Advertisement Banner

আল জাজিরার বিশ্লেষণ

আমেরিকার ‘মাথাব্যথার’ কারণ এখন লেবানন

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
আমেরিকার ‘মাথাব্যথার’ কারণ এখন লেবানন
লেবানন-ইসরায়েল বর্ডারে হামলার প্রস্তুতি নিয়ে হাজির ইসরায়েলি ট্যাংক। ছবি: রয়টার্স

লেবাননে ক্রমাগত ইসরায়েলি হামলা চলতে থাকলে তা কূটনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলবে–কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন সতর্কবার্তা পাওয়া যাচ্ছিল। এরপর গত রোববার রাতে ইরান দুই মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে সরাসরি হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে যুদ্ধ থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করছিল। তবে ইরান বরাবরই স্পষ্ট করে বলেছে যে, লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো শান্তি চুক্তি তারা মেনে নেবে না।

রোববার রাতের হামলাগুলো এই বিষয়টিই নিশ্চিত করল। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকলে ইসরায়েল লেবাননের রাজধানীতে হামলা চালাবে না। তা সত্ত্বেও, গত রোববার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে ইসরায়েল প্রাথমিক একটি আকস্মিক হামলা চালায়। এর জবাবে রাতারাতি ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, নতুন অভিযানটি ছিল একটি সতর্কবার্তা। যদি এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে এর প্রতিক্রিয়া হবে আরও ব্যাপক। উপসাগরীয় অঞ্চলের সব মার্কিন-ইহুদীবাদী স্থাপণা লক্ষ্যবস্তু হবে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি আর উসকে না দেওয়ার জন্য বলেছিলেন বলে জানা গেছে। তা সত্ত্বেও ইসরায়েল সোমবার রাজধানী তেহরানসহ পুরো ইরানজুড়ে একাধিক হামলা চালিয়ে এর জবাব দেয়। এর আগে রোববার যুক্তরাজ্যের ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প বলেছিলেন, “সিদ্ধান্ত আমিই নিই... সে (নেতানিয়াহু) সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নয়।”

এর জবাবে তেহরান আবারও ইসরায়েলের দিকে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে। তবে ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে এবং ইসরায়েলে কেউ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

তা সত্ত্বেও, সোমবার পরের দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উভয় পক্ষকেই তিরস্কার করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন। ট্রুথ সোশ্যালে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে তিনি বলেন, “ইসরায়েল এবং ইরানের অবিলম্বে ‘গোলাগুলি’ বন্ধ করা উচিত।”

বৈরুত: রেড লাইন

ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার হামলার পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে চালানো অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে। তবে তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, লেবাননে পুনরায় কোনো ইসরায়েলি হামলা চালানো হলে তার জবাবে আরও ‘শক্তিশালী’ আক্রমণ করা হবে।

‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’-র সিনিয়র ফেলো এবং ‘দ্য ইরান পডকাস্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা নেগার মোর্তাজাভি আল জাজিরাকে বলেন, “তেহরান দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলাগুলো সহ্য করে আসছিল। কিন্তু বৈরুতের ক্ষেত্রে তারা একটি রেড লাইন (চূড়ান্ত সীমা) টেনে দিয়েছিল।”

মোর্তাজাভি আরও যোগ করেন, “গত সপ্তাহে ইসরায়েল যখন বৈরুতে হামলা চালাতে চেয়েছিল, তখন তেহরান ওয়াশিংটনকে একটি গুরুতর সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল যে, তারা বৈরুতে কোনো আক্রমণ সহ্য করবে না। আর তারা এইমাত্র প্রমাণ করল যে. সেই সতর্কবার্তাটি কেবল ফাঁকা হুমকি ছিল না।”

পরিস্থিতির এই অবনতি একটি জটিল প্রশ্ন সামনে এনেছে–হিজবুল্লাহর প্রতিরক্ষায় ইরানের এই সরাসরি হামলা কি এখন এটিই প্রমাণ করল যে, তারা তাদের রেড লাইন বাস্তবায়নে প্রস্তুত? অর্থাৎ তাদের সহযোগীদের ওপর যেকোনো ইসরায়েলি হামলার জবাব যে সরাসরি ইরানের পক্ষ থেকে আসবে, তা কি এখন নিশ্চিত? 

আরও বিস্তৃতভাবে বলতে গেলে, পর্যবেক্ষকরা প্রশ্ন তুলছেন যে, ইসরায়েল যখন লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে, তখন ওয়াশিংটনের পক্ষে কি ইরানের বিরুদ্ধে চলা মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং তেহরানের সাথে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর কোনো সুযোগ আদৌ আছে?

