কুরনিয়াওয়ান আরিফ মাসপুল

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা চালানোর পর যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গণতান্ত্রিক বিশ্ব এখনো কি তার নিজস্ব মূল্যবোধে বিশ্বাস করে, নাকি সেই মূল্যবোধগুলো নীরবে শক্তির দাপটে আড়াল হয়ে গেছে—তারই এক পরীক্ষা হয়ে উঠেছে এই সংকট।
‘ডেমোক্রেসি এট দ্য এজ অব এম্পায়ার’ শীর্ষক একটি নিবন্ধে একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্ররা একসময় যে নৈতিক অবস্থান তুলে ধরত, বিশ্ব এখন আর তাতে আস্থা রাখছে না।
এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জনমত নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। এক জরিপে দেখা গেছে, পাকিস্তান, মিসর, নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোতে ৪৩ শতাংশ মানুষ ইরানের সর্বশেষ সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্রকে আগের চেয়ে কম ইতিবাচকভাবে দেখছেন। একই সঙ্গে এক-চতুর্থাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিভ্রান্তিকর।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কোনো সামান্য কূটনৈতিক ধাক্কা নয় বরং বিশ্বাসযোগ্যতার বড় ধরনের ক্ষতি। গণতান্ত্রিক বিশ্ব যখন বিলিয়ন মানুষের চোখে আস্থা হারায়, তখন তারা শুধু প্রভাব নয়-নিজস্ব বৈধতাও হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে।
বর্তমান পরিস্থিতিকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক করে তুলেছে বেপরোয়া রাজনীতির প্রভাব। ইরান ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কেবল ভুল হিসাবই করেনি, এটি আন্তর্জাতিক নিয়মনীতিকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যা একবিংশ শতাব্দীতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
ঐ নিবন্ধে উল্লেখিত আইন বিশেষজ্ঞরা কাশেম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ আসন্ন হামলার কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ ছিল না। যারা নিয়ম রক্ষার দাবি করে, তারাই যখন নিয়ম ভাঙে, তখন পুরো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়ে।
শুরুর দিকে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি ইরানের জনগণের পাশে আছেন, তাদের স্বাধীনতা ও ভবিষ্যতের পক্ষে কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি দ্রুতই ভিন্ন রূপ নেয়। কূটনীতি থেকে সরে আসা পরিণত হয় এমন নিষেধাজ্ঞায়, যা সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এখন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানের তেলের প্রাণকেন্দ্র খারগ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণের কথাও আলোচনায় এসেছে, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, স্থল অভিযান এখন যেন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতাকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা কোনো একক যুদ্ধও করতে পারেনি। বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের জন্য এটি কোনো তাত্ত্বিক উদ্বেগ নয়, এর প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। যে নিষেধাজ্ঞাগুলো সরকারকে দুর্বল করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, তা উল্টো সাধারণ মানুষকেই দুর্বল করেছে।
ওই নিবন্ধে হিউম্যান রাইট ওয়াচ জানিয়েছে, ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ নীতি ইরানের ওষুধ ও জরুরি পণ্য আমদানির সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে সীমিত করেছে। ফার্মেসিতে জরুরি ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, আর হাসপাতালগুলো ক্যানসারের দিতে সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে। এটি কেবল নীতিগত ব্যর্থতা নয়। এটি কৌশলের আড়ালে লুকানো এক ধরনের মানবিক বিপর্যয়। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক বিশ্ব মানব মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ায় বলে যে যুক্তি দেওয়া হয়, তাও মুখ থুবড়ে পড়ে।
সমস্যা আরও গভীর। এই সংকট এমন এক দ্বন্দ্ব সামনে নিয়ে এসেছে, যা গ্লোবাল সাউথের অনেক দেশ বহুদিন ধরেই সন্দেহ করে আসছে। তাদের সন্দেহ, সার্বজনীন নীতির বদলে গণতন্ত্রকে প্রায়ই একটি ভূরাজনৈতিক ব্র্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
নিবন্ধতে বলা হয়েছে, ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মেদ মোসাদ্দেককে উৎখাতে ভূমিকা রেখেছিল এবং পরবর্তীতে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সাদ্দাম হোসেনকে সমর্থন দিয়েছিল।
এই ইতিহাসগুলোকে শুধু অতীত স্মৃতি হিসেবে চালিয়ে দিলে চলে না, এগুলো বর্তমান সংকটকে কীভাবে দেখা হবে, তা নির্ধারণ করে। তেহরান, দিল্লি, জাকার্তা বা জোহানেসবার্গ- সব জায়গাতেই এটি সত্য। যখন ইতিহাস বারবার স্থিতিশীলতা বা স্বাধীনতার নামে হস্তক্ষেপের উদাহরণে ভরা থাকে, তখন বিশ্বকে বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ে যে সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপটি নৈতিকভাবে ভিন্ন।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ড এই দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করেছে। বর্তমানে কূটনীতিকে দুর্বলতা আর উত্তেজনা বাড়ানোকে শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসা মধ্যপ্রাচ্যকে নিরাপদ করেনি বরং আরও অস্থির করেছে।
নিবন্ধে উদ্ধৃত বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি থেকে বের হওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা কমিয়েছে এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতির ওপর বিশ্বাস দুর্বল করেছে। অর্থাৎ ক্ষতিটা শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে জলবায়ু চুক্তি পর্যন্ত ভবিষ্যতের সব ধরনের আলোচনাকেই প্রভাবিত করছে। যদি বিশ্ব বিশ্বাস করে যে নেতৃত্ব বদলালেই চুক্তি বাতিল হয়ে যেতে পারে, তাহলে কূটনীতিতে বিনিয়োগ করবে কেন?
