Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৭ অক্টোবর, ২০২৬
২৭ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৭ অক্টোবর, ২০২৬
২৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> এক্সপ্লেইনার

আয়কর রিটার্ন না দিলেই কি জরিমানা দিতে হবে?

চরচা প্রতিবেদক

চরচা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ০৯
আয়কর রিটার্ন না দিলেই কি জরিমানা দিতে হবে?
প্রতীকী ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানার মুখে পড়বেন কি না, কিছু সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন কি না–এসব নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে এনবিআর-এর প্রজ্ঞাপন থাকলেও অনেকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছেন না। অনেকে মনে করেন, আয়কর রিটার্ন জমা না দিলেই সবাইকে একই অঙ্কের জরিমানা দিতে হবে। তবে বিষয়টা এমন নয়। আবার কর দিতে না হলেও কারও কারও রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। ব্যক্তি করদাতারা ২০২৫-২৬ করবর্ষের জন্য রিটার্ন জমা দিতে পারবেন ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তবে এই সময়ের মধ্যে কখন রিটার্ন জমা দিলে ছাড় মিলবে, কখন অতিরিক্ত কর দিতে হবে, আর রিটার্ন না দিলে কী সমস্যা হতে পারে–তা এখানে সহজ করে আলোচনা করা হলো।

Advertisement

রিটার্ন দেওয়া আর কর দেওয়া এক বিষয় নয়

Advertisement
Advertisement
Advertisement

রিটার্নে করদাতা তার আয়, বিনিয়োগ ও কর পরিশোধের তথ্য দেন। কাকে কত টাকা কর দিতে হবে, তার হিসাব হয় এসব তথ্যের ভিত্তিতে। বেতন বা অন্য আয়ের ওপর আগে থেকেই কর কাটা হয়ে থাকলে বছর শেষে অতিরিক্ত কোনো কর না-ও দিতে হতে পারে। অর্থাৎ, কর রিটার্নের অঙ্ক শূন্য হতে পারে।

তবে করের অঙ্ক শূন্য হলেও রিটার্ন জমা দিতে হতে পারে। কোনো ব্যক্তির আয় করমুক্ত সীমা ছাড়িয়ে গেলে, আগের বছরগুলোতে কর নির্ধারিত হয়ে থাকলে, কিংবা চাকরি, পেশা বা নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের কারণে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক হতে পারে। এ বিষয়ে এনবিআরের আয়কর নথিতে বিস্তারিত বলা আছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রথম সচিবের ২৫ ব্যাংক হিসাব জব্দজাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনীম ও সংস্থাটির সাবেক সচিব ঈদতাজুল ইসলাম

বর্তমানে আয়কর দেওয়ার সময়সীমা কী কী?

২০২৫-২৬ করবর্ষের ব্যক্তি করদাতাদের রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য চারটি সময়সীমা রয়েছে। প্রথম ধাপ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত–এই তিন মাসের মধ্যে যারা রিটার্ন জমা দেবেন, তারা বিশেষ ইনসেনটিভ বা কর প্রণোদনা পাবেন। এই সময়ে রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ওপর পাঁচ শতাংশ বা পঁচিশ হাজার টাকার মধ্যে যে অঙ্কটি কম, সে পর্যন্ত প্রণোদনা বা ছাড় পাওয়া যায়। অর্থাৎ, কারও পরিশোধযোগ্য করের পাঁচ শতাংশের অঙ্কটা যদি ২৫ হাজারের নিচে হয়, তিনি অত টাকাই ছাড় পাবেন। কিন্তু পাঁচ শতাংশের অঙ্কটা ২৫ হাজারের ওপরে হলে, তিনি ২৫ হাজার টাকা পর্যন্তই ছাড় পাবেন। তবে অঙ্ক যা-ই হোক, এই নিয়মের মানে হলো, বছরের শুরুতেই রিটার্ন দিলে একজন করদাতা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

