চলতি বছরে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি বড় ধরনের সংকোচনের মুখে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি উৎপাদন ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এ কারণে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লেও তা থেকে খুব বেশি সুবিধা পাচ্ছে না এসব দেশ।
আইএমএফের অক্টোবরে প্রকাশিত বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যেসব দেশ জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহনে বাধার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের অর্থনীতির অবস্থা আরও খারাপ হবে। কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের অর্থনীতি দুই অঙ্কের হারে সংকুচিত হতে পারে। অর্থাৎ, এসব দেশের অর্থনীতির আকার ১০ শতাংশেরও বেশি কমে যেতে পারে।
চলমান এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লেই উৎপাদনকারী দেশগুলো সব সময় লাভবান হয় না। কারণ, তারা যদি জ্বালানি উৎপাদন চালিয়ে যেতে না পারে কিংবা ক্রেতাদের কাছে রপ্তানি করতে না পারে, তাহলে বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও সেই সুবিধা কাজে লাগানো কঠিন।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে বলেছে, এর প্রভাব শুধু তেল ও গ্যাস খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। বাণিজ্য কমে যাওয়া, খরচ বেড়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অন্যান্য ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিকে তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা থেকে বের করে আনার প্রচেষ্টাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
উপসাগরীয় ছোট দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কুয়েতের অর্থনীতি ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। কাতারের অর্থনীতি কমতে পারে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং বাহরাইনের ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এই দুই দেশের অর্থনীতি তুলনামূলক কম হারে সংকুচিত হতে পারে। কারণ, দেশ দুটির অর্থনৈতিক কাঠামো এবং রপ্তানি পরিবহনে বাধার মুখে পড়ার মাত্রা অন্য দেশগুলোর চেয়ে ভিন্ন।
সৌদি আরবের অর্থনীতি এ বছর ৩ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। অথচ গত জুলাইয়ে সংস্থাটি দেশটির অর্থনীতিতে ১ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। অর্থাৎ, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে অবনতি দেখা গেছে।
তবে ২০২৭ সালে সৌদি আরবের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সে বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করছে আইএমএফ। এর আগে সংস্থাটি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। অর্থাৎ, পরিস্থিতির উন্নতি হলে এ বছর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে ক্ষতি হবে, তার একটি অংশ আগামী বছর পুষিয়ে উঠতে পারে দেশটি।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। তবে ২০২৭ সালে দেশটির অর্থনীতি ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আইএমএফ বলছে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয় সদস্য দেশের বাইরে ইরাকের অর্থনীতিও বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। দেশটির অর্থনীতি ১৬ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বোঝা যায়, আঞ্চলিক অস্থিরতা ও জ্বালানি রপ্তানিতে বাধার কারণে শুধু উপসাগরীয় দেশগুলো নয়, আশপাশের অন্যান্য জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো পুরো বছরের চূড়ান্ত হিসাব নয়, বরং অর্থনীতির সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে পূর্বাভাস। সংঘাত কত দিন চলবে এবং বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন কখন স্বাভাবিক হবে, তার ওপর এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে।
সংকটে অর্থনীতির পূর্বাভাস আরও খারাপ
আইএমএফের নতুন পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনেক খারাপ হয়েছে।
এপ্রিল মাসে আইএমএফ ধারণা করেছিল, ২০২৬ সালে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে ২ শতাংশ বাড়বে। তখন সংস্থাটি কাতারের অর্থনীতি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ, কুয়েতের শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ এবং বাহরাইনের শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল।
আগের এই পূর্বাভাসে ধরে নেওয়া হয়েছিল, সংঘাত বেশিদিন স্থায়ী হবে না। বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বাণিজ্য আবার স্বাভাবিক হবে এবং জ্বালানি উৎপাদনও আগের অবস্থায় ফিরবে।
