ফজলে রাব্বি

অবশেষে নৈতিক স্খলনের দায়ে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হলো তরুণীকে নিয়ে আপত্তিকর আচরণের ভিডিও ভাইরাল হওয়া গাজী নজরুল ইসলামকে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলেন, সাংগঠনিক তদন্তে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আজ বুধবার বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে নৈতিক স্খলনের দায়ে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।
তাহলে বিষয়টি কী দাঁড়াল? জামায়াতে ইসলামীর এই সিদ্ধান্তের পর প্রশ্ন উঠেছে- সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অনৈতিক ওই বিষয়টিকে কাভার আপ কিংবা ধামাচাপা দিতে অনেকেই ইসলামকে ব্যবহার করেছেন। কেউ কেউ একে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করে গাজী নজরুলকে উন্নত চরিত্রের পুরুষ বলেও দাবি করেছিলেন। কী হবে তাদের সেসব ব্যাখ্যার?
দেখা যাক, কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুল ইসলাম হঠাৎই টক অব দা টাউনে পরিণত হয়েছিলেন।
গত ২০ জুলাই (সোমবার) রাতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে গাজী নজরুল ইসলামকে এক তরুণীর সঙ্গে একটি কক্ষে অবস্থান করতে এবং ফোনে কথা বলার পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। বিভিন্ন নথিতে ওই তরুণীর বয়স ১৮ এবং কোথাও কোথাও তার বয়স ১৮-এর কম বলেও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।
দ্রুত এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এ প্রশ্নও তুলছেন যে, চাকরি দেওয়ার নাম করেই কি ওই নারীর সঙ্গে ‘ব্যক্তিগত মূহুর্ত’ কাটাচ্ছিলেন সংসদ সদস্য? ভিডিও প্রকাশের পর এআইয়ের দোহাইও যখন ধোপে টিকল না, তখন বলা হলো- দ্বিতীয় স্ত্রী?
সাবেক এনসিপি নেত্রী ডা. তাসনিম জারা এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
এদিকে জামায়াতের আরেক এমপি গাজী এনামুল হক নিজ দলের এমপির বিরুদ্ধেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “ইসলামে তো বৈধ কাজ প্রকাশ্যে করার বিধান। যা গোপনে করেছেন, সেটাকে আবার কেউ কেউ কীভাবে যুক্তি দিয়ে সঠিক প্রমাণ করতে চাইছে!”
পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার রাতেই সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল পরিচালিত ‘ক্রাইম বার্তা’ দাবি করে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ও বিকৃত ভিডিও।
পর দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে নিজেকে নিষ্পাপ দাবি করে বিবৃতি দেন গাজী নজরুল ইসলাম। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে কথিত তরুণী মরিয়ম খাতুনের সাথে তার বাবার বাসায় পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়, ১৭ জুন। অর্থাৎ, ঘটনার এক মাস আগেই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন তারা। এই স্ট্যাটাস দিয়ে মূলত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগকে নাকচ করেন গাজী নজরুল ইসলাম।
কিন্তু এ চেষ্টায় বাদ সাধে বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেওয়া মরিয়ম খাতুনের জীবন-বৃত্তান্ত। ২২ জুন স্বাক্ষর করা জীবন-বৃত্তান্তে নিজেকে অবিবাহিত বলে উল্লেখ করেন ওই তরুণী। শুধু তাই নয়; সংবাদমাধ্যমের কাছে এই বিয়ে কোথায় হয়েছে, তা জানেন না বলে জানান কাজি। এছাড়া, ফোনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাবিননামা লেখা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন কাজি।
কথিত স্বামী-স্ত্রী এবং কাজির দেওয়া এসব পরস্পরবিরোধী তথ্য, সমালোচনার আগুনে ঘি ঢালে।
এগুলো ছিল স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিজের দোষ খণ্ডনের চেষ্টা। এরপর শুরু হয় ৭৫ বয়সী বৃদ্ধ জামায়াত নেতার সমর্থনে ও তার কৃতকর্মকে দায়মুক্তি দিতে সমমনাদের প্রতিযোগিতা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা সালাউদ্দিন আম্মার তরুণীর সাথে অন্তরঙ্গ ভিডিও প্রসঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “দুই চারটা স্ক্যান্ডাল না থাকলে কিসের সংসদ সদস্য?”