দ্বিতীয় ধাপ–অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর। এই তিন মাসের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো ইনসেনটিভ বা ছাড় পাওয়া যাবে না। তবে এই সময়ের মধ্যে জমা দিলে কোনো ধরনের জরিমানা বা অতিরিক্ত করও দিতে হবে না। এটিকে একটি স্বাভাবিক সময়সীমা হিসেবে দেখা হয়।

প্রতীকী ছবি: এআই দিয়ে নির্মিত
প্রতীকী ছবি: এআই দিয়ে নির্মিত

তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে করদাতাকে জরিমানা দিতে হয়–জরিমানার অঙ্কটা দুই ধাপে দুই রকম।

তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে এ সময়ে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ওপর দুই শতাংশ অথবা ন্যূনতম তিন হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সে পরিমাণ জরিমানা দিতে হবে। এখানে অতিরিক্ত কর হিসাব করা হয় উৎসে কাটা কর ও অগ্রিম কর বাদ দেওয়ার পর যে টাকা বাকি থাকে, তার ওপর। যেমন, উৎস কর ও অগ্রিম কর কেটে নেওয়ার পর যদি কারও যদি ১ লাখ টাকা করযোগ্য থাকে, জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন দিলে তার অতিরিক্ত কর হবে ৩ হাজার টাকা। কারণ ১ লাখ টাকার ২ শতাংশ ২ হাজার টাকা, কিন্তু ন্যূনতম অঙ্ক ৩ হাজার টাকা। আর বাকি থাকা করযোগ্য আয় ২ লাখ টাকা হলে? সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকে ২ শতাংশ, অর্থাৎ ৪ হাজার টাকাই জরিমানা দিতে হবে।

চতুর্থ ধাপ এপ্রিল থেকে জুন, এ সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত কর দিতে হবে ৫ হাজার টাকা।

২০২৬-২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু, ৫ শতাংশ প্রণোদনার ঘোষণাnbr-new-buildin

৩০ জুন ২০২৭ তারিখ পার হওয়ার পর কোনো রিটার্ন জমা দিলে সেটি বিলম্বিত রিটার্ন হিসেবে গণ্য হবে। তখন রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত কর হবে প্রদেয় করের ১০ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেটি। কারও ক্ষেত্রে যদি রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য কর কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিতে হয় এবং নোটিশ পাওয়ার পর ওই ব্যক্তি রিটার্ন জমা দেন, সে ক্ষেত্রে তার জরিমানা কত হবে? এ ক্ষেত্রে জরিমানার অঙ্কটা হবে করযোগ্য আয়ের ১৫ শতাংশ অথবা ১০ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেটি। এই বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা আছে এনবিআরের ২০২৬-২৭ আয়কর পরিপত্রে।

রিটার্ন জমা না দিলে কত টাকা জরিমানা হবে?

আয়কর আইনে যাদের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, তারা যৌক্তিক কারণ ছাড়া রিটার্ন জমা না দিলে তার জরিমানা হতে পারে। সাধারণ নিয়মে জরিমানা হতে পারে সর্বশেষ নিরূপিত করের ১০ শতাংশ। তবে তা ১ হাজার টাকার কম হবে না। এ ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত জরিমানাও হতে পারে।

ই-টিআইএন আছে, কিন্তু আয়কর রিটার্ন জমা দেননি–এমন হলেই কি ৫ হাজার টাকা জরিমানা হয়? এরকম একটা আলোচনা অনেকের মুখে শোনা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়মটা হলো, ই-টিআইএন থাকলেই সবার ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা হবে না। আগে যার আয়ের ওপর কখনো কর নির্ধারণ হয়নি, তার ক্ষেত্রে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা। কিন্তু যার আগেই কর নির্ধারণ করা হয়েছিল, তিনি যদি ই-টিআইএন থাকার পরও রিটার্ন জমা না দেন? সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা হবে সর্বশেষ নিরূপিত করের ৫০ শতাংশ অথবা ১ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেটি। আয়কর আইনের ২৬৬ ধারায় এই জরিমানার নিয়ম আছে।

