
‘আমরা জেনারেশন নাইন ইলাভেন’
ইতিহাসের পাতায় হয়তো ঘটনাটি এক দিনের। কিন্তু এর প্রভাব আমরা বহন করছি বছরের পর বছর ধরে–আমাদের চিন্তায়, প্রবাসে থাকা প্রিয়জনদের অভিজ্ঞতায়, নিজেদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অভিজ্ঞতায় আর বিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার ৪৮ বছর পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপি। দলটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে বিএনপি বিচ্যুত হয়নি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তবে সরকার পরিচালনার এই সময়ে বিএনপির সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষাঙ্গন, রাজনীতি ও সাংবাদিকতায় আগের সরকারের কিছু ‘অনুচর’ এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ তার। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চরচাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সরকারের এসব চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মেরিনা মিতু।

চরচা: বিএনপি এখন সরকারে। এই সময়ে দলটির সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা কী?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: এই মুহূর্তে গ্যাস ও বিদ্যুতের যে সংকট, এটা বিএনপির সামনে একটা বড় কঠিন পরীক্ষা সামনে এনে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর জন্য খুব সুপরিকল্পিতভাবে কিছু কিছু কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে। এসব জিনিসের ব্যাপারে একটা সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে বিএনপি যদি এগোতে পারে, তাহলে চ্যালেঞ্জগুলোর উত্তর বিএনপির পক্ষে সহজ হবে। মানুষের পক্ষ থেকে কিন্তু ‘বিএনপি পথ হারিয়েছে’—এই কথাটা এখনও পর্যন্ত আসেনি। মানুষ বুঝতে পারছে যে সমস্যাগুলো তারা ভোগ করছে, সে সমস্যাগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
চরচা: সরকারের বয়স এখন ছয় মাস। এই সময়ে প্রত্যাশিত পরিবর্তন কতটা সম্ভব?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া আবর্জনা-জঞ্জাল, যা কিছু ছিল, সেগুলো পরিষ্কার করতেই তো আমাদের অনেক সময় চলে যাচ্ছে। আর সরকারের বয়স তো মাত্র ছয় মাস। এই ছয় মাসে আর কতটুকু কী করা সম্ভব হবে, এই বাস্তবতা তারা বুঝতে পারবেন। ভবিষ্যতে আস্তে আস্তে এ সমস্যাগুলো, ইনশাআল্লাহ, আমরা সমাধান করতে সক্ষম হব।
চরচা: বিএনপির সামনে এখন কোন কোন চ্যালেঞ্জ আছে?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: বিএনপির সামনে যে চ্যালেঞ্জ, সে চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে—যারা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা এখানে চালু করে রেখে গিয়েছিল, তাদের কিছু কিছু অনুচর এখনো বিভিন্ন জায়গায় ঘাপটি মেরে আছে। প্রশাসনে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে, শিক্ষাঙ্গনে, রাজনীতিতে, বিভিন্ন জায়গায়, সাংবাদিক জগতেও। এদের সম্পর্কে সজাগ থাকা, সচেতন থাকা, মানুষকে সজাগ রাখা প্রয়োজন। আর হচ্ছে, আগামী দিনে তরুণদের মধ্য থেকে, যুবকদের মধ্য থেকে নেতৃত্বের কাঠামো তৈরি করা। যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কখনো আর পথভ্রষ্ট না হয়, বাংলাদেশে কখনো আর গণতন্ত্রহীন অবস্থা তৈরি না হয়।
চরচা: বিএনপি যে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ৪৮ বছরে সেই আদর্শ কতটা ধরে রেখেছে? আদর্শ থেকে কতটা বিচ্যুতি হয়েছে?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: বিএনপি যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল, তার পেছনে মূল ঘটনা ছিল একটি রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশ। এই দেশে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, মানুষের ভোটাধিকার, অর্থনৈতিক উন্নতি এবং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটা আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, এগুলোই ছিল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
বিএনপির লক্ষ্য এমন পররাষ্ট্রনীতির, যা কোনো দিকে ঝুঁকে পড়া নয়। নিজের দেশের স্বার্থের জন্য, দেশের সম্মানের জন্য যেটা প্রয়োজন, সেই পরিপ্রেক্ষিতে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন হবে। আর এই দেশের কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, অর্থনীতি–এ সবকিছু আমরাই নির্ধারণ করব। এ দেশের মানুষের রায়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বিএনপি দলটি নিবেদিত থাকবে, যত বছর এই দলের অস্তিত্ব থাকবে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে এগুলোই ছিল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বিএনপি সে পথে অটল থেকেছে।
জিয়াউর রহমান সাহেবের হত্যাকাণ্ডের পর বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায়, মিথ্যা মামলায় কারাগারে রেখে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। গণতন্ত্রের প্রশ্নে, মানুষের অধিকারের প্রশ্নে এবং দেশের সম্মান রক্ষার প্রশ্নে তিনি অটল ছিলেন।
চরচা: বর্তমান নেতৃত্বের সময়েও কি সেই আদর্শের ধারাবাহিকতা রয়েছে?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: বর্তমানে যিনি আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেই তারেক রহমান সাহেব বিএনপির প্রাথমিক দিকে সারা বাংলাদেশ ঘুরে ঘুরে ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন করেছিলেন। তৃণমূল মানুষের কাছে গিয়েছিলেন। বর্তমানে আবার কর্মসূচি শুরু করেছেন। কৃষকের কিছু ঋণ মওকুফ করেছেন। নতুন করে স্পোর্টস চালু করেছেন। তারপর ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের যারা গুরু, তাদের সম্মান দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
এরকম করে দেখতে গেলে দেখা যাবে, এই দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার যে প্রতিধ্বনি, সেই কাজগুলো বিএনপির পক্ষে শুরু থেকেই করার অঙ্গীকার ছিল–১৯ দফায়, বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০-এ এবং তারেক রহমানের ২৭ দফা, যেটা পরবর্তীতে ৩১ দফা হয়েছে। সেই জায়গায় বিএনপি স্থির আছে।
বিএনপির ধীরে ধীরে নেতাকর্মী ও অনুসারীদের সংখ্যা বেড়েছে, মানুষের মধ্যে সমর্থন বেড়েছে এবং সারা পৃথিবীতেও বিএনপির একটা নতুন করে সম্মান সৃষ্টি হয়েছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকে এই জিনিসগুলো মোটামুটি বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে, বিএনপি যে আদর্শ নিয়ে গঠিত হয়েছিল, সেই ধারা বজায় রেখে বিএনপি এখন পর্যন্ত সেই পথেই এগোচ্ছে।

