রাজধানীর গলি থেকে আবাসিক সড়ক, বাজার, এমনকি প্রধান সড়কও এখন ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে। ‘অটোরিকশা’ নামেই বেশি পরিচিত এই রিকশাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিশাল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।
প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে এই রিকশা ব্যবসায় আসলে কত লাভ?
চরচা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে, ওই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এত বড় যে, এতে অনেক সরকারি কর্মকর্তাও বিনিয়োগ করেছেন। আবার এমন ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করেছেন, যাদের অন্য নিয়মিত ব্যবসা রয়েছে। মালিকদের কয়েকজনের দাবি, কয়েক বছরের ব্যবধানেই ফুলে-ফেঁপে উঠেছে অনেকের ব্যবসা।
ঢাকায় ঠিক কত ব্যাটারি রিকশা চলে?
স্থানীয় সরকার বিভাগের সাম্প্রতিক ‘ই-মোবিলিটি ও ব্যাটারি সোয়াপিং সিস্টেম রোল-আউট পরিকল্পনা (ঢাকা শহর)’ নথিতে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ ধরা হয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত সরকারি গণনা নয়; পরিকল্পনা তৈরির জন্য ব্যবহৃত একটি আনুমানিক হিসাব। একই নথিতে প্রাথমিকভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ফিডার সড়কে ৪ লাখ করে মোট ৮ লাখ রিকশার অনুমোদনের প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ পরিকল্পনার হিসাব ধরলে, বর্তমান আনুমানিক সংখ্যা ও প্রাথমিক অনুমোদনের মধ্যে প্রায় ৭ লাখের ব্যবধান রয়েছে।
তবে ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকা শহরে আসলে কতগুলো চলছে, এ বিষয়টি নিয়ে মালিকরা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। প্রশ্ন উঠেছে, এত বিপুলসংখ্যক রিকশা কীভাবে রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ল, যার কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাবও নেই?
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘আরবান মোবিলিটি স্টাডি: রিকশা ইন ট্রানজিশন’ গবেষণায় ঢাকার ৩৮৪ জন চালক, ৩৯২ জন যাত্রী ও ৬৩ জন গ্যারেজ মালিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত রিকশার ৯৭ দশমিক ৪ শতাংশের নিবন্ধন নেই। গবেষণায় আরও দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত রিকশার প্রায় ৭৫ শতাংশ চালকের আগে রিকশা চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল না। যাত্রীদের ৮২ শতাংশ যাতায়াতের জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশা বেছে নেন বলে গবেষণায় উঠে আসে।
এই ব্যবসায় কেন এত আগ্রহ?
সুনিবিড় হাউজিং সোসাইটিতে অবস্থিত একটি অটোরিকশার দোকানদারের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুলিশ কিছুদিন আগে তার দোকানে রেইড দিয়ে আটটি নতুন অটোরিকশা তুলে নিয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘তার ব্যবসায় ধস নামিয়ে দিয়েছে পুলিশ। প্রতিটি অটোরিকশা এক লক্ষ দশ হাজার টাকা করে দাম ছিল।”
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কয়েক বছরের ব্যবধানে ব্যাটারিচালিত রিকশায় বিনিয়োগ করেছেন অনেকে। এদের কেউ কেউ আবার গ্যারেজে, কেউ চার্জিংকেন্দ্রে বিনিয়োগ করে ব্যবসা করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরির খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় মালিকদের এ ব্যবসায় আগ্রহ রয়েছে। ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে ব্যাটারিচালিত রিকশা কেনা যায় এবং স্থানভেদে রিকশা মালিক ‘দৈনিক জমা’ হিসেবে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত পান। অর্থাৎ, এক বছরেই রিকশা কেনার খরচের টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ থাকে। ঝালাইয়ের মান ভালো হলে একেকটি ব্যাটারিচালিত রিকশা অন্তত ৫-৬ বছর পর্যন্ত অনায়াসেই চালানো যায় বলে জানালেন গ্যারেজ মালিকদের কেউ কেউ। অর্থাৎ, বেশ লাভ হচ্ছে দেখেই নিয়মিতভাবে এই ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়ছে।
ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকের আয়–ব্যয়ের হিসাব
