জামায়াতের ‘৩২ নম্বর জয়’ ও সাংবাদিক পেটানোর সুরতহাল
সোহরাব হাসান
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ২০: ৩৮
ছবি: চরচা
জামায়াতে ইসলামী অতীতে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে কোনো কর্মসূচি নিয়েছে বলে মনে পড়ে না। কিন্তু ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ৩২ নম্বরেই বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি নিল। এর একটি কারণ হতে পারে তারা ভেবেছে, ৩২ নম্বর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী সমর্থকদের মোকাবিলা করার সামর্থ একমাত্র তাদেরই আছে। অন্য কারও নেই।
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সমর্থক শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ সেখানে কিছু নিরীহ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। যেমন মোমবাতি প্রজ্জ্বলন। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদ জানানো। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সেটাও বেআইনি প্রতীয়মান হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দাঁড়াতে দেয়নি। এবারে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতা-কর্মী কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি জামায়াত আস্থা রাখতে না পেরে নিজেরাই ৩২ নম্বর হেফাজত করার দায়িত্ব নিল।
২৩ জুনকে ঘিরে যখন সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনটি পুরো ক্যাম্পাস ও এর আশপাশ এলাকা মাতিয়ে রেখেছে, তখন প্রধান বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা বসে থাকবেন কেন?
কিন্তু সাংবাদিকেরা লাঞ্ছিত ও পদদলিত হলেন কেন?
ঘটনার শুরু বক্তৃতা দেওয়া নিয়ে। একজন সাংবাদিক বক্তৃতার বহর বড় না করে জামায়াতের একজন বড় নেতাকে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানালে দলের নেতা-কর্মীরা ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ বলে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। রাস্তায় ফেলে পদদলিত করেন। তার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন। সেখানে কর্তব্যরত অন্য সাংবাদিকেরা বাধা দিলে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা তাদেরও মারধর করেন।
সব সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপক প্রচার পেলে জমায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব বুঝতে পারেন, কাজটি খারাপ হয়েছে। এ জন্য দলের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করে বলা হয়, ভুল বোঝাবুঝির কারণে এটি হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। সাংবাদিকেরা সেই কর্মসূচির ছবি তুলতে গিয়েছেন। এতে ভুল বোঝাবুধির প্রশ্ন আসল কেন? জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, “আজ ২৩ জুন ২০২৬ রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর এলাকায় একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার যে অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার জন্য আন্তরিকভাবে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।”
ঘটনা তদন্তে তারা একটি কমিটিও করেছে বলে জানানো হয়েছে। প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে সাংবাদিক দলনের পর দুঃখপ্রকাশ করলেই কি তাদের ভেতরের স্বৈরাচারী মানসিকতা ঢাকা যাবে।
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী অন্য প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “নকশাল কারো গায়ে লেখা থাকে না।” তার কথাটি একটু ঘুরিয়ে বলা যায়, ফ্যাসিবাদও কারো গায়ে লেখা থাকে না। আওয়ামী লীগ আমলে ছাত্রলীগের হেলমেট বাহিনী রাস্তায় সাংবাদিকদের পিটিয়ে নিজেদের ফ্যাসিবাদী চরিত্র প্রকাশ করেছিল। জামায়াত বিরোধী দলে থাকতেই কাজটি করল।
দেশে সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতার অভাব আগে তো ছিলই, এখনো এর কোন উন্নতি হয়নি। ছবি: চরচা
সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তাদের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বিরোধী দলে থাকতেই জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্য দিবালোকে কর্তব্যরত সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশির, রাব্বী সিদ্দিকী ও আবদুর রহমান ঈশানসহ প্রায় ২৫ সংবাদকর্মীর ওপর যেভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণ ও লাঞ্ছনা চালিয়েছে, তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এ ঘটনা প্রমাণ করে যে তারা ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না এবং দেশকে একটি উগ্র, অসহিষ্ণু ও ফ্যাসিবাদী কাঠামোর দিকে ঠেলে দিতে চায়।”
