জন্য তাই শুধু পারমাণবিক প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের আশ্বাস যথেষ্ট নাও হতে পারে। মাবনের মতে, তেহরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অবরোধ তুলে নেওয়া এবং জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়ার নিশ্চয়তা চাইবে। অন্তত এসব বিষয়ে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপের প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে লেবাননের সংঘাতের অবসান এবং উপসাগরে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিও ইরানের দাবির অংশ হতে পারে। অর্থাৎ সম্ভাব্য চুক্তি যদি কেবল পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়, তাহলে সেটি তেহরানের কাছে অসম্পূর্ণ মনে হতে পারে।

হরমুজ প্রণালিও এই সমীকরণের কেন্দ্রে রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে প্রণালিটির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় তেল রপ্তানি সেপ্টেম্বর মাসে যুদ্ধ-পূর্ব মাত্রার ৮১ শতাংশের বেশি পর্যায়ে ফিরে এসেছিল। এমনকি ওই মাসে ১৪ দিন বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি যুদ্ধ-পূর্ব মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যায়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানোর চাপ কিছুটা কমাতে পারে। কিন্তু একই সময়ে জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকায় প্রণালিটি পুরোপুরি নিরাপদ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স

এই কারণেই হরমুজের পরিস্থিতি কেবল একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি কূটনীতিরও একটি সূচক। অধ্যাপক মাবনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই নিশ্চিত হতো যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে উন্মুক্ত হয়েছে, তাহলে তারা আরও কঠোর চুক্তির জন্য চাপ দিত। তার বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ভ্যান্সের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানোর তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান হয়তো ওয়াশিংটনের নিজস্ব অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। অর্থাৎ সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো এমন একটি পরিস্থিতিতে পৌঁছায়নি, যেখানে তারা মনে করতে পারে যে ইরানকে আরও কঠোর শর্তে বাধ্য করা সম্ভব।

তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা পুরোপুরি নিঃশেষ হয়নি, কিন্তু সেই সম্ভাবনা এখনো অত্যন্ত ভঙ্গুর। ভ্যান্সের বক্তব্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত থাকলেও রুবিও ও ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্য দেখাচ্ছে যে সর্বোচ্চ চাপের নীতিও শেষ হয়ে যায়নি। অন্যদিকে ইরানের পেজেশকিয়ান আলোচনাকে নিরর্থক বললেও আরাঘাচি ন্যায়সঙ্গত আলোচনার সম্ভাবনা খোলা রেখেছেন। ফলে উভয় পক্ষই একই সঙ্গে সংঘাত ও কূটনীতির দুটি পথ ধরে এগোচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত সমস্যাটি শুধু ইরানের ইউরেনিয়াম কত শতাংশ সমৃদ্ধ হবে, সেই প্রশ্নে আটকে নেই। আসল প্রশ্ন হলো—কোন পক্ষ আগে কী পদক্ষেপ নেবে, যুদ্ধ ও অবরোধের অবসান কীভাবে হবে, নিষেধাজ্ঞা কখন ও কীভাবে প্রত্যাহার করা হবে, ইরানের জব্দ সম্পদের কী হবে এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য থেকে বোঝা যায়, পারমাণবিক ইস্যুতে কিছুটা সমঝোতার জায়গা তৈরি হলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধ এখনো অমীমাংসিত। তাই ভ্যান্সের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সমঝোতার সূচনা না বলে বরং সম্ভাব্য আলোচনার একটি সীমিত জানালা হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিসঙ্গত। সেই জানালা দিয়ে দুই পক্ষ সত্যিই আলোচনার টেবিলে ফিরবে, নাকি পারস্পরিক অবিশ্বাস ও যুদ্ধের চাপ আবারও কূটনীতিকে পেছনে ঠেলে দেবে—বর্তমান সংকটের ভবিষ্যৎ মূলত তার ওপরই নির্ভর করছে।

বিষয়: যুদ্ধআমেরিকাইরানইসরায়েল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডা ও বিদ্যায়তনিক পরাধীনতার শিকার তাসনীম সিরাজ

  • ২

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

  • ৩

    সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

  • ৪

    ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

  • ৫

    ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর

সম্পর্কিত
  • বিদেশি তারকাদের নিয়ে ঢাকায় কনসার্ট করা কেন কঠিন হয়ে যাচ্ছে?

    বিদেশি তারকাদের নিয়ে ঢাকায় কনসার্ট করা কেন কঠিন হয়ে যাচ্ছে?

    কয়েক বছর আগেও আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক তারকা- বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ সারির সুরকার ও শিল্পীদের পরিবেশনায় মুখরিত থাকত ঢাকার কনসার্ট অঙ্গন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি শিল্পীদের নিয়ে আয়োজিত কনসার্টের টিকিট কেনা দর্শক-শ্রোতাদের জন্য যেন এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • ককরোচ পার্টির আন্দোলন সামনে রেখে কী চলছে দিল্লিতে?

    ককরোচ পার্টির আন্দোলন সামনে রেখে কী চলছে দিল্লিতে?

    ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণ (এসআইআর ) বাতিলের দাবিতে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে। এই বিক্ষোভঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

  • আফগানিস্তানকেও টেস্টে ‘ভয়’ পাচ্ছে বাংলাদেশ?

    আফগানিস্তানকেও টেস্টে ‘ভয়’ পাচ্ছে বাংলাদেশ?

    একদিন বাদেই বাংলাদেশের একটা টেস্ট ম্যাচ, তবে তার আগে নেই কোনো উত্তাপ। এমনকি অনেকেই জানেন না যে কাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে লাল বলের ক্রিকেট খেলবে নাজমুল হোসেনের দল। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের এমন একটি ম্যাচে চলতি বছরই জিম্বাবুয়ের কাছে ভরাডুবি হয়েছিল বাংলাদেশ দলের। তা

  • রাশিয়ায় প্লেগ আতঙ্ক: আসলে কী ঘটেছে?

    রাশিয়ায় প্লেগ আতঙ্ক: আসলে কী ঘটেছে?

    সাইবেরিয়ার একটি অ্যান্টি-প্লেগ গবেষণাগারে কাজ করা এক তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করছে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ। তবে ওই তরুণীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের আলাদা করে রাখা এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে নতুন রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।