“যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের—মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা।”–জীবনানন্দ দাশ
পঙ্ক্তিটি অনায়াসেই আমাদের দাঁড় করিয়ে দেয় এক গভীর ও নিগূঢ় সত্তাতাত্ত্বিক সত্যের মুখোমুখি। কুয়াশাঘেরা এক মন্থর সকালে জানালার কাচে যখন এক চিলতে সোনালি রোদ এসে পড়ে, তখন হয়তো বাইরে কোনো এক কলা গাছে ক্ষণিকের জন্য ডানা মেলে একটি সবুজ ফড়িং।
সে জানে না আগামীকালের রূপ কেমন হবে; সে সঞ্চয় করে না কোনো অতীত স্মৃতির পাহাড় কিংবা ভবিষ্যতের পুঁজি।
তার ওড়াউড়ির মধ্যেই যেন ছড়িয়ে আছে সৃষ্টির এক অমোঘ, স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ। কিন্তু কাচের এপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির চোখ ব্যস্ত সময়সূচিতে, কানে বাজে যান্ত্রিক নগরের কোলাহল।
কেন ফড়িঙের সেই বাঁধনহারা উড্ডয়ন বা দোয়েলের নিভৃত সুরের সাথে মানুষের আর দেখা মেলে না? কারণ মানুষ আর প্রকৃতির সহজিয়া ছন্দে নেই; সে জড়িয়ে পড়েছে সভ্যতার এক জটিল, কৃত্রিম তন্তুতে।
জীবনের মৌলিক সৌন্দর্য্য লুকিয়ে আছে তার ক্ষণস্থায়িত্বের ভেতরের এক অদ্ভুত পূর্ণতায়। সেখানে অস্তিত্ব আবর্তিত হয় জন্ম, বেঁচে থাকা, বংশবৃদ্ধি ও মৃত্যুর স্বাভাবিক ও অলঙ্ঘনীয় চক্রে।
মানুষের জীবন ঠিক এখানেই ব্যতিক্রম। আমরা কেবল টিকে থাকতে চাই না, আমরা ‘ভালোভাবে’ বাঁচতে চাই। আর এই ‘ভালোভাবে’ বেঁচে থাকার সংজ্ঞা পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েই শুরু হয়েছে সভ্যতার সৃষ্টি ও স্থায়িত্ব।
সভ্যতার সূচনালগ্নেই মানুষ বুঝতে পেরেছিল, একা বেঁচে থাকার চেয়ে দলবদ্ধ হয়ে থাকা নিরাপদ। এই সামাজিকতা থেকেই জন্ম নেয় সমাজ ও সমাজবদ্ধ জীবন। তবে সমাজের সাথে সাথেই জন্ম নেয় নিয়মের শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও অধিকারের লড়াই। কালক্রমে সামাজিক সংগঠন থেকে জন্ম নেয় রাষ্ট্র। বিনিময়ের সহজ ধারাকে রূপ দেওয়া হয় মুদ্রার শাসনে, তৈরি হয় অর্থনীতির জটিল গাণিতিক কাঠামো।
ফলে আজ মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজন অর্থ, অর্থের জন্য প্রয়োজন শ্রম, আর সেই শ্রম মানুষকে পরিণত করেছে এক বিশালাকার অদৃশ্য যন্ত্রের ক্ষুদ্র নাট-বল্টুতে–যাতে বিসর্জিত হয় আত্মিক শান্তি।
রাজনীতি মূলত এই বৃহৎ যন্ত্রটি পরিচালনারই দ্বন্দ্ব, যেখানে ক্ষমতা ও আধিপত্যের লড়াই সাধারণ মানুষের মৌলিক ও সরল চাওয়াগুলোকে গ্রাস করে নেয়।
মনোসংকেতবিদ সিগমুন্ড ফ্রয়েড তার বিখ্যাত ‘সিভিলাইজেশন অ্যান্ড ইটস ডিসকন্টেন্টস’ গ্রন্থে এই সামাজিক ট্র্যাজেডিকেই চিহ্নিত করেছেন।
তার মতে, সভ্যতা মানুষকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় ঠিকই, কিন্তু বদলে চাপিয়ে দেয় মনস্তাত্ত্বিক অতৃপ্তি ও আত্মপীড়ন।
মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি–বিশেষ করে কাজের স্পৃহা, যৌনতা ও আগ্রাসী মনোভাব–সভ্যতার কঠোর নিয়মের সাথে প্রতিনিয়ত সংঘাতে লিপ্ত হয়।
এই অনবরত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেই জন্ম নেয় মানসিক জটিলতা ও বিচ্ছিন্নতা। আমরা যত বেশি সভ্য ও আধুনিক হচ্ছি, প্রাকৃতিক সত্তা থেকে তত দূরে সরে যাচ্ছি। ফড়িঙের সেই বাঁধনহারা জীবন তাই আজ মানুষের কাছে এক দুষ্প্রাপ্য ও সুদূর পরাহত স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
