Advertisement Banner

বহিষ্কৃতরা ফিরতে চান, দ্বিধায় বিএনপি?

বহিষ্কৃতরা ফিরতে চান, দ্বিধায় বিএনপি?
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ছবি: বাসস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির কঠোর সাংগঠনিক অবস্থানের কারণে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন অন্তত ১৯০ জন নেতা। তাদের অপরাধ ছিল–দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া।

নির্বাচনে জিতে সরকার গঠনের পর চার মাস পেরিয়েছে। বদলেছে রাজনৈতিক বাস্তবতা। দলের বাইরে থাকা ওই বহিষ্কৃত নেতাদের বড় একটি অংশ আবারও পুরনো ঠিকানায় ফিরতে চাইছেন। কেউ কেউ আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন, কেউ যোগাযোগ রাখছেন দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যাদের এক সময় দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল তাদের কি ফেরাবে বিএনপি?

বহিষ্কারের পেছনের গল্প

বিএনপির দপ্তর থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সাংগঠনিক অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে প্রায় সাড়ে চার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ২ হাজার ৬০০-এর বেশি নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফায় আরও দুই শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ১৯০ জন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। অনেকেই কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন।

দলের একাধিক সূত্র বলছে, মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর শুরুতে ১১৭টি আসনে মোট ১৯০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও একদল নেতা ভোটের মাঠ থেকে সরেননি। এরপরই আসে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত। এমনকি তাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সারা দেশের সহস্রাধিক নেতা-কর্মীকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সাতজনের জয়, বাকিদের ভরাডুবি

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের অধিকাংশই নির্বাচনে হেরে যান। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা ৭৮টি আসনের মধ্যে ২১টি আসনে জয় পান জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। আর বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়ী হন সাতটি আসনে।

বিজয়ী সংসদ সদস্যদের বেশির ভাগই এখন দলে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, রুমিন ফারহানা ছাড়া বাকি ছয়জন স্বতন্ত্র এমপি যৌথভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে আবেদনও জমা দিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তাদের মধ্যে রয়েছেন টাঙ্গাইল-৩ আসনের লুৎফর রহমান খান আজাদ, ময়মনসিংহ-১ আসনের সালমান ওমর রুবেল, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এবং চাঁদপুর-৪ আসনের মো. আবদুল হান্নানসহ আরও কয়েকজন।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের একাধিকবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ। তিনি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট করে জয়ী হন। বহিষ্কারের পর থেকেই তিনি দলে ফেরার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগ রাখছেন।

ময়মনসিংহ-১ আসন থেকে নির্বাচিত সালমান ওমর রুবেল নির্বাচনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্সকে পরাজিত করেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত হলেও এখন তিনি পুনরায় দলে যুক্ত হতে চান।

শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট করায় বহিষ্কৃত হন। যদিও নির্বাচনে জিতে তিনি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রত্যাশা করছেন, শিগগিরই তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে এবং তিনি পুরোদমে বিএনপির রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জয় পান মো. আবদুল হান্নান। তিনি চরচাকে বলেন, “দলীয় আদর্শ ও রাজনীতির প্রতি আমার আজীবনের অঙ্গীকার অটুট থাকবে। আমি অবশ্যই দলে ফিরতে চাই।”

‘বিএনপিই শেষ ঠিকানা’

শুধু নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই নন, পরাজিত বিদ্রোহী প্রার্থীরাও দলে ফেরার আশা ছাড়েননি।

দলে ফিরতে চাওয়া নাটোর-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু চরচাকে বলেন, “চার দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতি করছি। পদ না থাকলেও এখনও আমি নিজেকে দলের কর্মী হিসেবেই মনে করি। বিএনপির সঙ্গে আমার নাড়ির সম্পর্ক। জীবনের ৪৩ বছর বিএনপিতে কাজ করেছি এবং দীর্ঘদিন দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেছি। আবার যখন দলের দুর্দিন আসবে, তখন বুক পেতে দেব। এখন তো দলের সুসময়; আসল-নকল কর্মী চেনা দায়। বিএনপির সঙ্গেই থাকব আমৃত্যু।”

‘সমর্থক হিসেবে’ দলের পাশে থাকার কথা তুলে ধরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং স্থায়ী কমিটির কাছে চারটি চিঠিও দিয়েছেন তিনি।

একইভাবে ঢাকা-১২ আসনের সাবেক মহানগর নেতা সাইফুল আলম নীরব কিংবা ঢাকা-১৪ আসনের এস এ সিদ্দিক সাজুর মতো নেতারাও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, বিএনপির বাইরে তাদের কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তারা দেখেন না।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ঢাকা-১২ আসনে নির্বাচন করায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরবকে বহিষ্কার করা হয়। নীরব স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে পরাজিত হন। তিনি চরচাকে বলেন, “আমি শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে চাই। দল বহিষ্কার করেছে, আবার ফিরিয়েও নেবে–সেই বিশ্বাস আছে। বিএনপির বিরুদ্ধে কেউ কিছু করলে আমরা প্রতিহত করব। প্রথম থেকে বিএনপির সঙ্গে ছিলাম, শেষ পর্যন্তও থাকব। বিএনপিই আমার শেষ ঠিকানা।”

