অস্ট্রেলিয়া আজ সোমবার পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০৬০-এর দশকে প্রথমবারের মতো দেশটিতে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হবে। জনসংখ্যার এই পরিবর্তন এমন একটি অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে, যেখানে জনসংখ্যার বার্ধক্য, জন্মহার কমে যাওয়া এবং অভিবাসন কমানোর মতো বিষয়গুলো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
কয়েক দশক ধরে অস্ট্রেলিয়া কম জন্মহারের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে অভিবাসনের ওপর নির্ভর করে জনসংখ্যা বাড়িয়েছে। কিন্তু এখন অভিবাসনের হার কমে আসায় দেশটি জাপান, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর পথেই এগোচ্ছে। ওই সব দেশে ইতিমধ্যে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।
সোমবার প্রকাশিত ‘ইন্টারজেনারেশনাল রিপোর্ট’-এ অস্ট্রেলিয়ার ট্রেজারি বিভাগ আগামী চার দশকে দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে—এমন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চিহ্নিত করেছে। এগুলো হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ভূরাজনৈতিক বিভাজন, জ্বালানি রূপান্তর, জনসংখ্যার বার্ধক্য এবং সেবাভিত্তিক অর্থনীতির দিকে পরিবর্তন।
ট্রেজারি এখন ধারণা করছে, জন্মহার কমে যাওয়া এবং নিট বিদেশি অভিবাসন, অর্থাৎ দেশে আসা অভিবাসী ও দেশ ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যার পার্থক্য—কমতে কমতে পরে স্থিতিশীল হওয়ায় আগামী চার দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বছরে গড়ে ০.৯ শতাংশে নেমে আসবে। গত ৪০ বছরে এই হার ছিল গড়ে ১.৪ শতাংশ।
ট্রেজারার জিম চালমার্স এক বক্তৃতায় বলেন, “প্রথমবারের মতো ২০৬০-এর দশকে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “২০৬৬ সালের মধ্যে ৮৫ বছরের বেশি বয়সী অস্ট্রেলীয়দের সংখ্যা তিন গুণ হবে, ফলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর আরও চাপ তৈরি হবে।”
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পিট স্ট্রিট মলে পথচারীদের চলাচল। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
বামঘেঁষা লেবার সরকার গত সপ্তাহে অভিবাসনবিষয়ক নিয়ম কঠোর করেছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ডানপন্থী জনতুষ্টিবাদী দল ওয়ান নেশনের প্রতি বাড়তে থাকা সমর্থন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। দলটি অভিবাসন ব্যাপকভাবে কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আলবানিজের জনপ্রিয়তা চলতি সপ্তাহে কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ায় পরিচর্যা সেবার চাহিদাও বাড়বে। বেশি বয়স্ক জনসংখ্যার অঞ্চলগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ও বয়স্কদের পরিচর্যা খাতে শ্রমিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে। এসব খাত অভিবাসী কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
এ ছাড়া, ভবিষ্যৎ বাজেটে কর কমানোর বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেশি বন্ধকী ঋণের সুদহার এবং ব্যয়বহুল আবাসনের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া অস্ট্রেলীয়দের আরও স্বস্তি দিতে লেবার সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।