আওয়ামী লীগ রুখতে পথে থাকবে বিএনপি, এনসিপি-জামায়াত জোট
আল হেলাল শুভ
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ২২: ১০
সরকারকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজনীতির ময়দান উত্তপ্ত হতে পারে। দলটির নেতা-কর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কর্মসূচির বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্তরে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে অরাজকতা হতে পারে–এমন আলোচনা আছে কয়েক দিন ধরেই।
এই প্রেক্ষাপটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটিকে ‘রুখতে’ পথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। সরকারি দল বিএনপিও রাজপথে থাকবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও দলটির কর্মসূচি প্রতিহত করতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সারা দেশে কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অন্যদিকে সরকারকে এই কর্মসূচি রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। পাশাপাশি ওই জোটের পক্ষ থেকে ঢাকায় বড় সমাবেশ করারও কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
১১ দলের নেতারা বলছেন, সরকার আওয়ামী লীগ রুখতে সচেষ্ট হলে তারা সহযোগিতা করবে।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১২ মে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মাঠে বিচ্ছিন্ন কিছু কর্মসূচি ছাড়া তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।
চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাস করে। কিন্তু গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটি মাঠের কর্মসূচিতে ফেরার চেষ্টা করে। একই সময়ে সারা দেশে কর্মসূচি বাড়ায় দলটির সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ।
পাঁচ দিন আগে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিল থেকে চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ইতিমধ্যে দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোড়নের সৃষ্টি করেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুলিশের একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে পুলিশ জানায়, সংগঠনটি ‘‘দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনে এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারে।” এ ছাড়া ওই প্রতিবেদনে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতা-কর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সাথে সংঘর্ষ তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পুলিশ।
সারা দেশে এনসিপির কর্মসূচি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি রুখতে ইতিমধ্যেই সারা দেশে রাজপথে আলাদা কর্মসূচি দিয়েছে এনসিপি। একই সঙ্গে ঢাকায় জামায়াতের নেতৃত্ব ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচিও পালন করবে দলটি। দলটির দপ্তর সেল থেকে পাঠানো এক জরুরি নির্দেশনায়, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কর্তৃক সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে এনসিপি কর্তৃক ঘোষিত কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে দলের সকল জেলা ও মহানগর শাখাকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় নিজ নিজ জেলা শহর ও মহানগর এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের জন্য বলা হয়েছে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের সমাবেশ
অপর দিকে সংসদের বিরোধী দল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় ঢাকার বিজয়নগরে বড় ধরনের সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে। আজ সোমবার ১১ দলের বৈঠক ডেকে এমন কর্মসূচি ঘোষণা করে ওই জোট। ওই কর্মসূচি ঘোষণা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত গুম, খুন, হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয়।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “বিচারপ্রক্রিয়ায় শিথিলতার কারণে ফ্যাসিবাদের উত্থানের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, হামলার ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে ১১ দল দাঁড়ালে তাদের ওপর সরকারি দলের লোকজন হামলা চালাচ্ছে। রাজধানীর সমাবেশ থেকে হামলা, খুনের বিচার দাবি জানাবে ১১ দল।” তিনি নৃশংসতা, সরকারের ব্যর্থতা ও ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকতার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আগামীকাল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ। ছবি: বাসস
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘‘গত ১৭ বছরে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকারকে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই অধ্যায়ের অবসান ঘটলেও আমরা লক্ষ্য করছি, নতুন করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চলছে। গণহত্যার বিচার এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।”
সরকার চাইলে সহযোগিতা করবে ১১ দল
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি প্রতিরোধ করতেই ১১ দলের জনসভা কি না–জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিনী চরচাকে বলেন, ‘‘আমরা তো আমাদের কথা বলেছি, প্রতিরোধ তো করবে সরকার। রাজপথে হানাহানি করা আমাদের উদ্দেশ্য না। সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা চায়, আমরা করব।”
মামুনুল হকের দলের এই নেতা বলেন, ‘‘আমাদের দলীয় কর্মসূচি আগামীকাল নেই। যেহেতু ১১ দলের কর্মসূচি আছে, তাই আর আলাদা করে আমরা দলীয় কর্মসূচি দিইনি।”
