Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

ন্যাটো জোটে ভাঙনের ছায়া

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ১৮
ন্যাটো জোটে ভাঙনের ছায়া

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান কেবল আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং তা এখন বৈশ্বিক জোট-রাজনীতির ভেতর গভীর ফাটল তৈরি করছে। ইতিহাস বলছে, সুয়েজ সংকট, ভিয়েতনাম যুদ্ধ কিংবা ইরাক আক্রমণের মতো ইউরোপ-বহির্ভূত যুদ্ধগুলো বারবার ন্যাটোর ঐক্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। বরং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান যুদ্ধনীতি ন্যাটোর অস্তিত্বকেই বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে–এমন আশঙ্কা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে।

Advertisement

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইউরোপীয় দেশগুলোর অনাগ্রহ ট্রাম্পকে ক্রুদ্ধ করে তুলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় তারা সক্রিয়ভাবে অংশ না নেওয়ায় হোয়াইট হাউসের বিরক্তি চরমে পৌঁছেছে। সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের কড়া ভাষার আক্রমণ– “কাপুরুষ, আমরা মনে রাখব”–শুধু ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং জোট সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিরও ইঙ্গিত দেয়। এমনকি তিনি প্রকাশ্যেই ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি, যা ইউরোপীয় দেশগুলোতে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অবস্থান পরিবর্তন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একসময় ন্যাটোর দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত রুবিও এখন জোটকে ‘একমুখী রাস্তা’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন এবং যুদ্ধ শেষে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার কথা বলছেন। অথচ ২০২৩ সালে তিনি নিজেই এমন একটি আইন সমর্থন করেছিলেন, যা প্রেসিডেন্টকে একতরফাভাবে ন্যাটো ছাড়তে বাধা দেয়। এখন তার এই অবস্থান পরিবর্তন ইউরোপীয়দের মধ্যে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে–কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে যে কয়েকজন ভারসাম্য রক্ষাকারী ছিলেন, তাদের অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ‘হুমকি’ ট্রাম্পেরdonald-trump

ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া একরকম নয়, বরং ভিন্ন ভিন্ন কৌশল দেখা যাচ্ছে। স্পেন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, এমনকি তাদের ঘাঁটি ও আকাশসীমাও ব্যবহার করতে দেয়নি। ফ্রান্স তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে– একদিকে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন প্রতিরোধে সহায়তা করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে না। ব্রিটেন শুরুতে ঘাঁটি ব্যবহারে আপত্তি জানালেও পরে সীমিতভাবে অনুমতি দিয়েছে, তবে স্পষ্ট করে জানিয়েছে– “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়।” ইতালি পর্যন্ত কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন বিমান চলাচলে বাধা দিয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই ভিন্নমুখী অবস্থানকে কেউ কেউ আবেগপ্রসূত প্রতিক্রিয়া বললেও, বাস্তবে এটি ইউরোপের অভ্যন্তরীণ দ্বিধা ও কৌশলগত হিসাবের প্রতিফলন। তারা একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে ট্রাম্পের অনিশ্চিত ও আক্রমণাত্মক নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায় না। ফলে ন্যাটোর ঐতিহ্যগত ঐক্য দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ছবি: এআই দিয়ে বানানো
ছবি: এআই দিয়ে বানানো

ট্রাম্পের সঙ্গে ন্যাটোর টানাপোড়েন নতুন নয়। প্রথম মেয়াদ থেকেই তিনি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন এবং সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন। যদিও একসময় তিনি নিজেকে ন্যাটোর রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের মতো বিতর্কিত উদ্যোগ ইউরোপীয়দের আস্থায় আঘাত করেছে। ইরান যুদ্ধ সেই জমে থাকা ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপও ইউরোপের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত অস্ত্র সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত, কিংবা যুদ্ধের কারণে মার্কিন মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা– এসব বিষয় ইউরোপকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে। ফলে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধ ন্যাটোকে ভেঙে দিতে পারেnato-ai pic

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ইরান কার্যত এই পথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো এই পথ খোলার পক্ষে থাকলেও, সামরিকভাবে তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা দ্বিধাগ্রস্ত। ফ্রান্স বলছে, যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো সামরিক অভিযান বাস্তবসম্মত নয়। অন্যদিকে ব্রিটেন মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বেই এমন মিশন হওয়া উচিত। এই মতবিরোধ জোটের ভেতরের বিভাজন আরও স্পষ্ট করে।

এই অবস্থায় ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে জোট না ছাড়লেও, ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহার বা সামরিক নেতৃত্ব বদলের মাধ্যমে জোটকে কার্যত অকার্যকর করে দিতে পারে। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মধ্যেও এখন এই আশঙ্কা স্পষ্ট– যে ট্রাম্পের অধীনে ন্যাটো আর আগের মতো থাকবে না।

ফলে ইউরোপ এখন বিকল্প পথ খুঁজছে। তারা নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কথা ভাবছে, ন্যাটোর ‘ইউরোপীয় স্তম্ভ’কে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে। এটি একদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে পারে যে তারা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ভবিষ্যতে যদি যুক্তরাষ্ট্র সরে যায়, তাহলে নিজেরাই নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে পারবে।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক সংঘাত নয়; এটি পশ্চিমা জোটব্যবস্থার ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দিচ্ছে। ন্যাটোর সামনে এখন যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা হয়ত তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় জোট টিকে থাকবে, নাকি ভেঙে পড়বে– তার উত্তর নির্ভর করছে মূলত ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত এবং ইউরোপের প্রস্তুতির ওপর।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

বিষয়: ইউরোপদ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণমধ্যপ্রাচ্যযুদ্ধমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রন্যাটো
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হামলায় কয়েকজন আহত, কার্যক্রম বন্ধ

  • ২

    দেশীয় ব্যবস্থাপনায় লাভজনক এনসিটি, তবু কেন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা?

  • ৩

    ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে কী লাগে? ৫টি যোগ্যতার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনটি?

  • ৪

    বাংলাদেশ লিড নেওয়ার আশায় বাধা রহমতের প্রতিরোধ

  • ৫

    কানাইঘাট সীমান্তে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার

সম্পর্কিত
  • ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?

    ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?

    সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণ আল জাজিরাকে বলেন, “মোদি সরকারকে জনগণের কাছে বেশ ভীত বলে মনে হচ্ছে।”

  • ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

  • মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে তার শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

  • নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্টের স্কোয়াড যখন ঘোষিত হয়, তখন থেকেই আলোচনা ছিল মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের এরকম একটা অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেন মুশফিকুরকে দলে রাখা হলো, সেটা প্রশ্নের উদ্রেক করেছিল। কেননা মুশফিকুরের স্কোয়াডে থাকা মানেই একাদশে থাকাটাও ন