ঢাকা-১৪ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুকে নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে বহিষ্কৃত করা হয়েছিল। অন্য দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপিই আমার শেষ ঠিকানা। আশা করি দল আমাদের সুযোগ দেবে।”

একইভাবে ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজও দলে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার ভাষ্য, দল তাদের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ভবিষ্যতে পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে তিনি আশা করেন। একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেও বিএনপির সঙ্গেই থাকতে চান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ ছাড়া বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করে বহিষ্কার হন, তাদেরকেও দলে ভেড়াতে ইতিবাচক আছে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

সংসদ নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে প্রচার চালানোর কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ দুলালকে বহিষ্কার করা হয়। তবে নির্বাচনের আগে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ধানের শীষের প্রার্থী দীপু ভূঁইয়াকে সমর্থন দেন। পরে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

দ্বিধায় বিএনপি?

তবে বহিষ্কৃতদের ফেরানো নিয়ে বিএনপির ভেতরে দ্বিধা রয়েছে। কারণ, নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে দলীয় বা জোটের প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে মনে করেন নেতারা।

দলীয় সূত্রের দাবি, অন্তত ছয়টি আসনে জোটসঙ্গী প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন এবং আরও প্রায় ১০টি আসনে ভোট বিভক্তির কারণে বিএনপির প্রার্থীরা অল্প ব্যবধানে হেরেছেন।

এ কারণেই অনেক নেতার মতে, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সহজে প্রত্যাহার করলে ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ নেতা চরচাকে বলেন, নির্বাচনের আগে কেন্দ্র থেকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। প্রকাশ্যে ও ব্যক্তিগত পর্যায়েও যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারপরও যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন, তাদের বিষয়ে হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।

তবে দলের ভেতরে আরেকটি মতও রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মতো নেতারা মনে করেন, যেসব নেতা এক বা দুই যুগ ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, মামলা-হামলা ও কারাবরণ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করা উচিত।

তাদের মতে, সতর্কবার্তা দিয়ে এবং ভবিষ্যতের জন্য শর্ত আরোপ করে অনেককে দলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

তারা বলছেন, বহিষ্কৃতদের একটি বড় অংশ স্থানীয় পর্যায়ে এখনও প্রভাবশালী এবং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির অংশ ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নীতিনির্ধারক চরচাকে বলেন, “দলের জন্য বিশেষ করে তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা উচিত। দলীয় ফোরামে এই বিষয়ে বেশির ভাগই এই মতামত দিয়েছেন, যেন অপরাধ বিবেচনায় ধাপে ধাপে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।”

কেউ ফিরতে চান, কেউ নতুন ঠিকানায়

তবে বহিষ্কৃত সব নেতা অবশ্য বিএনপিতে ফেরার অপেক্ষায় নেই। সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ইসহাক সরকার।

সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তার অভিযোগ, বিএনপির ভেতরে কোণঠাসা অবস্থার কারণে জনসেবার সুযোগ পেতেই নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নিতে হয়েছে তাকে।

দলীয় সূত্র বলছে, আরও কয়েকজন বহিষ্কৃত নেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এখনও বিএনপিতেই ফিরতে চান।

পটুয়াখালী-৩ আসনটি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য হাসান মামুন স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করায় তাকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপিতে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এখনই কিছু ভাবছি না। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছি। পরিবেশ তৈরি হলে করণীয় ঠিক করব।”

শেষ পর্যন্ত কী হবে?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা বলছেন, বহিষ্কৃতদের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।

তাদের মতে, বিএনপি এখন একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের সামনে দাঁড়িয়ে। এক দিকে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও প্রভাবশালী নেতাদের ফিরিয়ে আনার চাপ, অন্যদিকে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্ন।

ফলে বহিষ্কৃতদের সবার জন্য একসঙ্গে দরজা খোলার সম্ভাবনা কম। বরং ব্যক্তি, পদমর্যাদা, রাজনৈতিক অবদান এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের মাত্রা বিবেচনা করে ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

নির্বাচনের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও সেই সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট–দলের সুদিনে বিএনপির বাইরে থাকা বিদ্রোহী নেতাদের বড় অংশ আবারও পুরনো পতাকার নিচে ফিরতে চান। এখন অপেক্ষা শুধু হাইকমান্ডের সবুজ সংকেতের।

বিএনপির শ্রমিক সমাবেশ।
বিএনপির শ্রমিক সমাবেশ।

তবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃতদের ফেরাতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাব ইতিবাচক।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তারা নিজেদের সিদ্ধান্তেই তা করেছেন। দলের রাজনীতি করতে হলে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে। তবে তারা যদি নিজেদের ভুল স্বীকার করে আবেদন করেন, তাহলে দল বিষয়টি বিবেচনা করবে।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে দলকে ভালোবাসেন, তাদের উচিত দলীয় সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বলেন, “শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃতদের অনেকেই ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। তবে দলের বৃহত্তর স্বার্থ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কখনো কখনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিষয়টি সম্পর্কে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অবগত রয়েছে এবং যথাসময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “দলের জন্য দীর্ঘদিন অবদান রাখার পরও কখনো কখনো এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যখন কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হয়।” তিনি জানান, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আনন্দের সঙ্গে নেওয়া হয়নি, বরং কষ্ট নিয়েই দল এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভবিষ্যতে দল কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সম্পর্কিত