তবে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন চরচাকে জানান, ১১ দলের জোটগত কর্মসূচি ছাড়াও মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর এবং বেলা ১১টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল হবে।
সতর্ক থাকতে বলেছে ইসলামী আন্দোলন
এদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে নির্বাচনের আগে বের হয়ে যাওয়া দল ইসলাসমী আন্দোলন আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে সবাইকে সতর্ক থাকার আহআব জানিয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে চরমোনাই পীরের দলের মহাসচিব ইউনুস আহমদ এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সেনা মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় দলটির পক্ষ থেকে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “সেনা মোতায়েন করার বিষয়টি প্রশ্ন তৈরি করেছে। উৎখাতের দুই বছর পরও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহিংসতা করার এই মাত্রার সক্ষমতা আছে কি না, তা প্রশ্নসাপেক্ষ বিষয়।”
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, “যে শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা অবস্থায় জনতার রোষে উৎখাত হয়েছে, সেই শক্তি মোকাবিলায় এখন সেনা দরকার আছে বলে মনে করি না।”
৬ জেলায় সেনা মোতায়েন
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা রুখতে ইতিমধ্যেই দেশের ছয় জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমন তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। ছবি: বাসস
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তি বাড়াতে হয়। শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, দুই-একটা জায়গায় দেখেছি। তাতে করে আমাদের মনে হয়েছে, তারা হয়তো একটা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে। এই বিবেচনায় আমরা আমাদের সমস্ত বাহিনীগুলোকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি, যা সবসময় থাকে।’’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘এর বাইরে আজ থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত আমাদের সেনা সদস্যদেরকে আবার ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার আইন মোতাবেক ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর মহানগর এবং এর বাইরে দুটি জেলায় মোতায়েন করেছি, যাতে যেকোনো রকমের অপতৎপরতা অ্যাড্রেস করা যায়।’’
ধানমন্ডিতে ১০ জন গ্রেপ্তার
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকায় ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ঢাকার দুই শতাধিক জায়গায় পুলিশের বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট বসানোর কথাও বলেছে ডিএমপি।
সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতির সময় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ধানমন্ডি থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।
বিএনপির কী কর্মসূচি
ক্ষমতাসীন বিএনপি তাদের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোকে মাঠে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছে, ছাত্রদলকে আনুষ্ঠানিকভাবে না বললেও মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন তারা প্রতিটি ক্যাম্পাসে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে অবস্থান নেয়।
ছাত্রদলের তিতুমীর কলেজ শাখার এক নেতা চরচাকে বলেন, “আমাদের মৌখিকভাবে নির্দেশনা আছে, যেন আমরা সন্ধ্যা থেকে সারা রাত যে যার ক্যাম্পাসে অবস্থান নিই। একই নির্দেশনা আগামীকালকের জন্যও।”
এদিকে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদেরও মাঠে থাকতে বলা হয়েছে। যুবদলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা চরচাকে বলেন, ‘‘সারাদেশে জেলা-থানা প্রতিটি ইউনিটে যুবদলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। যেকোনো ধরনের অরাজকতার চেষ্টা করা হলেই সেটা প্রতিহত করা হবে।”
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কর্মসূচি থাকছে কি না জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির চরচাকে বলেন, “যেহেতু সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাই তারা যদি বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাহলে সেটি প্রথমত আইনিভাবে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। তবে সাংগঠনিকভাবে আমরা তাদের প্রতিহত করব।”
নাছির উদ্দীন আরও বলেন, “গত দুই বছরে তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছে। গাজীপুরে মিছিল নিয়ে পুলিশকেও হুমকি দিচ্ছে। এমন অবস্থায় আমরা ছাত্রদল আগামীকাল থেকে আর কোনো ছাড় দেব না। তাদের বিশৃঙ্খলার পাঁয়তারা থাকলে তা শক্তভাবে প্রতিহত করব।”
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধীদলের কর্মসূচি প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সরকারি দলের কর্মীদেরও মাঠে দেখা যেত। এখন আবার সেই সংস্কৃতি ফিরে আসছে কি না- জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চরচাকে বলেন বলেন, “৫ আগস্ট আগে ও পরে এ বিষয়টি নিয়ে তো বিভাজন আছেই। সেই সময় ১৫ বছরে গুম, খুনের রাজনীতি ছিল, যারা ৫ আগস্ট বিজয়ী তারাই তো সে সময় গুম খুনের শিকার। ৫ আগস্টের পরে ধারাবাহিকতা তো থাকবেই৷”
তিনি আরও বলেন, “সরকার ও বিরোধীদল উভয়ই ৫ আগস্টের শক্তি। তারা ৫ আগস্টের আগের শক্তিকে পরাজিত করেছে। সুতরাং সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাচ্ছেন। ৫ আগস্টের বাস্তবতায় বিষয়টি (আওয়ামী লীগ আমলের সঙ্গে) আগের সঙ্গে মেলানো যাবে না।”
সরকারকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজনীতির ময়দান উত্তপ্ত হতে পারে। দলটির নেতা-কর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কর্মসূচির বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্তরে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে অরাজকতা হতে পারে–এমন আলোচনা আছে কয়েক দিন ধরেই।
এই প্রেক্ষাপটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটিকে ‘রুখতে’ পথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। সরকারি দল বিএনপিও রাজপথে থাকবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও দলটির কর্মসূচি প্রতিহত করতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সারা দেশে কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অন্যদিকে সরকারকে এই কর্মসূচি রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। পাশাপাশি ওই জোটের পক্ষ থেকে ঢাকায় বড় সমাবেশ করারও কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
১১ দলের নেতারা বলছেন, সরকার আওয়ামী লীগ রুখতে সচেষ্ট হলে তারা সহযোগিতা করবে।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১২ মে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মাঠে বিচ্ছিন্ন কিছু কর্মসূচি ছাড়া তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।
চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাস করে। কিন্তু গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটি মাঠের কর্মসূচিতে ফেরার চেষ্টা করে। একই সময়ে সারা দেশে কর্মসূচি বাড়ায় দলটির সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ।
পাঁচ দিন আগে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিল থেকে চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ইতিমধ্যে দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোড়নের সৃষ্টি করেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুলিশের একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে পুলিশ জানায়, সংগঠনটি ‘‘দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনে এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারে।” এ ছাড়া ওই প্রতিবেদনে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতা-কর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সাথে সংঘর্ষ তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পুলিশ।
সারা দেশে এনসিপির কর্মসূচি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি রুখতে ইতিমধ্যেই সারা দেশে রাজপথে আলাদা কর্মসূচি দিয়েছে এনসিপি। একই সঙ্গে ঢাকায় জামায়াতের নেতৃত্ব ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচিও পালন করবে দলটি। দলটির দপ্তর সেল থেকে পাঠানো এক জরুরি নির্দেশনায়, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কর্তৃক সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে এনসিপি কর্তৃক ঘোষিত কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে দলের সকল জেলা ও মহানগর শাখাকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় নিজ নিজ জেলা শহর ও মহানগর এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের জন্য বলা হয়েছে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের সমাবেশ
অপর দিকে সংসদের বিরোধী দল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় ঢাকার বিজয়নগরে বড় ধরনের সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে। আজ সোমবার ১১ দলের বৈঠক ডেকে এমন কর্মসূচি ঘোষণা করে ওই জোট। ওই কর্মসূচি ঘোষণা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত গুম, খুন, হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয়।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “বিচারপ্রক্রিয়ায় শিথিলতার কারণে ফ্যাসিবাদের উত্থানের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, হামলার ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে ১১ দল দাঁড়ালে তাদের ওপর সরকারি দলের লোকজন হামলা চালাচ্ছে। রাজধানীর সমাবেশ থেকে হামলা, খুনের বিচার দাবি জানাবে ১১ দল।” তিনি নৃশংসতা, সরকারের ব্যর্থতা ও ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকতার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আগামীকাল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ। ছবি: বাসস
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘‘গত ১৭ বছরে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকারকে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই অধ্যায়ের অবসান ঘটলেও আমরা লক্ষ্য করছি, নতুন করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চলছে। গণহত্যার বিচার এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।”
সরকার চাইলে সহযোগিতা করবে ১১ দল
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি প্রতিরোধ করতেই ১১ দলের জনসভা কি না–জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিনী চরচাকে বলেন, ‘‘আমরা তো আমাদের কথা বলেছি, প্রতিরোধ তো করবে সরকার। রাজপথে হানাহানি করা আমাদের উদ্দেশ্য না। সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা চায়, আমরা করব।”
মামুনুল হকের দলের এই নেতা বলেন, ‘‘আমাদের দলীয় কর্মসূচি আগামীকাল নেই। যেহেতু ১১ দলের কর্মসূচি আছে, তাই আর আলাদা করে আমরা দলীয় কর্মসূচি দিইনি।”