কিন্তু সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় আগের পূর্বাভাসের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ভেঙে পড়েছে। ফলে এসব দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘ সময় ধরে কম উৎপাদন এবং পণ্য পরিবহনে বাধার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
আনাদোলু এজেন্সি বলছে, দেশভেদে পরিস্থিতির পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ। এপ্রিলে প্রকাশিত আঞ্চলিক প্রতিবেদনে আইএমএফ জানিয়েছিল, ওমানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস তুলনামূলক কম কমানো হয়েছে। কারণ, হরদমুজ প্রণালির বাইরে সমুদ্রপথে দেশটির পণ্য পরিবহনে অন্য পথ রয়েছে।
এ থেকে বোঝা যায়, অর্থনীতির ওপর সংকটের প্রভাব কতটা পড়বে, তা শুধু দেশের আর্থিক সঞ্চয় বা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর নির্ভর করে না। বিকল্প পথে পণ্য রপ্তানির সুযোগ আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
তেলের দাম বাড়লেও উৎপাদনের ক্ষতি পোষানো যায় না
গত ১ অক্টোবর উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের সতর্ক করেন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। তিনি বলেন, জ্বালানি উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যাওয়া এবং জ্বালানি খাতের বাইরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমে আসায় অঞ্চলটির অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্রিস্টালিনা বলেন, হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া, লোহিত সাগরে পণ্য পরিবহনে বাধা এবং জ্বালানি স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি এসব দেশের রপ্তানি ও উৎপাদন সক্ষমতাকে সীমিত করে দিচ্ছে। এ ছাড়া বাণিজ্য কমে যাওয়া, ব্যবসায়ীদের আস্থা দুর্বল হওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তেল-গ্যাসের বাইরের খাতগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য তেলের দাম ও উৎপাদনের পরিমাণের পার্থক্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম বাড়লে বিক্রি করা তেল থেকে আয় বাড়তে পারে। কিন্তু উৎপাদন করা যাচ্ছে না বা পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না–এমন তেলের ঘাটতি শুধু দাম বাড়িয়ে পূরণ করা যায় না।
মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রকৃত হিসাব করার সময় পণ্যের দাম পরিবর্তনের প্রভাব বাদ দিয়ে উৎপাদনের পরিমাণ বিবেচনা করা হয়। তাই রপ্তানি করা তেলের দাম বাড়লেও উৎপাদন কমে গেলে একটি দেশের অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে।
এ কারণেই জ্বালানির সরবরাহে সংকট তৈরি হলে একদিকে অন্য দেশগুলোর জন্য আমদানি খরচ বেড়ে যায়, অন্যদিকে যেসব দেশ জ্বালানি সরবরাহ করে, সেসব দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও কমে যেতে পারে।
সংকটে পড়তে পারে বিশ্ব
আইএমএফ বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব সামাল দিতে গিয়ে এবার চাপে পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতি। কারণ কমে আসছে জরুরি তেলের মজুত, বাড়ছে তেলের দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা।
সংস্থাটি বলেছে, জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য রাখা তেলের মজুত এখন কমে এসেছে বলে সতর্ক করেছে আইএমএফ। তাদের মতে, অনেক দেশের ঋণের পরিমাণ বেশি এবং বাজেট ঘাটতিও রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে তেলের দাম আবার বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষকে এর প্রভাব থেকে রক্ষা করার মতো আর্থিক সক্ষমতা সরকারের কম থাকতে পারে।
আইএমএফের ভাষ্য, জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানো এবং সংকট মোকাবিলার জন্য সরকারের হাতে থাকা আর্থিক সুরক্ষা পুনরায় গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে বিশ্ব অর্থনীতি শিগগিরই সংকট সামাল দেওয়ার সক্ষমতার সীমায় পৌঁছে যেতে পারে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, জ্বালানির বাজারে মজুত কমে আসছে। এ অবস্থায় ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন কোনো ধাক্কা এলে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এর প্রভাব দ্রুত বিশ্ব অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়াতে জরুরি মজুত থেকে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। গত মাসে করা এক বৈঠকের পর সংস্থাটি এই তেল ছাড়ার কার্যক্রম আরও দ্রুত করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
