দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও জামায়াতের গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ এখনই যাচ্ছে না। প্রশ্ন হলো–কেন?
কারণ, সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে সংবিধানের ৭০ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে।
ওই অনুচ্ছেদে দল থেকে বহিষ্কৃত হলে সদস্য পদের কী হবে, সে বিষয়ে কিছু বলা না থাকায় নজরুলের সদস্য পদ যাবে না। তবে ওই সংসদ সদস্য যদি নিজে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র দেন, তাহলে তার পদ থাকবে না।
সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদে সংসদের আসন শূন্য হওয়া নিয়ে বলা আছে, কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে, যদি তার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠক থেকে ৯০ দিনের মধ্যে স্পিকারকে না জানিয়ে তিনি শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন; সংসদের অনুমতি না নিয়ে ৯০ বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন; সংসদ ভেঙে যায়; সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হয়ে যান; অথবা ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
সংবিধানে বলা আছে, কোনো সংসদ সদস্য স্পিকারের কাছে সইসহ চিঠি দিয়ে নিজের পদ ত্যাগ করলে তার আসন শূন্য হবে।
অতীতের উদাহরণ
২০১৪ সালে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে দল থকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। তবে তখনই তার সংসদ সদস্য পদ যায়নি। পরে তিনি পদত্যাগ করেন।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের আমলে অষ্টম জাতীয় সংসদে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু হেনাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।
তার সংসদ সদস্য থাকবে কি না–বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তখন সংবিধানের ৭০ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আবু হেনার সদস্য পদ রাখার সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার। দল থেকে বহিষ্কার হলেও তার সদস্যপদ বাতিল হয়নি।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে নবম জাতীয় সংসদে একই ধরনের ঘটনা ঘটে। সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এইচ এম গোলাম রেজাকে তার দল জাতীয় পার্টি থেকে বহিস্কার করলেও তার সংসদ সদস্য পদ বহাল ছিল।
ওই সাতক্ষীরা-৪ আসনেরই এখনকার সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘নৈতিক স্খলন’-এর প্রমাণ পাওয়ায় তার দল জামায়াত তাকে বুধবার বহিষ্কার করে।
কেন বহিষ্কার নজরুল
এক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর পর নজরুল ইসলামকে নিয়ে তুমুল আলোচনা তৈরি হয়। পরে সংসদ সদস্যের পক্ষে অনেকে বলতে থাকেন ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ সদস্য নজরুল তার ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট লেখেন। তিনি বলেন, ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী।
নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ওই নারীর বাবার অফিসে ওই ভিডিওটি তার মামাশ্বশুর ধারণ করেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে ওই ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
নজরুল ইসলাম বলেন, “গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখে আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।”
তার দাবি, “আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে এক লক্ষ টাকা আদায় করে। আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”