Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশেষ প্রতিবেদন

জাপানের ‘সংকট’ কি বাংলাদেশের ‘সুযোগ’ হবে?

ফাইয়াজ আহনাফ সামিন

ফাইয়াজ আহনাফ সামিন

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ১৩
জাপানের ‘সংকট’ কি বাংলাদেশের ‘সুযোগ’ হবে?
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হলেও কর্মক্ষম জনবলের সংকটে ভুগছে জাপান। বৈশ্বিক শ্রমবাজারের জন্য এটি বড় একটি সুযোগ। ‘জাপান টাইমস’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও কূটনৈতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জাপানে একদিকে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে তরুণ জনসংখ্যায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে, ২০৪০ সাল নাগাদ জাপানে কর্মক্ষম জনশক্তির শূন্যতা দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই বিশাল শ্রম ঘাটতি মোকাবিলায় জাপান সরকার ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে ১৬টি খাতে ‘নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী’ (স্পেশাল স্কিলড ওয়ার্কার বা এসএসডাব্লিউ) এবং ‘দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক কর্মসংস্থান’ (এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা ইএসডি) ক্যাটাগরিতে অন্তত ১২ লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োগের এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। জাপানের এই বিদেশি কর্মীর চাহিদাই বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সু্যোগ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

জাপানের এই বিশাল চাহিদা সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার একটি সুনির্দিষ্ট এবং পর্যায়ক্রমিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অন্তত ১ লাখ দক্ষ জনশক্তি যাতে জাপানে সরবরাহ করা যায়–সেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

জাপানে বাংলাদেশি দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৪১ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক জাপানে আছেন। বর্তমান এই পরিসংখ্যানকে ভিত্তি হিসেবে ধরে বাংলাদেশ সরকার ২০২৬ সালে দুই হাজার, ২০২৭ সালে ছয় হাজার, ২০২৮ সালে ১২ হাজার, ২০২৯ সালে ৩০ হাজার এবং ২০৩০ সাল নাগাদ ৫০ হাজার কর্মী পাঠানোর একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে।

জেদ্দায় সৌদি ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্স এক্সপোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণSaudi Fashion & Tex Expo 1

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে?

সরকার আসলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম চরচাকে বলেন, “লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ‘জাপান সেল’ গঠনসহ বিএমইটি-এর আওতাধীন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) অবকাঠামোগত ও কারিগরি সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় গতি আনতে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মতো আধুনিক ডিজিটাল ডেটাবেজ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং জাপানিজ নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ, নীতিগত সংস্কার এবং প্রস্তুতি নিশ্চিত করে যে, বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে জাপানের প্রধান শ্রম জোগানদার দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।”

জাপানের সংশোধিত শ্রমনীতির অধীনে বর্তমানে ১৬টি সুনির্দিষ্ট খাতে ‘নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী (এসএসডাব্লিউ)’ ভিসায় বিদেশি জনবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগে বাংলাদেশের জন্য এই ১৬টি খাতের মধ্যে মাত্র ৬টি খাত উন্মুক্ত ছিল, যার ফলে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কর্মী পাঠানোর পরিধি ছিল সীমিত। তবে সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও নীতিগত পরিবর্তনের ফলে এখন ১৬টি খাতের সবকটিতেই বাংলাদেশ মনোযোগ দিতে পারছে।

আগামী পাঁচ বছরের জন্য সরকার যে এক লাখ কর্মী পাঠানোর কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরি করেছে, তাতে দেখা গেছে–নির্মাণ (কনস্ট্রাকশন) খাতে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার, শিল্প উৎপাদন বা কলকারখানা খাতে ২০ হাজার, কেয়ারগিভার বা নার্সিং কেয়ার খাতে ২০ হাজার এবং অটোমোবাইল ও কৃষি খাতে যৌথভাবে ২০ হাজার কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন করে উন্মুক্ত হওয়া মোটরযান পরিবহন (বাস ও ট্যাক্সিচালক), রেলওয়ে, বনায়ন এবং কাঠ শিল্পের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলো বাংলাদেশি তরুণদের জন্য জাপানি শ্রমবাজারে প্রবেশের নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।

