Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

আর কত রামিসা হারালে পরে শিশুরা নিরাপদ হবে?

আরমান ভূঁইয়া

আরমান ভূঁইয়া

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ২১: ৪১
আর কত রামিসা হারালে পরে শিশুরা নিরাপদ হবে?

সাত বছরের ছোট্ট শিশু রামিসা আক্তার। পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা-মা আর বড় বোনকে নিয়ে রাজধানীর পল্লবীর সেকশন-১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন একটি ছোট্ট ভাড়া বাসাই ছিল তার পৃথিবী। সেই পৃথিবীটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল এক ভয়াবহ নৃশংসতায়।

Advertisement

গত মঙ্গলবার সকালে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর শরীর থেকে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করে। পরে মরদেহের অংশ পাওয়া যায় খাটের নিচে ও বাথরুমে। এই নির্মম ঘটনা শুধু একটি পরিবারকেই ধ্বংস করেনি, নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো দেশকে। প্রশ্ন উঠছে–এই দেশে শিশুরা কোথায় নিরাপদ?

শুধু রামিসাই নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা এবং হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ২৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রাহাত (১৫) নামে এক কিশোর টেলিভিশন দেখানোর কথা বলে পাঁচ বছরের এক শিশুকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে।

রামিসা আমার মেয়ে না, তাই কি কষ্ট আমার না?Ramisa

গত ১৮ এপ্রিল কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুরে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে জাহাঙ্গীর নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৬ মে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ১০ বছরের শিশু আছিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ধর্ষণের পর চার বছরের শিশু লামিয়া আক্তারকে হত্যা করা হয়। নিখোঁজের এক দিন পর ভুট্টাক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এ ছাড়া ৬ মে সিলেটের জালালাবাদে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খুঁজতেও বের হয়েছিল বলে জানা যায়।

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বলছে, এসব ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার ভয়াবহ দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ১৮০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৮০ জন ভুক্তভোগী ১৮ বছরের নিচে এবং অন্তত ৫৬ জনের বয়স ১২ বছরেরও কম। ২০২৪ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল ৪০১ নারী ও শিশু, যার মধ্যে ১৬৪ জন ছিল শিশু। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭১১-এ, যার ৩৫১ জনই ১৮ বছরের নিচে।

রামিসা হত্যা: সংক্ষিপ্ত সময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরsalauddin ahamed

আরও উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়ে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে আসক জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত কমপক্ষে ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে অন্তত ৪৬ শিশুর ওপর। আর ধর্ষণের পর বা ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে অন্তত ১৭ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।

একইভাবে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে অন্তত ১ হাজার ৮৯০ শিশু ও কিশোরী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৩ শিশু নিহত এবং ১ হাজার ৪০৭ শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ৫৮০ জন শিশু ধর্ষণ এবং ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো সহিংসতা প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। কিন্তু একের পর এক নৃশংস ঘটনা প্রমাণ করছে, শিশু সুরক্ষায় বিদ্যমান ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়।

রামিসা হত্যা মামলার আসামি সোহেল। ছবি: চরচা
রামিসা হত্যা মামলার আসামি সোহেল। ছবি: চরচা

রামিসা হত্যা: ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ আইনমন্ত্রীরধর্ষণ 2

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সংবিধানের ২৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদে শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ এবং জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদেও শিশুদের সুরক্ষার বিষয়ে রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, দুর্বল তদন্ত এবং সামাজিক নীরবতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র–সব পর্যায়ে সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা, স্কুলভিত্তিক কাউন্সেলিং, দ্রুত বিচার, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে মানসিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির জানান, শিশুদের সুরক্ষা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতির বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতা। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা শুধু আইনগত ব্যর্থতা নয়, বরং একটি সমাজের মানবিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ।

দেশে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যায় আসকের উদ্বেগain O salish

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে–আর কত রামিসাকে হারিয়ে যেতে হবে? আর কত নিষ্পাপ শিশুর জীবন থেমে গেলে কার্যকর হবে আইন?

রামিসার স্কুলের আইডি কার্ড। ছবি: চরচা
রামিসার স্কুলের আইডি কার্ড। ছবি: চরচা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক চরচাকে বলেন, “শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার সংকট নয়, এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুরা পরিচিত মানুষ, প্রতিবেশী কিংবা আস্থাভাজন ব্যক্তিদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ফলে শুধু কঠোর আইন করলেই হবে না, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজ–সব জায়গায় শিশু সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে।”

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম চরচাকে বলেন, “শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনাকে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে মাঠপর্যায়ে পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু গ্রেপ্তার নয়, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে মামলার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতেও আমরা কাজ করছি।’’

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘‘শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো অপরাধী যেন প্রভাব খাটিয়ে পার পেতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”

বিষয়: রাজধানীস্কুলশিশু নির্যাতনঅধ্যাপকটেলিভিশনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়গ্রেপ্তারময়মনসিংহশিশুঅভিযোগমানবাধিকারসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমধর্ষণপল্লবীগফরগাঁওকক্সবাজারসিলেটপুলিশহত্যাশিক্ষার্থী
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

  • ২

    সদস্যদের রাতে একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে যা বলছে খুলনা পুলিশ

  • ৩

    বাল্যবিয়ের কারণে কোনো কন্যার স্বপ্ন যেন থমকে না যায়: প্রধানমন্ত্রী

  • ৪

    রাশিয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করবেন: এবিসিকে জেলেনস্কি

  • ৫

    রাশিয়া হামলা বন্ধ করলে তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করবে ইউক্রেন: জেলেনস্কি

সম্পর্কিত
  • ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

    ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

    গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে আব্বাস নভেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবেই তিনি ওই অঙ্গীকার করেছিলেন। এর দুই সপ্তাহ পর আব্বাসের নির্বাচনের সময়সূচি পেছানোর সিদ্ধান্ত এলো।

  • ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?

    ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?

    সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণ আল জাজিরাকে বলেন, “মোদি সরকারকে জনগণের কাছে বেশ ভীত বলে মনে হচ্ছে।”

  • ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

  • মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে তার শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।