সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত
ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণকে কেন্দ্র করে রাজপথের দুই পুরনো মিত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দল দুটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির ভাষণ ইস্যুতে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, বিএনপি এই মুহূর্তে কোনো ধরনের সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হোক তা চায় না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারী দলের সংসদীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। বাসসের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামীকাল শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি সংসদীয় বিধি মোতাবেক স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এরপর অধিবেশন বসবে, সেই অধিবেশনে প্রথমে সভাপতিমন্ডলির প্যানেল ঘোষণা করা হবে। এরপর শোক প্রস্তাব আসবে এবং শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ অধিবেশন চলাকালীন সংসদে আইনমন্ত্রী উপস্থাপন করবেন। কার্যউপদেষ্টা কমিটিসহ বেশ কয়েকটি সংসদীয় কমিটিও গঠন করা হবে। প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক পরদিন অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৫ মার্চ অধিবেশন আরও একদিন চলার পর বিরতি হতে পারে।

অন্যদিকে, সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, তারা মনে করেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তিনি স্বৈরাচারের দোসর। বিএনপি কেন যে তাকে দিয়ে ভাষণ দেওয়াচ্ছে, তা তাদের কাছে বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে তারা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটা কাল জানা যাবে।

আজ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সভাকক্ষে বিরোধী সংসদীয় দলের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের৷

ডেপুটি স্পিকার প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, “এটুকু বলব যে, আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু সিদ্ধান্তটা কী, সেটা খোলাসা হবে তখন, যখন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।”

সম্পর্কিত