জাপানে কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ও সময়সীমা সম্পর্কে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট-এর (রামরু) প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মেরিনা সুলতানা চরচাকে বলেন, “বিষয়টিকে তাড়াহুড়ো হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, বরং আমরা ইতোমধ্যে অনেক সময় নষ্ট করেছি। যেখানে আমাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশ তরুণ এবং বহু শিক্ষিত মানুষ কাজ পাচ্ছেন না, সেখানে জাপানের মতো সম্ভাবনাময় মার্কেটগুলোকে এখনই শক্তভাবে ধরে কাজে লাগানো প্রয়োজন। বছরের পর বছর ধরে শুধু বড় লক্ষ্যমাত্রার ঘোষণা না দিয়ে, সুনির্দিষ্ট ডেডলাইনের মধ্যে সঠিক নিয়মে দক্ষ কর্মী তৈরি ও পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বশীলতা ও জাপানি বাজারের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মেরিনা সুলতানা আরও বলেন, “জাপানে দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া গতিশীল করতে আমাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। কেবল কর্মী পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, কর্মীরা যাতে সেখানে মানিয়ে নিতে পারেন এবং দেশে ফিরে এসেও অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ডেডিকেশন থাকতে হবে।”

জাপান বদলে দিচ্ছে এশিয়ার প্রতিরক্ষা কাঠামোjapan

চাকরির পর স্থায়ীভাবে থাকারও সুযোগ

বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া জাপানের একটা তীব্র সংকট হিসেবে দেখা দেওয়ার কারণে, সে দেশের শ্রমনীতিতে ঠিক করে দেওয়া খাতগুলোর মধ্যে ‘কেয়ারগিভার বা প্রবীণ সেবা’ খাতের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। এই খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদাও ব্যাপক। জাপানে একজন কেয়ারগিভারের প্রাথমিক মাসিক বেতন ১ লাখ ৭৬ হাজার থেকে আড়াই লাখ ইয়েন পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার মতো।

এই আকর্ষণীয় পেশায় যোগ দিতে হলে প্রার্থীকে প্রথাগত দক্ষতার বাইরে গিয়ে নির্দিষ্ট কিছু আইনি ও ভাষাগত যোগ্যতাও অর্জন করতে হয়। রোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে প্রার্থীকে জাপানি ভাষার যোগ্যতা পরীক্ষা ‘জেএলপিটি এন-ফোর’ অথবা ‘জেএফটি-বেসিক’-এ তো পাস করতেই হবে; পাশাপাশি ‘নার্সিং কেয়ার জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ ইভ্যালুয়েশন টেস্ট’ এবং ‘কেয়ার ওয়ার্কার স্কিলস ইভ্যালুয়েশন টেস্ট’-এও উত্তীর্ণ হতে হয়।

এই খাতে পাঁচ বছর সফলভাবে কাজ করার পর কেউ যদি জাপানের জাতীয় লাইসেন্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন, তবে তিনি এসএসডব্লিউ-২ ভিসা পাবেন। এই ভিসার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে পরিবারসহ জাপানে বসবাস করার আইনি সুযোগ ও নাগরিক সুবিধার পথ সুগম হয়।

শুধু এই খাতে সরকার কী কী উদ্যোগ নিয়েছে, সে ব্যাপারে ধারণা পাওয়া গেল ড. জাহাঙ্গীর আলমের কাছে, “প্রধান টিটিসি এবং সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোতে জাপানি ভাষার (এন-ফোর) লেভেল এবং ‘নার্সিং কেয়ার স্কিলস ইভ্যালুয়েশন টেস্ট’-এর জন্য তৈরি বিশেষায়িত ক্র্যাশ কোর্স চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া আধুনিক জাপানি মেডিকেল ইকুইপমেন্ট সংবলিত ল্যাব স্থাপন ও ভার্চুয়াল সিমুলেশন ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা তাদের মূল্যায়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার হার বহুলাংশে বাড়িয়ে দিবে।”

বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে জাপানের মূল তিনটি আইনি মাধ্যম হলো–টেকনিক্যাল ইন্টার্ন (গিনো জিসশুসেই), স্পেসিফাইড স্কিলড ওয়ার্কার বা এসএসডব্লিউ (তোকুতেই গিনো) এবং হাইলি স্কিলড ওয়ার্কার বা ইঞ্জিনিয়ার/স্পেশালিস্ট ক্যাটাগরি (গিজিন কোকু)। এর মধ্যে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ক্যাটাগরিতে সাধারণত ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যেকোনো প্রার্থী প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াও ১৬০ ঘণ্টার প্রাথমিক জাপানি ভাষা শিক্ষা (এন-ফাইভ লেভেল) এবং নির্দিষ্ট কাজের পরিচিতি নিয়ে জাপানে যেতে পারেন।

টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, যেসব বিদেশি কর্মী টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে জাপানে টানা তিন বছর সফলভাবে কাজ সম্পন্ন করবেন, তারা কোনো ধরনের অতিরিক্ত কারিগরি স্কিল টেস্ট বা কঠিন ভাষা পরীক্ষা দেওয়া ছাড়াই সরাসরি এসএসডাব্লিউ-১ ভিসায় রূপান্তরিত হওয়ার সুযোগ পান। সেখানে পাঁচ বছর কাজ করার পর দক্ষ সুপারভাইজার হিসেবে গড়ে উঠে তারা পর্যায়ক্রমে উচ্চতর স্কিলড ওয়ার্কারের মর্যাদা পান। এই রূপান্তর ব্যবস্থাটি বাংলাদেশি তরুণদের জন্য জটিল পরীক্ষা এড়িয়ে স্থায়ীভাবে উচ্চ বেতনে কাজ করার একটি বড় কৌশলগত পথ।

জাপানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার অনুষ্ঠিতDSC00019

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর প্রশিক্ষণ পরিচালনা বিভাগের পরিচালক মোছা: শরিফা সুলতানা জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে চরচাকে বলেন, “আইএম জাপানের মাধ্যমে কর্মী বাছাইয়ের একটি চলমান প্রক্রিয়া আমাদের রয়েছে। তারা নিজেরা কর্মী বাছাই করার পর ভাষা ও সংস্কৃতি শেখাতে ছয় মাসের একটি দীর্ঘ প্রশিক্ষণ দেয়। এরপর শারীরিক ফিটনেস যাচাই করে চূড়ান্তভাবে টিআইটিপি-এর (টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেইনিং প্রোগ্রাম) আওতায় চাকরিদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী ইন্টার্ন হিসেবে জাপানে পাঠানো হয়। ইন্টার্নের পর তারা চাইলে সেখানে দক্ষ কর্মী হিসেবেও কাজ করতে পারে।”

এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা ও বর্তমান প্রস্তুতি প্রসঙ্গে শরিফা সুলতানা বলেন, “বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জাপানে যাওয়ার প্রথম ক্রাইটেরিয়াই হচ্ছে জাপানি ভাষা জানা। ইতোমধ্যে আমাদের অনেকগুলো টিটিসিতে জাপানি ভাষা কোর্স চালু হয়েছে এবং অনেকেই ন্যূনতম যোগ্যতার পরীক্ষায় পাসও করেছেন। পাশাপাশি জাপানি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে বিএমইটি ও আমাদের বিভিন্ন বেসরকারি এজেন্সির যৌথ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

japan-training

ছাত্রদের নিয়েও আছে পরিকল্পনা

দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রক্রিয়ায় সরকার কেবল কারিগরি কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভর না করে ‘স্টুডেন্ট মাইগ্রেশন পাইপলাইন’ ব্যবস্থার ওপরও বিশেষ জোর দিচ্ছে। এই কৌশলের আওতায় ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত দশ হাজার শিক্ষার্থীকে জাপানে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এইচএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন এবং জাপানি ভাষায় মৌলিক লেভেল (এন-ফাইভ) সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা জাপানের ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলগুলোতে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান। জাপানি আইন অনুযায়ী এসব শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা বৈধভাবে খণ্ডকালীন (পার্ট-টাইম) কাজ করার সুযোগ পান। শিক্ষা শেষে বা ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স সম্পন্ন করে এই শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সহজে এবং কোনো অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়াই নিজেদের স্টুডেন্ট ভিসাকে এসএসডব্লিউ-১ বা এসএসডব্লিউ-২ কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং ভিসায় রূপান্তর করতে পারেন। এর মাধ্যমে একদিকে প্রার্থীরা নিজেদের খরচ নিজেরাই চালাতে পারবেন, অন্যদিকে এটি সরকারের জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও টেকসই ‘সেলফ-ফান্ডেড ট্রেনিং মডেল’ হিসেবে কাজ করবে।

জাপানের শ্রমবাজার ধরার জাতীয় এই অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) দেশজুড়ে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ও প্রশিক্ষণমূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জাপানি ভাষা শেখানোর মতো যোগ্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) সংখ্যা ৩৩টি থেকে বাড়িয়ে ইতোমধ্যে ৫৩টিতে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়াও অতিরিক্ত ১৫টি টিটিসিতে অনলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে।

মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে জাপানের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীরPrime Minister Tareque Rahman

এ ব্যপারে খুলনা টিটিসির অধ্যক্ষ জিয়াউর রহমান চরচাকে বলেন, “অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) অধীনে ইতিমধ্যেই খুলনা টিটিসিসহ আরো কয়েকটি টিটিসিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বৈকালিক (ইভনিং) জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স চালু করা হয়েছে। আমাদের ইভনিং ব্যাচের মাত্র ৪০টি আসনের বিপরীতে প্রায় ৮০০ প্রার্থীর আবেদন জমা পড়েছে, যা জাপানি ভাষা ও কর্মসংস্থানের প্রতি দেশের তরুণদের ব্যাপক আগ্রহের প্রমাণ দেয়।”

