আল হেলাল শুভ

জুলাই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আন্দোলনকে এখনই ‘সরকারবিরোধী আন্দোলন’ বলতে চাইছেন না আন্দোলনকারীরা। যদিও তারা বলছেন, সরকার দাবি না মানলে দেওয়া হবে ‘কঠোর’ কর্মসূচি।
জোটের নেতারা মনে করেন, এই আন্দোলন দীর্ঘ সময় চালিয়ে গেলে সরকার এক সময় দাবি মানতে বাধ্য হবে। না হলে, এই আন্দোলন সরকারের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। জোটের নেতারা আরও মনে করেন, এই আন্দোলন এক সময় সরকারের ব্যর্থতায় বড় আকারের আন্দোলনে পরিণত হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়ে চরচাকে বলেন, “এমন কর্মসূচিতে কিছু হবে না। এগুলো নরম–গরম কর্মসূচি হচ্ছে। বাংলাদেশে নরম-গরম কর্মসূচি কাজ করে না।”
‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১১ দলীয় জোট এরই মধ্যে গণমিছিল, সভা-সমাবেশ, সেমিনার করছে। বিভাগীয় শহরগুলোয় এবং গুরুত্বপূর্ণ জেলায় সদরে গত ২ মে থেকে লিফলেট বিতরণ এবং সেমিনারের কর্মসূচি ঘোষণা করে ১১ দলীয় বিরোধী জোট। এই কর্মসূচির পর বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে সমাবেশও শুরু হয়েছে।
জামায়াতের নেতৃত্বে এই জোট এখন সংসদে বিরোধী দলের আসনে। জোটের ১১টি দল হলো-জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), এবি পার্টি ও লেবার পার্টি। সংসদে সরাসরি নির্বাচিতদের মধ্যে জামায়াতের আসন ৬৮টি। এনসিপির ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুটি ও খেলাফত মজলিসের রয়েছে একটি আসন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতাসীন হয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করে ওই সরকার। গঠন করা হয় বিভিন্ন কমিশন। সব ধরনের সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে এক করতে পরে গঠন করা হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। ওই কমিশন দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর জুলাই সনদ তৈরি করে।
গত বছরের ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদে সই করে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি, বিরোধী দল জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের অনেকেই। যদিও ওই অনুষ্ঠানে এনসিপি সনদে সই করেনি। পরে তারা সনদে স্বাক্ষর করে। ‘জুলাই সনদের’ ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারে মতামত নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের সাথেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে গণভোট অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ শপথ নেয়নি বিএনপি। জামায়াত জোটের সদস্যরা শপথ নেয়। এর পর সংবিধান সংস্কারসহ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদে দাবি তোলে বিরোধী দল। পরে রাজপথেও কর্মসূচি দেয় বিরোধীরা।
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের মিত্র নেতারা বলছেন, তাদের এই আন্দোলন চলবে। এই আন্দোলন ‘বৃহত্তর জনপ্রিয়তা’ পেলে এক সময় এটি সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ পেতে পারে।
কী বলছে জামায়াত
এই আন্দোলনকে এখনই সরকার পতনের আন্দোলন বলতে রাজি নয় বিরোধী রাজনৈতিক জোটের বড় দল জামায়াত। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা ১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন চরচাকে বলেন, আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, এটা ‘নিশ্চিত’।
আন্দোলনে কেমন সাড়া পাচ্ছেন—এমন প্রশ্নে সাইফুল আলম বলেন, ‘‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যু তো শুধু বিরোধী দলের না। এটা তো সকলের ইস্যু। এটা তো গণভোটে পাস হয়েছে। ৭০ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে রায় দিয়েছেন। এটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংসদের। সেটা তারা করেনি। আমরা তো শুরু করলাম, দেখা যাক।”

এদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই সনদের প্রতি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরেও আন্দোলন চলবে কি না, জানতে চাইলে সাইফুল আলম খান বলেন, “যে ধারাপাত প্রধানমন্ত্রী পড়েছেন, আমরা হয়ত সেটা পড়িনি। এটা হতে পারে যে, ধারাপাত হয়ত আলাদা। উনার অক্ষর আর আমাদের অক্ষর আলাদা হতে পারে। সরকারের সামনে তো এত দিন বাস্তবায়ন করার সুযোগ ছিল। সেটা তো করল না। এখন আপনি বললেন, যে আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব, এর অর্থ তো জনগণ বোঝে না, আমরাও বুঝি না।
