
সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দল, কী করবেন নেতানিয়াহু?
ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে থাকা প্রধানমন্ত্রী হলেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত ১৭ বছরের মধ্যে ১৫ বছরেরও বেশি সময় তিনি দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। সব মিলিয়ে তার প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ ১৯ বছর।
চরচা ডেস্ক

নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে দেখা বা সেক্সুয়ালি অবজেক্টিফাই করার কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন উদাহরণ প্রায়ই চোখে পড়ে। কখনো নারীকে খাবারের সঙ্গে, কখনো আবার বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়। অর্থাৎ, একজন মানুষ হিসেবে তার পরিচয় ও ব্যক্তিত্বকে উপেক্ষা করে আলোচনা হয় কেবল নারীর শারীরিক অবয়ব ঘিরে।
এই প্রবণতা কমানোর কোনো উপায় কি আছে? নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। মাথার ওপরের ভাগে বৈদ্যুতিক হালকা শক দিয়ে মস্তিষ্কের যে অংশটি নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে দেখার প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত, সেখানে সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব হতে পারে–এমনই জানাচ্ছে গবেষণাটি।
যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেখেছেন, মাথার ত্বকে ১০ মিনিট ধরে মৃদু বৈদ্যুতিক শক প্রয়োগ করলে যৌন আবেদনময় ভঙ্গিতে থাকা নারীদের সোজা ছবি চেনার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের সক্ষমতা বাড়ে। একই সঙ্গে নারী ও পুরুষের এমন যৌন আবেদনময় সোজা ছবি চেনার ক্ষেত্রে যে পার্থক্য সাধারণ অবস্থায় দেখা যাচ্ছিল, সেটিও আর ছিল না। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে তূলে ধরা হয় এই খবর।
বিষয়টি একটু কঠিন মনে হচ্ছে?
চলুন, সহজ একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক।
সামনে একজন মানুষের সোজা ছবি রাখা হলো। পাশে রাখা হলো একই মানুষের উল্টো করা ছবি। সাধারণত সোজা ছবিতে থাকা মানুষের মুখ ও শরীর চেনা সহজ হয়। কিন্তু ছবিটি উল্টো করে দিলে তা চিনতে বেশি অসুবিধা হয়। জড়বস্তুর ক্ষেত্রে অবশ্য ছবি সোজা না উল্টো, তা চেনার ওপর তুলনামূলকভাবে কম প্রভাব ফেলে।
আগের গবেষণায় এমনটাই দেখা গেছে। কিন্তু যৌন আবেদনময় নারীদের ছবির ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা।
গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ও পুরুষ উভয় দর্শকের ক্ষেত্রেই যৌন আবেদনময় নারীদের সোজা ও উল্টো ছবি চেনার মধ্যে পার্থক্য তুলনামূলকভাবে কম। পুরুষদের এমন ছবির ক্ষেত্রে কিন্তু এই পার্থক্য এতটা কমেনি। গবেষকদের ধারণা, নারীদের যৌন আবেদনময় ছবিকে মস্তিষ্ক অনেকটা জড়বস্তুর ছবির মতো করে প্রক্রিয়াজাত করে।
নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে দেখা বলতে কী বোঝায়?
গবেষণাটির নেতৃত্ব দেওয়া অধ্যাপক সিরো সিভিলে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, “একটা শরীরকে যৌনবস্তু হিসেবে দেখার অর্থ হলো, তাদের পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে না দেখে কেবল দেখা বা ব্যবহারের জন্য একটি শরীর হিসেবে বিবেচনা করা। এতে তাদের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। আর এমন আচরণের শিকার সবচেয়ে বেশি হন নারীরা।”
এই প্রবণতার প্রভাব শুধু দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে দেখার সঙ্গে একজন নারীকে হয়রানি সহ্য করতে হওয়ার প্রবণতা, নিজের শরীর নিয়ে হীনম্মন্যতা, খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
কীভাবে পরীক্ষা চালালেন গবেষকরা?
সোশ্যাল নিউরোসায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় অংশ নেন ৫৪ জন নারী ও ২২ জন পুরুষ শিক্ষার্থী।
প্রথমে তাদের অন্তর্বাস পরা নারী মডেলদের যৌন আবেদনময় ছবি দেখানো হয়। ছবিগুলো সোজা ও উল্টো, দুই অবস্থাতেই দেখানো হয়েছিল। এরপর আগে দেখানো ছবির সঙ্গে নতুন কিছু ছবি মিশিয়ে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়, তারা আগে দেখা মডেলদের চিনতে পারছেন কি না।
এরপর অংশগ্রহণকারীদের দুই দলে ভাগ করা হয়। এক দলের মাথার ত্বকে ১০ মিনিট ধরে মৃদু বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। অন্য দলকে মাত্র ৩০ সেকেন্ড উদ্দীপনা দিয়ে প্লাসিবো চিকিৎসা দেওয়া হয়। অর্থাৎ, দ্বিতীয় দলের ক্ষেত্রে প্রকৃত চিকিৎসার মতো প্রভাব তৈরির উদ্দেশ্যে একটি তুলনামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারী ও গবেষক, কেউই জানতেন না কে কোন দলে রয়েছেন।
ফলাফলে দেখা যায়, প্লাসিবো পাওয়া দলের অংশগ্রহণকারীরা পুরুষ মডেলদের উল্টো ছবির তুলনায় সোজা ছবি সহজে চিনতে পেরেছেন। অর্থাৎ, সোজাভাবে দেখানো ছবি তো সহজেই চিনেছেন, তবে উল্টোভাবে দেখানো ছবি অতটা চিনতে পারেননি। কিন্তু নারী মডেলদের ছবির ক্ষেত্রে এই ব্যবধানটা অনেক কম ছিল।
অন্যদিকে, প্রকৃত বৈদ্যুতিক শক পাওয়া দলের অংশগ্রহণকারীরা নারীদের সোজা ছবি আগের তুলনায় ভালোভাবে চিনতে পেরেছেন। একই সঙ্গে নারী ও পুরুষের উল্টো ছবি চেনার ক্ষেত্রে আগের পার্থক্যটিও আর দেখা যায়নি।
তাহলে কি বৈদ্যুতিক শক দিয় যৌনবৈষম্য দূর হবে?
এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে। গবেষণার ফলাফল দেখে এমনটা ভাবার কারণ নেই যে, মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা দিলেই নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাব দূর হয়ে যাবে।
অধ্যাপক সিভিলে বলেন, “আমাদের গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল বলছে, মস্তিষ্কে মৃদু বৈদ্যুতিক প্রয়োগ করে যৌন আবেদনময় নারীদের ছবি দেখার ও বোঝার প্রক্রিয়ায় অন্তত সাময়িকভাবে পরিবর্তন আনা সম্ভব।”
কিন্তু সেক্সিজম বা যৌনবৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি এখনই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধা কোথায়, সে ব্যাখ্যায় সিভিলে বলেন, “এটি ছিল পরীক্ষাগারে পরিচালিত একটি গবেষণা। আমরা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বা আচরণ পরিমাপ করিনি। আর মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা কোনোভাবেই যৌনবৈষম্য দূর করার সমাধান নয়। তবে নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে দেখার প্রবণতা কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার জন্য এই গবেষণা নতুন একটি পথ খুলে দিয়েছে।”
আগে এ ধরনের পক্ষপাত কমানোর চেষ্টা করা হতো ছবিতে পরিবর্তন এনে কিংবা দর্শকের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলে। যেমন, শরীরের যৌন আবেদনময় অংশ ঝাপসা করে দেওয়া, ছবির ব্যক্তির মানবিক পরিচয় তুলে ধরা বা দর্শকের ক্ষমতাবোধ কমানোর চেষ্টা করা।
কিন্তু এই গবেষণায় গবেষকেরা সরাসরি ছবি দেখা ব্যক্তির মস্তিষ্কে উদ্দীপনা প্রয়োগ করেছেন।
অধ্যাপক সিভিলের মতে, দুই দলের অংশগ্রহণকারীদের একই ছবি দেখানো হয়েছিল। তাই পক্ষপাতের কারণ শুধু ছবির মধ্যে নয়, বরং মানুষ ছবিগুলোকে যেভাবে দেখে ও বোঝে, তার মধ্যেও থাকতে পারে।
এই ফলাফল নারী-পুরুষভিত্তিক পক্ষপাত কীভাবে মানুষের দৃষ্টিতে তৈরি হয়, তা বোঝার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এই পরিবর্তন কতক্ষণ স্থায়ী হয় এবং বাস্তব জীবনে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বা আচরণে এর কোনো প্রভাব পড়ে কি না, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
হবিগঞ্জে আইফোনের জন্য বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা, অভিযুক্ত আটক
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর, দালাল ও অসাধু এজেন্সির প্রলোভনে সাড়া না দেওয়ার আহ্বান
নারীকে কি ‘বস্তু’ হিসেবে দেখেন? আপনার দরকার ইলেকট্রিক শক!
‘আমরা চাচ্ছি ক্লাইমেট চেঞ্জে বাংলাদেশ একটা লিডিং পজিশনে যাক’
পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন বারবার অশান্ত হয়?