ঢাকায় একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় একজন চালক গড়ে দিনে ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা আয় করেন বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে মালিককে দৈনিক জমা দিতে হয় গড়ে ৪০০ টাকা। ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার খরচ ১২০-১৩০ টাকা। এর বাইরে দিনে একজন চালকের চা-নাশতা, খাবার ও অন্যান্য খরচও থাকে। সেসব বাদ দিয়েও দিনে একজন চালকের গড়ে ৭০০-৮০০ টাকা আয় হয় বলে ধারণা করা হয়।
ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিকের আয়–ব্যয়ের হিসাব
একজন রিকশা মালিক একেকটি ব্যাটারিচালিত রিকশা কিনতে ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেন। দৈনিক জমা স্থানভেদে ৪০০-৫০০ টাকা। এ ক্ষেত্রে যেহেতু সাপ্তাহিক ছুটির হিসাব কাজে আসে না, সে হিসেবে ৩০ দিনে একজন রিকশা মালিক জমা হিসেবে পান ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তবে এই আয় থেকে রিকশার ব্যাটারি, মোটর, টায়ার, ব্রেক, মেরামতে তাকে অনেক সময় টাকা খরচ করতে হতে পারে। মাঝে মধ্যে নানা কারণে রিকশা রাস্তায় নামানো না গেলে সেটাও তার ‘ক্ষতি’র খাতায় যোগ হয়।
লাভ বলেই প্রভাবশালীরাও বিনিয়োগ করছেন
রিকশা চালক অনুকূল, বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী। তিনি রাজধানীর আদাবর এলাকায় রিকশা চালান। তিনি জানালেন, তার রিকশার মালিক শেখেরটেকের ২ নম্বরের এক বাড়িওয়ালা, যার মালিকানায় তিনটি রিকশা আছে। প্রতিটি রিকশার কাছ থেকে প্রতিদিন ৪৫০ টাকা ভাড়া নেন রিকশা মালিক। এর মধ্যেই চার্জের খরচও সংযুক্ত, ফলে চালকদেরকে আলাদা চার্জের খরচ দিতে হয় না। অনুকূলের ভাষ্য, তার রিকশা মালিকের তিনটি রিকশা মিলিয়ে মাসে লাভ ৩০ হাজার টাকার মতো।
ব্যাটারিচালিত রিকশা আসলে ব্যবসা হিসেবে কেমন, এ বিষয়টি জানতে চরচা যোগাযোগ করে কয়েকজন রিকশা মালিকের সঙ্গেও। তাদের মধ্যে একজন রিকশা মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই ব্যবসা লাভজনক। এ জন্যই নিয়মিত রিকশা ব্যবসায়ীর চেয়ে এখন সাধারণ ব্যবসায়ী–যারা অন্য ব্যবসা করেন–তারাও অনেকে বিনিয়োগ করছেন। এ ছাড়াও বিনিয়োগ করেছেন সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে খোদ ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত কর্তা-ব্যক্তিও। তিনি বলেন, ‘‘অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ১০০ থেকে ২০০টি পর্যন্ত রিকশা কিনেও বিনিয়োগ করেছেন।”
ওই রিকশা মালিকের অভিযোগ, রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ ‘সাধারণ’ রিকশা মালিকের গাড়ি আটকে ডাম্পিংয়ে পাঠালেও, প্রভাবশালী বা পুলিশ সদস্যদের মালিকানাধীন বিশেষ চিহ্নযুক্ত গাড়িগুলো ছেড়ে দিচ্ছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। পরিচিত বা প্রভাবশালীদের গাড়ি নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারলেও সাধারণ মালিকদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বনটি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ওই ব্যবসায়ীর কাছে চরচা জানতে চায়, এই ব্যবসায় আসলে কেমন লাভ থাকে? তার উত্তর ছিল, “যথেষ্ট লাভজনক বলেই তো বিনিয়োগ করছেন অনেকে! প্রতিটি গাড়ি থেকে বিদ্যুৎ বিল, গ্যারেজ ও আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়েও একজন মালিকের দিনে গড়ে অন্তত ৩০০ টাকা করে আয় থাকে।”
তিনি জানান, বড় গ্যারেজগুলোতে ১০ থেকে ২০টির বেশি গাড়ি থাকে এবং এগুলো চার্জ দেওয়ার জন্য মেইন মিটার থেকে সাব-মিটারের মাধ্যমে বৈধ বৈদ্যুতিক লাইন ব্যবহার করা হয়। তবে লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বস্ত লোকবলের অভাব এবং পদে পদে পুলিশি হয়রানির কারণে সাধারণ গ্যারেজ মালিকদের জন্য এই ব্যবসা পরিচালনা করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি ওই রিকশা মালিকের। পরিচিত ও বিশ্বস্ত চালক না পেলে নিজেদের লোক দিয়েও ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন তিনি।
মালিকদের সিদ্ধান্তেই রাস্তায় নামেন রিকশা চালকেরা
