ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতনে ছয়তলা একটি ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার দুপুর দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এ খবরে জানিয়েছে।
আজ সোমবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বলেছেন, প্রায় ৮০ শতাংশ ধ্বংসস্তূপ সরানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন নিহত। বাকি ছয়জনের অবস্থা স্থিতিশীল।
মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বেজমেন্টে জমে থাকা পানি এবং সংস্কারকাজের কারণে সত্য নিকেতন ভবনটি ধসে পড়েছে।
ভবন ধসের পর উদ্ধার অভিযান ও তদন্তের মধ্যেই দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (এমসিডি) দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন আইনের ৩৪৮ ধারায় সত্য নিকেতনের ১৩ নম্বর বাড়ি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।
রোববার দেওয়া এক নোটিশে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে বিপজ্জনক ও জরাজীর্ণ ঘোষণা করে। নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে বাড়িটির মালিক বা দখলদারকে ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, সত্য নিকেতনের ভবনটি ৭৫ শয্যার একটি পেইং গেস্ট বা পিজি আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি হওয়ায় এলাকাটি শিক্ষার্থীদের বসবাসের জন্য পরিচিত।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রোববার ছুটির দিন হওয়ায় ভবনে থাকা বেশির ভাগ শিক্ষার্থী তাদের কক্ষে ছিলেন। ভবন ধসে পড়ার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় দিল্লি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী ও দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সদস্যরা। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ১২টি গাড়ি ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। উদ্ধারকারী দল ও যন্ত্রপাতি পুরোপুরি কাজ শুরু করার আগেই অনেকে হাত দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের খোঁজ করেন। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে একজনকে আটকে থাকতে দেখা যায়। কয়েকজন মিলে সেটি সরানোর চেষ্টা করছিলেন।