রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, একই সঙ্গে হবে গণভোটও। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে অংশ নিতে মুখিয়ে আছে সাধারণ মানুষ।
আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ঐক্যজোট। জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলের এই জোট এবারের নির্বাচনে অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিদ্বন্দী হয়ে উঠেছে।
জার্মানভিত্তিক সংবাদসংস্থা ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর এই প্রথম ইসলামপন্থী দলগুলো তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাচনী ফলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশার নতুন দিক উন্মোচন করছে।
এই নাটকীয় পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৭ কঠোর শাসনের অবসান ঘটায়। অভ্যুত্থানের সময় শত শত মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিচারের মুখোমুখি।
গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া, হত্যার নির্দেশ এবং দমনমূলক সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। বর্তমানে তিনি প্রতিবেশী ভারতে নির্বাসনে আছেন।
বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্যালট পেপারে থাকছে না নৌকা প্রতীক।
ইসলামিক দলগুলোর উত্থান
আওয়ামী লীগ না থাকায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার কারণে দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা দলটি এবার ইসলামপন্থী ভোট একত্রিত করার চেষ্টা চালিয়েছে।
আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসলামী আন্দোলন শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালেও, জামায়াতের নেতৃত্বে ১১টি দলের জোট হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে ইসলামপন্থী দলগুলো নির্বাচনে তেমন সাফল্য পায়নি। তবে সাম্প্রতিক এক জরিপ অপ্রত্যাশিতভাবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসির হিসেবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৪৪ দশমিক ১ সমর্থন নিয়ে সামান্য এগিয়ে, আর জামায়াতের জোট ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে। তবে আরও কয়েকটি জরিপে সংসদীয় আসন পাওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি এগিয়ে আছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: চরচা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ ডয়েচে ভেলেকে বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় বামধারা থেকে সরে ডানপন্থার দিকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনে যে-ই জিতুক, মানুষ ইতোমধ্যেই মেনে নিয়েছে যে এখন থেকে তাদের একটি ডানঘেঁষা বাংলাদেশে বসবাস করতে হবে।”
একসময় আওয়ামী লীগকে মোকাবিলায় জামায়াতের সঙ্গে জোট করা বিএনপি এখন ইসলামপন্থী জোটের সঙ্গেই সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠা বিপুল তরুণ ভোটারের সমর্থন পেতে জামায়াতের সঙ্গে তাদের প্রতিযোগিতা চলছে।
জনসাধারণের ভোট টানতে জামায়াতে ইসলামীকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরতে প্রচার চালিয়েছে বিএনপি।
এনসিপির অপ্রত্যাশিত জোট ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন
ডয়েচে ভেলে বলছে, এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল ২০২৪ সালের আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতৃত্বাধীন শক্তি এনসিপির অবস্থান পরিবর্তন। এক বছর আগেও দলটির নেতারা বলেছিলেন, তারা সারা দেশে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে লড়বেন।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “জামায়াত কিংবা চরমোনাইয়ের মতো ইসলামপন্থী দলগুলো এবারে জনগণের সমর্থন পাবে না। তরুণদের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক ও সার্বজনীন চরিত্রের দলগুলোকেই মানুষ সমর্থন করবে।”
কিন্তু এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের সমর্থকদের বিস্মিত করেছে।
চলতি জানুয়ারিতে ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে এই জোট ‘আদর্শিক নয়, সম্পূর্ণ নির্বাচনী কৌশল’। এক বছরের মধ্যে এনসিপির পক্ষে সারা দেশে শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলা বাস্তবসম্মত ছিল না বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
এনসিপির এই নেতা বলেন, এই জোট নির্বাচন-পরবর্তী সংস্কারে প্রভাব রাখার সুযোগ এনে দেবে এবং সংস্কার ও দুর্নীতিবিরোধী ইস্যুতে জামায়াত বিএনপির ভালো অবস্থানে আছে বলেও উল্লেখ করেন।
তবে এই সিদ্ধান্তে এনসিপির ভেতরে গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছে। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন, অন্যরা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছেন।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন, ডয়চে ভেলেকে বলেন, অনেক ভোটার এনসিপিকে প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির বিকল্প হিসেবে দেখতেন। কিন্তু এখন তারা অনিশ্চিত, আদৌ দলটিকে ভোট দেওয়া উচিত কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
শারমিন আরও বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানপন্থী অবস্থানের ইতিহাসের কারণে তিনি জামায়াতকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার মনে করেন না।
ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে আবার বিতর্ক
এই নির্বাচন বাংলাদেশের সাংবিধানিক পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
১৯৭২ সালে প্রণীত দেশের প্রথম সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অন্যতম মৌলিক রাষ্ট্রনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সামরিক শাসকেরা এতে পরিবর্তন আনেন। প্রথমে ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ যুক্ত হয়, পরে ১৯৮৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করেন।
২০২৪ সালের আন্দোলনের পর পূর্ণাঙ্গ সংবিধান পুনর্লিখনের দাবি উঠলেও পরে তা সীমিত সংস্কারে গিয়ে ঠেকে। সাংবিধান সংস্কার কমিশন সুপারিশ করে, ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবেই থাকবে এবং ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি বাদ দেওয়া হবে।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়”। দেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি তাদের অধিকার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।”
আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার দাবি করলেও, ইসলামকে দেওয়া বিশেষ মর্যাদা কখনও বাতিল করেনি।
