
দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে ইলিশ উৎসব
আয়োজনে অংশ নেওয়া অতিথিরা বাংলাদেশের ইলিশের স্বাদ ও আয়োজনের প্রশংসা করেন। ইলিশ ফেস্টের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তা ভারতের বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের সামনে তুলে ধরা হয়।
বাহার উদ্দিন বকুল, জেদ্দা, সৌদি আরব

সৌদি আরব তথা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র জেদ্দায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘চতুর্থ সৌদি ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্স এক্সপো ২০২৬’–এ অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ।
জেদ্দার ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত চার দিনব্যাপী (২৪০২৭ সেপ্টেম্বর) এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আজ রোববার সমাপ্তি হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের ১১টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সক্ষমতা, টেকসই উৎপাদন প্রযুক্তি এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিশ্ববাজারে তুলে ধরে।
মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের ফিতা কেটে যৌথভাবে উদ্বোধন করেন জেদ্দায় নিয়োজিত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সৌদি রিজিওনাল বিজনেস কাউন্সিল ফর সাউথইস্ট এশিয়ার এক্সিকিউটিভ বোর্ড সদস্য ও সৌদি ফেডারেশন অব চেম্বার্সের সদস্য ওসামা কোউকানদি।
এ সময় বাংলাদেশ ইনভেস্টর ফোরামের সভাপতি আবদুর রহমান, কনস্যুলেটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সৌদি আমদানিকারক, প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্স এক্সপোর এবারের আয়োজনে ২২টি দেশ অংশগ্রহণ করে এবং ৫৫০টিরও বেশি স্টল বা বুথ ছিল। বাংলাদেশের সুসজ্জিত প্যাভিলিয়ন আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
ইউরোপের অভিজ্ঞতা ও সবুজ শিল্পের বার্তা
মেলায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘ফ্রম হেরিটেজ টু হাই–টেক সাসটেইনেবল গ্রোথ’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে উচ্চমানের পোশাক সরবরাহের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) সৈয়দা নাহিদা হাবিবা।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এইচ ই এম জে এইচ জাবেদ, ইপিবির পরিচালক মাহমুদুল হাসান, কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মাযহারুল ইসলাম ও বেল বটম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান।

আলোচনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা এবং টেকসই শিল্পায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্য লিড–সার্টিফায়েড সবুজ পোশাক কারখানার উপস্থিতিও বাংলাদেশের শিল্পখাতের পরিবেশবান্ধব সক্ষমতার প্রতিফলন।
বক্তারা আরও বলেন, ইউরোপীয় বাজারে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক মানকে কাজে লাগিয়ে সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-কেন্দ্রিক ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে বাংলাদেশ প্রস্তুত।
পণ্য প্রদর্শন ও বিটুবি আলোচনার সুযোগ
এক্সপোর বিশেষ সেশনে অংশগ্রহণকারী ১১টি প্রতিষ্ঠান একক ও যৌথভাবে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রোফাইল, আধুনিক গার্মেন্টস ও ফ্যাশনওয়্যার কালেকশন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরে।

নিটওয়্যার, ওভেন, মডেস্ট অ্যাটায়ার, ট্র্যাডিশনাল ফ্যাশন থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম ফেব্রিক্স—বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শন করা হয় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে।
পণ্য প্রদর্শনের পর সৌদি আমদানিকারক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সরাসরি পণ্য পরিদর্শন এবং দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক আলোচনার (বিটুবি টকস) জন্য বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
এ ছাড়া, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) উদ্যোগে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রও প্যাভিলিয়নে প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

এক্সপোতে আসা ব্যবসায়ীরা বলেন, ইউরোপীয় বাজারে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক মানকে কাজে লাগিয়ে সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-কেন্দ্রিক ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিকারক দেশ। এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিল্প ও ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারীরা একদিকে তাদের উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান, ডিজাইন, প্যাকেজিং ইত্যাদি প্রদর্শন ও বিপণন করতে পারেন, অন্যদিকে পারস্পরিক সংযোগ স্থাপনসহ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারের সুযোগ লাভ করবে বলে জানান।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পরিচিতি আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অতিরিক্ত বৈদেশিক আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে ইলিশ উৎসব
আয়োজনে অংশ নেওয়া অতিথিরা বাংলাদেশের ইলিশের স্বাদ ও আয়োজনের প্রশংসা করেন। ইলিশ ফেস্টের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তা ভারতের বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের সামনে তুলে ধরা হয়।

মালয়েশিয়ার হালাল বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যে বিদেশি ব্যবসায়ীদের আগ্রহ
মেলায় বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যে আগ্রহ দেখিয়েছেন বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা।

এক দেশের শরৎ, অন্য দেশের শীত
এক দেশের শরৎ কখনো কখনো অন্য দেশের শীত হয়ে ফিরে আসে। একটি ঋতু অন্য একটি ঋতুর স্মৃতি হয়ে ওঠে। একটি দেশের কুয়াশা অন্য দেশের ভোরকে জাগিয়ে তোলে।

খলিলুর রহমান কি পারবেন বিভক্ত বিশ্বকে একই টেবিলে রাখতে?
শেষ পর্যন্ত খলিলুর রহমানের সাফল্য তিনি কত শক্তিধর নেতার পাশে দাঁড়ালেন তা দিয়ে মাপা হবে না। বরং দেখা হবে, তিনি কত দক্ষতার সঙ্গে পরস্পরবিরোধী শক্তিগুলোর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থেকেও নিজেকে নিরপেক্ষ রাখতে পারলেন।