সাইবেরিয়ার একটি অ্যান্টি-প্লেগ গবেষণাগারে কাজ করা এক তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করছে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ। তবে ওই তরুণীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের আলাদা করে রাখা এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে নতুন রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পুরো ঘটনা তাদের জানানো হচ্ছে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ওই নারী রাশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক রিসার্চ অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান ছিলেন। তিনি কী রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং কেন রুশ কর্তৃপক্ষ দ্রুত তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের আলাদা করার ব্যবস্থা নিয়েছে—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে, তিনি প্লেগে মারা গেছেন—এমন সম্ভাবনাকেও রুশ কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব না দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সিএনএন জানতে পেরেছে, স্থানীয় একটি মাতৃসদন হাসপাতালে রোগীদের বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ‘প্লেগ’ ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে রোগীদের একটি প্রশ্নপত্রও পূরণ করতে বলা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার কাছে এ বিষয়ে তথ্য চেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশা করছেন।
মস্কোর পক্ষ থেকে ঝুঁকি ‘কম’ বলে আশ্বস্ত করা হলেও, এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। সীমান্ত পারাপারের স্থানগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও চালু করা হয়েছে।
ইরকুতস্কে কী ঘটছে?
ইরকুতস্ক অঞ্চলের আঙ্গারস্ক শহরের ২৯ বছর বয়সী ব্লগার উলিয়ানা গ্যাভরিউনিনা সিএনএনকে জানান, ৪০ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় তাকে অন্য একটি মাতৃসদন হাসপাতালে যেতে হয়। নতুন করে কোয়ারেন্টাইন বিধিনিষেধ জারি হওয়ায় সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় তার স্বামী আর তার সঙ্গে থাকতে পারতেন না।
নির্ধারিত সময়ে ইরকুতস্ক সিটি পেরিনেটাল সেন্টারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গেলে সাধারণত তার সঙ্গে তার মাকে হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। হাসপাতালের কর্মীরা তার শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করেন, জিহ্বা দেখাতে বলেন এবং মাস্ক পরা, হাতে জীবাণুনাশক ব্যবহার ও দুটি প্রশ্নপত্র পূরণ করতে নির্দেশ দেন। এর একটি প্রশ্নপত্রের শিরোনাম ছিল—‘অত্যন্ত বিপজ্জনক সংক্রামক রোগ প্লেগের সন্দেহে পরীক্ষা তালিকা’। এতে জ্বর ও বুকে ব্যথার মতো উপসর্গের কথা উল্লেখ ছিল।
গ্যাভরিউনিনা জানান, হাসপাতালের কর্মীরা সরাসরি প্লেগের কথা উল্লেখ করেননি। তারা শুধু তাকে বলেছেন, একটি অজ্ঞাত ‘নতুন ভাইরাস’ ছড়িয়েছে এবং শিশুদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি সিএনএনকে বলেন, “সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। সবাই শুধু মাস্ক পরেছিল।”
তবে তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল প্রসবের সময় স্বামীকে পাশে রাখা যাবে না বলে জানানো। এমনকি স্বামীকে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হলেও এই নিয়মে কোনো পরিবর্তন হবে না বলে তাকে জানানো হয়।
এই বিধিনিষেধ কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনা খোলাখুলিভাবে জানাচ্ছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। গ্যাভরিউনিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টের নিচে ইরকুতস্কের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন, “মনে হচ্ছে, তারা আমাদের পুরো ঘটনা জানাচ্ছে না। সবাইকে বলা হচ্ছে, এটি প্লেগ নয়, নিউমোনিয়া। অথচ হাসপাতালগুলোতে এখনও কোয়ারেন্টিন চলছে এবং অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসকেরা পুরো কোভিড সুরক্ষা পোশাক পরে চলাফেরা করছেন।”
ইকাতেরিনা নামে পরিচয় দেওয়া আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সেখানে জীবনযাত্রা স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তার পরিচিতদের কেউ কেউ ‘কিছুটা আতঙ্কিত’ হলেও রাস্তাঘাটে তিনি তেমন কোনো পরিবর্তন দেখেননি। তিনি সিএনএনকে বলেন, “সবকিছু স্বাভাবিক, চোখে পড়ার মতো কোনো পরিবর্তন নেই।”
তবে স্থানীয় টেলিগ্রাম গ্রুপগুলোতে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন করেন, “এসব রূপকথা আপনি কাকে শোনাচ্ছেন?”