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সংবাদিকদের ওপর জামায়াতের হামলার নিন্দা জানালেও বগুড়ায় একটি মানহানি মামলায় একটি পত্রিকার সম্পাদককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় টু শব্দ করেনি। বলা হয়েছে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে অসত্য খবর ছাপিয়ে তার মানহানি করেছেন ওই সম্পাদক। যার মানহানি হলো তিনি কিন্তু মামলা করেননি। তার পক্ষে মামলা করেছেন বগুড়া প্রেসক্লাবের এক নেতা। কথায় বলে কাকের মাংস কাক খায় না। এখানে ক্ষমতার এমনই মোজেজা যে সাংবাদিক হয়ে আরেক সংবাদিককে জেলে ঢুকাতেও কসুর করেননি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের কর্মীরা নেতা-মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর মান নিয়ে বিচলিত হতেন। সেই সময়ে নেতা-মন্ত্রী এবং তাদের মান নিয়ে বিচলিত সাগরেদদের কাউকে এখন দেখা যাচ্ছে না। চার মাস বয়সী বিএনপির সরকারকে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলাম মাত্র।
৩২ নম্বরের মতো বগুড়ার ঘটনাও নাকি ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। মামলার শুনানির সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে এ মামলা হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়েছে। বাদীপক্ষও কারাগারে থাকা আসামির জামিন চায় এবং পেয়েও যায়। বাংলাদেশে আইন আদালত এভাবেই চলছে। সংবাদমাধ্যমে দেখলাম, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে ১১ জন সহকারী ও ৭ জন উপ অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছেন। তারা আইন অঙ্গনের কোনো বিষয় নিয়ে আপত্তি জানাননি। তারা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাংবাদিকেরা রাস্তায় ও ঘরে মার খেয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলায় সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে মামলা চললেও তদন্ত হয়নি। এটা বিনাবিচারে আটক ছাড়া কিছু নয়। সেই সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া কোনো কোনো সাংবাদিক জামিন পেলেও অনেকেই পাননি। কবে পাবেন তাও তারা জানেন না। তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য হলে এতদিনেও তদন্ত শেষ হলো না কেন? আর অভিযোগ অসত্য হলে মামলা প্রত্যাহার করা হবে না কেন?
বহু আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থা আটক সাংবাদিকদের মুক্তি দাবি করেছেন। সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নোয়াবের নেতারা আটক ও মামলার ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের তালিকাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। কী অগ্রগতি হয়েছে আমরা জানি না।
লেখক:সম্পাদক, চরচা
ছবি: চরচা
জামায়াতে ইসলামী অতীতে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে কোনো কর্মসূচি নিয়েছে বলে মনে পড়ে না। কিন্তু ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ৩২ নম্বরেই বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি নিল। এর একটি কারণ হতে পারে তারা ভেবেছে, ৩২ নম্বর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী সমর্থকদের মোকাবিলা করার সামর্থ একমাত্র তাদেরই আছে। অন্য কারও নেই।
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সমর্থক শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ সেখানে কিছু নিরীহ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। যেমন মোমবাতি প্রজ্জ্বলন। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদ জানানো। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সেটাও বেআইনি প্রতীয়মান হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দাঁড়াতে দেয়নি। এবারে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতা-কর্মী কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি জামায়াত আস্থা রাখতে না পেরে নিজেরাই ৩২ নম্বর হেফাজত করার দায়িত্ব নিল।
২৩ জুনকে ঘিরে যখন সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনটি পুরো ক্যাম্পাস ও এর আশপাশ এলাকা মাতিয়ে রেখেছে, তখন প্রধান বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা বসে থাকবেন কেন?
কিন্তু সাংবাদিকেরা লাঞ্ছিত ও পদদলিত হলেন কেন?