রাজধানীর আদাবর-শেখেরটেক এলাকার এক রিকশা ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচাকে জানান, রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যবসা এখন রমরমা। তবে বর্তমানে তারা মালিক ও চালকেরা চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন। তার দাবি, এসব রিকশা বিদেশ থেকে বৈধভাবে আমদানি করা হচ্ছে। তবে এসব যানের কোনো রুট পারমিট বা লাইসেন্স না থাকায় রাস্তায় বের হলেই ট্রাফিক পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। গাড়ির তার কেটে দেওয়া, গাড়ি ডাম্পিং করা এবং চালকদের মারধরের প্রতিবাদে সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের কাছে লাইসেন্সের দাবিতে সমাবেশ ও আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন রিকশার মালিক ও শ্রমিকরা। তাদের দাবি, বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে রাস্তায় গাড়ি নামানোর পর সেগুলো আটকে দিলে তাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
পায়ে চালিত রিকশার ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ আর নেই
এই ব্যবসা এখন পুরনো পায়ে চালিত রিকশার ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে নেই বলে চরচাকে জানিয়েছেন রাজধানীর আদাবরের আরেক রিকশা ব্যবসায়ী শাহিন আলম। তিনি বলেন, রাজধানীতে প্যাডেল চালিত রিকশার চাহিদা কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন পুরনো রিকশা ব্যবসায়ীরা। করোনা মহামারির সময় দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় তাদের অনেকে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হন, যাদের অনেকেই লোকসানে প্যাডেল রিকশা ভাঙারিতে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। তবে বর্তমানে রিকশা খাতে বড় বড় ব্যবসায়ীদের আধিপত্য দেখা যাচ্ছে।
শাহিন আলম বলেন, “যাদের গরুর খামার রয়েছে বা যারা সুদ ও কিস্তিতে ব্যবসা করেন–এমন বিপুল পুঁজির মালিকরা এখন এই লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করে বড় বড় গ্যারেজ তৈরি করছেন, যেখানে ১০০ থেকে ২০০ পর্যন্ত রিকশা থাকছে।”
রিকশার ব্যবসার কতটা এখন নতুন পুঁজিপতিদের হাতে, তার একটা ধারণা দিলেন শাহিন আলম, “পুরনো রিকশা ব্যবসায়ীদের মূলধন ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা এখন এই ব্যবসায় কোণঠাসা, এবং একটি নির্দিষ্ট এলাকার হিসাব অনুযায়ী, বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশই এখন এই নতুন ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে।” তিনিও ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিকরা প্রতিনিয়ত ট্রাফিক পুলিশ ও প্রশাসনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
শাহিন আলমের আরেকটি অভিযোগ, গ্যারেজে গাড়ি চার্জ দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ অফিস থেকে বৈধ বাণিজ্যিক মিটার নেওয়া হলেও, ম্যাজিস্ট্রেট এসে সেগুলো রিকশার জন্য অবৈধ দাবি করে কেটে নিয়ে যাচ্ছেন এবং হাজার হাজার টাকা জরিমানা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্যারেজ মালিক চরচাকে বলেন, আমাদের এখানে মালিকের রিকশা রাখা ও চার্জ দেওয়া হয়। চালকেরা প্রতিদিন নির্দিষ্ট টাকা জমা দেন। গাড়ির মালিকের সঙ্গে আমাদের হিসাব থাকে, আর চালকেরাও সেই হিসাব অনুযায়ী গাড়ি চালান। রিকশা কখন বের হবে, কোথায় থাকবে–এসব বিষয় মূলত মালিক ও চালকের ব্যবস্থাপনার ওপরই নির্ভর করে।
রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার আরেক রিকশা মালিক জানান, তার রিকশার গ্যারেজ তুলনামূলক ছোট। তিনি প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যের গাড়িগুলো কিনেছেন। একেকটি গাড়ির জন্য প্রতিদিন চালকের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে জমা নেন। মাসে যদি ২৬ দিন নিয়মিত জমা পান, তাহলে মাসে ১০ হাজার ৪০০ টাকা আসে। কিন্তু পুরো ১০ হাজার ৪০০ টাকা লাভ নয়। গাড়ির টায়ার, মোটর, ব্রেক, লাইটসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে খরচ করতে হয়। সবচেয়ে বড় খরচ ব্যাটারিতে। ব্যাটারি নষ্ট হলে একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা লাগে। গ্যারেজে গাড়ি রাখার খরচ থাকলে সেটাও দিতে হয়।
চার্জিং পয়েন্টে আরেক ব্যবসা
ব্যাটারিচালিত রিকশায় গ্যারেজ, ব্যাটারি রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশের আলাদা বাজার তো আছেই, এর বাইরে চার্জিংকে ঘিরেও গড়ে উঠেছে চার্জিং স্টেশনের ব্যবসা। রিকশার সংখ্যা যত বাড়ছে, এসব সেবাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধিও তত বাড়ছে। সম্প্রতি যদিও রাজধানীতে অনুমোদনহীন চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।
