আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে এবং পরবর্তী সরকার কেমন হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও চলছে বিস্তর আলোচনা। এবারের নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি শাসক শেখ হাসিনার পতনের পর গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের এই প্রক্রিয়াকে একটি বড় পরীক্ষার মুখোমুখি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অধিকাংশ মানুষই চায়, তাদের সমর্থিত রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসুক। তবে হেমায়েতপুরের চামড়ার ফ্যাক্টরিতে কর্মরত শ্রমিক দম্পতি রোজিনা ও সুমনের ভাবনা ভিন্ন। খরচ কমানোর লক্ষ্যে চার বছর আগে তারা বিয়ে করেন এবং বর্তমানে ১০ বাই ১০ ফুটের একটি ছোট ঘরে ভাড়া থাকেন। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী দুজনের সম্মিলিত মাসিক আয় মাত্র ৩০ হাজার টাকা হওয়ায় সংসার চালাতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। নিজেদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাবা-মা এবং মাঝেমধ্যে দাদা-দাদিকেও আর্থিক সহায়তা পাঠাতে হয়।
ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনাও আপাতত স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছেন রোজিনা। মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় আয় বন্ধ থাকা এবং সন্তান লালন-পালনের অতিরিক্ত ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,“আমরা যদি এখন সন্তানের পরিকল্পনা করি, তাহলে আমার স্বামীর ওপর চরম আর্থিক চাপ পড়বে।”
ঢাকা-ভিত্তিক ‘কমিউনিকেশন রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ এবং ‘বাংলাদেশ ইলেকশনস অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ’-এর সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, দুর্নীতি এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিই ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের কারণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ বাংলাদেশে চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা এখনও বিপুল। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস এবং বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ফলে দেশটি বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। এই চাপ সামাল দিতে ২০২২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বাংলাদেশ সরকার বিলিয়ন ডলারের ঋণ গ্রহণ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে সুমন ও রোজিনা দুজনেই জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন—একটি ভালো ভবিষ্যতের আশায়।
সুমনের ভাষায়, “কে ক্ষমতায় এল, সেটা নিয়ে আমার খুব বেশি মাথাব্যথা নেই। পরবর্তী সরকারের কাছে আমার চাওয়া খুব সাধারণ আমাদের মতো কর্মজীবী মানুষের জন্য মূল্যস্ফীতি কমাতে হবে। সেই সঙ্গে কারখানার শ্রমিকদের মজুরিও বাড়ানো দরকার।”