এই বেপরোয়া নীতির মানবিক মূল্যও উপেক্ষা করার মতো নয়। নিষেধাজ্ঞার ভয়াবহ প্রভাব রয়েছে। জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, যা লাখো মানুষকে কষ্টে ফেলেছে। একই সময়ে সামরিক উত্তেজনা সাধারণ মানুষকে স্থায়ী ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। যখন হাসপাতালগুলো প্রয়োজনীয় ওষুধ পায় না এবং পরিবারগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কে দিন কাটায়, তখন গণতন্ত্রের ভাষা ফাঁপা শোনাতে শুরু করে।
বিশ্বের দৃষ্টিতে এই নৈতিক দ্বন্দ্ব স্পষ্ট- সাধারণ মানুষের ওপর কষ্ট চাপিয়ে দিয়ে কীভাবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়ানোর দাবি করা যায়?
এখানে একটি কৌশলগত দিকও রয়েছে, যা ওয়াশিংটন বা ব্রাসেলসের মতোই ক্যানবেরার নীতিনির্ধারকদেরও উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। নিবন্ধটি সতর্ক করে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থার কমে আসা আরও খণ্ডিত ও অস্থিতিশীল এক বিশ্বব্যবস্থাকে উৎসাহিত করছে। যেসব দেশ একসময় আমেরিকার নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করত, তারা এখন তাদের বিকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করছে। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বীরা পশ্চিমা প্রভাব এড়িয়ে নতুন জোট গড়ে তুলছে।
এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক পরিবর্তন। যদি এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয় যে গণতান্ত্রিক বিশ্ব চুক্তি রক্ষা বা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নয়, তাহলে এর ফল হবে আরও বিপজ্জনক একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ।

গ্লোবাল নর্থের বড় একটি অংশের জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা সবসময়ই বিমানবাহী রণতরী বা অর্থনৈতিক আধিপত্যের চেয়ে আরও ভঙ্গুর কিছুর ওপর নির্ভর করেছে—তা হলো আস্থা। এই নীরব বিশ্বাস যে শক্তিশালী গণতন্ত্রগুলো নিজেদের তৈরি করা নিয়ম মেনে চলবে, এমনকি যখন তা তাদের জন্য সুবিধাজনক না-ও হতে পারে।
আজ সেই ধারণা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে নীতিনির্ধারকেরা একটি অস্বস্তিকর সত্য উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন। একবার বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে, তা কেবল শক্তি দেখিয়ে পুনর্গঠন করা যায় না।
বিপদটি শুধু বাহ্যিক নয়, এটি অভ্যন্তরীণও। কারণ বিশ্বে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বকে সংজ্ঞায়িত করা মূল্যবোধগুলোর ওপর ধীরে ধীরে আস্থার ক্ষয় ঘটছে।
এই ক্ষয় এখন আর কূটনৈতিক ভাষার আড়ালে লুকানো নেই। গ্লোবাল নর্থের নাগরিকরা বাস্তব সময়েই এই দ্বন্দ্বগুলো দেখতে পাচ্ছেন। উদার গণতন্ত্রগুলো একটি উচ্চতর নৈতিক মানদণ্ডের প্রতিনিধিত্ব করে—এই বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে তাদের বৈশ্বিক ভূমিকার মানসিক ভিত্তি ছিল। এখন সেই ভিত্তিই টলমল করছে।
গ্লোবাল নর্থ এখন একটি গভীর মানবিক দ্বিধার মুখে- তারা কি এখনও নিজেদের প্রচারিত আদর্শে বিশ্বাস করে, নাকি সেই আদর্শগুলো নিঃশব্দে আরও শীতল ও নৈরাশ্যবাদী বাস্তবতায় প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
এই সংকট থেকে একটি নতুন ধারণার জন্ম হওয়া প্রয়োজন। গ্লোবাল নর্থ নেতৃত্ব দেবে আর অন্যরা অনুসরণ করবে- এই ধারণা বদলানো প্রয়োজন। বরং একবিংশ শতাব্দীতে বৈধতা নির্ভর করবে নম্রতা, ধারাবাহিকতা এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশের সঙ্গে নৈতিক কর্তৃত্ব ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছার ওপর। ভবিষ্যতের নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা সহযোগিতার ছদ্মবেশে কোনো শ্রেণিবিন্যাস হিসেবে টিকে থাকতে পারবে না, এটি হতে হবে উত্তর ও দক্ষিণ—উভয়ের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি সত্যিকারের যৌথ কাঠামো।
