Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা
৯ ডিসেম্বর, ১৯৭১

বন্ধ হয় পাকিস্তানের শেষ সুযোগ

ফজলে রাব্বি

ফজলে রাব্বি

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১: ০৪
বন্ধ হয় পাকিস্তানের শেষ সুযোগ

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম তার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা একাত্তরের দিনগুলিতে ৯ ডিসেম্বরে লিখেছেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধের আমাদের চেনাজানা প্রায় সবাই ব্যাঙ্ক থেকে টাকা উঠিয়ে রাখছে। আর ন্যাশনাল ডিফেন্স সার্টিফিকেট ব্যাঙ্কে জমা রেখে তার বদলে নগদ টাকা ‘ধার’ নিচ্ছে। সবাই বলছে, কখন কি হয়, শেষে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতে পারি কি না। ব্যাটাদের দিন তো ঘনিয়ে এল। হয়তো বা যাবার আগে ব্যাঙ্কের সব টাকাও জ্বালিয়ে দিতে পারে, প্লেনে করে ওদিকে নিয়েও যেতে পারে। তার চেয়ে যতটা পারা যায় নগদ টাকা কাছে থাকুক।”

Advertisement
Advertisement
Advertisement

জাহানারা ইমামের মতো লক্ষ-কোটি বাঙালি যেমন বুঝতে পারছিলেন বিজয়ের দিন ঘনিয়ে আসছে, তেমনি পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পাকিস্তান ও দেশটির মিত্ররা। এদিন, যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদে আরও একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উত্থাপন করে, কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন তা তৃতীয়বারের মতো ভেটো প্রদান করে তা নাকচ করে দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক আইনগত পথে যুদ্ধ থামানোর পাকিস্তানের শেষ সুযোগটিও বন্ধ হয়ে যায়।

পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পালিয়ে ১৫০ সেনা মুক্তিবাহিনীতেfreedom fighter

বিজয় প্রায় নিশ্চিত বুঝতে পেরে কাজের গতি বেড়ে যায় বাংলাদেশ সরকারের। মুজিবনগরের এদিন সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মুক্ত এলাকায় বেসামরিক প্রশাসনের কার্যক্রম শুরু এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশে জনগণের হাতে ধরা পড়া পাকিস্তানি সেনাদের মুক্তিবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য এদিন বাংলাদেশ সরকার নির্দেশ দেয়। নির্দেশে বলা হয়, ধৃত পাকিস্তানিদের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি দাবি করা হবে এবং পাকিস্তান থেকে পাঁচ লাখ বাঙালিকে নিরাপদে স্বদেশে ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশ সরকার এদিন সেনানিবাস বাদে মুক্ত কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেসামরিক প্রশাসনব্যবস্থা চালু করে। ৯ মাস পর সেখানে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসে। কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যারা পাকিস্তানি বেয়নেটের মুখে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। পুলিশের দায়িত্ব নেয় মুক্তিবাহিনী।

দিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মিশন। বাংলাদেশের পতাকা তুলে উদ্বোধন করেন মিশনপ্রধান হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ভারতকে কৃতজ্ঞতা জানান।

এদিকে, বাংলাদেশ থেকে বিদেশিদের অপসারণের জন্য ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে বিদেশি বিমান নির্বিঘ্নে অবতরণের সুবিধা দিতে ভারত সম্মত হয়। এ জন্য ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দরে কোনো আক্রমণ না চালাতে ভারতীয় বিমানবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আবারও সোভিয়েত ভেটো, রণাঙ্গনে কোনঠাসা পাকিস্তানjessore_freedom-fighter

