Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৮ অক্টোবর, ২০২৬
১৮ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৮ অক্টোবর, ২০২৬
১৮ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

ইতিহাসের দুর্ভেদ্য সংকেত ভাঙছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ৩৭
ইতিহাসের দুর্ভেদ্য সংকেত ভাঙছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ঐতিহাসিক গুপ্তলিপির রহস্য উন্মোচনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে এআই। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

কয়েক দশক, এমনকি শতাব্দী ধরে দুর্বোধ্য হয়ে থাকা ঐতিহাসিক গুপ্তলিপির রহস্য উন্মোচনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এক সময় যেসব সংকেতের অর্থ উদ্ধার করতে বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ গবেষণা, গাণিতিক বিশ্লেষণ ও ঐতিহাসিক নথিপত্রের প্রয়োজন হতো, এখন সেগুলোর কিছু সমাধানের চেষ্টা করছেন সাধারণ প্রযুক্তিপ্রেমী মানুষও। তাদের অনেকেরই গুপ্তলিপি বিশ্লেষণ বা ক্রিপ্টোগ্রাফি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। কিন্তু উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তারা এমন কিছু ঐতিহাসিক সংকেতের পাঠোদ্ধার করছে, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত ছিল। এই পরিবর্তন শুধু প্রযুক্তির সক্ষমতা তুলে ধরছে না; একই সঙ্গে ইতিহাস গবেষণার পদ্ধতি, বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা এবং এআইয়ের তৈরি ফলাফল যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন সামনে আনছে।

Advertisement

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার-এ কাইয়া গ্লিকম্যানের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নত ভাষাভিত্তিক মডেল বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) ব্যবহার করে একদল অপেশাদার গবেষক ঐতিহাসিক গুপ্তলিপি উদ্ধারের কাজে নেমেছেন। তারা শুধু সংকেতের অর্থ অনুমান করছেন না; বরং এআইয়ের সাহায্যে ডিক্রিপশন অ্যালগরিদম তৈরি করছেন, সম্ভাব্য সংকেতের বিন্যাস পরীক্ষা করছেন এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক দলিল ঘেঁটে সংকেতের অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। ফলে এত দিন বিশেষজ্ঞদের সীমিত পরিসরে থাকা একটি গবেষণাক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ নিউইয়র্কের আর্থিক তথ্য ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গে কর্মরত পণ্য উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষক কার্টার লেফেন। ক্রিপ্টোগ্রাফি বিষয়ে তার বিশেষ জ্ঞান ছিল না। তবু তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নত মডেল জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রার সাহায্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত এনিগমা যন্ত্রে সংকেতায়িত একটি বার্তার পাঠোদ্ধারের চেষ্টা করেন। প্রায় ৮৫ বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা ওই বার্তাটির সমাধান পেয়ে তিনি নিজেই বিস্মিত হয়ে যান।

লেফেনের এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, তিনি এআইকে শুধু একটি সংকেতের অর্থ অনুমান করতে বলেননি। বরং একটি ঐতিহাসিক গুপ্তলিপির সংগ্রহশালা থেকে উপযুক্ত বার্তা নির্বাচন, সেটির সংকেতায়ন-পদ্ধতি বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করার দায়িত্বও মডেলটিকে দেন। সেপ্টেম্বরে তিনি স্বাধীন ক্রিপ্টোগ্রাফার ফ্রোডে ওয়েইরুড পরিচালিত ‘ক্রিপ্টো সেলার রিসার্চ’ ওয়েবসাইটে থাকা অমীমাংসিত সংকেতগুলোর মধ্য থেকে একটি এনিগমা বার্তা বেছে নিতে এআইকে বলেন। বার্তাটি ১৯৪১ সালের ১০ জুলাই পাঠানো হয়েছিল এবং এতে ছিল ৮২টি অক্ষর।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সামরিক যোগাযোগ গোপন রাখতে এনিগমা যন্ত্র ব্যবহার করত। যন্ত্রটির ভেতরে থাকা ঘূর্ণনশীল রোটর ও প্লাগের বিন্যাসের মাধ্যমে অক্ষরের সংকেত পরিবর্তিত হতো। বিভিন্ন বিন্যাসের ফলে বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য চাবি তৈরি করা সম্ভব ছিল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এনিগমার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিন্যাসের সংখ্যা ১০৩ সেক্সটিলিয়ন পর্যন্ত হতে পারে। ফলে সঠিক সংকেত ছাড়া কোনো বার্তার অর্থ উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। অথচ এই জটিল ব্যবস্থার মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