জিয়াউর রহমান আরো বলেন, “টিটিসিগুলোতে মূলত ভাষার প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হলেও কেয়ারগিভার, কৃষি বা এয়ারপোর্ট হ্যান্ডলিংয়ের মতো নির্দিষ্ট খাতগুলোর জন্য সরকার অনুমোদিত আলাদা সেন্টারে স্কিল টেস্ট ও সার্টিফিকেশন দেওয়া হচ্ছে। দেশের কয়েকটি মহিলা টিটিসিতে কেয়ারগিভার খাতের প্রশিক্ষণও চলমান রয়েছে। জাপানে কর্মী পাঠানোর এই প্রক্রিয়ায় সরকারি উদ্যোগে এরই মধ্যে বড় সাফল্য এসেছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে এখন পর্যন্ত সারা দেশ থেকে এক হাজারের বেশি কর্মী সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন ব্যয়ে জাপানে গেছেন। এর মধ্যে কেবল খুলনা টিটিসি থেকেই ১০৯ জন কর্মী জাপানে গেছেন এবং চলতি বছর আরও সাতজন কর্মী যাওয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।”

বাধা যেখানে

শতভাগ প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত বিলম্ব একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন প্রার্থীর পাসপোর্ট তৈরি, ভিসার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং বিমানের টিকিট প্রাপ্তি–সব মিলিয়ে বেশ সময় লেগে যায়, যা সামগ্রিক কর্মী পাঠানোর গতিকে শ্লথ করে দিচ্ছে।

তথ্যের অভাব ও দালাল চক্রের অপতৎপরতাও বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। সঠিক সরকারি তথ্যের অভাবে এবং অনুমোদিত এজেন্সিগুলোর প্রচারণার ঘাটতিতে গ্রাম ও মফস্বলের ইচ্ছুক তরুণরা প্রতারক মধ্যস্বত্বভোগীদের মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এর পাশাপাশি টিটিসিগুলোতে কারিগরি শিক্ষার জন্য যেসব পুরোনো ও সনাতন প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা দিয়ে জাপানের আধুনিক শিল্পকারখানার রোবোটিক আর্ম, সিএনসি (কম্পিউটার নিউমেরিক্যাল কন্ট্রোল) মেশিন কিংবা অটোমেটেড অ্যাসেম্বলি লাইনের কাজের উপযোগী হওয়া অসম্ভব। দক্ষতার ঘাটতির কারণে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সময়মতো উপযুক্ত কর্মী জোগাড় করতে পারছে না অনুমোদিত এজেন্সিগুলো, যা দীর্ঘমেয়াদে জাপানি নিয়োগকর্তাদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে।

তবে এই সমস্যাগুলোর উল্টো দিকে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নেও ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। বর্তমানে জাপানে কর্মী পাঠানোর জন্য নিবন্ধিত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ৯৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে। এজেন্সিগুলোর জন্য পূর্বে বাধ্যতামূলক থাকা ১৫ লাখ টাকার জামানতের শর্তও শিথিল করা হয়েছে। সাধারণ ইচ্ছুক প্রার্থীরা যাতে অর্থের অভাবে জাপানে যাওয়া থেকে বঞ্চিত না হন কিংবা দালালদের খপ্পরে না পড়েন, সেজন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে কোনো জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অভিবাসন ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎPM_Japan

বেসরকারি উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার মডেল হিসেবে সাভারের বিরুলিয়ায় ‘কাওয়াই গ্রুপ জাপান লিমিটেড’ কর্তৃক ২২ বিঘা জমির ওপর নির্মিত আবাসিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির কথা উল্লেখ করা যায়। সেখানে স্থানীয় প্রথাগত প্রশিক্ষকের বদলে সরাসরি জাপানি ‘নেটিভ’ শিক্ষকদের মাধ্যমে কঠোর শৃঙ্খলায় নিবিড় ভাষা শিক্ষা এবং জাপানি কর্মসংস্কৃতির ওরিয়েন্টেশন প্রদান করা হচ্ছে, যা অন্যান্য টিটিসিগুলোর জন্যও একটি আদর্শ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে পার্থক্য

