Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৮ অক্টোবর, ২০২৬
২৮ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৮ অক্টোবর, ২০২৬
২৮ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> ভাবনা

একজন মানিক পশারী ও আজকের বাংলাদেশ

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ১৭
একজন মানিক পশারী ও আজকের বাংলাদেশ
একজন মানিক পশারী ও আজকের বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরের চিতলিয়ায় যা ঘটেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, তা একটি ঘোষণা। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যু হয় ২৪ অক্টোবর সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে। ৫ আগস্টের পর ঘর পুড়িয়ে দেওয়ায় তিনি পালিয়ে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তার মরদেহ দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনলে গার্ড অব অনারে বাধা দেয় স্থানীয় জামায়াত। পৌর জামায়াত আমির আব্দুর রাজ্জাক তাকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে মাইকিং করান। পরে বিকেল ৫টায় পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গোপনে গার্ড অব অনার দিতে হয়। সন্ধ্যায় চিতলিয়ায় খোঁড়া কবর ভরাট করে দেওয়া হয়। কোনো পুরুষ শ্রমিক কবর খুঁড়তে রাজি না হওয়ায় শেষে টর্চ ও মোবাইলের আলোয় তার স্ত্রী, বোন হাসিনা বেগম ও মেয়ে সীমু আক্তার মিলে রাত ১টা ২০ মিনিটে তাকে দাফন করেন। পুলিশ পাহারায় দাফন হলো, জানাজা হলো না। জেলা জামায়াত অবশ্য পরে দায় অস্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে।

Advertisement

৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর এই চিত্রই বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতা। প্রথমদিকে মুক্তিযুদ্ধকেই অস্বীকার করা হয়েছে, মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে পাঠ্যবই থেকে, স্লোগান থেকে, ম্যুরাল ভাঙা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকাশ্যে হেনস্তা করা হয়েছে, বাসা-বাড়িতে হামলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদে তালা দেওয়া হয়েছে। পিরোজপুরের ঘটনা একই ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত রূপ। যে মানুষটি ২০০৯ সালে সাহস করে মামলা করেছিলেন, যার সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালে রায় দিয়েছিল, আজ তার লাশের ওপর সেই রায়ের প্রতিশোধ নেওয়া হচ্ছে। এটা শুধু একজন ব্যক্তির অপমান নয়, ১৯৭১ সালের বিচার প্রক্রিয়ার ওপরই প্রতিশোধ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

রাষ্ট্রও এখানে সমান দায়ী এবং এই দায় আরও গভীর। মতিয়া চৌধুরী- মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুজিব বাহিনীর নেত্রী, গেজেটেড বীর মুক্তিযোদ্ধা - ২০২৪ সালের অক্টোবরে মারা গেলে তাকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল। তিনি ছিলেন সংসদ উপনেতা, তার মতো ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রশাসনের মর্জি হয়, তাহলে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধার কী হবে? গত দুই বছরে এমন বহু মুক্তিযোদ্ধা নীরবে মারা গেছেন, তাদের অনেকের কপালে জোটেনি রাষ্ট্রীয় সম্মান, জুটেছে অপমান। রাষ্ট্রীয় মর্যাদার মানদণ্ড কী? যিনি আওয়ামী লীগ করেছেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা হলেই কি তার সম্মান বাতিল হয়ে যাবে? তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কি কোনো দলের সম্পত্তি? এই প্রশ্নের উত্তর না দিলে রাষ্ট্র আর মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দূরত্ব বাড়তেই থাকবে।

একজন মুক্তিযোদ্ধার অসম্মান: তাসনিম জারার প্রশ্ন ও বিএনপির নীরবতাmanik-poshari-1

পিরোজপুরে প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নতজানু ও লজ্জাজনক। ইউএনও পরিবারকে ৫ ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখেছেন, সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে বরফ ছাড়া লাশ পড়ে ছিল, গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে ‘গোপনে’- যেন চুরি করা হচ্ছে। যারা মাইকিং করে কবর ভরাটের উসকানি দিল, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি, গ্রেপ্তার হয়নি। মানিক পশারির মেয়ের স্বামী ফারুক হোসেনের ভাষ্য– “আমরা কীভাবে দাফন করব, তার কোনো দায়িত্ব নেয়নি ইউএনও।” এই নিষ্ক্রিয়তাই জামায়াতকে উৎসাহিত করে। রাষ্ট্র যখন কবরের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তখন রাষ্ট্রের অপরিহার্যতা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। পুলিশ যখন কবর পাহারা দেয়, তখন বুঝতে হবে আইন নয়, ভয়ই এখন রাষ্ট্র চালাচ্ছে।

বিএনপি সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তা বা নিরবতার পেছনে একটি রাজনৈতিক অঙ্ক থাকতে পারে। বিএনপি ও জামায়াতের ভোটব্যাংক অনেকটাই ওভারল্যাপ করে। বিএনপি জনপ্রিয় হলে জামায়াতের ভোট কমে, জামায়াত বাড়লে বিএনপির কমে। গত ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে বিএনপি জিতেছে, কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে সংখ্যালঘুদের একচেটিয়া ভোট এবং আওয়ামী লীগের একটি অংশের নীরব সমর্থন ছাড়া তা সম্ভব হতো না। এখন সেই সমীকরণ বদলেছে। এই প্রেক্ষিতে বিএনপির কিছু ভোটার হয়তো জামায়াতের দিকে ঝুঁকেছে। এটি বিএনপির জন্য একটি অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে।

