Advertisement Banner

ব্রাজিল ৩ : ০ স্কটল্যান্ড

নেইমারের ফেরার ‘মিষ্টি’তে ব্রাজিলের বাড়তি ‘চিনি’ ভিনি

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
নেইমারের ফেরার ‘মিষ্টি’তে ব্রাজিলের বাড়তি ‘চিনি’ ভিনি
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল সমর্থকদের মন ভরিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। ছবি: এক্স

মায়ামি স্টেডিয়ামের হলুদ গ্যালারির আওয়াজ তখন গর্জনে রূপ নিয়েছে। ঘড়িতে সময় ৭৫ মিনিট। না, ব্রাজিল গোল করেনি – স্কটল্যান্ডের জালে এর আগেই তিনবার বল জড়ানো হয়ে গেছে। কিন্তু গোলের চেয়েও বেশি উন্মাতাল গ্যালারির দেখা মিলল ৭৫তম মিনিটে, যখন মাতেউস কুনিয়ার বদলি হয়ে নামছিলেন নেইমার!

৯৮১ দিন পর আবার হলুদ জার্সিটাতে নেইমারকে খেলতে দেখল ব্রাজিল!

যে মিনিট পনেরো খেললেন, তাতে খুব বেশি কিছু করতে পারেননি ব্রাজিলের নাম্বার টেন। কয়েকটা কর্নার নিয়েছেন, এর বাইরে অল্প কয়েকবারই বল পায়ে পেয়েছেন। তাতে যা করেছেন, অনেকদিনের অনভ্যাস নজরে এসেছে।

কিন্তু মায়ামি স্টেডিয়ামে আজ ব্রাজিল এ নিয়ে খুব বেশি হয়তো চিন্তিত নয়। এতদিন পর মাঠে নামা নেইমারের কাছ থেকে একেবারে অবিশ্বাস্য কিছুর প্রত্যাশাও সম্ভবত খুব বেশি ব্রাজিল সমর্থকের ছিল না। নেইমার নেমেছেন অবশেষে, এতটুকুতেই তাদের সন্তুষ্ট হওয়ার কথা।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ গোলের জয়ে আজ তৃপ্তি যদি কিছু ব্রাজিল সমর্থকদের থেকে থাকে, সেটা তাদের নাম্বার সেভেনকে নিয়ে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দুই গোল করেছেন, প্রথমার্ধের মাঝামাঝিতে ভিএআরের একটু বেশি কড়াকড়িতে গোলটা বাতিল না হলে কিংবা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পাকেতার অসাধারণ থ্রু ধরে বক্সে ঢুকেও ভিনি ফিনিশিংয়ে ভজকট পাকিয়ে না ফেললে হ্যাটট্রিকটাও পেয়ে যেতেন। তা না পেলেও ব্রাজিল সমর্থকদের তৃপ্তি সম্ভবত এ জায়গায় যে, যতবার বল নিয়ে ছুটেছেন ভিনিসিয়ুস, স্কটল্যান্ড ডিফেন্স যেন ভয়ে কেঁপেছে!

স্কটল্যান্ড পুরো ম্যাচে বেশ কয়েকবার আক্রমণে উঠেছে বটে, দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকবার আলিসনকে সেভ করতে হয়েছে, কিন্তু এর বাইরে ব্রাজিলের বক্সের সামনে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেছে। আর ডিফেন্সে তো প্রথমার্ধের পানি পানের বিরতির আগে ভুলের মেলা বসিয়েছে। যেন ব্রাজিলকে – আরও নির্দিষ্ট করে বললে ভিনিসিয়ুসকে – গোল উপহার দেওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন স্কটিশ দুই সেন্টারব্যাক! তিন গোল খেয়ে এখন সেরা আট তৃতীয় দলের একটি হিসেবেও রাউন্ড অব ৩২-এ যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়ে গেছে স্কটল্যান্ড।

৯৮১ দিন পর আবার হলুদ জার্সিটাতে নেইমারকে খেলতে দেখল ব্রাজিল! ছবি: এক্স
৯৮১ দিন পর আবার হলুদ জার্সিটাতে নেইমারকে খেলতে দেখল ব্রাজিল! ছবি: এক্স

৬ মিনিটে এক সেন্টারব্যাক স্কট ম্যাককেনার কাছ থেকে বক্সে বলটা কেড়ে নিলেন রায়ান, এই ম্যাচে যিনি রাফিনিয়ার জায়গায় নেমেছেন। তাঁর পাস ধরে গোলকিপারকে কাটিয়ে গোল ভিনিসিয়ুসের।

২১ মিনিটে আরেক সেন্টারব্যাক জ্যাক হেনড্রির ভুলের পালা। বক্সের বাইরে তার কাছ থেকে বল কেড়ে নিলেন ভিনিসিয়ুস, শেষ ডিফেন্ডারই ছিলেন হেনড্রি। এরপর আর কী! বল জালে! কিন্তু ভিএআর পরে জানাল, বল কেড়ে নেওয়ার পথে ফাউল করেছেন ভিনি, গোল বাতিল। রিপ্লেতে স্লো মোশনে দেখা ছাড়া ভিনিসিয়ুসের ওই ফাউল কারও চোখে পড়ার কথা নয়।

পানি পানের বিরতির পর তা-ও কিছুটা আক্রমণে উঠেছে স্কটল্যান্ড। কিন্তু সুবিধা করতে পারেনি। উল্টোদিকে দুই উইংয়ে রায়ান আর ভিনিসিয়ুসের গতি আর ক্ষিপ্রতার সামনে বারবার ভুগেছে। শেষ পর্যন্ত বিরতির ঠিক আগে আবার ভিনিসিয়ুসই গোল করলেন। ডানদিক থেকে ব্রুনো গিমারায়াসের ক্রস স্কটল্যান্ড গোলকিপারকে পেরিয়ে গেল দূরের পোস্টে অরক্ষিত ভিনির দিকে, ভিনির হেড জালে।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে তিন ম্যাচে তিন গোল হয়ে গেল কুনিয়ার। ছবি: এক্স
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে তিন ম্যাচে তিন গোল হয়ে গেল কুনিয়ার। ছবি: এক্স

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাঝমাঠ থেকে পাকেতার স্লাইডরুল পাস ভিনিকে গোলের সুযোগ করে দেয়, তবে ফিনিশিংটা দিতে পারেননি ভিনি।

ব্রাজিলকে অবশ্য গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। ৬০ মিনিটে টুর্নামেন্টে নিজের ও ম্যাচে ব্রাজিলের তৃতীয় গোলটা করে ফেললেন মাতেউস কুনিয়া। গোলটার কৃতিত্ব অবশ্য ব্রুনো গিমারায়েসের। স্কটল্যান্ড ডিফেন্ডার ম্যাকক্লিনকে সহজেই ঠেলে বক্সে ঢুকে যান গিমারায়েস, স্কটিশ গোলকিপার অ্যাঙ্গাস গুনও এগিয়ে যান তাকে আটকাতে। কিন্তু মাথা ঠাণ্ডা রেখে গিমারায়েস আলতো স্পর্শে বলটা বাড়িয়ে দিলেন পাশেই দৌড়ে উঠে যাওয়া কুনিয়ার দিকে। ফাঁকা পোস্টে প্রথম স্পর্শেই বল জালে জড়িয়ে দেন কুনিয়া।

সম্পর্কিত