পাকিস্তানি বাহিনীর উপর আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়াতে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ সামরিক কমান্ড গঠন করা হয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রণকৌশল ঠিক করতে কয়েক দিন আলাপ-আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে এই সামরিক যুদ্ধ কমান্ড গঠন করা হয়। ভারতের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং বাংলাদেশের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ঘোষণায় আরও বলা হয়, মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী একযোগে কাজ করবে। পরস্পরকে সহযোগিতা করবে। দায়িত্ব থাকবে ভারতীয় বাহিনীর কমান্ডে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশের সশস্ত্র স্বাধীনতাযুদ্ধের চূড়ান্ত লড়াই শুরু হয়ে গেছে। চারদিক থেকে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর সমন্বয়ে গড়া যৌথ বাহিনী ঢাকার দিকে এগোতে থাকে। একটি দল ঢুকছে আশুগঞ্জ দিয়ে ভৈরব বাজার হয়ে। আশুগঞ্জে যুদ্ধে নতি স্বীকার করে মেঘনার বিরাট রেলসেতু ভেঙে দিয়ে পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে যায়। আরেকটা দল এগোয় দাউদকান্দির দিক দিয়ে। সেখান থেকেও পাকিস্তানি বাহিনী পালিয়ে যায়। উত্তর দিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে যায় জামালপুর হয়ে। পশ্চিমে যৌথ বাহিনী মধুমতির তীরে। সেটি পেরোলেই পদ্মা। কুষ্টিয়ার দিক থেকে আরেকটি বাহিনী এগোয় গোয়ালন্দ ঘাটের দিকে। চূড়ান্ত লড়াইয়ে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা মিত্রবাহিনীর সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী। এমন অবস্থাতেই ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাদের উদ্দেশে বলেন, ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাঁচতে চাইলে তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

তথ্যসূত্র—

  • বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১, এইচ. টি. ইমাম
  • একাত্তরের দিনগুলি, জাহানারা ইমাম
  • একাত্তরের দিনপঞ্জি, রাশেদুর রহমান, সাজ্জাদ শরিফ
  • মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ
বিষয়: পাকিস্তানমুক্তিযোদ্ধাবাংলাদেশমুক্তিযুদ্ধভারত
সর্বশেষ
  • ১

    যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণে অটোরিকশাচালক আহত

  • ২

    গুলশানের মিছিল থেকে ওসির অডিও: আ.লীগকে নিয়ে বিএনপির ভাবনা কী?

  • ৩

    চীনের টেরাকোটা সেনাবাহিনী কাকে রক্ষা করছে?

  • ৪

    সায়দাবাদে চলন্ত বাস থেকে পড়ে প্রাণ গেল হেলপারের

  • ৫

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে বিডিআর কল্যাণ পরিষদের আলটিমেটাম

সম্পর্কিত
  • ইরানের উত্থান ঠেকানোর উপায় নেই

    ইরানের উত্থান ঠেকানোর উপায় নেই

    চীনের বিপ্লবোত্তর ইতিহাস বিশ্বের জন্য অত্যন্ত শিক্ষাগ্রহণের মতো একটি বিষয়। এটি আমাদের দেখায় কীভাবে একটি বিপ্লবোত্তর রাষ্ট্র নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করে বৈশ্বিক বাণিজ্য, অর্থায়ন ও কূটনীতির মূলধারায় পুনর্বাসিত হতে পারে এবং নিজেদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করতে পারে।

  • শিক্ষা দিবস: ৬৪ বছর পরও কেন বৈষম্যের পাঠ শেষ হলো না?

    শিক্ষা দিবস: ৬৪ বছর পরও কেন বৈষম্যের পাঠ শেষ হলো না?

    ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দেশের তৎকালীন ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমেছিল একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে রেখে। সেটি হলো, শিক্ষা কি রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার, নাকি সামর্থ্যবান মানুষের ক্রয়ক্ষমতার পণ্য? পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক ও শিক্ষা সংকোচনমূলক নীতির বিরুদ্ধে সেই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন মোস্তফা

  • ছাগল নিয়ে শঠতা

    ছাগল নিয়ে শঠতা

    কাঁঠালগাছে দেশটা ভরে গেলে এই দেশ ভরে যাবে ছাগলে—এ রকম একটা ভাবনা কি আমাদের মনে সঙ্গোপনে ছিল? হতেও পারে। তা না হলে দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পর ছাগল এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে কেন?

  • দ্বিজাতিতত্ত্বের দেশে জিন্নাহই তো জাতীয় বীর!

    দ্বিজাতিতত্ত্বের দেশে জিন্নাহই তো জাতীয় বীর!

    দেশের গরিষ্ঠসংখ্যক রাজনীতিক ও রাজনৈতিক দলের মনোজগতে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভূত চেপে বসেছে, সেখানে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবিই যে প্রাধান্য পাবে, তাতে হতবাক হওয়ার কিছু নেই।