Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের আচরণেই বোঝা যাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

রোয়ান হামফ্রিস

রোয়ান হামফ্রিস

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫: ৩৬
গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের আচরণেই বোঝা যাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর আগামী সপ্তাহে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের ফলাফল দেশটির সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। ১০ কোটি বেশি ভোটারের এই নির্বাচন ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হতে চলেছে। নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটিকে কর্মকর্তারা শতাব্দীর সেরা নির্বাচন বলে অভিহিত করছেন।

Advertisement

নির্বাচনের আগে, চলাকালীন এবং পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কেমন আচরণ করা হয়, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে কাজ করবে। একটি অবাধ ও স্বাধীন গণমাধ্যম জনগণের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংবাদপত্রের ওপর হামলার উদ্বেগজনক বৃদ্ধি ভিন্ন কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের ওপর রক্তক্ষয়ী দমনের পর হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এর তিন দিন পর ইউনূস একটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এর পরিবর্তে, তিনি অনেকটা হাসিনা সরকারের মতোই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দমনের নীতিই অব্যাহত রেখেছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: বাসস
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: বাসস

ইউনূসের শাসনামলে শত শত সাংবাদিককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে কেবল হাসিনা সরকারকে সমর্থনের সন্দেহে। সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক ও অনলাইন হামলাও বাড়ছে, যার প্রধান কারণ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের তদন্ত এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করার ক্ষেত্রে সরকারের অনীহা।

নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, হামলার ধরন আরও ভয়াবহ হচ্ছে। ২০২৫ সালের আগস্টে, ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর স্থানীয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে একটি গ্যাং হামলার ভিডিও করার অপরাধে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। কয়েক সপ্তাহ পরে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে একটি গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেওয়ার পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করা হয়।

গত ডিসেম্বরে, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি সংবাদপত্র ‘ডেইলি স্টার’ এবং ‘প্রথম আলো’র ঢাকা অফিসে একটি সহিংস জনতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে, যার ফলে সাংবাদিকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভেতরে আটকা পড়ে থাকেন। এই ঘটনার পর আয়োজিত এক সম্মেলনে দেশের শীর্ষ সম্পাদকরা অন্তর্বর্তী সরকারকে  বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় রাখার জন্য দায়ী করেন।

ডেইলি স্টার ভবনের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। ছবি: চরচা
ডেইলি স্টার ভবনের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। ছবি: চরচা

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত আইরিন খান সতর্ক করেছেন যে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করতে সরকারের ব্যর্থতা ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের আগে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচনের সময় সাংবাদিকরা অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেন। তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং অনিয়মগুলো নথিভুক্ত করেন। তারা একটি সচেতন নাগরিক সমাজ গঠনেও অবদান রাখেন। অনলাইনে যখন এআই-চালিত অপপ্রচার  ছড়িয়ে পড়ছে, তখন বাংলাদেশি ভোটাররা তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাংবাদিকদের নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবেন।

তবুও, জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, নির্বাচনের সময়টি সাংবাদিকদের জন্য উচ্চ ঝুঁকির সময়। আগামী সপ্তাহে বিশ্ব কেবল বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফলের দিকেই নয়, বরং নির্বাচনটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে সেদিকেও নজর রাখবে।

‘ডিজিটালি রাইট’-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন সাংবাদিকের মধ্যে ৯ জনই ভয় পাচ্ছেন যে আগামী সপ্তাহের নির্বাচন কভার করতে গিয়ে তারা শারীরিক হামলার শিকার হতে পারেন। একটি স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থার মতে, অন্তত ১৬ জন সাংবাদিক এরইমধ্যে শারীরিক হামলা বা পেশাগত কাজে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন।

ইউনূস যদি সত্যিই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন, তবে তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্বাধীন সাংবাদিকদের নির্ভয়ে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। প্রধান রাজনৈতিক অনুষ্ঠান, অস্থিরতা এবং সংঘাতের সময় সাংবাদিকদের সাথে করা আচরণ প্রায়ই একটি দেশ কোন দিকে যাচ্ছে তার নির্ভরযোগ্য ইঙ্গিত দেয়। সাধারণত যেসব দেশে গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ ঘটে, সেখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হামলা বৃহত্তর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পূর্বসূরী হিসেবে কাজ করে।

একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম সব শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি এবং ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা কবচ। অন্যান্য স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের সাথে মিলে গণমাধ্যম চেক-অ্যান্ড-ব্যালেন্স ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ হিসেবে কাজ করে, যা কার্যকর গণতন্ত্র ও মুক্ত সমাজের প্রাণকেন্দ্র।

আগামী সপ্তাহে বিদায়ী সরকার এবং নতুন সরকার উভয়েরই সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে একটি অবাধ ও স্বাধীন সংবাদপত্রের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শনের। তারা এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নতুন পথ প্রশস্ত করবে কিনা, তার ওপর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।

লেখক: আমেরিকাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউটের গ্লোবাল অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা

বিষয়: বাংলাদেশশেখ হাসিনানির্বাচনআওয়ামী লীগভোটঅন্তর্বর্তী সরকার
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ বাংলাদেশি আহত

  • ২

    সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলা, টার্মিনালে আগুন

  • ৩

    রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের, বিস্মিত জেলেনস্কি

  • ৪

    ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

  • ৫

    সদস্যদের রাতে একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে যা বলছে খুলনা পুলিশ

সম্পর্কিত
  • দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    তরুণদের ক্ষেপিয়ে কোনো দেশের শাসকেরা যে টিকতে পারেন না, সেটা নিকট অতীতে বাংলাদেশ ও নেপাল প্রমাণ করেছে।

  • ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    সরকার ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব এবং নেপাল ও বাংলাদেশে কথিত বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে এই আন্দোলনকে বিদেশি শক্তির কারসাজি হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই, যারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাদের কাছেই জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের গভীরতা স্পষ্ট ছিল।

  • সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    দু বছর পর যখন এ বেতন স্কেল পুরো কার্যকর হবে তখন মুদ্রাস্ফীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা দেখার বিষয়। এর মাঝে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো ছাড়া হয়তো উপায়ও ছিল না। তবে এর ফলে বাড়বে সকল ধরনের পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়সহ ভোগ্যপণ্যের দাম।

  • ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

    ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

    ২০২৪-এর পর থেকে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক শব্দটা আমরা বেশি শুনছি। এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং শিডিউলড কাস্টের ব্যাপারে, নিম্নবর্গের ব্যাপারে অন্তর্ভুক্তিমূলকের দশা কিন্তু খুবই খারাপ।