তাই বিএনপি একটি কৌশল অনুসরণ করছে– জামায়াতকে অপকর্ম করতে সুযোগ দেওয়া। মানিক পশারীর কবর ভরাটের মতো অমানবিক ঘটনায় জামায়াতের মুখোশ খুলে গেছে, তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। বিএনপি চাইছে জামায়াত নিজের কর্মে নিজেই বিতর্কিত হোক, যাতে তাদের উগ্রতা দেখে মধ্যপন্থী ভোটাররা আবার বিএনপিমুখী হয়। মুক্তিযোদ্ধার কবরকে রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি বানিয়ে বিএনপি আসলে ১৯৭১-কেই বাজি রাখছে। কারণ এই নীরবতা মানে জামায়াতকে রাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে মেনে নেওয়া। ভোটের অঙ্কে মুক্তিযুদ্ধকে বাজি রাখলে, শেষ পর্যন্ত ভোটও থাকে না, মুক্তিযুদ্ধও থাকে না।

মনে রাখতে হবে, মানিক পশারী কোনো দলের ছিলেন না, তিনি ছিলেন রাষ্ট্রের সাক্ষী। তার নিজের ছোট ভাই চান মিয়া পশারীকে দিয়ে এখন ‘অর্থের বিনিময়ে মিথ্যা সাক্ষ্য’র ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে, মেয়ে সীমু আক্তার বলছেন কবর ভরাটের কথা, আর সেই কবরের পাশে পুলিশ মোতায়েন করে রাষ্ট্র বোঝাচ্ছে আইন আছে। কিন্তু বিচার কোথায়? আজ যদি তার কবর ভরাটের বিচার না হয়, কাল আপনার-আমার বাবার কবরও নিরাপদ থাকবে না। সেদিন আর টর্চের আলোয় কবর খোঁড়ার মতো কেউ থাকবে না।

জিয়াউদ্দীন আহমেদ: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিষয়: গোপালগঞ্জজামায়াতবঙ্গবন্ধুপিরোজপুরমুক্তিযুদ্ধবীর মুক্তিযোদ্ধা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    ‘আমরা চাচ্ছি ক্লাইমেট চেঞ্জে বাংলাদেশ একটা লিডিং পজিশনে যাক’

  • ২

    পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন বারবার অশান্ত হয়?

  • ৩

    অস্ট্রেলিয়ায় খাদ্যসংকটে ৩৬ লাখ পরিবার, চাপে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও

  • ৪

    ইরান যুদ্ধ: প্রত্যেক মার্কিন পরিবারের ব্যয় বেড়েছে ২০০০ ডলার

  • ৫

    বিশ্বে নারী-পুরুষে বৈষম্য ঘুচেছে কতটা?

সম্পর্কিত
  • পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন বারবার অশান্ত হয়?

    পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন বারবার অশান্ত হয়?

    পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতাকে শুধু বিচ্ছিন্নতাবাদ, শুধু রাষ্ট্রীয় দমন, কিংবা শুধু পাহাড়ি-বাঙালি বিরোধ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর পেছনে রয়েছে ইতিহাস, ভূমির মালিকানা, জাতিগত পরিচয়, নিরাপত্তা-ভাবনা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার জটিল সংকট।

  • লুলার জয় বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক শক্তির বিজয়

    লুলার জয় বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক শক্তির বিজয়

    এই মাসের শুরুর দিকে নির্বাচনের প্রথম ধাপে লুলা পিছিয়ে পড়ার পর এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে, ফ্লাভিও বলসোনারো—যিনি ব্রাজিলের বিতর্কিত সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারোর ছেলে (যিনি ২০২২ সালে অভ্যুত্থান চেষ্টার দায়ে বর্তমানে গৃহবন্দি)—প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী হয়ে যেতে পারেন

  • একজন মুক্তিযোদ্ধার অসম্মান: তাসনিম জারার প্রশ্ন ও বিএনপির নীরবতা

    একজন মুক্তিযোদ্ধার অসম্মান: তাসনিম জারার প্রশ্ন ও বিএনপির নীরবতা

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে দাফন করার লোক পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে রাতের অন্ধকারে তার বোন ও মেয়ে কবর খোঁড়ার কাজটি করছেন মুঠোফোনের আলোয়।

  • সাদা ছড়ি হাতে, পথটা কি নিরাপদ?

    সাদা ছড়ি হাতে, পথটা কি নিরাপদ?

    একদিন রিকশায় করে বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি নামলাম। আমার বাস ধরতে হবে। কিন্তু রিকশাচালক আমাকে এমন এক জায়গায় নামিয়ে দিলেন, যেখান থেকে ঠিক কোন দিকে গেলে বাসস্ট্যান্ড পাব, বুঝতে পারছিলাম না। হাতে আমার সাদা ছড়ি।