সাইফুল আলম চরচাকে বলেন, ‘‘এই আন্দোলন সরকারবিরোধী আন্দোলন না। এটা সরকার পতনের আন্দোলনও না। এটা ঈদের পরের আন্দোলনও না। এই আন্দোলন জনগণের আকাঙ্ক্ষা।”
এই আন্দোলন কি সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এখানে সরকার বিরোধী আন্দোলনের প্রশ্ন নেই।” সরকার দাবি না মানলে কী করবেন- এমন প্রশ্নে মিলন বলেন, ‘‘সেটা দেখা যাবে। এখনই সব কিছু বলতে হবে, সেটা তো জরুরি না।”
এনসিপি কী বলছে
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আন্দোলনে সাড়া কেমন—এমন প্রশ্নে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফুল ইসলাম আদীব চরচাকে বলেন, “আমাদের তো ঢাকায় দুইটা বিক্ষোভ হয়েছে। এখন আমাদের বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ শুরু, আর আজকে প্রথম রাজশাহী বিভাগে বিভাগীয় সমাবেশ আছে।”
আন্দোলন কত দিন চলবে, জানতে চাইলে আদীব বলেন, “আপাতত বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশগুলো ধারাবাহিকভাবে হবে। এরপরে ঢাকায় একটা মহাসমাবেশ আছে। এখন পর্যন্ত তো আগামী দুই মাসের কর্মসূচি ঘোষণা আছে। এই দুই মাসের ভেতরে আমরা সরকারের অবস্থান দেখব।”
এই আন্দোলনে পরবর্তীতে কী করা হবে? জবাবে আদীব বলেন, “সেটা পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এই আন্দোলন ভবিষ্যতে সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হবে কি না, এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে মিলেছে কিছুটা কৌশলী উত্তর। এনসিপি নেতা আদীব বলেন, “জনগণ যদি তখন এটাকে...সরকার যদি না মানে, সরকার যদি গণবিরোধী অবস্থান নেয়, তখন স্বাভাবিকভাবে সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।”

অবশ্য এই আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আদীব দেখেন বলেও চরচাকে জানিয়েছেন।
আন্দোলন কতটুকু সাড়া ফেলল, জানতে চাইলে ১১ দলীয় জোটের মিত্র খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদের চরচাকে বলেন, “আন্দোলন তো মাত্র শুরু হলো। শেষ তো হয়নি। দিন দিন এ আন্দোলন বেগবান হবে। সরকার অনড় থাকলে আরও বেগবান হবে। সরকার নমনীয় হলে, শিথিল হবে।”
‘সরকার দাবি না মানলে আন্দোলন তীব্র হবে’
আন্দোলনে কেমন সাড়া পাচ্ছেন- জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মসলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন চরচাকে বলেন, ‘‘যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে লালন করেন, তারা তো এই আন্দোলনে সাড়া দিচ্ছেন। আর যারা এটাকে লালন-ধারণ করেন না, তারা সাড়া দিচ্ছেন না। এটাই তো স্বাভাবিক।”
আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে জানতে চাইলে মাওলানা জালাল উদ্দিন বলেন, ‘‘৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিলো আর বিএনপি সেটার সঙ্গে বেঈমানি করল। এটা জনগণকে জানাতে বিভাগীয় সমাবেশ দিয়েছি। সরকারকে মানানোর জন্য আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে বাধ্য করব। আর সরকার যদি না মানে, সে ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষতি হবে।”
সরকার দাবি না মানলে এই আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠবে বলে মনে করেন জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘‘এই আন্দোলন তীব্রতর হলে অটোমেটিক অন্যদিকে ডাইভার্ট (দিক পরিবর্তন) করবে। তখন আর জুলাই সনদ গণরায় বাস্তবায়নের আন্দোলন থাকবে না। এই আন্দোলন থেমে যাবে না।”
তবে সরবকারকে সময় দেওয়া দরকার বলেও মনে করছেন জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “অনেকে মনে করছেন, সরকার তো মাত্র শুরু করল। তাদের সময় দেওয়া দরকার। আমরাও সেটা মনে করি। তবে সরকারকে এ সময় দেওয়া হলো কাজের জন্য। কিন্তু সরকার জুলাই সনদ নিয়ে যেভাবে ইউটার্ন করেছে, সেখানে তো সময় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। আমরা এই আন্দোলনে আরও কঠিন কর্মসূচিতেও যাব।”

