ফুসফুসের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পাঁচ দিন পর প্রথম প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে ফেরার অঙ্গীকার করেছেন পোপ লিও। আজ রোববার সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে সমবেত জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন। বিশ্বের ১৪০ কোটি ক্যাথলিকের এই ধর্মীয় নেতা জানান, তিনি ধীরে ধীরে তার নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করবেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
৭১ বছর বয়সী পোপের ডান ফুসফুসের নিচের অংশ অপসারণে গত মঙ্গলবার অস্ত্রোপচার করা হয়। তার অসুস্থতা ১৭ মাসের পোপজীবনে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
রোববার ভ্যাটিকানের অ্যাপোস্টলিক প্রাসাদের একটি জানালা থেকে নিচে সমবেত তীর্থযাত্রীদের উদ্দেশে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া পোপ লিও। এ সময় তার মুখে ছিল হাসি এবং কণ্ঠ ছিল দৃঢ় ও স্পষ্ট। সারা বিশ্বের মানুষের প্রার্থনার জন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বলেন, এখন থেকে তিনি স্বাভাবিক কর্মসূচিতে ফিরতে শুরু করবেন।
লিও বলেন, “এই সংকটপূর্ণ সময় পার করে আসার পর...এখন আমি ধীরে ধীরে আমার কার্যক্রম শুরু করব। এ ক্ষেত্রে সব সময় ঈশ্বরের সাহায্য ও আপনাদের প্রার্থনা আমার সঙ্গে থাকবে।”
শনিবার রোমের জেমেলি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর রোববার তিনি কোনো সহায়তা ছাড়াই প্রাসাদের জানালায় এসে দাঁড়ান এবং নিয়ম অনুযায়ী তার সাপ্তাহিক মধ্যাহ্নকালীন সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
মেঘলা আকাশের নিচে অপেক্ষমাণ তীর্থযাত্রীদের তিনি স্বার্থপর উচ্চাকাঙ্ক্ষা পরিহার করে ‘কোনো আপস ছাড়াই’ ঈশ্বরের সেবা করার আহ্বান জানান।
পোপের উপস্থিতিতে কাঁদলেন এক সন্ন্যাসিনী
ভ্যাটিকানের হিসাব অনুযায়ী, রোববার সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। জানালায় পোপকে প্রথম দেখা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা চিৎকার করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং হাততালি দেন। এ সময় এক ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী হাঁটু গেড়ে বসে মুখে হাত দিয়ে কাঁদ
কাছেই কয়েকজন সন্ন্যাসিনী একটি ব্যানার তুলে ধরেন। তাতে লেখা ছিল, “শুভকামনা, পবিত্র পিতা। আমরা আপনাকে ভালোবাসি এবং আপনার জন্য প্রার্থনা করছি।”
পোপের কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা
পোপ লিওর নিয়মিত কর্মসূচি বেশ ব্যস্ত হলেও ভ্যাটিকান তার অন্য প্রকাশ্য অনুষ্ঠান অন্তত বুধবার পর্যন্ত বাতিল করেছে। ওই দিন সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে তার সাপ্তাহিক সাধারণ সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সেই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা ভ্যাটিকান এখনো নিশ্চিত করেনি।
আগামী ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও পেরু সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে পোপের। কয়েক দশকের মধ্যে কোনো ক্যাথলিক নেতার জন্য নির্ধারিত অন্যতম ব্যস্ত সফর হতে যাচ্ছে এটি।
পোপের প্রধান শল্যচিকিৎসক ডা. স্তেফানো মার্গারিতোরা শনিবার বলেন, নভেম্বরের ওই সফরের আগেই পোপ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।
তবে ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পোপকে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুযায়ী কর্মসূচির গতি সমন্বয় করতে হতে পারে।