রাজধানীর মিরপুর, বাড্ডা, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, রামপুরা, খিলগাঁও, লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচরের বিভিন্ন এলাকায় বড় গ্যারেজে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক রিকশা চার্জ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সবগুলো চার্জিং স্টেশন অবশ্য বৈধ নয়।
আগস্টে স্থানীয় সরকার বিভাগের আলোচনায় নিবন্ধন, ফিটনেস, গ্যারেজ, চার্জিং স্টেশন, উৎপাদন এবং রুট ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো একসঙ্গে আলোচনায় আসে। পরে সরকার জানায়, মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ রেখে অভ্যন্তরীণ সড়কে নিবন্ধিত ই-রিকশা চালুর কাঠামো তৈরি হচ্ছে।
গ্যারেজ মালিকের আয়–ব্যয় কী রকম
একজন গ্যারেজ মালিকের গ্যারেজে যদি ৮০টি গাড়ি থাকে, প্রতিটিতে চার্জ দেওয়ার বিপরীতে তিনি পান ১২০ টাকা করে। অর্থাৎ, দিনেই ৯৬০০ টাকা হাতে পাচ্ছেন তিনি। মাসে ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। এই অর্থ থেকে অবশ্য বিদ্যুৎ বিল, গ্যারেজের ভাড়া, কর্মচারির বেতন-বোনাস ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ দিতে হয় তাকে। এই খরচ বাদ দিয়ে বাকি অংশই গ্যারেজ মালিকের লাভ।
ডিএমপি কী বলছে?
ব্যাটারিচালিত রিকশার প্রকৃত সংখ্যা, মালিকানা ও এর বিস্তারের চিত্র নিয়ে ডিএমপির কোনো জরিপ আছে কি না, তা জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান চরচাকে জানিয়েছেন, এ নিয়ে তারা কোনো জরিপ করেননি। অর্থাৎ, এ নিয়ে তাদের কাছেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই।
তবে পুলিশের এই কর্মকর্তা সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি সার্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিলিয়ে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে (উত্তরে প্রায় ২৬০০ কিলোমিটার, দক্ষিণে প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার), যার মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ (উত্তরে ৩২৫ কিলোমিটার এবং দক্ষিণে ২৩০ কিলোমিটার) প্রধান বা মূল সড়ক। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সংকটের কথা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে ট্রাফিক পুলিশ বাকি ৯০ শতাংশ শাখা রোডে অটোরিকশার বিরুদ্ধে কোনো অভিযান চালায় না। পুলিশ বারবার অনুরোধ করলেও অটোরিকশা চালকরা এই ১০ শতাংশ প্রধান বা ভিআইপি সড়ক ছাড়তে নারাজ হওয়ায়, শৃঙ্খলা ফেরাতে বাধ্য হয়েই পুলিশকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
রাজধানীতে অটোরিকশার অবাধ বিস্তারের পেছনে বিদ্যুৎ চুরি ও অবৈধ গ্যারেজের ছড়াছড়িকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আনিছুর রহমান। তিনি জানান, ঢাকা শহরজুড়ে গড়ে ওঠা অসংখ্য অবৈধ গ্যারেজ আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে এবং সরাসরি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ‘হুকিং’-এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ চুরি করে অটোরিকশা চার্জ দিচ্ছে। এর ফলে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। নিজস্ব জনবল ও এলাকা দেখভালের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের নিজস্ব সম্পদ রক্ষায় বা তদারকিতে চরম উদাসীনতা দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, সমস্যার মূলে হাত না দিয়ে সবাই এর দায়ভার কেবল পুলিশের ওপর চাপাচ্ছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্যারেজ বা যেকোনো ব্যবসা করতে কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও, সিটি করপোরেশন কখনোই অবৈধ গ্যারেজ উচ্ছেদে অভিযান চালায় না; কিংবা ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স দিচ্ছে কি না, তা তদারকি করে না। অন্যদিকে হাজারীবাগ থেকে শুরু করে কেরানীগঞ্জে প্রায় ২০০-এর বেশি কারখানায় প্রতিদিন নতুন অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে, অথচ কেউ সেখানে গিয়ে তাদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে না বলেও দাবি তার। আনিছুর রহমান বলেন, অন্যান্য সংস্থাগুলো সমস্যার উৎস বন্ধ না করে নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে, পুলিশের একার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব নয়।
দুই সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা কী