জুলাই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আন্দোলনকে এখনই ‘সরকারবিরোধী আন্দোলন’ বলতে চাইছেন না আন্দোলনকারীরা। যদিও তারা বলছেন, সরকার দাবি না মানলে দেওয়া হবে ‘কঠোর’ কর্মসূচি।
জোটের নেতারা মনে করেন, এই আন্দোলন দীর্ঘ সময় চালিয়ে গেলে সরকার এক সময় দাবি মানতে বাধ্য হবে। না হলে, এই আন্দোলন সরকারের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। জোটের নেতারা আরও মনে করেন, এই আন্দোলন এক সময় সরকারের ব্যর্থতায় বড় আকারের আন্দোলনে পরিণত হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়ে চরচাকে বলেন, “এমন কর্মসূচিতে কিছু হবে না। এগুলো নরম–গরম কর্মসূচি হচ্ছে। বাংলাদেশে নরম-গরম কর্মসূচি কাজ করে না।”
‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১১ দলীয় জোট এরই মধ্যে গণমিছিল, সভা-সমাবেশ, সেমিনার করছে। বিভাগীয় শহরগুলোয় এবং গুরুত্বপূর্ণ জেলায় সদরে গত ২ মে থেকে লিফলেট বিতরণ এবং সেমিনারের কর্মসূচি ঘোষণা করে ১১ দলীয় বিরোধী জোট। এই কর্মসূচির পর বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে সমাবেশও শুরু হয়েছে।
জামায়াতের নেতৃত্বে এই জোট এখন সংসদে বিরোধী দলের আসনে। জোটের ১১টি দল হলো-জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), এবি পার্টি ও লেবার পার্টি। সংসদে সরাসরি নির্বাচিতদের মধ্যে জামায়াতের আসন ৬৮টি। এনসিপির ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুটি ও খেলাফত মজলিসের রয়েছে একটি আসন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতাসীন হয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করে ওই সরকার। গঠন করা হয় বিভিন্ন কমিশন। সব ধরনের সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে এক করতে পরে গঠন করা হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। ওই কমিশন দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর জুলাই সনদ তৈরি করে।
গত বছরের ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদে সই করে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি, বিরোধী দল জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের অনেকেই। যদিও ওই অনুষ্ঠানে এনসিপি সনদে সই করেনি। পরে তারা সনদে স্বাক্ষর করে। ‘জুলাই সনদের’ ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারে মতামত নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের সাথেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে গণভোট অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ শপথ নেয়নি বিএনপি। জামায়াত জোটের সদস্যরা শপথ নেয়। এর পর সংবিধান সংস্কারসহ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদে দাবি তোলে বিরোধী দল। পরে রাজপথেও কর্মসূচি দেয় বিরোধীরা।
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের মিত্র নেতারা বলছেন, তাদের এই আন্দোলন চলবে। এই আন্দোলন ‘বৃহত্তর জনপ্রিয়তা’ পেলে এক সময় এটি সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ পেতে পারে।
কী বলছে জামায়াত
এই আন্দোলনকে এখনই সরকার পতনের আন্দোলন বলতে রাজি নয় বিরোধী রাজনৈতিক জোটের বড় দল জামায়াত। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা ১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন চরচাকে বলেন, আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, এটা ‘নিশ্চিত’।
আন্দোলনে কেমন সাড়া পাচ্ছেন—এমন প্রশ্নে সাইফুল আলম বলেন, ‘‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যু তো শুধু বিরোধী দলের না। এটা তো সকলের ইস্যু। এটা তো গণভোটে পাস হয়েছে। ৭০ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে রায় দিয়েছেন। এটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংসদের। সেটা তারা করেনি। আমরা তো শুরু করলাম, দেখা যাক।”

এদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই সনদের প্রতি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরেও আন্দোলন চলবে কি না, জানতে চাইলে সাইফুল আলম খান বলেন, “যে ধারাপাত প্রধানমন্ত্রী পড়েছেন, আমরা হয়ত সেটা পড়িনি। এটা হতে পারে যে, ধারাপাত হয়ত আলাদা। উনার অক্ষর আর আমাদের অক্ষর আলাদা হতে পারে। সরকারের সামনে তো এত দিন বাস্তবায়ন করার সুযোগ ছিল। সেটা তো করল না। এখন আপনি বললেন, যে আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব, এর অর্থ তো জনগণ বোঝে না, আমরাও বুঝি না।