তবে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন চরচাকে জানান, ১১ দলের জোটগত কর্মসূচি ছাড়াও মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর এবং বেলা ১১টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল হবে।
সতর্ক থাকতে বলেছে ইসলামী আন্দোলন
এদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে নির্বাচনের আগে বের হয়ে যাওয়া দল ইসলাসমী আন্দোলন আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে সবাইকে সতর্ক থাকার আহআব জানিয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে চরমোনাই পীরের দলের মহাসচিব ইউনুস আহমদ এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সেনা মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় দলটির পক্ষ থেকে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “সেনা মোতায়েন করার বিষয়টি প্রশ্ন তৈরি করেছে। উৎখাতের দুই বছর পরও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহিংসতা করার এই মাত্রার সক্ষমতা আছে কি না, তা প্রশ্নসাপেক্ষ বিষয়।”
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, “যে শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা অবস্থায় জনতার রোষে উৎখাত হয়েছে, সেই শক্তি মোকাবিলায় এখন সেনা দরকার আছে বলে মনে করি না।”
৬ জেলায় সেনা মোতায়েন
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা রুখতে ইতিমধ্যেই দেশের ছয় জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমন তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। ছবি: বাসস
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তি বাড়াতে হয়। শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, দুই-একটা জায়গায় দেখেছি। তাতে করে আমাদের মনে হয়েছে, তারা হয়তো একটা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে। এই বিবেচনায় আমরা আমাদের সমস্ত বাহিনীগুলোকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি, যা সবসময় থাকে।’’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘এর বাইরে আজ থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত আমাদের সেনা সদস্যদেরকে আবার ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার আইন মোতাবেক ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর মহানগর এবং এর বাইরে দুটি জেলায় মোতায়েন করেছি, যাতে যেকোনো রকমের অপতৎপরতা অ্যাড্রেস করা যায়।’’
ধানমন্ডিতে ১০ জন গ্রেপ্তার
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকায় ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ঢাকার দুই শতাধিক জায়গায় পুলিশের বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট বসানোর কথাও বলেছে ডিএমপি।
সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতির সময় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ধানমন্ডি থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।
বিএনপির কী কর্মসূচি
ক্ষমতাসীন বিএনপি তাদের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোকে মাঠে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছে, ছাত্রদলকে আনুষ্ঠানিকভাবে না বললেও মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন তারা প্রতিটি ক্যাম্পাসে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে অবস্থান নেয়।
ছাত্রদলের তিতুমীর কলেজ শাখার এক নেতা চরচাকে বলেন, “আমাদের মৌখিকভাবে নির্দেশনা আছে, যেন আমরা সন্ধ্যা থেকে সারা রাত যে যার ক্যাম্পাসে অবস্থান নিই। একই নির্দেশনা আগামীকালকের জন্যও।”
এদিকে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদেরও মাঠে থাকতে বলা হয়েছে। যুবদলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা চরচাকে বলেন, ‘‘সারাদেশে জেলা-থানা প্রতিটি ইউনিটে যুবদলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। যেকোনো ধরনের অরাজকতার চেষ্টা করা হলেই সেটা প্রতিহত করা হবে।”
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কর্মসূচি থাকছে কি না জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির চরচাকে বলেন, “যেহেতু সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাই তারা যদি বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাহলে সেটি প্রথমত আইনিভাবে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। তবে সাংগঠনিকভাবে আমরা তাদের প্রতিহত করব।”
নাছির উদ্দীন আরও বলেন, “গত দুই বছরে তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছে। গাজীপুরে মিছিল নিয়ে পুলিশকেও হুমকি দিচ্ছে। এমন অবস্থায় আমরা ছাত্রদল আগামীকাল থেকে আর কোনো ছাড় দেব না। তাদের বিশৃঙ্খলার পাঁয়তারা থাকলে তা শক্তভাবে প্রতিহত করব।”
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধীদলের কর্মসূচি প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সরকারি দলের কর্মীদেরও মাঠে দেখা যেত। এখন আবার সেই সংস্কৃতি ফিরে আসছে কি না- জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চরচাকে বলেন বলেন, “৫ আগস্ট আগে ও পরে এ বিষয়টি নিয়ে তো বিভাজন আছেই। সেই সময় ১৫ বছরে গুম, খুনের রাজনীতি ছিল, যারা ৫ আগস্ট বিজয়ী তারাই তো সে সময় গুম খুনের শিকার। ৫ আগস্টের পরে ধারাবাহিকতা তো থাকবেই৷”
তিনি আরও বলেন, “সরকার ও বিরোধীদল উভয়ই ৫ আগস্টের শক্তি। তারা ৫ আগস্টের আগের শক্তিকে পরাজিত করেছে। সুতরাং সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাচ্ছেন। ৫ আগস্টের বাস্তবতায় বিষয়টি (আওয়ামী লীগ আমলের সঙ্গে) আগের সঙ্গে মেলানো যাবে না।”