উত্তর ও দক্ষিণ–ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বিষয়ে সরকারের নীতিমালা তৈরির আগে তাদের করণীয় কিছু নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম চরচাকে বলেন, “আমরা ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে নীতিমালার জন্য ফাইনালি অপেক্ষা করছি। মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত হয়ে নীতিমালা আসলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।” নীতিমালায় কী আছে, সে ব্যাপারে একটা ধারণা দিলেন তিনি, “যেটা আছে…ঢাকা দক্ষিণ সিটিকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হবে। এক অঞ্চলের রিকশা আরেক অঞ্চলে যেতে পারবে না। এগুলো কিছু কিছু নীতিমালায় আছে।”
ঢাকা দক্ষিণ সিটি অন্য এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সরকার নীতিমালা করে এ বিষয় চূড়ান্ত করছে। এটার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এরপর হয়তো আমরা সিদ্ধান্ত পাব।”
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিবহন বিভাগের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যে ব্যাটারি রিকশা… এগুলো তো অবৈধ!” কিন্তু এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন কী করছে, তা জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, “ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের নতুন তালিকা বা নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। সিটি করপোরেশন চাইলেই এককভাবে এ বিষয়ে কোনো কিছু করতে পারবে না।”
তার পাল্টা প্রশ্ন, “সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে কোনো আইন কিংবা নীতিমালা না হওয়া পর্যন্ত বাস্তবায়নে যাবে কী করে?” তিনি আরও বলেন, অতীতে ঢাকা শহরকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে ভিন্ন ভিন্ন রঙের রিকশা চালানোর একটি পরিকল্পনা বা আলোচনা হয়েছিল। তবে সরকারি নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ওই ধরনের পরিকল্পনার বাস্তবায়নের কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
নীতিমালার কতদূর?
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে নীতিমালার খসড়া তৈরি করছে, যার কাজ অনেকটা হয়ে এসেছে বলে দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন। ওই আইন চূড়ান্ত হলে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোর লাইসেন্স করতে হবে। কীভাবে সেটা করা হবে, সেটার নীতিমালাই করছে সরকার।
আইনে তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশাকে ‘শ্লথগতির সাধারণ যানবাহন’-এর সংজ্ঞার মধ্যে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। একই আইনে সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স ও নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানোসহ নির্দিষ্ট কিছু অনিয়মকে শাস্তিযোগ্য করা হচ্ছে। তবে এর কোনো কিছুই এখনো চূড়ান্ত নয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
যা বলছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা
সড়ক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ চরচাকে বলেন, রাজধানী ঢাকায় বর্তমানে সর্বনিম্ন পরিশ্রমে সহজ উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এই সড়ক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ জানান, মালিকের জমা দেওয়ার পরও প্রতিদিন ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা হাতে থাকায় বাসচালক, সাধারণ শ্রমিক এবং গ্রামের কৃষিকাজে নিয়োজিত মানুষও তাদের মূল পেশা ছেড়ে অটোরিকশা চালাতে ঢাকায় চলে আসছেন। এর ফলে গ্রামীণ এলাকায় কৃষি শ্রমিকের সংকট দেখা দিচ্ছে এবং শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এই অনিয়ন্ত্রিত শহরমুখী মাইগ্রেশন ও পেশাগত রূপান্তর বন্ধ করতে অটোরিকশা চলাচলকে অবিলম্বে একটি কঠোর রেজিস্ট্রেশন ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার আওতায় আনার তাগিদ দেন তিনি।