তবে উত্তেজনা তীব্রই রয়ে গেছে। প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কার থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে চারটি বামপন্থী দল জুলাইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বর্জন করে।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য পদত্যাগ করা উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষ ও ইসলামপন্থীদের মধ্যে বিভাজন এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে, ফলে আলোচনার কোনো জায়গা নেই।” তিনি বলেন, “একটি রাষ্ট্র এভাবে চলতে পারে না।”
এমন পরিস্থিতিতে ধর্মীয়, লিঙ্গভিত্তিক বা আদর্শিক সংখ্যালঘুরা আরও প্রান্তিক হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে আছে বলে সতর্ক করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক পারভেজ। তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, পরবর্তী সংসদ ‘ধনীদের ক্লাবে’ পরিণত হতে পারে, যেখানে শ্রমিক, কৃষক, নারী বা সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব ‘খুব সীমিত বা একেবারেই থাকবে না’।
ইতিহাসে সবচেয়ে কম নারীর প্রতিনিধিত্ব
১৯৯১ সাল থেকে প্রায় তিন দশক বাংলাদেশে নেতৃত্ব দিয়েছেন দুই নারী প্রধানমন্ত্রী-বিএনপির খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে বহু দশকের মধ্যে প্রথমবার বড় কোনো দল নারীনেতৃত্বে নেই।
জনসাধারণের ভোট টানতে জামায়াতে ইসলামীকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরতে প্রচার চালিয়েছে বিএনপি।
২০২৪ সাল থেকে শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসনে এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর রাজনীতিতে নারীদের দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দলগুলো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। জুলাই সনদে ৫ শতাংশ আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়নের অঙ্গীকার থাকলেও কেউই তা পূরণ করেনি। বিএনপি মাত্র ৩ দশমিক ৫ আসনে নারী প্রার্থী দিয়েছে, জামায়াত একজনও দেয়নি।
এদিকে, সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের ওপর জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি দেশব্যাপী গণভোট হওয়ার কথা, যেখানে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বেছে নেবেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দলের কাছে ‘ইচ্ছুক বা যোগ্য প্রার্থী’ ছিল না এবং নীতিগত বিতর্ক এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ার কথা উল্লেখ করে জানান ভবিষ্যৎ নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেওয়া হবে।
বিতর্ক আরও বাড়ে যখন জামায়াত নেতা শফিকুর রহমান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কোনো নারী দলটির নেতৃত্ব দিতে পারবেন না, কারণ ‘আল্লাহ সবাইকে নিজ নিজ সত্তায় সৃষ্টি করেছেন (…) নারী-পুরুষের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, তা আমরা পরিবর্তন করতে পারি না।”
ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে আবার বিতর্ক
এই নির্বাচন বাংলাদেশের সাংবিধানিক পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
১৯৭২ সালে প্রণীত দেশের প্রথম সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অন্যতম মৌলিক রাষ্ট্রনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সামরিক শাসকেরা এতে পরিবর্তন আনেন। প্রথমে ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ যুক্ত হয়, পরে ১৯৮৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করেন।
২০২৪ সালের আন্দোলনের পর পূর্ণাঙ্গ সংবিধান পুনর্লিখনের দাবি উঠলেও পরে তা সীমিত সংস্কারে গিয়ে ঠেকে। সাংবিধান সংস্কার কমিশন সুপারিশ করে, ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবেই থাকবে এবং ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি বাদ দেওয়া হবে।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়”। দেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি তাদের অধিকার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।”
আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার দাবি করলেও, ইসলামকে দেওয়া বিশেষ মর্যাদা কখনও বাতিল করেনি।
তবে উত্তেজনা তীব্রই রয়ে গেছে। প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কার থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে চারটি বামপন্থী দল জুলাইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বর্জন করে।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য পদত্যাগ করা উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষ ও ইসলামপন্থীদের মধ্যে বিভাজন এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে, ফলে আলোচনার কোনো জায়গা নেই।” তিনি বলেন, “একটি রাষ্ট্র এভাবে চলতে পারে না।”
এমন পরিস্থিতিতে ধর্মীয়, লিঙ্গভিত্তিক বা আদর্শিক সংখ্যালঘুরা আরও প্রান্তিক হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে আছে বলে সতর্ক করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক পারভেজ। তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, পরবর্তী সংসদ ‘ধনীদের ক্লাবে’ পরিণত হতে পারে, যেখানে শ্রমিক, কৃষক, নারী বা সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব ‘খুব সীমিত বা একেবারেই থাকবে না’।
ইতিহাসে সবচেয়ে কম নারীর প্রতিনিধিত্ব
১৯৯১ সাল থেকে প্রায় তিন দশক বাংলাদেশে নেতৃত্ব দিয়েছেন দুই নারী প্রধানমন্ত্রী-বিএনপির খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে বহু দশকের মধ্যে প্রথমবার বড় কোনো দল নারীনেতৃত্বে নেই।
২০২৪ সাল থেকে শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসনে এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর রাজনীতিতে নারীদের দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দলগুলো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। জুলাই সনদে ৫ শতাংশ আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়নের অঙ্গীকার থাকলেও কেউই তা পূরণ করেনি। বিএনপি মাত্র ৩ দশমিক ৫ আসনে নারী প্রার্থী দিয়েছে, জামায়াত একজনও দেয়নি।
এদিকে, সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের ওপর জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি দেশব্যাপী গণভোট হওয়ার কথা, যেখানে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বেছে নেবেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দলের কাছে ‘ইচ্ছুক বা যোগ্য প্রার্থী’ ছিল না এবং নীতিগত বিতর্ক এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ার কথা উল্লেখ করে জানান ভবিষ্যৎ নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেওয়া হবে।
বিতর্ক আরও বাড়ে যখন জামায়াত নেতা শফিকুর রহমান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কোনো নারী দলটির নেতৃত্ব দিতে পারবেন না, কারণ ‘আল্লাহ সবাইকে নিজ নিজ সত্তায় সৃষ্টি করেছেন (…) নারী-পুরুষের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, তা আমরা পরিবর্তন করতে পারি না।”