জামায়াতপন্থী আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ সংসদ সদস্যর সাথে তরুণীর একান্ত ভাইরাল ভিডিওকে ‘ডিপস্টেটের কারসাজি’ বলে দাবি করেন।
আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা রফিক উল্লাহ আফসারী বলেন, “যারা ওই ভিডিও ভাইরাল করছেন- তাদের একদিন আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।”
একইসাথে নজরুল ইসলামকে “একামতে দ্বিনের অতন্দ্র প্রহরী, কোটি কোটি মুসলমানের কলিজা” বলে প্রশংসা করে রফিক উল্লাহ আফসারী বলেন, “উচিত হচ্ছে আমার গাজী নজরুল ইসলাম ভাই আরও দুইটা বিয়ে করা। হালাল জিনিস, এটাতে কোনো শরম নেই।”
ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হাজির করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আজিজুর রহমান। গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে নজরুল ইসলামের অবস্থানকে সমর্থন করে তিনি বলেন, “এমপি প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তাদের ধারণা- ঢাকার একটি বাসার সিসিটিভি ফুটেজ বা গোপন ক্যামেরা থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করে তা অসৎ উদ্দেশ্যে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
কিন্তু সব বয়ান ওলট-পালট হয়ে গেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তদন্তে। তদন্তে গাজী নজরুল ইসলামের চারিত্রিক স্খলনের প্রমাণ পায় তারা। এখন?
যারা ইসলামের অপব্যাখ্যাসহ নানাভাবে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে রক্ষা করতে চেয়েছিল, তারা কী বলবেন? কোনো বিষয় তদন্তের আগে ছলে বলে কৌশলে কোনো সম্ভাব্য অপরাধীকে মুক্ত করতে চাওয়া জামায়াত নেতারাই-বা কীভাবে নিজেদের দায়মুক্ত করবেন?
গাজী নজরুল ইসলামের অপরাধের আড়ালে একটি বিষয় আলোচনার বাইরে থাকছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। তাদের বক্তব্য, গাজী নজরুল ইসলামের অপরাধ প্রকাশ করতে গিয়ে একজন তরুণীর ছবি ও পরিচয় এভাবে প্রকাশ করা উচিত হয়নি। একজন সংসদ সদস্য এবং রাজনীতিক কীভাবে এ ধরনের সামাজিক অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েন? কিংবা চারিত্রিকভাবে দুর্বল মানুষ কীভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে মানুষের সমর্থন পান? প্রতিটি প্রশ্নই গুরুতর, যা গভীর বিশ্লেষণ করতে হবে।
ফজলে রাব্বি: বিশেষ প্রতিনিধি, চরচা

অবশেষে নৈতিক স্খলনের দায়ে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হলো তরুণীকে নিয়ে আপত্তিকর আচরণের ভিডিও ভাইরাল হওয়া গাজী নজরুল ইসলামকে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলেন, সাংগঠনিক তদন্তে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আজ বুধবার বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে নৈতিক স্খলনের দায়ে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।
তাহলে বিষয়টি কী দাঁড়াল? জামায়াতে ইসলামীর এই সিদ্ধান্তের পর প্রশ্ন উঠেছে- সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অনৈতিক ওই বিষয়টিকে কাভার আপ কিংবা ধামাচাপা দিতে অনেকেই ইসলামকে ব্যবহার করেছেন। কেউ কেউ একে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করে গাজী নজরুলকে উন্নত চরিত্রের পুরুষ বলেও দাবি করেছিলেন। কী হবে তাদের সেসব ব্যাখ্যার?
দেখা যাক, কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুল ইসলাম হঠাৎই টক অব দা টাউনে পরিণত হয়েছিলেন।
গত ২০ জুলাই (সোমবার) রাতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে গাজী নজরুল ইসলামকে এক তরুণীর সঙ্গে একটি কক্ষে অবস্থান করতে এবং ফোনে কথা বলার পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। বিভিন্ন নথিতে ওই তরুণীর বয়স ১৮ এবং কোথাও কোথাও তার বয়স ১৮-এর কম বলেও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।
দ্রুত এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এ প্রশ্নও তুলছেন যে, চাকরি দেওয়ার নাম করেই কি ওই নারীর সঙ্গে ‘ব্যক্তিগত মূহুর্ত’ কাটাচ্ছিলেন সংসদ সদস্য? ভিডিও প্রকাশের পর এআইয়ের দোহাইও যখন ধোপে টিকল না, তখন বলা হলো- দ্বিতীয় স্ত্রী?
সাবেক এনসিপি নেত্রী ডা. তাসনিম জারা এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
এদিকে জামায়াতের আরেক এমপি গাজী এনামুল হক নিজ দলের এমপির বিরুদ্ধেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “ইসলামে তো বৈধ কাজ প্রকাশ্যে করার বিধান। যা গোপনে করেছেন, সেটাকে আবার কেউ কেউ কীভাবে যুক্তি দিয়ে সঠিক প্রমাণ করতে চাইছে!”
পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার রাতেই সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল পরিচালিত ‘ক্রাইম বার্তা’ দাবি করে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ও বিকৃত ভিডিও।
পর দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে নিজেকে নিষ্পাপ দাবি করে বিবৃতি দেন গাজী নজরুল ইসলাম। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে কথিত তরুণী মরিয়ম খাতুনের সাথে তার বাবার বাসায় পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়, ১৭ জুন। অর্থাৎ, ঘটনার এক মাস আগেই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন তারা। এই স্ট্যাটাস দিয়ে মূলত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগকে নাকচ করেন গাজী নজরুল ইসলাম।
কিন্তু এ চেষ্টায় বাদ সাধে বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেওয়া মরিয়ম খাতুনের জীবন-বৃত্তান্ত। ২২ জুন স্বাক্ষর করা জীবন-বৃত্তান্তে নিজেকে অবিবাহিত বলে উল্লেখ করেন ওই তরুণী। শুধু তাই নয়; সংবাদমাধ্যমের কাছে এই বিয়ে কোথায় হয়েছে, তা জানেন না বলে জানান কাজি। এছাড়া, ফোনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাবিননামা লেখা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন কাজি।
কথিত স্বামী-স্ত্রী এবং কাজির দেওয়া এসব পরস্পরবিরোধী তথ্য, সমালোচনার আগুনে ঘি ঢালে।
এগুলো ছিল স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিজের দোষ খণ্ডনের চেষ্টা। এরপর শুরু হয় ৭৫ বয়সী বৃদ্ধ জামায়াত নেতার সমর্থনে ও তার কৃতকর্মকে দায়মুক্তি দিতে সমমনাদের প্রতিযোগিতা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা সালাউদ্দিন আম্মার তরুণীর সাথে অন্তরঙ্গ ভিডিও প্রসঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “দুই চারটা স্ক্যান্ডাল না থাকলে কিসের সংসদ সদস্য?”

