রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডা, অপতথ্য ও বিদ্যায়তনিক পরাধীনতার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব। আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বুধবার মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ। সে দিন শ্রেণিকক্ষে মাথা থেকে পা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বোরকায় আবৃত ও চোখ কাপড়ে প্রায় আচ্ছাদিত একজন শিক্ষার্থীকে খেয়াল করেন তাসনীম সিরাজ। তাসনীম সিরাজ পোশাক নয়, বরং চোখ দৃশ্যমান না থাকায় ক্লাসে শিক্ষার্থীর মনোভঙ্গি বুঝতে একজন শিক্ষকের অসুবিধা হওয়ার বিষয়ে আলোকপাত করেন। প্রসঙ্গক্রমে ইসলামে পর্দার বিধানের বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। একপর্যায়ে ছাত্রীটি শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করেন এবং তাকে আরও কয়েকজন অনুসরণ করেন। অন্যদিকে, ছাত্রীটি কষ্ট পেয়েছেন বুঝতে পেরে শিক্ষক তার কাছে দুঃখপ্রকাশ করতে ক্লাস শেষে করিডোরে অপেক্ষা করেন। কয়েকবার খবর দেবার পরও সেই শিক্ষার্থী শিক্ষকের সাথে কথা বলতে আসেননি।
শ্রেণিকক্ষে একজন শিক্ষার্থীর শারীরিক-মানসিক যন্ত্রণা ও অপমানবোধের কারণ হতে পারে সে রকম আচরণ বা কথা বলা একজন শিক্ষকের উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক যেকোনো মতাদর্শের শিক্ষকেরই এ ধরনের আচরণের ঘোরতর বিরোধী। নেটওয়ার্ক মনে করে, সকল শিক্ষকের উচিত শিক্ষার্থীদের প্রতি সর্বোচ্চ সহনশীল থাকা এবং অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখানো। কিন্তু, এই ঘটনাটিকে শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ না রেখে, বরং ধর্মকে হাতিয়ার বানিয়ে নানা ভাবে জনপরিসরে ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি তোলা হয়েছে।
এ ঘটনায় ইংরেজি বিভাগ ইতিমধ্যে বিনা তদন্তে ও অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই ‘জরুরি সভা’ আয়োজনের মাধ্যমে তাসনীম সিরাজের কোর্সগুলো থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে ভাগাভাগি করে দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক মনে করে, ইংরেজি বিভাগ যে পদ্ধতিতে অধ্যাপক তাসনীম সিরাজকে ক্লাস থেকে অব্যাহতি দিয়েছে, তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশ অনুযায়ী বেআইনী। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বে শিক্ষকের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়, যা মানা হয়নি।
ব্যক্তিগত ও পাবলিক পরিসরে যে কেউ যেকোনো পোশাক পরতেই পারেন, কিন্তু আনুষ্ঠানিক কিছু কিছু ক্ষেত্রে (যেমন- পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র, ভর্তি পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা, এমনকি ক্লাসেও) প্রয়োজন অনুযাীয় মুখ দেখানো, ক্ষেত্রবিশেষে সার্বক্ষণিকভাবে চোখ অনাবৃত রাখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে অসংজ্ঞায়িত অস্পষ্টতা প্রায়ই নানা স্তরে নিপীড়নের ঝুঁকি তৈরি করছে।
অনুমতি ছাড়া শিক্ষকের বক্তব্য ধারণ করা ও অনলাইনে খণ্ডিতভাবে ছড়িয়ে দিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অপতথ্যমূলক ক্যাম্পেইন করা সাইবার অপরাধ। যারা এই কাজ করেছে, তাদের যথোপযুক্ত আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।