এনবিআরে বড় রদবদল, একযোগে ৩৬ কর্মকর্তা বদলিnbr-new-buildin

কীভাবে রিটার্ন জমা দেবেন

রিটার্ন জমা দিতে এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টালে যেতে হবে। টিআইএন, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং এনআইডির সঙ্গে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খুলুন বা লগইন করুন। এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টালের ঠিকানা: https://etaxnbr.gov.bd/

এরপর সঠিক করবর্ষ বেছে নিয়ে আয়, বিনিয়োগ, সম্পদ ও দায়ের তথ্য পূরণ করুন। উৎসে কাটা কর এবং অগ্রিম করের তথ্যও দিন। তথ্য দেওয়ার সময় বেতন, ব্যাংক, বিনিয়োগ ও কর পরিশোধের কাগজপত্র দেখে নিন। এ বছর থেকে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে সহায়ক কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না। তবে সেগুলো নিজের কাছে রেখে দেওয়া ভালো। কারণ, আপনার ফাইল অডিটে পড়লে তখন এসব কাগজপত্র কর কর্মকর্তা চাইতে পারেন।

nbr-new-buildin

সব তথ্য দেওয়ার পর পোর্টালে উল্লিখিত করের হিসাব দেখা যাবে। বাড়তি কর দিতে হলে সেটা পোর্টালের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। তারপর রিটার্ন জমা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র, রিটার্নের কপি ও কর সনদ ডাউনলোড করে নিজের কাছে রাখুন।

২০২৫-২৬ করবর্ষে ব্যক্তি করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে থাকা বাংলাদেশি এবং মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এ বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন।

নিবন্ধন বা প্রযুক্তিগত সমস্যায় অনলাইনে জমা দিতে না পারলে কর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কাগজে রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

৩০ নভেম্বরের মধ্যে বিআইএন হালনাগাদের নির্দেশ এনবিআরেরnbr-new-buildin

রিটার্ন জমা না দিলে কোন কোন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন?

কিছু সেবা নিতে রিটার্ন জমার প্রমাণ দেখাতে হয়। প্রমাণ না থাকলে সংশ্লিষ্ট কাজ আটকে যেতে পারে বা দেরি হতে পারে। যেমন, ২০ লক্ষ টাকার বেশি ঋণ নিতে গেলে, ১০ লক্ষ টাকার বেশি মেয়াদি আমানত খুলতে বা বহাল রাখতে এবং ১০ লক্ষ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ থাকতে হয়।

পাশাপাশি, কোনো কোম্পানির পরিচালক বা স্পনসর শেয়ারহোল্ডার হতে হলে, আমদানি বা রপ্তানি নিবন্ধন সনদ নিতে বা নবায়ন করতে এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতেও এটি প্রয়োজন হয়। সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় জমি, বিল্ডিং বা ফ্ল্যাট কেনাবেচা, লিজ, হস্তান্তর, বায়নানামা (ডিড অব এগ্রিমেন্ট ফর সেলস) কিংবা আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) রেজিস্ট্রি করতে এবং ভবন নির্মাণের নকশা জমা দিতেও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ছাড়া সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বাড়ি ভাড়া বা লিজ দেওয়া এবং যেকোনো ব্যক্তির নিকট পণ্য বা সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।

ব্যবসা-বাণিজ্য ও পেশাগত নানা ক্ষেত্রেও রিটার্ন জমার প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে ড্রাগ লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র, বিএসটিআই লাইসেন্স, বন্ডেড ওয়্যারহাউস, কাস্টমস এজেন্ট, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং এবং বায়িং হাউজের লাইসেন্স বা নিবন্ধন গ্রহণ ও নবায়ন করা। ডিস্ট্রিবিউটরশিপ বা কোম্পানির এজেন্সি নেওয়া ও নবায়ন করা, ই-কমার্স ব্যবসার লাইসেন্স নবায়ন করা, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মোটেল, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নেওয়া ও নবায়ন করা এবং ট্রেড বডি বা বাণিজ্যিক সংগঠনের সদস্যপদ প্রাপ্তি বা নবায়নের ক্ষেত্রেও আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়।

চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট, চার্টার্ড সেক্রেটারি, অ্যাকচুয়ারি ও সার্ভেয়ারের মতো স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার সদস্যপদ নবায়ন করতে এবং কাজী কিংবা বিবাহ নিবন্ধকদের লাইসেন্স পেতে বা নবায়ন করতেও এটি বাধ্যতামূলক।

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যানবাহনের মতো নাগরিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা আছে। যেকোনো এলাকায় গ্যাসের বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগ নেওয়া বা বহাল রাখা, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আবাসিক গ্যাস সংযোগ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তির জন্য এটি লাগে। এছাড়া মোটরসাইকেল ও তিন চাকার বাহন বাদে অন্যান্য মোটরযানের নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়নকালে, এবং ভাড়ায় চালিত নৌযানের সার্ভে সার্টিফিকেট গ্রহণ ও নবায়নে রিটার্ন দাখিল করতে হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইট উৎপাদনের অনুমতি নেওয়া ও নবায়নেও এটি প্রযোজ্য।

চাকরি, নির্বাচন ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কাজের ক্ষেত্রেও রিটার্ন জমার প্রয়োজন হয়। দশম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার সরকারি চাকরিজীবী এবং ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক বা উৎপাদন তত্ত্বাবধানকারী (প্রোডাকশন সুপারভাইজার) পদে কর্মরত ব্যক্তিদের বেতন-ভাতা পেতে এটি প্রয়োজন হবে। পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে হলে রিটার্ন জমা দিতে হয়।

তাছাড়া আমদানির উদ্দেশ্যে ঋণপত্র বা এলসি খোলা, বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা, টেন্ডার ডকুমেন্ট জমা দেওয়া, বিদেশি অনুদান বা নির্দিষ্ট সেবা বাবদ কোনো কোম্পানি থেকে অর্থ গ্রহণ করা, এবং সাধারণ বীমা বা বীমা কোম্পানির এজেন্সি সার্টিফিকেট নেওয়া ও নবায়ন করার ক্ষেত্রেও আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক।

সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজেও আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেখাতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে সিটি কর্পোরেশন, জেলা সদর বা পৌরসভার ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিশু বা পোষ্য ভর্তি করানো, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নেওয়া বা নবায়ন করা এবং কোনো ক্লাবের সদস্যপদ নেওয়া বা নবায়ন করা। এছাড়া কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন হল বা সমজাতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সামাজিক অনুষ্ঠান, কর্পোরেট প্রোগ্রাম, সেমিনার বা ওয়ার্কশপের মতো আয়োজনের জন্য সেবা বা ভাড়া গ্রহণের ক্ষেত্রেও আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়।

যেসব ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ দেখালেই চলে

২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে ১২টি ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার প্রমাণের বদলে টিআইএন সনদ দেখালেই চলে। এর মধ্যে রয়েছে–সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় নতুন ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া, সমবায় সমিতির নিবন্ধন পাওয়া, সাধারণ বীমার তালিকাভুক্ত সার্ভেয়ারের নতুন লাইসেন্স নেওয়া এবং ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ ও নবায়ন করা। এছাড়া চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ও সার্ভেয়ারের মতো বিভিন্ন স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার সদস্যপদ নতুন করে গ্রহণ করতে গেলেও এটি লাগবে।

