ফজলে রাব্বি

রাজধানীর আমিনবাজারে নির্মাণাধীন নর্থ ঢাকা ওয়েস্ট-টু-এনার্জি পাওয়ার প্ল্যান্টে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ দুবছর পর ২০২৮ সালের আগস্টে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি মেগা প্রকল্প। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টন সলিড বর্জ্য পুড়িয়ে (ইনসিনারেশন প্রযুক্তি) সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চুক্তির প্রায় পাঁচ বছর পর কাজ শুরু করতে যাচ্ছে চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএমইসি)।
প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ বিষয়ক পরিচালক ওয়াং বিং চরচাকে বলেন, ‘‘নির্মাণকাজ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আশা করছি আগামী ২৬ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে।’’
বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ২১ দশমিক ৭৮ সেন্ট (২৬ দশমিক ৮৭ টাকা)। প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার পর টানা ২৫ বছর এখান থেকে বিদ্যুৎ কিনবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।
এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম চরচাকে বলেন, “পরিবেশবান্ধব এ প্রকল্পের থেকে পাওয়া বিদ্যুতের দাম অবশ্যই বেশি। তবে, পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখলে এটিকে গ্রহণ করা যেতে পারে। চাপটা যাবে আসলে সরকারের ওপর। প্রচলিত দামের বাইরে বাড়তি এই অংশটুকু সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে।”
সিএমইসির সঙ্গে চুক্তিতে বর্জ্য পোড়ানোর তাপমাত্রা ৮৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ধরা হলেও ২০২১ সালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় তা ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্ধারণ করা হয়েছিল। মূলত এই ফারাকের কারণেই মূল প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চুক্তির পরপরই পরিবেশ অধিদপ্তরের সাইট ক্লিয়ারেন্স পেলেও আইনি ও কারিগরি জটিলতার কারণে প্রকল্প দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল।
অবশেষে গত ১২ মে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২২ এর পরিবর্তন করে বর্জ্য পোড়ানোর তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ৮৫০ ডিগ্রি থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্ধারণ করলে আবারও প্রকল্পের কাজ শুরু করে সিএমইসি।
বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ পরিবেশ ছাড়পত্র না দেওয়ায় প্রকল্প শুরু করতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে তা নাকচ করে দিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা পরিচালক ইলিয়াস মাহমুদ। চরচাকে তিনি জানান, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসেই এই প্রকল্পের সাইট ক্লিয়ারেন্স বা অবস্থানগত ছাড়পত্র দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এরপর থেকে কাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি বছর নবায়ন করতে হবে এই সাইট ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। আগামী আগস্ট পর্যন্ত ছাড়পত্র নেওয়া আছে।
ইলিয়াস মাহমুদ আরও জানান, মূলত কাজ শেষে পরিবেশগত বিভিন্ন মান পূরণ করার সাপেক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তরের চূড়ান্ত ছাড়পত্র নিতে হয়।

১ হাজার ডিগ্রি থেকে কমিয়ে ৮৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস করায় পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না, জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বায়ুদূষণ নীতিমালায় মানদণ্ড পরিবর্তন করাকে এক ধরনের ‘প্রতারণা’ ও ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি প্রকৃত এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) পরিসংখ্যান মেনে চলার মাধ্যমে যথাযথ কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
একই প্রশ্নের উত্তরে সিএমইসির পরিচালক ওয়াং বিং চরচার কাছে দাবি করেন, “আমরা ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ডের চেয়েও উচ্চমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, ফলে পরিবেশগত কোনো ঝুঁকি নেই। আমরা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ৮৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রযুক্তি ব্যবহার করব। বর্জ্য পোড়ানোর পর যে ছাই তৈরি হবে, তা দিয়ে ইট তৈরি করা যাবে অথবা সিমেন্ট কারখানায় ব্যবহারের জন্য দেওয়া হবে। ফলে দূষণ প্রায় শূন্যের কোঠায় থাকবে।”
তবে শহরের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন দেশে যে ধরনের ইতিবাচক প্রভাব রাখে তা ঢাকায় ‘খুব একটা রাখবে না’ বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশ বিশ্লেষকরা। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই শহর পরিষ্কার হয়ে যাবে—এই ধারণার সাথে একমত নন স্থপতি ইকবাল হাবিব । তিনি বলেন, “উৎস থেকে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত এই ধরনের প্রকল্প থেকে বড় কোনো সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়।”
ইকবাল হাবিব বলেন, “পাড়ায় পাড়ায় রাজনৈতিক কর্মী বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাধ্যমে যে ময়লা বাণিজ্য চলে, সেই মানসিকতা থেকে সরে না আসা পর্যন্ত শহরের পরিবেশের কোনো স্থায়ী উন্নতি হবে না।’’
‘‘তবে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প হয়ত ল্যান্ডফিল ক্রমাগত বেড়ে যাওয়া থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু এটি পুরো শহরের পরিবেশগত বিপর্যয়ের সমাধান নয়। ল্যান্ডফিল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দূষণ ও দখলের কারণ হলেও পুরো শহর এখনো বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে এবং প্রযুক্তিগত সঠিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া এর থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।”
পরিবেশ গবেষক অধ্যাপক আইনুন নিশাত চরচাকে বলেন, আসলে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা বুঝতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নথি সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
এছাড়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দামের একটি বেঞ্চমার্ক অনুসরণ করার তাগিদ দেন এই বিশ্লেষক।

