Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

মেক্সিকোর ফুটবলে মিশে আছে খনি শ্রমিকের ঘাম

ডা. আবু হেনা মোস্তফা বেলাল

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ২৩: ২৫
মেক্সিকোর ফুটবলে মিশে আছে খনি শ্রমিকের ঘাম

মেক্সিকোর পাহাড়ি শহর পাচুকার আকাশে আজও কখনো কখনো কর্নওয়ালের বাতাস ভেসে আসে।

Advertisement

অবশ্য ভূগোলের বই খুলে দেখলে এমন কথা মানা কঠিন। ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমের এক প্রান্তিক উপদ্বীপ আর মেক্সিকোর মধ্যভাগের এক খনি শহরের মধ্যে হাজার হাজার মাইল সমুদ্রের দূরত্ব। কিন্তু মানুষের ইতিহাসে দূরত্ব বলে কিছু নেই। মানুষ যেখানে যায়, তার সঙ্গে ভেসে যায় ভাষা, স্মৃতি, খাবার, গান—এমনকি ফুটবলও।

পাচুকার স্টেডিয়ামে যখন সমর্থকেরা বিশাল এক পতাকা মেলে ধরে, সেখানে দেখা যায় এক খনি শ্রমিককে। তার এক হাতে খনির গাঁইতি, অন্য হাতে এক অদ্ভুত আকৃতির পেস্ট্রি। পাশে কালো পতাকায় সাদা ক্রস। যারা কর্নওয়ালকে চেনে, তারা মুহূর্তেই বুঝতে পারে—এ মানুষটি কর্নিশ।

মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসের শিকড়ে যে কিছু ইংরেজ খনি শ্রমিকের ঘাম মিশে আছে, সেই স্মৃতির প্রতিই এই শ্রদ্ধা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গল্পটির শুরু ১৮২৪ সালে।

মেক্সিকো তখন সদ্য স্বাধীন। দীর্ঘ যুদ্ধ দেশের অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করেছে। বিশেষ করে রূপার খনিগুলো প্রায় মৃত। ঠিক সেই সময় কর্নওয়ালের এক খনি প্রকৌশলী, জন টেলর, দূর দেশ মেক্সিকোর রেয়াল দেল মন্তের খনিগুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবলেন—যা কর্নওয়ালে পেরেছি, এখানেও পারব।

তার সেই সিদ্ধান্তের ফলেই শুরু হলো মানুষের এক অদ্ভুত যাতায়াত। কর্নওয়াল থেকে মানুষ এল মেক্সিকোতে, আবার ফিরে গেল ইংল্যান্ডে। সঙ্গে আনল নিজেদের ভাষা, খাবার, ধর্ম, অভ্যাস এবং খেলাধুলা।

মেক্সিকান পাস্তে। ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকান পাস্তে। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল তখনও পুরোপুরি জন্মায়নি।

প্রথমে এসেছিল ক্রিকেট।

১৮৫০-এর দশকে কর্নিশ ব্যবসায়ী ফ্র্যাঙ্ক রুল পাচুকায় একটি ক্রিকেট দল গড়লেন। তখন ইংল্যান্ডেই ফুটবলের নিয়মকানুন পুরোপুরি স্থির হয়নি। ক্রিকেট মাঠের সেই খেলোয়াড়দের অনেকেই পরে ফুটবল খেলতে শুরু করল। যেন এক খেলার ভেতর থেকেই জন্ম নিল আরেক খেলা।

১৮৯২ সালে স্থানীয় একটি সংবাদপত্রে প্রথম ফুটবল দলের উল্লেখ পাওয়া যায়। মজার বিষয়, সেই সংবাদটি ছিল দল ভাঙনের খবর। পাচুকা আর রেয়াল দেল মন্তের খেলোয়াড়দের মধ্যে মতবিরোধ।

কর্নিশদের ইতিহাসে বিভাজন নতুন কিছু নয়। সমুদ্র পাড়ি দিয়েও তারা সেই স্বভাব বদলাতে পারেনি।

শেষ পর্যন্ত সবাই বুঝল, আলাদা থাকলে চলবে না।

১৮৯৫ সালে ফ্র্যাঙ্ক রুলের উদ্যোগে কয়েকটি ক্লাব একত্রিত হয়ে গঠন করল নতুন সংগঠন—পাচুকা অ্যাথলেটিক ক্লাব। সেখান থেকেই শুরু।

কেউ তখন ভাবতেও পারেনি যে, এই ছোট্ট ক্লাব একদিন মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসের জন্মকাহিনীর অংশ হয়ে যাবে।

বিশ শতকের শুরুতে মেক্সিকোতে ফুটবলের আরও কয়েকটি কেন্দ্র গড়ে উঠল। ভেরাক্রুজের ওরিসাবা, মেক্সিকো সিটি এবং অন্য কয়েকটি শহরের দল মিলে গঠন করল দেশের প্রথম লিগ। মেক্সিকোর ফুটবল তখন শিশু।