সাইফুল আলম চরচাকে বলেন, ‘‘এই আন্দোলন সরকারবিরোধী আন্দোলন না। এটা সরকার পতনের আন্দোলনও না। এটা ঈদের পরের আন্দোলনও না। এই আন্দোলন জনগণের আকাঙ্ক্ষা।”
এই আন্দোলন কি সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এখানে সরকার বিরোধী আন্দোলনের প্রশ্ন নেই।” সরকার দাবি না মানলে কী করবেন- এমন প্রশ্নে মিলন বলেন, ‘‘সেটা দেখা যাবে। এখনই সব কিছু বলতে হবে, সেটা তো জরুরি না।”
এনসিপি কী বলছে
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আন্দোলনে সাড়া কেমন—এমন প্রশ্নে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফুল ইসলাম আদীব চরচাকে বলেন, “আমাদের তো ঢাকায় দুইটা বিক্ষোভ হয়েছে। এখন আমাদের বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ শুরু, আর আজকে প্রথম রাজশাহী বিভাগে বিভাগীয় সমাবেশ আছে।”
আন্দোলন কত দিন চলবে, জানতে চাইলে আদীব বলেন, “আপাতত বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশগুলো ধারাবাহিকভাবে হবে। এরপরে ঢাকায় একটা মহাসমাবেশ আছে। এখন পর্যন্ত তো আগামী দুই মাসের কর্মসূচি ঘোষণা আছে। এই দুই মাসের ভেতরে আমরা সরকারের অবস্থান দেখব।”
এই আন্দোলনে পরবর্তীতে কী করা হবে? জবাবে আদীব বলেন, “সেটা পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এই আন্দোলন ভবিষ্যতে সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হবে কি না, এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে মিলেছে কিছুটা কৌশলী উত্তর। এনসিপি নেতা আদীব বলেন, “জনগণ যদি তখন এটাকে...সরকার যদি না মানে, সরকার যদি গণবিরোধী অবস্থান নেয়, তখন স্বাভাবিকভাবে সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।”

অবশ্য এই আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আদীব দেখেন বলেও চরচাকে জানিয়েছেন।
আন্দোলন কতটুকু সাড়া ফেলল, জানতে চাইলে ১১ দলীয় জোটের মিত্র খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদের চরচাকে বলেন, “আন্দোলন তো মাত্র শুরু হলো। শেষ তো হয়নি। দিন দিন এ আন্দোলন বেগবান হবে। সরকার অনড় থাকলে আরও বেগবান হবে। সরকার নমনীয় হলে, শিথিল হবে।”
‘সরকার দাবি না মানলে আন্দোলন তীব্র হবে’
আন্দোলনে কেমন সাড়া পাচ্ছেন- জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মসলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন চরচাকে বলেন, ‘‘যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে লালন করেন, তারা তো এই আন্দোলনে সাড়া দিচ্ছেন। আর যারা এটাকে লালন-ধারণ করেন না, তারা সাড়া দিচ্ছেন না। এটাই তো স্বাভাবিক।”
আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে জানতে চাইলে মাওলানা জালাল উদ্দিন বলেন, ‘‘৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিলো আর বিএনপি সেটার সঙ্গে বেঈমানি করল। এটা জনগণকে জানাতে বিভাগীয় সমাবেশ দিয়েছি। সরকারকে মানানোর জন্য আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে বাধ্য করব। আর সরকার যদি না মানে, সে ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষতি হবে।”
সরকার দাবি না মানলে এই আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠবে বলে মনে করেন জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘‘এই আন্দোলন তীব্রতর হলে অটোমেটিক অন্যদিকে ডাইভার্ট (দিক পরিবর্তন) করবে। তখন আর জুলাই সনদ গণরায় বাস্তবায়নের আন্দোলন থাকবে না। এই আন্দোলন থেমে যাবে না।”
তবে সরবকারকে সময় দেওয়া দরকার বলেও মনে করছেন জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “অনেকে মনে করছেন, সরকার তো মাত্র শুরু করল। তাদের সময় দেওয়া দরকার। আমরাও সেটা মনে করি। তবে সরকারকে এ সময় দেওয়া হলো কাজের জন্য। কিন্তু সরকার জুলাই সনদ নিয়ে যেভাবে ইউটার্ন করেছে, সেখানে তো সময় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। আমরা এই আন্দোলনে আরও কঠিন কর্মসূচিতেও যাব।”