এই পরিবর্তনের জন্য সাহস দরকার, কারণ এতে অতীতের দ্বন্দ্ব স্বীকার করা এবং ক্ষমতার সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণ করার মতো বিষয় জড়িত। যদি গ্লোবাল নর্থ অস্বীকারের বদলে পুনর্গঠনের পথ বেছে নেয়, তাহলে ফল হতে পারে আরও সৎ ও টেকসই একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থা। আর যদি তা না করে, তাহলে এর পরিণতি কেবল কূটনৈতিক ব্যর্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর ফলে গণতান্ত্রিক সমাজগুলো একসময় নিজেদের বিশেষত্ব হিসেবে যে পরিচয় দিত, তা হারিয়ে যাবে।
প্রশ্নটি আর শুধু এই নয় যে মধ্যপ্রাচ্য বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে বদলে দেবে কিনা বরং বৈশ্বিক ব্যবস্থা নিজেই মধ্যপ্রাচ্যের এই বাস্তবতায় টিকে থাকতে পারবে কিনা- সেটিই হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।
তবুও ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত নয়। একবিংশ শতাব্দীতে প্রাসঙ্গিক থাকতে হলে গণতন্ত্রকে নতুনভাবে কল্পনা করতে হবে। সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, কূটনীতির প্রতি অঙ্গীকার এবং মানব মর্যাদার প্রতি প্রকৃত উদ্বেগ—এসব কোনো কল্পনাপ্রসূত বিলাসিতা নয় বরং কৌশলগত প্রয়োজন। এগুলো ছাড়া গণতন্ত্র কেবল আরেক ধরনের ক্ষমতার রাজনীতিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে, যা একসময় সে নিজেই বিরোধিতা করত।
এখন উচ্চকণ্ঠ বক্তব্য প্রয়োজন নয়, বরং গভীর আত্মসমালোচনা। ইরানকে ঘিরে এই সংকট গণতান্ত্রিক সরকারগুলোকে একটি কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করানো উচিত- কেবল ক্ষমতা দিয়ে বৈধতা টিকিয়ে রাখা যায় না। বিশ্ববাসী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তাদের রায় আগামী কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। যদি গণতান্ত্রিক বিশ্ব জোরজবরদস্তি ও ভঙ্গ প্রতিশ্রুতির পথে এগিয়ে যেতে থাকে, তাহলে তা শুধু ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না—নিজেকেও করবে।
হয় গণতন্ত্র সংযম, সংলাপ ও ধারাবাহিকতার মাধ্যমে তার নৈতিক কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধার করবে, নয়তো বেপরোয়া যুদ্ধ ও আস্থাহীনতায় হারিয়ে যাবে। এখানে দুটি পথের একটি বাছাই করা কঠিন, কিন্তু এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। ইরানের ভবিষ্যৎ—এবং সম্ভবত বৈশ্বিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎও নির্ভর করছে কোন পথটি বেছে নেওয়া হবে তার ওপর।
লেখক: ইসলামি কুটনীতি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক চিন্তাধারার লেখক ও গবেষক
(লেখাটি মিডল ইস্ট মনিটর থেকে অনূদিত)

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা চালানোর পর যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গণতান্ত্রিক বিশ্ব এখনো কি তার নিজস্ব মূল্যবোধে বিশ্বাস করে, নাকি সেই মূল্যবোধগুলো নীরবে শক্তির দাপটে আড়াল হয়ে গেছে—তারই এক পরীক্ষা হয়ে উঠেছে এই সংকট।
‘ডেমোক্রেসি এট দ্য এজ অব এম্পায়ার’ শীর্ষক একটি নিবন্ধে একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্ররা একসময় যে নৈতিক অবস্থান তুলে ধরত, বিশ্ব এখন আর তাতে আস্থা রাখছে না।
এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জনমত নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। এক জরিপে দেখা গেছে, পাকিস্তান, মিসর, নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোতে ৪৩ শতাংশ মানুষ ইরানের সর্বশেষ সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্রকে আগের চেয়ে কম ইতিবাচকভাবে দেখছেন। একই সঙ্গে এক-চতুর্থাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিভ্রান্তিকর।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কোনো সামান্য কূটনৈতিক ধাক্কা নয় বরং বিশ্বাসযোগ্যতার বড় ধরনের ক্ষতি। গণতান্ত্রিক বিশ্ব যখন বিলিয়ন মানুষের চোখে আস্থা হারায়, তখন তারা শুধু প্রভাব নয়-নিজস্ব বৈধতাও হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে।
বর্তমান পরিস্থিতিকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক করে তুলেছে বেপরোয়া রাজনীতির প্রভাব। ইরান ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কেবল ভুল হিসাবই করেনি, এটি আন্তর্জাতিক নিয়মনীতিকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যা একবিংশ শতাব্দীতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