এসব ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ কী?
স্বাধীন আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম লিউদি বাইকালার তথ্য অনুযায়ী, ২৮ বছর বয়সী ল্যাবকর্মী দারিয়া শিপিলোভাকে ২৯ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গত সপ্তাহের শেষ দিকে ইরকুতস্ক থেকে প্রায় ১২ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত শেলেখভ শহরের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তার এক বন্ধু সিএনএনকে জানান, তিনি ২ অক্টোবর মারা যান। তবে ওই বন্ধু আর কোনো তথ্য নিশ্চিত করেননি।
যাচাই না হওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ল্যাব থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা বা অন্য কোনো অঞ্চলে ভ্রমণের পর তিনি অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন।
রাশিয়ার স্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা রসপোট্রেবনাদজর জানায়, ‘অজ্ঞাত’ কারণে হওয়া নিউমোনিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটি তার অসুস্থতার সঙ্গে কর্মস্থলের কোনো সম্পর্ক থাকার আশঙ্কাকে গুরুত্ব দেয়নি।
প্লেগ নিয়ে আতঙ্কের শুরু কীভাবে?
এই সমস্যার প্রথম ইঙ্গিত পাওয়া যায় গত ২ অক্টোবর। সেদিন ইরকুতস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ টেলিগ্রামে জানান, রসপোট্রেবনাদজরের প্রধান আন্না পোপোভা ওই অঞ্চলের এক বাসিন্দার শরীরে ‘বিশেষভাবে বিপজ্জনক সংক্রমণ’ সন্দেহে একটি ‘জরুরি বৈঠক’ ডেকেছেন।
কোবজেভ প্লেগের কথা উল্লেখ করেননি। তবে প্রতিবেশী বুরিয়াতিয়ার প্রধান আলেক্সেই সিডেনভ এক বিবৃতিতে বলেন, ওই নারী ‘ইরকুতস্ক অঞ্চলে প্লেগে মারা গেছেন’। রুশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে তার বক্তব্য সম্পাদনা করে লেখা হয়—ওই নারী ‘সম্ভবত প্লেগে মারা গেছেন’।
ল্যাবকর্মী কী রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বা কীভাবে তিনি সংক্রমিত হয়েছিলেন, তা এখনও জানা যায়নি। তবে রুশ কর্তৃপক্ষের অস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া এ নিয়ে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
রুশ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
রাশিয়ার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলেছে, ‘রোগের সংক্রমণ পরিস্থিতি’ স্থিতিশীল রয়েছে। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরকুতস্ক রিসার্চ অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের ৬০ কর্মীকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে এবং কয়েকটি হাসপাতালে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ক্রেমলিন জনগণকে বিভিন্ন গুজব ও জল্পনা-কল্পনার বদলে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থার দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে। মঙ্গলবার আরও তথ্য জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের আবারও ওই স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তিনি জানান, সংস্থাটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সংস্থাটি এখন পর্যন্ত খুব কম তথ্যই প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
গবেষকের মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে রাশিয়াকে আরও তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, রাশিয়ার উচিত অবশ্যই বিশ্বের সঙ্গে আরও তথ্য শেয়ার করা। বিষয়টি আমাদের ধারণার চেয়েও বড় হতে পারে। আমরা জানি না। তবে এখনও আমাদের কাছে তথ্য খুবই সীমিত। তাই এই মুহূর্তে অনুমান করা দায়িত্বজ্ঞানহীন হবে বলে আমি মনে করি।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, তারা রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যাতে আসল ঘটনা, বর্তমান পরিস্থিতি, চলমান পরীক্ষাগুলো এবং পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে তথ্য যাচাই করা যায়। ডব্লিউএইচও বলেছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া অনানুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি কম বলেই মনে হচ্ছে।