তবে এই দূরত্বের মাঝেও মানুষ যুগে যুগে জীবনের অর্থ খুঁজেছে। দার্শনিক, চিন্তক ও মহাত্মারা নিজের মতো করে জীবনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন এবং মানুষের মানসিক মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। গৌতম বুদ্ধ মানুষের অভিজ্ঞতার মূলে দেখেছিলেন ‘দুঃখ’।
প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, মিলন-বিরহ কিংবা জরা-মৃত্যু–সবই দুঃখের সমার্থক। বুদ্ধের মতে, এই দুঃখের আসল মূল লুকিয়ে আছে ‘তৃষ্ণা’ বা অমিল বাসনায়। তিনি নির্দেশ করেছেন ‘আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ’–যা সরলতা, সদাচার ও ধ্যানের মাধ্যমে বাসনা ক্ষয়ের পথ দেখায় এবং জীবনের বহুমাত্রিক জটিলতা থেকে মুক্তির সন্ধান দেয়।
অন্যদিকে তাওবাদের জনক লাওৎসে পথ দেখিয়েছেন ‘উ-ওয়েই’ বা অনায়াস কর্মের (Effortless Action)। তার মতে, মানুষের উচিত প্রকৃতির মতোই সহজিয়া হওয়া–প্রবাহমান জল কিংবা বাতাসের মতো নিজের স্বাভাবিক ছন্দে বয়ে যাওয়া।
আধুনিক মানুষের অতিসক্রিয়তা ও সবকিছুতে নিজের আধিপত্য কায়েমের যে আগ্রাসী বাসনা, তাই তাকে ক্রমাগত অশান্ত করে তুলছে।
সক্রেটিস আবার জীবনকে পরিমাপ করেছেন আত্মজিজ্ঞাসার আলোয়। তার বিখ্যাত উক্তি, “অপরীক্ষিত জীবন যাপনের অযোগ্য।”
প্রচলিত সমাজব্যবস্থা বা মূল্যবোধকে অন্ধভাবে মেনে নেওয়াকে তিনি মুক্তির পথ মনে করেননি; বরং নিজেকে জানা এবং নিজস্ব কর্মের হেতু অনুধাবন করাই ছিল তার দর্শন। একইভাবে স্টোইক চিন্তাবিদরা শিখিয়েছেন জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণের মাত্রা বোঝা।
অরেলিয়াস বা সেনেকার মতে, পৃথিবীর অধিকাংশ বিষয়–যেমন অন্যের মতামত, অতীত ঘটনা বা মৃত্যু–আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যা হাতের নাগালের বাইরে, তা নিয়ে ভেবে মানসিক শক্তির অপচয় করার কোনো অর্থ হয় না।
সেনেকা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, “বাস্তবতার আঘাতের চেয়ে আমাদের কল্পনা আমাদের বেশি কষ্ট দেয়।”
সরলতার এই ধারণাকে এক অনন্য চরমসীমায় নিয়ে গিয়েছিলেন সিস্টার দার্শনিক ডায়োজেনিস। কথিত আছে, দিগ্বিজয়ী সম্রাট আলেকজান্ডার যখন ডায়োজেনিসের প্রজ্ঞা ও অনাড়ম্বর জীবন দর্শনে মুগ্ধ হয়ে তার সামনে উপস্থিত হলেন এবং মহিমান্বিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, “আমি বিশ্বজয়ী আলেকজান্ডার, তোমার যা ইচ্ছা চাইতে পারো, আমি তা-ই দেব।”
তখন রোদে শুয়ে থাকা ডায়োজেনিস নির্বিকারভাবে উত্তর দিয়েছিলেন, “একটু সরে দাঁড়ান, আপনি আমার গায়ে আসা রোদের আলোটা আটকে দিচ্ছেন।” আলেকজান্ডারের বিপুল ধনসম্পদ ও ক্ষমতার চেয়ে ডায়োজেনিসের কাছে বিকেলের এক চিলতে রোদ ছিল অনেক বেশি মূল্যবান। সামাজিক প্রথা, লোভ ও ক্ষমতার অহংকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ডায়োজেনিস প্রমাণ করেছিলেন, সভ্যতার জটিলতার বিরুদ্ধে সরলতাই হলো সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ।