লেফেন যে বার্তাটি বেছে নিয়েছিলেন, সেটির সঙ্গে একই দিনে পাঠানো আরেকটি বার্তার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। দ্বিতীয় বার্তাটি ২০১৭ সালে পাঠোদ্ধার করা হয়েছিল। যদি দুটি বার্তায় একই ধরনের শব্দ বা বাক্যাংশ থেকে থাকে, তাহলে একটি বার্তার সমাধান অন্যটির পাঠোদ্ধারে সহায়তা করতে পারে। ক্রিপ্টোগ্রাফির ভাষায় এ ধরনের সম্ভাব্য পরিচিত শব্দ বা বাক্যাংশকে বলা হয় ‘ক্রিব’। উদাহরণ হিসেবে, দুটি বার্তাই জার্মান নাৎসি বাহিনীর উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে লেখা হয়ে থাকতে পারে।

মার্কিন এআই ‘বাবল’ ফেটে গেলে সামলাতে পারবে বিশ্ব?AI

জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এনিগমা যন্ত্রের কার্যপ্রণালি অনুকরণ করার জন্য কোড তৈরি করে। এরপর এমন সম্ভাব্য সেটিংস বা বিন্যাস খুঁজতে থাকে, যেগুলোর মাধ্যমে আগে সমাধান করা বার্তার পরিচিত শব্দগুলো পুনরুৎপাদন করা সম্ভব এবং একই সঙ্গে অমীমাংসিত বার্তাটিকেও অর্থবোধক করা যায়। প্রায় ১০ ঘণ্টার মধ্যে মডেলটি চার বিলিয়নেরও বেশি সম্ভাব্য বিন্যাস পরীক্ষা করে। পরদিন সকালে লেফেন দেখেন, মডেলটি একটি সমাধান হাজির করেছে।

তবে এই ঘটনার তাৎপর্য শুধু এআইয়ের বিপুলসংখ্যক হিসাব দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সমাধানটি যাচাই করার জন্য লেফেন সেটি ওয়েইরুডের কাছে পাঠান। পরে দেখা যায়, একই দিনে পাঠানো হলেও অমীমাংসিত বার্তাটিতে আগে পাঠোদ্ধার করা বার্তার তুলনায় ভিন্ন এনিগমা সেটিংস ব্যবহার করা হয়েছিল। এই অস্বাভাবিক পার্থক্যই হয়তো ব্যাখ্যা করতে পারে, কেন বার্তাটি এত দিন অমীমাংসিত থেকে গিয়েছিল। অর্থাৎ, এআইয়ের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভাব্য সমাধানটি ঐতিহাসিক যোগাযোগব্যবস্থার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নতুন প্রশ্নও তৈরি করেছে।

এআই একটি সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় একাধিক কাজকে একই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে পারা। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
এআই একটি সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় একাধিক কাজকে একই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে পারা। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

এই ঘটনা প্রমাণ করে, এআইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু দ্রুত গণনা করা নয়; বরং একটি সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় একাধিক কাজকে একই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে পারা। এখানে মডেলটি সম্ভাব্য সংকেত নির্বাচন করেছে, পূর্বে সমাধান করা বার্তার সঙ্গে তুলনা করেছে, একটি এনিগমা অনুকরণকারী প্রোগ্রাম তৈরি করেছে এবং বিপুলসংখ্যক বিন্যাস পরীক্ষা করেছে। একজন গবেষককে সাধারণত এসব কাজের জন্য আলাদা আলাদা দক্ষতা এবং উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করতে হতো। এআই সেই কাজগুলোকে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করেছে।

লেফেনের সাফল্যের কয়েক দিন পর আরেকটি ঘটনা এই সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করে। ক্যালিফোর্নিয়ার সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেন্টিনেলওয়ানের কর্মী কার্টার চার্চ ১৮০৯ সালে লেখা একটি অমীমাংসিত গুপ্তলিপি উদ্ধারের চেষ্টা করেন। ওই বার্তাটি ইতালির একজন কর্মকর্তা ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়নের সেনাবাহিনীর একজন জেনারেলের কাছে পাঠিয়েছিলেন। জাপানের পেটেন্ট প্রকৌশলী ও শখের ক্রিপ্টোগ্রাফার সাতোশি তোমোকিয়োর সংকলিত ‘ক্রিপ্টিয়ানা’ ওয়েবসাইটে বার্তাটি সংরক্ষিত ছিল।