বাংলাদেশে বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় ভাষাগত দক্ষতা ও কর্মসংস্কৃতির ঘাটতিতে পিছিয়ে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, নেপাল ২০২৪-২৫ সালেই ৬০ হাজারেরও বেশি কর্মী জাপানের বাজারে পাঠিয়ে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। নেপালের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের মূলে রয়েছে তাদের সুনির্দিষ্ট কৌশল।

এ বিষয়ে ড. জাহাঙ্গীর আলম চরচাকে বলেন, “প্রতিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানি নেটিভ প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া, শতভাগ উচ্চারণ নিশ্চিত করা এবং জাপানি সামাজিক ও কর্মক্ষেত্রের শিষ্টাচারের বিষয়গুলো শেখানোর নিশ্চয়তা রাখতে হবে। জাপানের প্রশিক্ষকরা যেন আমাদের দেশের প্রশিক্ষকদেরকে আগে ট্রেনিং দেন, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জাপানি নিয়োগকর্তারা মূলত প্রযুক্তির চেয়ে কাজের প্রতি নিখাদ বিশ্বাস ও মানদণ্ডকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেন, যা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ এখনো কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।”

জাপানি নিয়োগকর্তাদের আস্থা ধরে রাখতে কী কী করা যায়, সে ব্যাপারেও কিছু ধারণা দিলেন ড. জাহাঙ্গীর আলম, “জাপানি নিয়োগকর্তাদের আস্থা ধরে রাখতে এবং দালালদের শোষণ বন্ধে সরকারের শতভাগ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অনলাইন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা উচিৎ। টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে সরাসরি তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমে অনলাইনেই ডিমান্ড লেটার যাচাই ও সত্যায়ন সম্পন্ন করার ব্যবস্থা থাকা উচিৎ। অনুমোদিত ৯৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যক্রম তদারকিতে নিয়মিত সরকারি অডিট চালানো হচ্ছে। অনুমোদিত ডিমান্ড লেটার, নির্বাচিত প্রার্থীর তালিকা ও নির্ধারিত ফি সরকারি পোর্টালে প্রকাশ্যে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। জাপানের স্থানীয় প্রাদেশিক সরকার, চেম্বার অব কমার্স, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেইটিআরও) এবং স্বাস্থ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাথে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের অনুগত, পরিশ্রমী ও দক্ষ ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তুলে ‘ব্র্যান্ড বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।”

বিষয়: সংকটজাপানবাংলাদেশশ্রমবাজারশ্রমশক্তি
সর্বশেষ
  • ১

    রাড্ডায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে শঙ্কা

  • ২

    ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মাসিস্ট দিবসের সেমিনার অনুষ্ঠিত

  • ৩

    এশিয়ান গেমসে ‘সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে’ বাংলাদেশের জাতীয় খেলা

  • ৪

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

  • ৫

    বোয়িং চুক্তির পেছনে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সম্পর্কিত
  • জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: কৃষক-ব্যবসায়ী-শ্রমিক, সবাই চাপে

    জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: কৃষক-ব্যবসায়ী-শ্রমিক, সবাই চাপে

    সম্প্রতি দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে রাজশাহীর কৃষক, পাইকারী ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তেলের দাম বাড়ায় লাগামহীনভাবে বেড়েছে পণ্য পরিবহন খরচ। এতে একদিকে যেমন পাইকারি ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে আড়তে ক্রেতা বা বেপারী না থাকায় উৎপাদিত

  • জাসদ অফিস থেকে কাদের ধরল পুলিশ?

    জাসদ অফিস থেকে কাদের ধরল পুলিশ?

    জাসদের বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ছিল কি না জানতে চাইলে জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “মিথ্যা কথা, আমাদের প্রতিনিধি সভা চলছিল। আওয়ামী লীগ থাকবে কেন? প্রায় সাড়ে তিন শ মানুষ ছিল আমাদের। সবাইকে অ্যারেস্ট করছে।”

  • তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি, খুলনায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ

    তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি, খুলনায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সব ধরনের পরিবহন খরচ, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ সকল পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এতে জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সব ধরনের পণ্য পরিবহন, কৃষি।

  • নীলক্ষেতে চাইলেই মিলছে কাবিননামা, নেই নজরদারি

    নীলক্ষেতে চাইলেই মিলছে কাবিননামা, নেই নজরদারি

    জাল কাবিননামা বানানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু এলাকার কাজীর সিল ও সকল সই তৈরি করা থাকে। ইমন কম্পিউটার্সে ঢাকার লালবাগ, পোস্তগোলা, দক্ষিণখান ও খিলক্ষেত এলাকার সিল তৈরি করা রয়েছে। কেউ যদি এসব এলাকার কাজীর সই দিয়ে জাল কাবিননামা বানাতে চায়, তাহলে খরচ কম