আধুনিক সময়ে এসে জঁ-জাক রুসো সভ্যতার কৃত্রিম রূপের সমালোচনা করে বলেছিলেন, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা ‘আদিম’ মানুষই ছিল প্রকৃত অর্থে স্বতঃস্ফূর্ত ও মুক্ত। ব্যক্তিমালিকানার উদ্ভব ও কাঠামোগত সমাজই মানুষের মধ্যে জন্ম দিয়েছে হিংসা, অসাম্য ও লোভের।
তবে আলবেয়ার কামু অস্তিত্বের এই জটিলতাকে আরও গভীরে নিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন ‘অ্যাবসার্ড’ বা অর্থহীনতার দর্শনে। তার ‘দ্য মিথ অব সিসিফাস’-এ দেখা যায়, দেবতাদত্ত শাস্তির কারণে সিসিফাসকে অনন্তকাল ধরে একটি ভারী পাথর পাহাড়ের চূড়ায় তুলে নিয়ে যেতে হয়, যা চূড়ায় পৌঁছানোমাত্রই আবার গড়িয়ে নিচে পড়ে যায়।
এই যান্ত্রিক সিসিফাসবৃত্তই যেন আধুনিক মানবজীবনের এক নগ্ন সত্য। কামু বলছেন, আমাদের দৈনন্দিন যান্ত্রিক জীবনও–সকালে ওঠা, কাজে যাওয়া, ঘুমানো এবং পরদিন একই বৃত্তে ঘোরা–ঠিক তেমনই। তবে কামুর মতে, জীবন অর্থহীন জেনেও সেই অর্থহীনতাকে জয় করাই মানুষের মুক্তি। এজন্যই তিনি লিখেছেন, “আমাদের অবশ্যই সিসিফাসকে সুখী হিসেবে কল্পনা করতে হবে।”
অর্থাৎ, পৃথিবীর বাহ্যিক জটিলতার মধ্যেও নিজের ভেতরের সত্তা দিয়ে জীবনের অর্থ তৈরি করে নেওয়াই অস্তিত্বের সার্থকতা।
ডিজিটাল যুগে এসে সভ্যতার এই কৃত্রিম চাপ আরও নতুন এবং সূক্ষ্ম রূপ ধারণ করেছে। আমাদের প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক জীবন মানুষকে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন ও চঞ্চল করে তুলছে।
নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারাবিশ্বের সাথে সংযুক্ত থাকার অলীক অনুভূতির আড়ালে তৈরি হয়েছে ‘ফোমো’ (FOMO–Fear of Missing Out) বা পিছিয়ে পড়ার মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক এবং এক অশুভ ‘তুলনা-সংস্কৃতি’ (Comparison Culture)।
সামাজিক মাধ্যমে অন্যের সাজানো ও সুসম্পাদিত জীবনযাত্রার সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবনের প্রতিনিয়ত তুলনা করতে গিয়ে আমরা এক গভীর আত্মহীনতা ও মানসিক অস্থিরতায় ভুগছি।
প্রতি মুহূর্তে আমরা যা পাচ্ছি না, তাতেই আমাদের মন নিবদ্ধ থাকছে।
ফলে অস্তিত্বের স্বাভাবিক আনন্দ হারিয়ে যাচ্ছে কৃত্রিম চাহিদার ভিড়ে। ডিজিটাল জগতের এই অন্তহীন কোলাহল ফড়িঙের সেই নিখাদ ডানা মেলার আনন্দ থেকে মানুষকে আরও এক ধাপ দূরে ঠেলে দিচ্ছে।
আধুনিক সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য একটি মৌলিক জটিলতা। যখন এক প্রান্তে কয়েকজন সম্পদ কুক্ষিগত করে, অপর প্রান্তে কোটি কোটি মানুষ অনাহারে থাকে, তখন সেই সমাজ কখনো শান্তিপূর্ণ থাকতে পারে না।
এই বৈষম্য অপরাধ, হিংসা, অস্থিরতা ও মানসিক অশান্তির জন্ম দেয়।
ক্ষমতার রাজনীতি মানুষকে শেখায় স্বার্থপরতা ও কৌশল। সৎ, সরল মানুষ ক্ষমতার কাঠামোতে টিকে থাকতে পারে না। সবকিছু মিলিয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবন হয়ে ওঠে এক কঠিন সংগ্রাম।
একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ কি এই জটিলতা কমাতে পারে? জন রলস-এর ন্যায়ের তত্ত্ব আমাদের আশা দেখায়। তিনি এমন একটি সমাজ গড়ার কথা বলেছেন যেখানে ন্যায়বিচার (Justice) কেবল শক্তিশালী বা সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থে হবে না, বরং সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সমাজের লক্ষ্য হবে। মার্কসের সাম্যবাদী সমাজে রাষ্ট্র ও শ্রেণির বিলুপ্তি ঘটলে মানুষের ওপর থেকে কৃত্রিম চাপ অনেকটাই ফুরিয়ে যাবে।