লেবাননে যুদ্ধ

গত ২ মার্চ তেহরানপন্থী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা শুরু করার পর লেবাননও ইরান বনাম মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

হিজবুল্লাহ জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনে ইসরায়েলের হাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে তারা এই হামলা চালিয়েছে। একই সাথে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে লেবাননে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েল কর্তৃক প্রায় প্রতিদিন লঙ্ঘন করার প্রতিবাদেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে লেবানন জুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩ হাজার ৬১৩ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৭২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া, ইসরায়েল দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা দখল করে নেওয়ায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ইরানের প্রক্সি হিজবুল্লাহকে টার্গেট করেই লেবাননে হামলা করে ইসরায়েল। ছবি: রয়টার্স
ইরানের প্রক্সি হিজবুল্লাহকে টার্গেট করেই লেবাননে হামলা করে ইসরায়েল। ছবি: রয়টার্স

যদিও ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই থামানোর লক্ষ্যে গত ১৭ এপ্রিল মার্কিন মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল। তবুও পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ছিল। এর মধ্যে রাজধানী বৈরুতও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইসরায়েল দাবি করেছে যে, তারা শহরের দক্ষিণ শহরতলিতে অবস্থিত হিজবুল্লাহর একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ওয়াশিংটনে আলোচনার পর লেবানন ও ইসরায়েলের আলোচকরা আরও একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম সেই যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করে এটিকে একটি ‘প্রহসন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, লেবাননে যতদিন বোমা বর্ষণ চলবে, ততদিন উত্তর ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত থাকবে।

‘যুদ্ধেও একসাথে, শান্তিতেও একসাথে’ 

লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক লেকচারার রব গেইস্ট পিনফোল্ড আল জাজিরাকে বলেন, বর্তমান সংঘাতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো–ইরান ক্রমশ সেই চিন্তাভাবনা থেকে সরে আসছে, যা বছরের পর বছর ধরে তাদের আঞ্চলিক অবস্থানের মূল ভিত্তি ছিল।

গেইস্ট পিনফোল্ড আরও বলেন, “শুরুতে ‘আগ্রাসী প্রতিরক্ষা’ নীতির মূল উদ্দেশ্যই ছিল ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের যুদ্ধ এড়ানো।” তিনি উল্লেখ করেন, ইরান হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুতি ও ইরাক-সিরিয়ার বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীসহ অঞ্চলের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলোর পেছনে বিপুল বিনিয়োগ করেছিল। কারণ তেহরান বিশ্বাস করত যে, এই গোষ্ঠীগুলো ‘প্রক্সি’ শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারবে। ইরানের নিজস্ব প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার চেয়েও আরও কার্যকরভাবে ইসরায়েলকে দমিয়ে রাখতে পারবে এরা।

পিনফোল্ডের মতে, ইরান এই সমীকরণটি সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছে। নিজের হয়ে লড়াই করার জন্য এই প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করার পরিবর্তে ইরান এখন নিজের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থে একটি রাষ্ট্র হিসেবে নিজেই সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে।

মোর্তাজাভি বলেন, ইরান এখন যেকোনো শান্তি চুক্তির রূপরেখাকে তার আঞ্চলিক সহযোগীদের ভাগ্যের সাথে জুড়ে দিয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, “তেহরানের বার্তাটি হলো: যুদ্ধেও একসাথে, শান্তিতেও একসাথে।”

লেবাননের ‘আরব রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ’ (এআরআই)-এর নির্বাহী পরিচালক নাদিম হুরিও একইভাবে যুক্তি দেখান যে, ইরান তার আঞ্চলিক সহযোগীদের নেটওয়ার্ককে অক্ষুণ্ণ রাখতে তাদের দীর্ঘদিনের ফ্রন্টগুলোর ঐক্য কৌশলটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

হুরি বলেন, “এটি করার জন্য ইরানের দেখানো প্রয়োজন যে, তারা লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের একতরফা পদক্ষেপ নেওয়াকে প্রতিহত করতে সক্ষম।”

হুরি আরও বলেন, “ইরানের ভয় হলো, যদি এমন মনে হয় যে তারা তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্সি হিজবুল্লাহকে রক্ষা করতে পারছে না, তবে তাদের আঞ্চলিক প্রক্সিগুলো একে একে দুর্বল ও নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়বে।”

পরিকল্পিত ঝুঁকি নাকি নতুন চূড়ান্ত সীমা?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি কৌশলগত পদক্ষেপ এবং নিজেদের সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ–উভয়ই হতে পারে।

লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা বিভাগের অধ্যাপক আন্দ্রিয়াস ক্রীগ আল জাজিরাকে বলেন, “আমি এ কথা বলব না যে ইরান এমন কোনো স্বয়ংক্রিয় নিয়ম তৈরি করেছে, যার ফলে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর প্রতিটি সংঘর্ষেই এখন ইরান সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। তবে ইরান লেবাননকে ঘিরে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর একটি ‘লাল রেখা’ টেনে দিয়েছে।”

ক্রিয়েগ যুক্তি দেখান যে, ইরান কূটনীতিকে পুরোপুরি বর্জন না করে বরং নিয়ন্ত্রিত শক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির সীমানা নতুন করে নির্ধারণের চেষ্টা করছে।

ক্রীগ বলেন, “এটি একটি নতুন চূড়ান্ত সীমা, তবে এটি কিছুটা নমনীয়। ইরান এখানে একটি অস্পষ্টতা বজায় রাখতে চায়। তারা একদিকে চায় ইসরায়েল এটি বিশ্বাস করুক যে লেবাননে আরও সংঘাত বাড়ালে ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি পাল্টা আঘাত আসবে। কিন্তু অন্যদিকে তারা নিজেদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগও রাখতে চায়, যাতে ইসরায়েলের ঠিক করা সময়ে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে।”

বৈরুত-ভিত্তিক বিশ্লেষক আলী রিজক বলেন, তেহরান সম্ভবত এই হিসাব-নিকাশের ওপর ভরসা করছে যে, ট্রাম্প একটি বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী। রিজক আল জাজিরাকে বলেন, “আমেরিকান এবং ইসরায়েলি অগ্রাধিকারের মধ্যে এখন একটি স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।”

রিজক মনে করেন, ট্রাম্প লেবাননে ইরানের স্বার্থকে কিছুটা মেনে নিতে রাজি হবেন। যদি তার বিনিময়ে এমন একটি চুক্তি করা সম্ভব হয়, যা পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির মতো ট্রাম্পের প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলোর সমাধান করবে।

যুদ্ধ শেষ করা এখন ‘অনেক বেশি কঠিন’

ওয়াশিংটন যদি ইসরায়েলের এমন সব পদক্ষেপ প্রতিরোধ করতে না পারে, যা তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, ইরান হয়তো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে–যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাঙ্ক্ষিত একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এনে দিতে অক্ষম।

মূল প্রশ্নটি হলো, ট্রাম্প কোনো অর্থপূর্ণ উপায়ে ইসরায়েলকে সত্যিই নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইচ্ছুক কি না। ট্রাম্প কি ইসরায়েলকে চাপ দেওয়ার জন্য কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেবেন? নাকি তিনি কেবল এটিকে মেনে নিয়ে এগিয়ে যাবেন?

রিজক বলেন, “ট্রাম্প নিজেকে একটি ‘খুব কঠিন’ পরিস্থিতিতে আবিষ্কার করেছেন, তবে লেবাননে উত্তেজনা বাড়ানো বন্ধ করতে তিনি ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করবেন বলেই সম্ভাবনা বেশি।”

রিজক সতর্ক করে বলেন, “লেবাননে নেতানিয়াহুর বোমাবর্ষণের খাতিরে ইরানের সাথে আলোচনাকে বিসর্জন দেওয়া ট্রাম্পকে আগের চেয়ে অনেক বেশি ইসরায়েলের ক্রীড়নক হিসেবে প্রকাশ করবে, যা আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই, এই উত্তেজনা যাতে ইরানের সাথে কূটনীতিকে নস্যাৎ করতে না পারে, সেজন্য তিনি তীব্র প্রচেষ্টা চালাবেন–এমন একটি জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।”

আপাতত, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাময়িকভাবে শত্রুতা বন্ধ রাখা হয়তো সম্ভব। তবে একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা অনেক বেশি কঠিন বলে মনে হচ্ছে।

ক্রীগ বলেন, “সবচেয়ে সম্ভাব্য ফলাফলটি হলো, একটি সহিংস স্থবিরতা। তার মানে, আলোচনা চলতে থাকবে, ইরান ও ইসরায়েল একে অপরকে পরীক্ষা করতে থাকবে, হিজবুল্লাহ সক্রিয় থাকবে। আর যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যবস্থাকে একটি বৃহত্তর যুদ্ধবিগ্রহে রূপ নেওয়া থেকে ঠেকানোর চেষ্টা করবে।”

সম্পর্কিত