ঘটনার শুরু বক্তৃতা দেওয়া নিয়ে। একজন সাংবাদিক বক্তৃতার বহর বড় না করে জামায়াতের একজন বড় নেতাকে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানালে দলের নেতা-কর্মীরা ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ বলে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। রাস্তায় ফেলে পদদলিত করেন। তার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন। সেখানে কর্তব্যরত অন্য সাংবাদিকেরা বাধা দিলে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা তাদেরও মারধর করেন।
সব সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপক প্রচার পেলে জমায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব বুঝতে পারেন, কাজটি খারাপ হয়েছে। এ জন্য দলের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করে বলা হয়, ভুল বোঝাবুঝির কারণে এটি হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। সাংবাদিকেরা সেই কর্মসূচির ছবি তুলতে গিয়েছেন। এতে ভুল বোঝাবুধির প্রশ্ন আসল কেন? জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, “আজ ২৩ জুন ২০২৬ রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর এলাকায় একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার যে অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার জন্য আন্তরিকভাবে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।”
ঘটনা তদন্তে তারা একটি কমিটিও করেছে বলে জানানো হয়েছে। প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে সাংবাদিক দলনের পর দুঃখপ্রকাশ করলেই কি তাদের ভেতরের স্বৈরাচারী মানসিকতা ঢাকা যাবে।
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী অন্য প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “নকশাল কারো গায়ে লেখা থাকে না।” তার কথাটি একটু ঘুরিয়ে বলা যায়, ফ্যাসিবাদও কারো গায়ে লেখা থাকে না। আওয়ামী লীগ আমলে ছাত্রলীগের হেলমেট বাহিনী রাস্তায় সাংবাদিকদের পিটিয়ে নিজেদের ফ্যাসিবাদী চরিত্র প্রকাশ করেছিল। জামায়াত বিরোধী দলে থাকতেই কাজটি করল।
দেশে সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতার অভাব আগে তো ছিলই, এখনো এর কোন উন্নতি হয়নি। ছবি: চরচা
সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তাদের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বিরোধী দলে থাকতেই জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্য দিবালোকে কর্তব্যরত সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশির, রাব্বী সিদ্দিকী ও আবদুর রহমান ঈশানসহ প্রায় ২৫ সংবাদকর্মীর ওপর যেভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণ ও লাঞ্ছনা চালিয়েছে, তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এ ঘটনা প্রমাণ করে যে তারা ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না এবং দেশকে একটি উগ্র, অসহিষ্ণু ও ফ্যাসিবাদী কাঠামোর দিকে ঠেলে দিতে চায়।”
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সংবাদিকদের ওপর জামায়াতের হামলার নিন্দা জানালেও বগুড়ায় একটি মানহানি মামলায় একটি পত্রিকার সম্পাদককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় টু শব্দ করেনি। বলা হয়েছে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে অসত্য খবর ছাপিয়ে তার মানহানি করেছেন ওই সম্পাদক। যার মানহানি হলো তিনি কিন্তু মামলা করেননি। তার পক্ষে মামলা করেছেন বগুড়া প্রেসক্লাবের এক নেতা। কথায় বলে কাকের মাংস কাক খায় না। এখানে ক্ষমতার এমনই মোজেজা যে সাংবাদিক হয়ে আরেক সংবাদিককে জেলে ঢুকাতেও কসুর করেননি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের কর্মীরা নেতা-মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর মান নিয়ে বিচলিত হতেন। সেই সময়ে নেতা-মন্ত্রী এবং তাদের মান নিয়ে বিচলিত সাগরেদদের কাউকে এখন দেখা যাচ্ছে না। চার মাস বয়সী বিএনপির সরকারকে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলাম মাত্র।
৩২ নম্বরের মতো বগুড়ার ঘটনাও নাকি ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। মামলার শুনানির সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে এ মামলা হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়েছে। বাদীপক্ষও কারাগারে থাকা আসামির জামিন চায় এবং পেয়েও যায়। বাংলাদেশে আইন আদালত এভাবেই চলছে। সংবাদমাধ্যমে দেখলাম, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে ১১ জন সহকারী ও ৭ জন উপ অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছেন। তারা আইন অঙ্গনের কোনো বিষয় নিয়ে আপত্তি জানাননি। তারা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাংবাদিকেরা রাস্তায় ও ঘরে মার খেয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলায় সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে মামলা চললেও তদন্ত হয়নি। এটা বিনাবিচারে আটক ছাড়া কিছু নয়। সেই সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া কোনো কোনো সাংবাদিক জামিন পেলেও অনেকেই পাননি। কবে পাবেন তাও তারা জানেন না। তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য হলে এতদিনেও তদন্ত শেষ হলো না কেন? আর অভিযোগ অসত্য হলে মামলা প্রত্যাহার করা হবে না কেন?
বহু আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থা আটক সাংবাদিকদের মুক্তি দাবি করেছেন। সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নোয়াবের নেতারা আটক ও মামলার ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের তালিকাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। কী অগ্রগতি হয়েছে আমরা জানি না।