আর্থিক ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কাজের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচ লক্ষ টাকার বেশি অঙ্কের পোস্ট অফিস সঞ্চয়ী হিসাব খোলা, এমপিওভুক্তির মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে দশম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব পদের কোনো কর্মচারীর অর্থ পাওয়া এবং স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং, ইলেকট্রনিক মাধ্যম বা মোবাইল রিচার্জের মাধ্যমে কমিশন, ফি বা অন্য কোনো অর্থ গ্রহণ করা।

পাশাপাশি স্ট্যাম্প, কোর্ট ফি ও কার্টিজ পেপারের ভেন্ডার বা দলিল লেখক হিসেবে নতুন লাইসেন্স ও তালিকাভুক্তি নেওয়া, ত্রি-চক্র মোটরযানের (যেমন সিএনজি বা অটোরিক্সা) নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়ন করা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ই-কমার্স ব্যবসার জন্য নতুন লাইসেন্স নেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে স্বাভাবিক ব্যক্তি বাদে অন্য কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত বা গঠিত হওয়ার বছর কিংবা তার পরের বছরে এই নিয়ম প্রযোজ্য হলেও, আইন অনুযায়ী যাদের রিটার্ন দাখিল করার বাধ্যবাধকতা নেই, তাদের ক্ষেত্রে এই শর্ত কার্যকর হবে না।

বিষয়: করসরকারআয়করজরিমানাআয়কর রিটার্নএনবিআরবাংলাদেশঅর্থনীতি
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে এসি থেকে ডিসি হবেন, বাংলাদেশে থাকতে পারবেন না’

  • ২

    প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

  • ৩

    ডি-থ্রি টুর্নামেন্টে ওয়ালটনের চোখ শিরোপায়

  • ৪

    সাগর-রুনি হত্যা: টাস্কফোর্স প্রধান ও প্রসিকিউটরকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ

  • ৫

    ‘গ্যাসের দাম দিয়ে লাকড়ির চুলায় রান্না করছে’

সম্পর্কিত
  • মানুষের ভাষা এল কীভাবে?

    মানুষের ভাষা এল কীভাবে?

    লিখনপদ্ধতি ও লিপির উৎপত্তি অস্পষ্ট থেকে গেছে, তবে বাক্ ও ভাষার উৎপত্তি তো একেবারেই অজানা। এর কারণ হলো, আদিমতম ভাষার কোনো ভৌত প্রমাণ অবশিষ্ট নেই। সম্ভবত এই ভাষা আফ্রিকাতেই প্রচলিত ছিল, যা হলো হোমো স্যাপিয়েন্সের (আধুনিক মানুষের) উৎপত্তিস্থল। অন্যদিকে, প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় মাটির ফলকে খোদাই করা

  • বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামের আগুন বাংলাদেশে ছোঁবে কি?

    বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামের আগুন বাংলাদেশে ছোঁবে কি?

    আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৭ ডলার ছুঁয়েছে। এটি সাড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। দেশে কয়েকদিন আগে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে এখন ভোক্তাদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে—বিশ্ববাজারে তেলের এই দাম কি

  • লুলার সামনে কোন পাঁচ চ্যালেঞ্জ

    লুলার সামনে কোন পাঁচ চ্যালেঞ্জ

    টানা চার মেয়াদের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলেন ব্রাজিলের লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। কিন্তু, চতুর্থ মেয়াদে লুলার সরকারের সামনে আছে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিলের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করেছে।

  • আশরাফুলকে বাদ দিয়ে আবার কেন সালাহউদ্দিন?

    আশরাফুলকে বাদ দিয়ে আবার কেন সালাহউদ্দিন?

    তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াটি নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। টেস্ট সিরিজের ঠিক আগে কেন তাকে ছাঁটাই করতেই হলো? ওয়ানডেতে ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হয়েছেন, কোচ হিসেবে এতে আশরাফুলের দায় অবশ্যই আছে। কিন্তু কোচ তো আর মাঠে নেমে খেলে দেবেন না।