রুশোর সামাজিক চুক্তি যদি সাধারণ ইচ্ছার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে ব্যক্তি তার স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়েও সমষ্টির অংশ হিসেবে নিজেকে খুঁজে পাবে।
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ হয়তো সব জটিলতা দূর করতে পারবে না, কিন্তু অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা দিতে পারলে মানুষের জীবনের একটা বড় অংশের অশান্তি দূর হবে।
পরিশেষে, শান্তিপূর্ণ জীবন কাটানোর উপায় খুঁজতে গিয়ে আমরা কিছু অভিন্ন সূত্র খুঁজে পাই।
সরলতা আমাদের প্রথম শিক্ষা–স্টোইকদের মতো নিজের প্রয়োজনের পরিধি ছোট করা, লাওৎসের মতো অনায়াসে চলা, লালনের মতো আড়ম্বরপূর্ণ জীবন ত্যাগ করা। বুদ্ধ যেমন বলেছেন, তৃষ্ণাই দুঃখের মূল, তাই তৃষ্ণা কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
আত্মচিন্তা দ্বিতীয় পথ–সক্রেটিসের মতো নিজেকে প্রশ্ন করা, কেন আমি রাগ করছি, কেন আমি দুঃখিত–এই প্রশ্নগুলো আমাদের মনকে জটিলতার কারণ বুঝতে সাহায্য করে। আত্মনিবেশের মাধ্যমে আমরা মনকে শান্ত করতে পারি, যেমন বুদ্ধ শিখিয়েছিলেন।
সামাজিক ন্যায় ও মানবিকতা তৃতীয় পথ–কান্টের নৈতিকতার পথে চলা, অন্যের সঙ্গে সেই রকম ব্যবহার করা, যেরকম ব্যবহার নিজে আশা করি। মার্কসের মতো আমাদেরও বুঝতে হবে, ব্যক্তির শান্তি তখনই সম্ভব যখন সমাজের সবাই শান্তিতে থাকবে। যদি চারপাশে অশান্তি বিরাজ করে, তবে একার শান্তি অর্থহীন। তাই অন্যদের দুঃখে সমবেদনা জানানো এবং অসাম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই শান্তির পথ।
প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন চতুর্থ পথ–জীবনানন্দের কবিতার ফড়িং আর দোয়েল আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় সবুজ ঘাস আর নদীর ধারে। প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো, গাছপালা, পশুপাখির সঙ্গে একাত্ম হওয়া আমাদের সভ্যতার কৃত্রিম চাপ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি দেয়। প্রকৃতি নিজেই এক মহান শিক্ষক, যে শেখায় ধীরতা, সহনশীলতা ও চক্রাকার গতিতে শান্ত থাকার কৌশল।
আর পঞ্চম পথ হলো অর্থ ও ক্ষমতার মায়া ত্যাগ করা–ডায়োজেনিস ও লালন আমাদের মনে করিয়ে দেন, প্রকৃত সম্পদ বাহ্যিক কিছু নয়, এটি আমাদের অন্তরে লুকিয়ে আছে।
অর্থ ও ক্ষমতার পেছনে ছোটা আমাদেরকে এক চিরস্থায়ী অশান্তির মধ্যে নিয়ে যায়। নিৎশে সতর্ক করেছেন, ক্ষমতার ইচ্ছা যেন আমাদের আত্মাকে গ্রাস না করে।
জীবনানন্দ লিখেছিলেন, মানুষের জীবনের সাথে ফড়িঙের জীবনের দেখা হয় না। হয়তো বাস্তবিক অর্থে কখনোই সেই দেখা মিলবে না।
কিন্তু বাহ্যিক জটিলতার সমুদ্র সাঁতরেও মানুষ চাইলে নিজের ভেতর এক গভীর প্রশান্তির দীঘি তৈরি করতে পারে।
জটিলতা ও দ্বন্দ্ব থাকবেই, কিন্তু তাকে অস্বীকার না করে আত্মজিজ্ঞাসা, প্রজ্ঞা এবং মানুষের প্রতি গভীর অনুকম্পা দিয়ে যদি আমরা বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজি, তবে ফড়িঙের সেই সহজাত স্বাধীনতার কিছুটা আলো হয়তো মানুষের মনেও এসে পড়বে।