জামায়াতপন্থী আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ সংসদ সদস্যর সাথে তরুণীর একান্ত ভাইরাল ভিডিওকে ‘ডিপস্টেটের কারসাজি’ বলে দাবি করেন।
আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা রফিক উল্লাহ আফসারী বলেন, “যারা ওই ভিডিও ভাইরাল করছেন- তাদের একদিন আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।”
একইসাথে নজরুল ইসলামকে “একামতে দ্বিনের অতন্দ্র প্রহরী, কোটি কোটি মুসলমানের কলিজা” বলে প্রশংসা করে রফিক উল্লাহ আফসারী বলেন, “উচিত হচ্ছে আমার গাজী নজরুল ইসলাম ভাই আরও দুইটা বিয়ে করা। হালাল জিনিস, এটাতে কোনো শরম নেই।”
ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হাজির করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আজিজুর রহমান। গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে নজরুল ইসলামের অবস্থানকে সমর্থন করে তিনি বলেন, “এমপি প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তাদের ধারণা- ঢাকার একটি বাসার সিসিটিভি ফুটেজ বা গোপন ক্যামেরা থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করে তা অসৎ উদ্দেশ্যে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
কিন্তু সব বয়ান ওলট-পালট হয়ে গেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তদন্তে। তদন্তে গাজী নজরুল ইসলামের চারিত্রিক স্খলনের প্রমাণ পায় তারা। এখন?
যারা ইসলামের অপব্যাখ্যাসহ নানাভাবে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে রক্ষা করতে চেয়েছিল, তারা কী বলবেন? কোনো বিষয় তদন্তের আগে ছলে বলে কৌশলে কোনো সম্ভাব্য অপরাধীকে মুক্ত করতে চাওয়া জামায়াত নেতারাই-বা কীভাবে নিজেদের দায়মুক্ত করবেন?
গাজী নজরুল ইসলামের অপরাধের আড়ালে একটি বিষয় আলোচনার বাইরে থাকছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। তাদের বক্তব্য, গাজী নজরুল ইসলামের অপরাধ প্রকাশ করতে গিয়ে একজন তরুণীর ছবি ও পরিচয় এভাবে প্রকাশ করা উচিত হয়নি। একজন সংসদ সদস্য এবং রাজনীতিক কীভাবে এ ধরনের সামাজিক অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েন? কিংবা চারিত্রিকভাবে দুর্বল মানুষ কীভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে মানুষের সমর্থন পান? প্রতিটি প্রশ্নই গুরুতর, যা গভীর বিশ্লেষণ করতে হবে।
ফজলে রাব্বি: বিশেষ প্রতিনিধি, চরচা

গত ২০ জুলাই (সোমবার) রাতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে গাজী নজরুল ইসলামকে এক তরুণীর সঙ্গে একটি কক্ষে অবস্থান করতে এবং ফোনে কথা বলার পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।