ঐ নিবন্ধে উল্লেখিত আইন বিশেষজ্ঞরা কাশেম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ আসন্ন হামলার কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ ছিল না। যারা নিয়ম রক্ষার দাবি করে, তারাই যখন নিয়ম ভাঙে, তখন পুরো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়ে।
শুরুর দিকে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি ইরানের জনগণের পাশে আছেন, তাদের স্বাধীনতা ও ভবিষ্যতের পক্ষে কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি দ্রুতই ভিন্ন রূপ নেয়। কূটনীতি থেকে সরে আসা পরিণত হয় এমন নিষেধাজ্ঞায়, যা সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এখন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানের তেলের প্রাণকেন্দ্র খারগ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণের কথাও আলোচনায় এসেছে, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, স্থল অভিযান এখন যেন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতাকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা কোনো একক যুদ্ধও করতে পারেনি। বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের জন্য এটি কোনো তাত্ত্বিক উদ্বেগ নয়, এর প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। যে নিষেধাজ্ঞাগুলো সরকারকে দুর্বল করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, তা উল্টো সাধারণ মানুষকেই দুর্বল করেছে।
ওই নিবন্ধে হিউম্যান রাইট ওয়াচ জানিয়েছে, ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ নীতি ইরানের ওষুধ ও জরুরি পণ্য আমদানির সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে সীমিত করেছে। ফার্মেসিতে জরুরি ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, আর হাসপাতালগুলো ক্যানসারের দিতে সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে। এটি কেবল নীতিগত ব্যর্থতা নয়। এটি কৌশলের আড়ালে লুকানো এক ধরনের মানবিক বিপর্যয়। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক বিশ্ব মানব মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ায় বলে যে যুক্তি দেওয়া হয়, তাও মুখ থুবড়ে পড়ে।
সমস্যা আরও গভীর। এই সংকট এমন এক দ্বন্দ্ব সামনে নিয়ে এসেছে, যা গ্লোবাল সাউথের অনেক দেশ বহুদিন ধরেই সন্দেহ করে আসছে। তাদের সন্দেহ, সার্বজনীন নীতির বদলে গণতন্ত্রকে প্রায়ই একটি ভূরাজনৈতিক ব্র্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
নিবন্ধতে বলা হয়েছে, ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মেদ মোসাদ্দেককে উৎখাতে ভূমিকা রেখেছিল এবং পরবর্তীতে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সাদ্দাম হোসেনকে সমর্থন দিয়েছিল।
এই ইতিহাসগুলোকে শুধু অতীত স্মৃতি হিসেবে চালিয়ে দিলে চলে না, এগুলো বর্তমান সংকটকে কীভাবে দেখা হবে, তা নির্ধারণ করে। তেহরান, দিল্লি, জাকার্তা বা জোহানেসবার্গ- সব জায়গাতেই এটি সত্য। যখন ইতিহাস বারবার স্থিতিশীলতা বা স্বাধীনতার নামে হস্তক্ষেপের উদাহরণে ভরা থাকে, তখন বিশ্বকে বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ে যে সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপটি নৈতিকভাবে ভিন্ন।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ড এই দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করেছে। বর্তমানে কূটনীতিকে দুর্বলতা আর উত্তেজনা বাড়ানোকে শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসা মধ্যপ্রাচ্যকে নিরাপদ করেনি বরং আরও অস্থির করেছে।
নিবন্ধে উদ্ধৃত বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি থেকে বের হওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা কমিয়েছে এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতির ওপর বিশ্বাস দুর্বল করেছে। অর্থাৎ ক্ষতিটা শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে জলবায়ু চুক্তি পর্যন্ত ভবিষ্যতের সব ধরনের আলোচনাকেই প্রভাবিত করছে। যদি বিশ্ব বিশ্বাস করে যে নেতৃত্ব বদলালেই চুক্তি বাতিল হয়ে যেতে পারে, তাহলে কূটনীতিতে বিনিয়োগ করবে কেন?
