Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশেষ প্রতিবেদন

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় কারাগারে, ৫ আগস্টের পর বেরিয়ে ফের বোমার কারবার

চরচা প্রতিবেদক

চরচা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২: ৪৪
জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় কারাগারে, ৫ আগস্টের পর বেরিয়ে ফের বোমার কারবার

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে একটি গোষ্ঠী জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে সাতজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে প্রধান সন্দেহভাজন এখনো পলাতক। প্রধান সন্দেহভাজনসহ জড়িতদের মধ্যে চারজনই জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে ছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর মুক্তি পান।

Advertisement

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের পর তদন্তে উঠে এসেছে এমন তথ্যই। শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে গ্রেপ্তার সাতজন সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ’ (জেএমজেবি)-এর সমর্থক। তারা বিভিন্ন ধরনের বোমা তৈরি করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার পরিকল্পনা করছিল।

গত ২৬ ডিসেম্বর সকালে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর অভিযান চালিয়ে একটি ভবন থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক রয়েছেন মূল সন্দেহভাজন শেখ আল-আমিন।

এ ঘটনার পর দিন পুলিশ বাদি হয়ে মূল অভিযুক্ত শেখ আল আমিন (৩২) এবং গ্রেপ্তার শাহিন ওরফে আবু বকর ওরফে মূসা ওরফে ডিবা সুলতান (৩২), মো. আমিনুর ওরফে দর্জি আমিন (৫০), মো. শাফিয়ার রহমান ফকির (৩৬), আছিয়া বেগম (২৮), ইয়াসমিন আক্তার (২১) ও আসমানী খাতুন ওরফে আসমার (৩২) নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। এ ছাড়া র‌্যাবের অভিযানে আহসান উল্লাহ নামে আরেক সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
South Keraniganj (5)
South Keraniganj (5)

পুলিশ বলছে, পলাতক আসামি শেখ আল আমিনের বিরুদ্ধে মোট ৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে ছয়টি, যার পাঁচটিই আগের। শেষোক্ত মামলাগুলো মূলত জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের মামলা। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে মারামারি এবং নারী ও শিশু ধর্ষণের অভিযোগে আরও দুটি মামলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার পারভীনের মালিকানাধীন একতলা ভবনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ভবনের উত্তর পাশে থাকা ‘উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র দুটি কক্ষের দেয়াল ও বাথরুমের ফলস ছাদ ভেঙে পড়ে। বিস্ফোরণে ভবনের ভেতরে থাকা শেখ আল-আমিনের দুই ছেলে উমায়ের (১০) ও আব্দুর রহমান (২) গুরুতর আহত হয়। তাদের মাথা, চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।

ঘটনার পর আহত শিশুদের প্রথমে স্থানীয় আদ-দ্বীন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সন্তানেরা গুরুতর আহত হলেও ঢামেক হাসপাতালের বহিঃবিভাগে চিকিৎসা করিয়ে আল-আমিন ও তার স্ত্রী দ্রুত পালিয়ে যান।

মবের কবলে দেশ: ৪ বছরে ১৫০ মৃত্যু, এক বছরেই ১৮৪!mob lyncing 2

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, পলাতক আসামি শেখ আল-আমিন ২০২২ সাল থেকে তার স্ত্রীর বড় ভাই হারুনের মাধ্যমে ওই ভবনের চারটি কক্ষ ভাড়া নেন। একটি কক্ষে পরিবার নিয়ে বসবাস করলেও বাকি তিনটি কক্ষে ‘উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, এই মাদ্রাসার আড়ালেই চলছিল বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির কাজ।

বিস্ফোরণের পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ, অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম, র‍্যাব ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। ২৭ ডিসেম্বর আল-আমিনের ভাড়া বাসা তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, অভিযানে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৯টি তাজা ককটেল, একটি আইইডি সদৃশ গোলাকার বোমা, ৫টি ইলেকট্রনিক বোমা সদৃশ বস্তু, দুটি শর্টগানের কার্তুজ, ৫০০ গ্রাম লোহার বল, শর্ট সার্কিট ডিভাইস ও তারকাটা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ৭টি জারে ২১০ লিটার এবং আরও ২টি জারে ৬০ লিটার হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, ৩৮ লিটার নাইট্রিক অ্যাসিড, ১ লিটার অ্যাসিটোন, ২৫ কেজি সাদা রঙের পাউডার, বিভিন্ন রঙের ১২ লিটার তরল পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি লাল রঙের কর্কযুক্ত কনটেইনারে ‘WACKER’ লেখা ১৫ লিটার তরল পদার্থ এবং আরও দুই কেজি সাদা পাউডার পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে ১৭টি ‘জিহাদি’ বইও উদ্ধার করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জের সেই মাদ্রাসা থেকে ৪০০ লিটার রাসায়নিক উদ্ধারcamical