রাজনীতিবিদদের ভাষণ লিখছে এআই, হুমকি কতটাAI

চার্চ এআই মডেলটিকে বার্তাটির একটি ছবি দেন। এরপর মডেলটি ফরাসি ক্রিপ্টোগ্রাফিবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে থাকা ঐতিহাসিক নথিপত্র থেকে সংকেতের একটি আংশিক উপায় খুঁজে পায়। সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে বার্তার পাঠোদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় ‘সিমুলেটেড অ্যানিলিং’ নামে পরিচিত একটি পদ্ধতি। এই কৌশলে সম্ভাব্য উপায়কে ধাপে ধাপে পরিবর্তন করা হয় এবং প্রতিবার পাওয়া ফল আগের ফলের তুলনায় বেশি বোধগম্য কি না, তা মূল্যায়ন করা হয়। এভাবে সম্ভাব্য উপায়ের মধ্যে উন্নততর বিকল্প খুঁজে নেওয়া হয়।

প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে এআই একটি কার্যকর উপায় খুঁজে পায় বলে চার্চ জানান। পরে তিনি পাঠোদ্ধার করা বার্তাটি যাচাইয়ের জন্য টোকিওতে অবস্থানরত তোমোকিয়োর কাছে পাঠান। বার্তাটিতে সেনাদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ছিল। চার্চের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য ছাড়াও বার্তাটি সমাধান করা সম্ভব ছিল। কিন্তু ছবিতে থাকা সংকেতগুলো শনাক্ত করা, আংশিক উপায় খুঁজে পাওয়া এবং সেই পন্থা কীভাবে প্রয়োগ করতে হবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এআই কাজটিকে অনেক সহজ করেছে।

এই উদাহরণটি ঐতিহাসিক গবেষণায় এআইয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে। পুরনো গুপ্তলিপি শুধু গাণিতিকভাবে জটিল হতে পারে না; অনেক সময় সেগুলো হাতে লেখা, অস্পষ্ট বা বিশেষ ধরনের প্রতীকে তৈরি হয়। গবেষককে প্রথমে সংকেতগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করতে হয়, তারপর তার সম্ভাব্য পদ্ধতি বুঝতে হয় এবং সবশেষে অর্থ উদ্ধার করতে হয়। এই কাজগুলোর মধ্যে কোনো একটিতে ভুল হলে পুরো বিশ্লেষণ ব্যর্থ হতে পারে। এআইয়ের সাহায্যে ছবি থেকে সংকেত শনাক্ত করা, ঐতিহাসিক দলিল অনুসন্ধান এবং গাণিতিক পদ্ধতি প্রয়োগ—সবকিছু একসঙ্গে করা সম্ভব হওয়ায় গবেষণার সময় ও শ্রম কমতে পারে।

চীনে এআই কেন এত জনপ্রিয়?AI china

তবে এই অগ্রগতির সঙ্গে একটি বড় সমস্যাও তৈরি হয়েছে। এআইয়ের সাহায্যে পাওয়া সমাধানগুলো সব সময় সঠিক নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রেই মডেল এমন কিছু পাঠ তৈরি করতে পারে, যা প্রথম দেখায় অর্থবোধক মনে হলেও প্রকৃত সংকেতের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এ ধরনের ভুল ফলকে এআইয়ের ভাষায় ‘হ্যালুসিনেশন’ বলা হয়। ফলে ঐতিহাসিক গুপ্তলিপির পাঠোদ্ধারে কেবল একটি গ্রহণযোগ্য বাক্য বা বার্তা তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; সেটি কীভাবে পাওয়া গেল এবং ঐতিহাসিক বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল আছে কি না, তা যাচাই করাও অপরিহার্য।

ওয়াশিংটন ডিসি অঞ্চলে বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত গেম নির্মাতা ও ক্রিপ্টোগ্রাফিবিষয়ক বইয়ের লেখক এলোনকা ডানিনের অভিজ্ঞতায়, বর্তমানে বিশেষজ্ঞদের কাছে এমন বহু দাবি আসছে, যেখানে সাধারণ ব্যবহারকারীরা এআইয়ের সাহায্যে কোনো সংকেত সমাধানের কথা জানাচ্ছেন। কিন্তু এসব দাবির মধ্যে অনেকগুলোই ভুল। তার ভাষায়, ক্রিপ্টবিশ্লেষণ সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই এমন মানুষের কাছ থেকে প্রচুর ভুল সমাধান আসছে। এর ফলে বিশেষজ্ঞদের ওপর নতুন ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। তারা শুধু ঐতিহাসিক সংকেত নিয়ে গবেষণা করছেন না; পাশাপাশি এআই ব্যবহারকারীদের পাঠানো বিপুলসংখ্যক সমাধানের সত্যতা যাচাইয়ের অনুরোধও সামলাতে হচ্ছে।

