পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ আলমের ওপর ছিনতাইকারীদের হামলার পর জারি করা সতর্কতামূলক নির্দেশনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে খুলনা জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তর। পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, নির্দেশনামূলক চিঠিটি সম্পূর্ণভাবে সদস্যদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছিল; এর মাধ্যমে নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত করা বা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক বার্তা দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
আজ রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেবল পুলিশ সদস্যদের সতর্ক ও সচেতন করার জন্য জারি করা অভ্যন্তরীণ আদেশটি জনসমক্ষে প্রকাশিত হওয়ায় কিছু বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের অপতথ্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভ্যন্তরীণ এই আদেশ বাইরে প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারো দায়িত্বহীনতা বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ছিল কি না, তা অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, খুলনা জেলা পুলিশ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা ভুল বোঝাবুঝিতে দমে না গিয়ে দৃঢ় মনোবল ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রূপসা ফেরি পার হয়ে রিকশায় নগরীর সিমেট্রি রোডের পুলিশ ক্লাবে ফেরার পথে খানজাহান আলী রোডে কলেজিয়েট স্কুলের সামনে ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. শাহ আলম। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও বিশেষ করে গভীর রাতে সাদা পোশাকে চলাচলের বিষয়ে সতর্ক করার লক্ষ্যে শুক্রবার রাতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ওই আন্তঃবিভাগীয় অফিস আদেশটি জারি করা হয়েছিল।