এই বেপরোয়া নীতির মানবিক মূল্যও উপেক্ষা করার মতো নয়। নিষেধাজ্ঞার ভয়াবহ প্রভাব রয়েছে। জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, যা লাখো মানুষকে কষ্টে ফেলেছে। একই সময়ে সামরিক উত্তেজনা সাধারণ মানুষকে স্থায়ী ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। যখন হাসপাতালগুলো প্রয়োজনীয় ওষুধ পায় না এবং পরিবারগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কে দিন কাটায়, তখন গণতন্ত্রের ভাষা ফাঁপা শোনাতে শুরু করে।
বিশ্বের দৃষ্টিতে এই নৈতিক দ্বন্দ্ব স্পষ্ট- সাধারণ মানুষের ওপর কষ্ট চাপিয়ে দিয়ে কীভাবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়ানোর দাবি করা যায়?
এখানে একটি কৌশলগত দিকও রয়েছে, যা ওয়াশিংটন বা ব্রাসেলসের মতোই ক্যানবেরার নীতিনির্ধারকদেরও উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। নিবন্ধটি সতর্ক করে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থার কমে আসা আরও খণ্ডিত ও অস্থিতিশীল এক বিশ্বব্যবস্থাকে উৎসাহিত করছে। যেসব দেশ একসময় আমেরিকার নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করত, তারা এখন তাদের বিকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করছে। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বীরা পশ্চিমা প্রভাব এড়িয়ে নতুন জোট গড়ে তুলছে।
এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক পরিবর্তন। যদি এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয় যে গণতান্ত্রিক বিশ্ব চুক্তি রক্ষা বা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নয়, তাহলে এর ফল হবে আরও বিপজ্জনক একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ।

গ্লোবাল নর্থের বড় একটি অংশের জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা সবসময়ই বিমানবাহী রণতরী বা অর্থনৈতিক আধিপত্যের চেয়ে আরও ভঙ্গুর কিছুর ওপর নির্ভর করেছে—তা হলো আস্থা। এই নীরব বিশ্বাস যে শক্তিশালী গণতন্ত্রগুলো নিজেদের তৈরি করা নিয়ম মেনে চলবে, এমনকি যখন তা তাদের জন্য সুবিধাজনক না-ও হতে পারে।
আজ সেই ধারণা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে নীতিনির্ধারকেরা একটি অস্বস্তিকর সত্য উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন। একবার বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে, তা কেবল শক্তি দেখিয়ে পুনর্গঠন করা যায় না।
বিপদটি শুধু বাহ্যিক নয়, এটি অভ্যন্তরীণও। কারণ বিশ্বে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বকে সংজ্ঞায়িত করা মূল্যবোধগুলোর ওপর ধীরে ধীরে আস্থার ক্ষয় ঘটছে।
এই ক্ষয় এখন আর কূটনৈতিক ভাষার আড়ালে লুকানো নেই। গ্লোবাল নর্থের নাগরিকরা বাস্তব সময়েই এই দ্বন্দ্বগুলো দেখতে পাচ্ছেন। উদার গণতন্ত্রগুলো একটি উচ্চতর নৈতিক মানদণ্ডের প্রতিনিধিত্ব করে—এই বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে তাদের বৈশ্বিক ভূমিকার মানসিক ভিত্তি ছিল। এখন সেই ভিত্তিই টলমল করছে।
গ্লোবাল নর্থ এখন একটি গভীর মানবিক দ্বিধার মুখে- তারা কি এখনও নিজেদের প্রচারিত আদর্শে বিশ্বাস করে, নাকি সেই আদর্শগুলো নিঃশব্দে আরও শীতল ও নৈরাশ্যবাদী বাস্তবতায় প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