প্রকল্প শুরু করতে পাঁচ বছর লাগল কেন?
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সিএমইসির সাথে চুক্তি এবং বায়ু দূষণ নীতিমালা হয়। এখানেই ঘটে বিপত্তি। সিএমসি ৮৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। কিন্তু বায়ু দূষণ নীতিমালায় তা ন্যূনতম ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস করা হয়েছিল। এ বিষয়ে দেন-দরবার ও বিশ্লেষণের মাঝেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখে। অন্যদিকে, সিটি করপোরেশনের জমি অধিগ্রহণ এবং তা প্রস্তুত করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করতেই লেগে যায় পাঁচ বছর। আর এরই মধ্যে প্রকল্পের খরচ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
চুক্তির সময় প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৮৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা। মেয়াদকাল ২০২৩ সালে জুন পর্যন্ত ধরা হলেও পরে তা বাড়ানো হয়। দুই দফায় ব্যয় বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা।
প্রকল্পের আওতায় ৮০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ৩০ একর জায়গায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। অবশিষ্ট ৫০ একরে মেডিকেল ও ই-বর্জ্যের জন্য ল্যান্ডফিল করা হবে। প্রকল্পের আওতায় তিনটি হাইড্রোলিক এক্সকেভেটর, ছয়টি চেইন ড্রোজার, দুটি লং আর্ম এক্সকেভেটর কেনা হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, সিএমইসিকে দৈনিক ৩ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনকে সরবরাহ করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হলে সিএমইসিকে জরিমানা দিতে হবে।

রাজধানীর আমিনবাজারে নির্মাণাধীন নর্থ ঢাকা ওয়েস্ট-টু-এনার্জি পাওয়ার প্ল্যান্টে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ দুবছর পর ২০২৮ সালের আগস্টে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি মেগা প্রকল্প। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টন সলিড বর্জ্য পুড়িয়ে (ইনসিনারেশন প্রযুক্তি) সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চুক্তির প্রায় পাঁচ বছর পর কাজ শুরু করতে যাচ্ছে চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএমইসি)।
প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ বিষয়ক পরিচালক ওয়াং বিং চরচাকে বলেন, ‘‘নির্মাণকাজ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আশা করছি আগামী ২৬ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে।’’
বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ২১ দশমিক ৭৮ সেন্ট (২৬ দশমিক ৮৭ টাকা)। প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার পর টানা ২৫ বছর এখান থেকে বিদ্যুৎ কিনবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।
এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম চরচাকে বলেন, “পরিবেশবান্ধব এ প্রকল্পের থেকে পাওয়া বিদ্যুতের দাম অবশ্যই বেশি। তবে, পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখলে এটিকে গ্রহণ করা যেতে পারে। চাপটা যাবে আসলে সরকারের ওপর। প্রচলিত দামের বাইরে বাড়তি এই অংশটুকু সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে।”
সিএমইসির সঙ্গে চুক্তিতে বর্জ্য পোড়ানোর তাপমাত্রা ৮৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ধরা হলেও ২০২১ সালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় তা ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্ধারণ করা হয়েছিল। মূলত এই ফারাকের কারণেই মূল প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চুক্তির পরপরই পরিবেশ অধিদপ্তরের সাইট ক্লিয়ারেন্স পেলেও আইনি ও কারিগরি জটিলতার কারণে প্রকল্প দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল।
অবশেষে গত ১২ মে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২২ এর পরিবর্তন করে বর্জ্য পোড়ানোর তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ৮৫০ ডিগ্রি থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্ধারণ করলে আবারও প্রকল্পের কাজ শুরু করে সিএমইসি।
বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ পরিবেশ ছাড়পত্র না দেওয়ায় প্রকল্প শুরু করতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে তা নাকচ করে দিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা পরিচালক ইলিয়াস মাহমুদ। চরচাকে তিনি জানান, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসেই এই প্রকল্পের সাইট ক্লিয়ারেন্স বা অবস্থানগত ছাড়পত্র দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এরপর থেকে কাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি বছর নবায়ন করতে হবে এই সাইট ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। আগামী আগস্ট পর্যন্ত ছাড়পত্র নেওয়া আছে।
ইলিয়াস মাহমুদ আরও জানান, মূলত কাজ শেষে পরিবেশগত বিভিন্ন মান পূরণ করার সাপেক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তরের চূড়ান্ত ছাড়পত্র নিতে হয়।