কিন্তু শিশুরা যেমন দ্রুত বড় হয়, তেমনি ফুটবলও বাড়তে লাগল। খনির শ্রমিকেরা মাঠে খেলত, আর তাদের স্ত্রী ও কন্যারা মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দিত। কর্নিশ মহিলাদের কথা আলাদা করে মনে রাখা উচিত। কারণ তারা শুধু দর্শক ছিলেন না; তারা সঙ্গে এনেছিলেন কর্নওয়ালের বিখ্যাত প্যাস্টি।

খনিশ্রমিকদের জন্য বানানো সেই খাবারের পুরু প্রান্ত ছিল হাতলস্বরূপ। ধুলো-ময়লা লেগে থাকা হাত দিয়ে সেটুকু ধরে খাওয়া যেত। প্রয়োজন হলে খনির গভীরেও নামিয়ে দেওয়া যেত।

আজ মেক্সিকোতে সেই প্যাস্টির নাম বদলে হয়েছে ‘পাস্তে।’

কিন্তু নাম বদলালেও ইতিহাস বদলায় না।

পাচুকার রাস্তায় আজও পাস্তের দোকান দেখা যায়। রেয়াল দেল মন্তেতে এখনও কর্নিশ পতাকা উড়ে। এমনকি প্রতি বছর সেখানে আন্তর্জাতিক পাস্তে উৎসবও হয়।

ইতিহাস কখনও কখনও অদ্ভুত রকমের জেদি। সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আসা স্মৃতিগুলোকে সে সহজে মরতে দেয় না।

মেক্সিকো হতে পারে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিজয়ীmexico (1)

১৯০৮ সালে পাচুকা দলে প্রথম মেক্সিকান খেলোয়াড়ের আগমন ঘটে। ধীরে ধীরে ফুটবল কেবল প্রবাসী ইংরেজদের খেলা রইল না; হয়ে উঠল মেক্সিকানদেরও খেলা।

তারপর বিপ্লব এল।

মেক্সিকান বিপ্লবের অভিঘাতে বহু পরিবার শহর ছেড়ে চলে গেল। পাচুকার প্রথম যুগের ক্লাবটি হারিয়ে গেল ইতিহাসের কুয়াশায়।

কিন্তু ফুটবল কখনও পুরোপুরি মরে না। যেমন নদী শুকিয়ে গেলেও তার পুরোনো খাত রয়ে যায়।

১৯৫০ সালে ক্লাবটি নতুনভাবে ফিরে এল। আবার হারাল। আবার ফিরে এল। আজ সেই ক্লাব সাতবারের মেক্সিকান চ্যাম্পিয়ন। দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল প্রতিযোগিতাও জিতেছে। অথচ তাদের পরিচয়ের কেন্দ্রে এখনও রয়েছে এক খনি শ্রমিক, একটি গাঁইতি আর এক টুকরো পাস্তে।

পাচুকার মানুষ নিজেদের বলে ‘লস তুসোস’ - গর্ত খুঁড়ে বসবাসকারী প্রাণীর নাম থেকে নেওয়া এই পরিচয়। যেন তারা নিজেদের শিকড় ভুলতে চায় না।

ফুটবল ক্লাবের ইতিহাস আসলে মানুষের ইতিহাস।

একটি বল মাঠে গড়িয়েছে বলে নয়, বরং সেই বলের পেছনে ছুটতে ছুটতে মানুষ এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে বন্ধুত্ব, সংস্কৃতি ও স্মৃতির সেতু তৈরি করেছে বলে।

২০২৬ সালে মেক্সিকো আবার বিশ্বকাপের আয়োজক। পৃথিবীর নানা দেশের মানুষ এই দেশে এসেছে, আসছে, আসবে। তারা হয়তো জানবে না, পাচুকার কোনো এক গলির দোকানে যে গরম পাস্তে বিক্রি হচ্ছে, তার জন্ম একদা আটলান্টিকের ওপারে কর্নওয়ালের খনিগ্রামে।

কিন্তু ইতিহাসের সৌন্দর্য এখানেই।

সব গল্প জানার প্রয়োজন হয় না।

কিছু গল্প কেবল খাবারের গন্ধে, পুরোনো পতাকার রঙে, কিংবা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ভেসে থাকা এক টুকরো স্মৃতিতে বেঁচে থাকে।

বিষয়: ইংল্যান্ডফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬মেক্সিকো
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার অনুরোধ আইএসপিআরের

  • ২

    ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান

  • ৩

    যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুক হামলায় নিহত ৯

  • ৪

    ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

  • ৫

    রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হামলায় কয়েকজন আহত, কার্যক্রম বন্ধ

সম্পর্কিত
  • ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

    ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

    গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে আব্বাস নভেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবেই তিনি ওই অঙ্গীকার করেছিলেন। এর দুই সপ্তাহ পর আব্বাসের নির্বাচনের সময়সূচি পেছানোর সিদ্ধান্ত এলো।

  • ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?

    ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?

    সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণ আল জাজিরাকে বলেন, “মোদি সরকারকে জনগণের কাছে বেশ ভীত বলে মনে হচ্ছে।”

  • ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

  • মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে তার শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।