গার্ডিয়ান বলছে, পরিস্থিতি কতটা নাজুক, তা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুতের দিকে তাকালে আন্দাজ করা যায়। সম্প্রতি জানা গেছে, দেশটির এই মজুত ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি সমঝোতা করেন। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার ডিজেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। পেট্রল পাম্পে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে বিশ্লেষকেরা বলেছেন, এতে জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।
আগামী বছর বড় প্রবৃদ্ধি হলেও সব ক্ষতি পোষাবে না
এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো নিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি দেশের অর্থনীতি আগামী বছর উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। উৎপাদন, রপ্তানি ও পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক হলে এই উন্নতি সম্ভব হবে।
২০২৭ সালে কাতারের অর্থনীতি ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ, কুয়েতের ১৭ দশমিক ১ শতাংশ এবং বাহরাইনের ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি চলতি বছর শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার পর আগামী বছর ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে।
তবে আনাদোলু এজেন্সি বলছে, প্রবৃদ্ধির এই বড় হার দেখেই মনে করার কারণ নেই যে, অর্থনীতি আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে যাবে। কারণ, চলতি বছর অর্থনীতি অনেকটা সংকুচিত হওয়ায় আগামী বছর প্রবৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি দেখাতে পারে।
আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি দেশের অর্থনীতি আগামী বছর উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।। ছবি: রয়টার্স
বিষয়টি কুয়েতের উদাহরণ দিয়ে বোঝা যায়। ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনীতির আকার ১০০ ধরা হলে, ২০২৬ সালে তা ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়াবে ৮৩ দশমিক ৩-এ। এরপর ২০২৭ সালে ১৭ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও অর্থনীতির আকার বেড়ে হবে প্রায় ৯৭ দশমিক ৫। তার মানে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরও ২০২৭ সালে কুয়েতের অর্থনীতি ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ ছোট থাকবে।
কাতারের ক্ষেত্রেও চলতি বছরের সংকোচন এবং আগামী বছরের প্রবৃদ্ধি হিসাব করলে দেশটির অর্থনীতি প্রায় ২০২৫ সালের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
তবে এই হিসাবগুলোতে আরও একটি বিষয় অধরা রয়েছে। সংকট না হলে অর্থনীতিগুলো যে পরিমাণ বাড়তে পারত, সেই সম্ভাব্য উৎপাদনও এ সময়ে হারিয়ে গেছে। ফলে আগের অবস্থায় ফিরে এলেও সংকটের কারণে হওয়া সব ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নাও হতে পারে।
সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ দুই খাত
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, সরকারগুলোর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের অবকাঠামোয় বিনিয়োগ সংকটের ক্ষতি সীমিত রাখতে সাহায্য করেছে। বিকল্প পথে পণ্য পরিবহন এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে এই ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে শুধু আর্থিক সঞ্চয় দিয়ে বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে বাধার মতো সংকট মোকাবিলা করা যায় না বলে মত দেন ত্রিস্টালিনা। এ জন্য বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা ও অবকাঠামোও প্রয়োজন বলে পরামর্শ তার।
আইএমএফ বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে জিসিসির রেলপথ প্রকল্প এবং সৌদি আরবের ল্যান্ডব্রিজ রেল প্রকল্প ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বিকল্প পথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়বে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, প্রয়োজন হলে সরকারগুলো নির্দিষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক সহায়তা দিতে পারে। তবে সরবরাহব্যবস্থায় বাধা তৈরি হলে সব খাতে ব্যাপকভাবে সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনীতিকে চাঙা করার চেষ্টা খুব বেশি কাজে নাও আসতে পারে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আইএমএফের পরামর্শ হলো, সরকারগুলোকে আবার আর্থিক সঞ্চয় বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অর্থনীতিকে বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে হবে।