১ হাজার ডিগ্রি থেকে কমিয়ে ৮৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস করায় পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না, জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বায়ুদূষণ নীতিমালায় মানদণ্ড পরিবর্তন করাকে এক ধরনের ‘প্রতারণা’ ও ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি প্রকৃত এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) পরিসংখ্যান মেনে চলার মাধ্যমে যথাযথ কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
একই প্রশ্নের উত্তরে সিএমইসির পরিচালক ওয়াং বিং চরচার কাছে দাবি করেন, “আমরা ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ডের চেয়েও উচ্চমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, ফলে পরিবেশগত কোনো ঝুঁকি নেই। আমরা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ৮৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রযুক্তি ব্যবহার করব। বর্জ্য পোড়ানোর পর যে ছাই তৈরি হবে, তা দিয়ে ইট তৈরি করা যাবে অথবা সিমেন্ট কারখানায় ব্যবহারের জন্য দেওয়া হবে। ফলে দূষণ প্রায় শূন্যের কোঠায় থাকবে।”
তবে শহরের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন দেশে যে ধরনের ইতিবাচক প্রভাব রাখে তা ঢাকায় ‘খুব একটা রাখবে না’ বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশ বিশ্লেষকরা। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই শহর পরিষ্কার হয়ে যাবে—এই ধারণার সাথে একমত নন স্থপতি ইকবাল হাবিব । তিনি বলেন, “উৎস থেকে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত এই ধরনের প্রকল্প থেকে বড় কোনো সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়।”
ইকবাল হাবিব বলেন, “পাড়ায় পাড়ায় রাজনৈতিক কর্মী বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাধ্যমে যে ময়লা বাণিজ্য চলে, সেই মানসিকতা থেকে সরে না আসা পর্যন্ত শহরের পরিবেশের কোনো স্থায়ী উন্নতি হবে না।’’
‘‘তবে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প হয়ত ল্যান্ডফিল ক্রমাগত বেড়ে যাওয়া থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু এটি পুরো শহরের পরিবেশগত বিপর্যয়ের সমাধান নয়। ল্যান্ডফিল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দূষণ ও দখলের কারণ হলেও পুরো শহর এখনো বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে এবং প্রযুক্তিগত সঠিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া এর থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।”
পরিবেশ গবেষক অধ্যাপক আইনুন নিশাত চরচাকে বলেন, আসলে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা বুঝতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নথি সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
এছাড়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দামের একটি বেঞ্চমার্ক অনুসরণ করার তাগিদ দেন এই বিশ্লেষক।

প্রকল্প শুরু করতে পাঁচ বছর লাগল কেন?
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সিএমইসির সাথে চুক্তি এবং বায়ু দূষণ নীতিমালা হয়। এখানেই ঘটে বিপত্তি। সিএমসি ৮৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। কিন্তু বায়ু দূষণ নীতিমালায় তা ন্যূনতম ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস করা হয়েছিল। এ বিষয়ে দেন-দরবার ও বিশ্লেষণের মাঝেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখে। অন্যদিকে, সিটি করপোরেশনের জমি অধিগ্রহণ এবং তা প্রস্তুত করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করতেই লেগে যায় পাঁচ বছর। আর এরই মধ্যে প্রকল্পের খরচ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
চুক্তির সময় প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৮৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা। মেয়াদকাল ২০২৩ সালে জুন পর্যন্ত ধরা হলেও পরে তা বাড়ানো হয়। দুই দফায় ব্যয় বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা।
প্রকল্পের আওতায় ৮০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ৩০ একর জায়গায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। অবশিষ্ট ৫০ একরে মেডিকেল ও ই-বর্জ্যের জন্য ল্যান্ডফিল করা হবে। প্রকল্পের আওতায় তিনটি হাইড্রোলিক এক্সকেভেটর, ছয়টি চেইন ড্রোজার, দুটি লং আর্ম এক্সকেভেটর কেনা হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, সিএমইসিকে দৈনিক ৩ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনকে সরবরাহ করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হলে সিএমইসিকে জরিমানা দিতে হবে।

রাজধানীর আমিনবাজারে নির্মাণাধীন নর্থ ঢাকা ওয়েস্ট-টু-এনার্জি পাওয়ার প্ল্যান্টে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ দুবছর পর ২০২৮ সালের আগস্টে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি মেগা প্রকল্প। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টন সলিড বর্জ্য পুড়িয়ে