চরচা: বিএনপি এখন সরকারে। এই সময়ে দলটির সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা কী?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: এই মুহূর্তে গ্যাস ও বিদ্যুতের যে সংকট, এটা বিএনপির সামনে একটা বড় কঠিন পরীক্ষা সামনে এনে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর জন্য খুব সুপরিকল্পিতভাবে কিছু কিছু কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে। এসব জিনিসের ব্যাপারে একটা সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে বিএনপি যদি এগোতে পারে, তাহলে চ্যালেঞ্জগুলোর উত্তর বিএনপির পক্ষে সহজ হবে। মানুষের পক্ষ থেকে কিন্তু ‘বিএনপি পথ হারিয়েছে’—এই কথাটা এখনও পর্যন্ত আসেনি। মানুষ বুঝতে পারছে যে সমস্যাগুলো তারা ভোগ করছে, সে সমস্যাগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
চরচা: সরকারের বয়স এখন ছয় মাস। এই সময়ে প্রত্যাশিত পরিবর্তন কতটা সম্ভব?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া আবর্জনা-জঞ্জাল, যা কিছু ছিল, সেগুলো পরিষ্কার করতেই তো আমাদের অনেক সময় চলে যাচ্ছে। আর সরকারের বয়স তো মাত্র ছয় মাস। এই ছয় মাসে আর কতটুকু কী করা সম্ভব হবে, এই বাস্তবতা তারা বুঝতে পারবেন। ভবিষ্যতে আস্তে আস্তে এ সমস্যাগুলো, ইনশাআল্লাহ, আমরা সমাধান করতে সক্ষম হব।
চরচা: বিএনপির সামনে এখন কোন কোন চ্যালেঞ্জ আছে?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: বিএনপির সামনে যে চ্যালেঞ্জ, সে চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে—যারা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা এখানে চালু করে রেখে গিয়েছিল, তাদের কিছু কিছু অনুচর এখনো বিভিন্ন জায়গায় ঘাপটি মেরে আছে। প্রশাসনে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে, শিক্ষাঙ্গনে, রাজনীতিতে, বিভিন্ন জায়গায়, সাংবাদিক জগতেও। এদের সম্পর্কে সজাগ থাকা, সচেতন থাকা, মানুষকে সজাগ রাখা প্রয়োজন। আর হচ্ছে, আগামী দিনে তরুণদের মধ্য থেকে, যুবকদের মধ্য থেকে নেতৃত্বের কাঠামো তৈরি করা। যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কখনো আর পথভ্রষ্ট না হয়, বাংলাদেশে কখনো আর গণতন্ত্রহীন অবস্থা তৈরি না হয়।
চরচা: বিএনপি যে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ৪৮ বছরে সেই আদর্শ কতটা ধরে রেখেছে? আদর্শ থেকে কতটা বিচ্যুতি হয়েছে?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: বিএনপি যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল, তার পেছনে মূল ঘটনা ছিল একটি রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশ। এই দেশে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, মানুষের ভোটাধিকার, অর্থনৈতিক উন্নতি এবং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটা আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, এগুলোই ছিল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
বিএনপির লক্ষ্য এমন পররাষ্ট্রনীতির, যা কোনো দিকে ঝুঁকে পড়া নয়। নিজের দেশের স্বার্থের জন্য, দেশের সম্মানের জন্য যেটা প্রয়োজন, সেই পরিপ্রেক্ষিতে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন হবে। আর এই দেশের কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, অর্থনীতি–এ সবকিছু আমরাই নির্ধারণ করব। এ দেশের মানুষের রায়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বিএনপি দলটি নিবেদিত থাকবে, যত বছর এই দলের অস্তিত্ব থাকবে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে এগুলোই ছিল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বিএনপি সে পথে অটল থেকেছে।
জিয়াউর রহমান সাহেবের হত্যাকাণ্ডের পর বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায়, মিথ্যা মামলায় কারাগারে রেখে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। গণতন্ত্রের প্রশ্নে, মানুষের অধিকারের প্রশ্নে এবং দেশের সম্মান রক্ষার প্রশ্নে তিনি অটল ছিলেন।
চরচা: বর্তমান নেতৃত্বের সময়েও কি সেই আদর্শের ধারাবাহিকতা রয়েছে?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: বর্তমানে যিনি আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেই তারেক রহমান সাহেব বিএনপির প্রাথমিক দিকে সারা বাংলাদেশ ঘুরে ঘুরে ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন করেছিলেন। তৃণমূল মানুষের কাছে গিয়েছিলেন। বর্তমানে আবার কর্মসূচি শুরু করেছেন। কৃষকের কিছু ঋণ মওকুফ করেছেন। নতুন করে স্পোর্টস চালু করেছেন। তারপর ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের যারা গুরু, তাদের সম্মান দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
এরকম করে দেখতে গেলে দেখা যাবে, এই দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার যে প্রতিধ্বনি, সেই কাজগুলো বিএনপির পক্ষে শুরু থেকেই করার অঙ্গীকার ছিল–১৯ দফায়, বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০-এ এবং তারেক রহমানের ২৭ দফা, যেটা পরবর্তীতে ৩১ দফা হয়েছে। সেই জায়গায় বিএনপি স্থির আছে।
বিএনপির ধীরে ধীরে নেতাকর্মী ও অনুসারীদের সংখ্যা বেড়েছে, মানুষের মধ্যে সমর্থন বেড়েছে এবং সারা পৃথিবীতেও বিএনপির একটা নতুন করে সম্মান সৃষ্টি হয়েছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকে এই জিনিসগুলো মোটামুটি বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে, বিএনপি যে আদর্শ নিয়ে গঠিত হয়েছিল, সেই ধারা বজায় রেখে বিএনপি এখন পর্যন্ত সেই পথেই এগোচ্ছে।