এই সংকট থেকে একটি নতুন ধারণার জন্ম হওয়া প্রয়োজন। গ্লোবাল নর্থ নেতৃত্ব দেবে আর অন্যরা অনুসরণ করবে- এই ধারণা বদলানো প্রয়োজন। বরং একবিংশ শতাব্দীতে বৈধতা নির্ভর করবে নম্রতা, ধারাবাহিকতা এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশের সঙ্গে নৈতিক কর্তৃত্ব ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছার ওপর। ভবিষ্যতের নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা সহযোগিতার ছদ্মবেশে কোনো শ্রেণিবিন্যাস হিসেবে টিকে থাকতে পারবে না, এটি হতে হবে উত্তর ও দক্ষিণ—উভয়ের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি সত্যিকারের যৌথ কাঠামো।
এই পরিবর্তনের জন্য সাহস দরকার, কারণ এতে অতীতের দ্বন্দ্ব স্বীকার করা এবং ক্ষমতার সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণ করার মতো বিষয় জড়িত। যদি গ্লোবাল নর্থ অস্বীকারের বদলে পুনর্গঠনের পথ বেছে নেয়, তাহলে ফল হতে পারে আরও সৎ ও টেকসই একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থা। আর যদি তা না করে, তাহলে এর পরিণতি কেবল কূটনৈতিক ব্যর্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর ফলে গণতান্ত্রিক সমাজগুলো একসময় নিজেদের বিশেষত্ব হিসেবে যে পরিচয় দিত, তা হারিয়ে যাবে।
প্রশ্নটি আর শুধু এই নয় যে মধ্যপ্রাচ্য বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে বদলে দেবে কিনা বরং বৈশ্বিক ব্যবস্থা নিজেই মধ্যপ্রাচ্যের এই বাস্তবতায় টিকে থাকতে পারবে কিনা- সেটিই হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।
তবুও ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত নয়। একবিংশ শতাব্দীতে প্রাসঙ্গিক থাকতে হলে গণতন্ত্রকে নতুনভাবে কল্পনা করতে হবে। সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, কূটনীতির প্রতি অঙ্গীকার এবং মানব মর্যাদার প্রতি প্রকৃত উদ্বেগ—এসব কোনো কল্পনাপ্রসূত বিলাসিতা নয় বরং কৌশলগত প্রয়োজন। এগুলো ছাড়া গণতন্ত্র কেবল আরেক ধরনের ক্ষমতার রাজনীতিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে, যা একসময় সে নিজেই বিরোধিতা করত।
এখন উচ্চকণ্ঠ বক্তব্য প্রয়োজন নয়, বরং গভীর আত্মসমালোচনা। ইরানকে ঘিরে এই সংকট গণতান্ত্রিক সরকারগুলোকে একটি কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করানো উচিত- কেবল ক্ষমতা দিয়ে বৈধতা টিকিয়ে রাখা যায় না। বিশ্ববাসী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তাদের রায় আগামী কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। যদি গণতান্ত্রিক বিশ্ব জোরজবরদস্তি ও ভঙ্গ প্রতিশ্রুতির পথে এগিয়ে যেতে থাকে, তাহলে তা শুধু ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না—নিজেকেও করবে।
হয় গণতন্ত্র সংযম, সংলাপ ও ধারাবাহিকতার মাধ্যমে তার নৈতিক কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধার করবে, নয়তো বেপরোয়া যুদ্ধ ও আস্থাহীনতায় হারিয়ে যাবে। এখানে দুটি পথের একটি বাছাই করা কঠিন, কিন্তু এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। ইরানের ভবিষ্যৎ—এবং সম্ভবত বৈশ্বিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎও নির্ভর করছে কোন পথটি বেছে নেওয়া হবে তার ওপর।
লেখক: ইসলামি কুটনীতি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক চিন্তাধারার লেখক ও গবেষক
(লেখাটি মিডল ইস্ট মনিটর থেকে অনূদিত)