মঙ্গলবার ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস সিএনএনকে বলেন, সংস্থাটির তথ্য যাচাইয়ের অনুরোধের জবাবে রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—ইরকুতস্ক অঞ্চলে সম্প্রতি প্লেগের কোনো ঘটনা নথিভুক্ত হয়নি। তিনি বলেন, রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ডব্লিউএইচওকে জানিয়েছে, একটি মহামারিবিষয়ক তদন্ত করা হয়েছে। ওই তদন্তে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের পরীক্ষা করা হয় এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। টেড্রোস জানান, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে উচ্চ ঝুঁকির কোনো রোগজীবাণু শনাক্ত করতে পারেনি রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
টেড্রোস আরও বলেন, “অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত দ্বিতীয় এক কর্মী সম্পর্কে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের কাছে আরও তথ্য জানতে চাইছে ডব্লিউএইচও।” তবে তিনি কোন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের কথা বলছেন, তা উল্লেখ করেননি।
কিছু পশ্চিমা গণমাধ্যম এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দ্বিতীয় একটি সংক্রমণের কথা জানিয়েছে। এসব প্রতিবেদনে রুশ গণমাধ্যমের অনির্দিষ্ট কিছু প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সিএনএন এমন কোনো প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত নয়। স্থানীয় গণমাধ্যম বা স্থানীয় কর্মকর্তারাও দ্বিতীয় কোনো সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
বুধবার ক্রেমলিন জানিয়েছে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ওই প্লেগ গবেষকের মৃত্যুর বিষয়ে ডব্লিউএইচওকে জানিয়েছে রাশিয়া।
সীমান্তে কড়াকড়ি
রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন আশ্বাস দেওয়া হলেও, এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তান রাষ্ট্রীয় সীমান্ত পারাপারের স্থানগুলোতে কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা চালু করেছে। উজবেকিস্তান জানিয়েছে, অত্যন্ত সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ‘প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে’।
তবে রাশিয়ার সঙ্গে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা চীনে অতিরিক্ত কোনো সীমান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। সিএনএন পর্যালোচিত ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরকুতস্ক থেকে চীনের কোনো ফ্লাইট বাতিল হয়নি। চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশের সঙ্গে রাশিয়ার ব্লাগোভেশচেনস্ক শহরের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ হেইহে বন্দরের মাধ্যমে যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে। বুধবার হেইহে চায়না ট্রাভেল এজেন্সির এক বিক্রয়কর্মী সিএনএনকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তারা কোনো নির্দেশনা পাননি।
বেইজিং সীমান্তে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে কি না, তা জানতে সিএনএন চীনের শুল্ক কর্তৃপক্ষ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বর্তমানে চীনে জাতীয় ছুটি চলছে।
গবেষণাগারে প্লেগ নিয়ে গবেষণা করা হতো কেন?
গবেষণাগারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটে প্রায় ৯৫ জন গবেষক কাজ করেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, যা সাইবেরিয়া ও রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যজুড়ে উচ্চ ঝুঁকির ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধের দায়িত্বে রয়েছে।
প্লেগ মোকাবিলার জন্য ১৯৩৪ সালে ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখনও সেখানে প্লেগ নিয়ে গবেষণা করা হয়। কারণ, প্লেগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস সাইবেরিয়ার কিছু এলাকা ও আশপাশের অঞ্চলের বন্যপ্রাণীর মধ্যে এখনও প্রাকৃতিকভাবে ছড়িয়ে আছে।