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জহুরুল ইসলাম চরচাকে বলেন, “মূল সন্দেহভাজন শেখ আল আমিনের নামে মোট ৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে। এই ছয় মামলার মধ্যে ৫টি মামলাই আগে থেকে রুজু ছিল। তিনি তিন বছর ধরে কারাগারে ছিলেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে শাহিন ওরফে আবু বকর ওরফে মূসা ওরফে ডিবা সুলতান, মো. শাফিয়ার রহমান ফকির ও আসমানী খাতুন ওরফে আসমার নামেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছিল। তারাও কারাগারে ছিলেন। শেখ আল আমিনসহ এ চারজনই ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পান।”

ঘটনার পরদিন ২৭ ডিসেম্বর হাসনাবাদ হাউজিং ও বাসাবো এলাকা থেকে গ্রেপ্তারকৃত তিন নারীকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাদের কাছ থেকেই জেএমজেবি সংশ্লিষ্টতার স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গতকাল রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. জহুরুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে জানান, “গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের উদ্দেশ্য ছিল ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক দ্রব্যাদি ব্যবহার করে ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে একাধিক মন্দিরে হামলা চালানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকের হুমকিতে ফেলা। একই সঙ্গে তারা বিচ্ছিন্নভাবে সমবেত হয়ে নাশকতা সৃষ্টি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পরিকল্পনা করেছিল। সংগঠনের সদস্যদের উসকানি ও উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে তারা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। এর পাশাপাশি ইসলামী হুকুমতের নামে উগ্র শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাধারণ ধর্মভীরু মানুষকে সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদেরকে জিহাদি কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।”

রোববার গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তিন পুরুষ আসামিকে সাত দিন করে এবং তিন নারী আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আজ সোমবার অপর আসামি আহসান উল্লাহর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম চরচাকে বলেন, “উদ্ধারকৃত কেমিক্যাল দিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরক তৈরি করা সম্ভব। এসব উপাদান পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষে ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।”

বিষয়: মামলাঢাকাপুলিশজঙ্গিআইন–শৃঙ্খলাজঙ্গি হামলার‍্যাব
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার অনুরোধ আইএসপিআরের

  • ২

    ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান

  • ৩

    যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুক হামলায় নিহত ৯

  • ৪

    ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

  • ৫

    রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হামলায় কয়েকজন আহত, কার্যক্রম বন্ধ

সম্পর্কিত
  • দেশীয় ব্যবস্থাপনায় লাভজনক এনসিটি, তবু কেন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা?

    দেশীয় ব্যবস্থাপনায় লাভজনক এনসিটি, তবু কেন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা?

    চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক মানের এই অপারেটরের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালিত হলে বাড়বে দক্ষতা, কমবে জাহাজের অবস্থানকাল এবং আয় বাড়বে বন্দরের।

  • বার বার হয় দাম নির্ধারণ, তবু এলপি গ্যাস মেলে না কেন

    বার বার হয় দাম নির্ধারণ, তবু এলপি গ্যাস মেলে না কেন

    রাজধানীর দোকানে দোকানে ঘুরে এলপি গ্যাস পাচ্ছেন না ক্রেতারা। কোনো দোকানে পাওয়া গেলে তার জন্য গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে দুই হাজার ৪০০ টাকা। সরকার নির্ধারিত দাম এক হাজার ৮৩৭ টাকা। অভিযোগ ছিল, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে বিক্রি করা হয় এলপি গ্যাস। যদিও তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, স

  • গবেষণার নতুন নিয়মে আপত্তি কেন শিক্ষকদের?

    গবেষণার নতুন নিয়মে আপত্তি কেন শিক্ষকদের?

    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চলতি অর্থ-বছরের বাজেটে গবেষণায় কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। গবেষণায় বরাদ্দে নতুন নিয়ম করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এখন থেকে ইউজিসি গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা করে তহবিল দেবে।

  • ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় লাভ আসলে কেমন? নিয়ন্ত্রণ কার?

    ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় লাভ আসলে কেমন? নিয়ন্ত্রণ কার?

    রাজধানীর গলি থেকে আবাসিক সড়ক, বাজার, এমনকি প্রধান সড়কও এখন ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে। ‘অটোরিকশা’ নামেই বেশি পরিচিত এই রিকশাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিশাল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।