পরিবহন খাতের সাম্প্রতিক উদ্যোগ প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, “সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশ একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করলেও, মূল সমস্যা তৈরি হয় তা বাস্তবায়নের ধাপে।” উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, আটটি জোনে বা ওয়ার্ডভিত্তিক অটোরিকশার সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক চাহিদা বিশ্লেষণ আবশ্যক। কারণ নিউমার্কেটের মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকার চাহিদার সঙ্গে নীলক্ষেত বা আজিমপুরের মতো এলাকার চাহিদা এক নয়। অতীতে নারায়ণগঞ্জের মতো এলাকায় অ্যানালগ লাইসেন্সের ফলে ব্যাপক ডুপ্লিকেট লাইসেন্স তৈরির নজির টেনে তিনি পুরো লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াকে ডিজিটালি সাউন্ড, স্বচ্ছ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার পরামর্শ দেন, যাতে বিদ্যমান প্রকৃত চালকরাই এর সুযোগ পান।
অন্যদিকে, সড়ক নিরাপত্তার তাগিদে বুয়েটের তৈরি নতুন অটোরিকশা মডেলের প্রশংসা করলেও এর অর্থনৈতিক দিক নিয়ে সতর্ক করেন আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ। বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় অটোরিকশা কেনা গেলেও নতুন মডেলের দাম যদি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা হয়ে যায়, তবে বাজারে সিএনজির মতো শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে পারে এবং তা সাধারণ চালকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। তাই কোনো এলাকার বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় না নিয়ে, যত্রতত্র অনুমোদন না দিয়ে, সুনির্দিষ্ট গবেষণা ও যৌক্তিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নীতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন এই পরিবহন বিশেষজ্ঞ।
অর্থনীতিবিদরা কী বলছেন
অটোরিকশাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অর্থনীতিকে এক ধরনের ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি’ বা ইনফরমাল ইকোনমি হিসেবে অভিহিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসাইন সিদ্দিকী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন লোয়ার মিডল বা আপার মিডল আয়ের দেশের স্বপ্ন নিয়ে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ধরনের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে বড় করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। এ ছাড়া এই প্রযুক্তির অপ্রাতিষ্ঠানিক বিস্তার প্রমাণ করে যে, সিটি করপোরেশনগুলোর বড় ধরনের ব্যর্থতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতা রয়েছে। অটোরিকশা যেভাবে অনুমোদনহীনভাবে চলছে এবং সেখানে আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের যে অভাব রয়েছে, তা শহরের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসাইন সিদ্দিকী আরও বলেন, “রাষ্ট্রে যখন অর্থনীতি দুর্বল হয়ে যায়, কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যায় এবং প্রবৃদ্ধির গতি থেমে যায়, তখন মানুষ জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন বিকল্প কাজে যুক্ত হয়। তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল সবকিছু নিয়মতান্ত্রিক বা ফরমাল উপায়ে পরিচালনা করা। যদি সঠিক পরিকল্পনা থাকত, তবে কোন রাস্তায় কী পরিমাণ রিকশা চলবে–তা সুন্দরভাবে নির্ধারিত থাকত এবং বর্তমানের এই নৈরাজ্য তৈরি হতো না।” তিনি জানান, সচিবালয় ও মন্ত্রী পর্যায়ের বড় বড় ব্যক্তিরাও এখন শত শত অটোরিকশা কিনে এই খাতে বিপুল বিনিয়োগ করছেন, যা মূলত নিয়মনীতির অনুপস্থিতিকেই ফুটিয়ে তোলে।
অটোরিকশার লাইসেন্স না থাকা এবং ম্যানুয়াল লেবার বা শ্রমভিত্তিক কাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঢাবির এই অধ্যাপক জানান, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে শ্রমনির্ভর কাজ একসময় উঠে যাবে এবং যন্ত্রের আগমণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ঘটবে। তবে রাষ্ট্রকে নিজ শহরের ভারসাম্য ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও নীতিমালা তৈরি করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “অটোরিকশার মালিকরা দিনে হাজার হাজার টাকা আয় করলেও, আয়করের আওতায় না থাকায় রাষ্ট্রের বড় অংকের রেভিনিউ লস হচ্ছে। অটোরিকশার মালিক ও প্রকৃত চালক আলাদা হওয়ায় এবং এই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত অনিয়ন্ত্রিত থাকায়, রাষ্ট্র ও অর্থনীতি উভয় পক্ষেই বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত হচ্ছে–যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।”