স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণনামূলক ভাষাবিদ বিয়াতা মেগিয়েশি একই ধরনের সমস্যার কথা বলেছেন। তার মতে, কোনো সংকেত সরাসরি চ্যাটজিপিটিতে দিয়ে দিলেই সঠিক উত্তর পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং কোনো সমাধান পাওয়া গেলে সেটি ইতিহাসবিদ বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞকে দিয়ে যাচাই করানো উচিত। কারণ, একটি বার্তার সম্ভাব্য অর্থ উদ্ধার করার পরও দেখতে হবে, সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট সময়ের ভাষা, ব্যক্তি, সামরিক পরিস্থিতি এবং ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।

এই সতর্কতার পেছনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। সব গুপ্তলিপির কাঠামো সমান নয়। এনিগমার মতো যন্ত্রভিত্তিক সংকেত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা হয়েছে। এর কার্যপ্রণালি সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা জানেন এবং সংকেত উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন অ্যালগরিদমও তৈরি হয়েছে। ফলে এআইয়ের পক্ষে এমন সংকেত নিয়ে কাজ করা তুলনামূলক সহজ। অন্যদিকে, বিরল বা কম পরিচিত গুপ্তলিপির ক্ষেত্রে সমস্যা অনেক বেশি। সেসব সংকেতের ভাষাগত বৈশিষ্ট্য, ঐতিহাসিক ব্যবহার কিংবা সংকেতায়ন-পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকলে মডেল সঠিক সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হতে পারে।

বিষয়: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাএআইইতিহাসনথিগবেষণানিউইয়র্কব্লুমবার্গক্যালিফোর্নিয়াসাইবারনিরাপত্তাটোকিওস্টকহোমওয়াশিংটন ডিসি
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    ইশরাককে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশ?, যা জানা গেল

  • ২

    হবিগঞ্জে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন

  • ৩

    ফ্রান্সের আন্দোলন এত সহিংস হলো কীভাবে?

  • ৪

    ‘ঢাকা বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনাও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো কাউকে দিয়ে দিক’

  • ৫

    ‘হামলায় ইরানের ক্ষতি হয়েছে কিন্তু আপনি কি বেঁচেছেন?’

সম্পর্কিত
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতি কতটা বদলেছে?

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতি কতটা বদলেছে?

    গত ৭ থেকে ১৫ জুন বাংলাদেশ সফর করেন যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তিন কর্মকর্তা। তাদের এই তথ্য অনুসন্ধান মিশনের উদ্দেশ্য ছিল–বিভিন্ন সূত্র থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।

  • ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল আইএমএফ, কেন?

    ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল আইএমএফ, কেন?

    বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যা আগামী ১০ বছরে প্রায় ১২ শতাংশ বাড়বে। কিন্তু এই বাড়তি জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান তৈরি করা, তরুণদের দক্ষতার সঙ্গে কাজের চাহিদার সমন্বয় এবং পরিবারভিত্তিক ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ।

  • যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ফেললে কী হবে?

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ফেললে কী হবে?

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রায় সাত মাস পেরিয়েছে। সামনে মার্কিন মিডটার্ম ইলেকশন। এরই মধ্যে খবর পাওয়া গেছে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পারমাণবিক বোমার বাইরে সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে তারা।

  • জিম্বাবুয়ে ৩-১ বাংলাদেশ, ওয়ানডেতে কেন এই পতন?

    জিম্বাবুয়ে ৩-১ বাংলাদেশ, ওয়ানডেতে কেন এই পতন?

    ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের দল খুব ভালো কিছু করবে, এমনটাই ছিল সবার প্রত্যাশা। নিজেদের প্রিয় ফরম্যাট বলে পরিচিত, যা ছিল একটা লম্বা সময় ধরে, সেই ওয়ানডে ক্রিকেটে লিটন দাসের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশের নতুন যুগের পথচলা শুরু হওয়ার কথা ছিল এই সিরিজ দিয়ে। কিন্তু ইনজুরির কারণে লিটন পুরো