‘আমরা জেনারেশন নাইন ইলাভেন’
ইতিহাসের পাতায় হয়তো ঘটনাটি এক দিনের। কিন্তু এর প্রভাব আমরা বহন করছি বছরের পর বছর ধরে–আমাদের চিন্তায়, প্রবাসে থাকা প্রিয়জনদের অভিজ্ঞতায়, নিজেদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অভিজ্ঞতায় আর বিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে।

এইটিজের ফ্যাশনে মেতে পরিবেশের কী ক্ষতি করছেন জানেন?
আজ সকালে আমার বন্ধু বলছিল, ফেসবুক খুললেই সবাই ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে ৮০’র দশকের মতো করে ছবি দিচ্ছে। জানতে চাইছিল–এসব নিয়ে আমার মতামত কী? আমি বললাম, “আমরা এমন একটা অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমরা সবদিক থেকে; যেমন–বিদ্যুৎ নাই, গ্যাস নাই, বাজার মূল্য অনিয়ন্ত্রিত, চাঁদাবাজি, লং মার্চ, ফুটপাত দখল

রক্ত-মাংসের মানুষকে আস্ত গিলে খাওয়ার এক দেশে!
আত্মহত্যা বা আত্মহনন। এই কাজটি কোনো সমাজেই খুব একটা দুর্লভ কোনো বিষয় নয়। বরং সব ধরনের সমাজেই প্রবলভাবে বিরাজমান যেসব বৈশিষ্ট্য আমরা দেখি, সেগুলোর মধ্যে আত্মহত্যা অন্যতম। সে কারণে আত্মহত্যার চেষ্টাও একটি পরিচিত ঘটনা। তবে কোন সমাজ এই দুটি কাজকে কোন দৃষ্টিতে দেখে বা বিবেচনা করে, সেটিই বলে দেয় কোন

আজও কেন প্রাসঙ্গিক অরওয়েলের ‘১৯৮৪’
জর্জ অরওয়েলের নাইনটিন এইটি ফোর প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪৯ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পর। তবে বইটিকে কেবল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের সমালোচনা হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেকটাই সীমিত হয়ে যায়। অরওয়েলের চিন্তার পেছনে ছিল ইউরোপে ফ্যাসিবাদ ও সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রব্যবস্থার উত্থান