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দল, কী করবেন নেতানিয়াহু?
ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে থাকা প্রধানমন্ত্রী হলেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত ১৭ বছরের মধ্যে ১৫ বছরেরও বেশি সময় তিনি দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। সব মিলিয়ে তার প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ ১৯ বছর।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ‘নতুন’ প্রস্তাবে নতুন কী আছে?
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি নিয়ে নতুন একটি প্রস্তাব সামনে এসেছে। শীর্ষ আইন বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে সংসদের উচ্চকক্ষকে যুক্ত করার একটি নতুন ধারণা দিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আলোচনায়।

মানুষের ভাষা এল কীভাবে?
লিখনপদ্ধতি ও লিপির উৎপত্তি অস্পষ্ট থেকে গেছে, তবে বাক্ ও ভাষার উৎপত্তি তো একেবারেই অজানা। এর কারণ হলো, আদিমতম ভাষার কোনো ভৌত প্রমাণ অবশিষ্ট নেই। সম্ভবত এই ভাষা আফ্রিকাতেই প্রচলিত ছিল, যা হলো হোমো স্যাপিয়েন্সের (আধুনিক মানুষের) উৎপত্তিস্থল। অন্যদিকে, প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় মাটির ফলকে খোদাই করা

আয়কর রিটার্ন না দিলেই কি জরিমানা দিতে হবে?
রিটার্নে করদাতা তার আয়, বিনিয়োগ ও কর পরিশোধের তথ্য দেন। কাকে কত টাকা কর দিতে হবে, তার হিসাব হয় এসব তথ্যের ভিত্তিতে। বেতন বা অন্য আয়ের ওপর আগে থেকেই কর কাটা হয়ে থাকলে বছর শেষে অতিরিক্ত কোনো কর না-ও দিতে হতে পারে।