
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক দলের সম্মানে ইসলামাবাদে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
এই কর্মসূচিটি দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তির একটি অংশ, যার লক্ষ্য হলো উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সদিচ্ছা এবং জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ককে আরও জোরদার করা।
ফারজানা নাজ শম্পা, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, কানাডা

কানাডায় একজন নতুন অভিবাসীর জীবনের শুরুর পথচলা সবসময় সহজ হয় না। একটি সম্পূর্ণ নতুন সংস্কৃতি ও অপরিচিত পরিবেশে এসে স্বপ্নের ক্যারিয়ার বা পেশাজীবন শুরু করা এবং উপযুক্ত থাকার জায়গা খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে পদে পদে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। দেশে পেশাগত যোগ্যতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কানাডার স্থানীয় অভিজ্ঞতা এবং ক্রেডিট হিস্ট্রি (আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড) না থাকায় কাঙ্ক্ষিত চাকরি ও আবাসন পেতে অনেকের চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। দীর্ঘ দিনের এই মানসিক চাপ, ভাষার অমিল এবং একাকীত্ব অনেক সময় তাদের তীব্র হতাশা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলে দেয়। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে সঠিক দিকনির্দেশনা ও সামাজিক সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলো গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখে।
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার গ্রেটার ভ্যানকুভারে অবস্থানরত বাংলাদেশের অভিবাসী ও মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো গ্রেটার ভ্যানকুভার বাংলাদেশ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। গ্রেটার ভ্যানকুভারে বসবাসরত বাংলাদেশের নতুন অভিবাসীদের মূলধারায় অন্তর্গত করার এবং সার্বিক মানবকল্যাণে সংগঠনটি দীর্ঘ সময় ধরে নিবেদিত রয়েছে।
সভাপতি মাহমুদুল হক লিটনের কর্মনিষ্ঠা ও সুদক্ষ নেতৃত্বে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে জনকল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সাইমন ফ্রেসার ইউনিভার্সিটির 'সাব বলরুমে' জিভিবিসিএ-এর উদ্যোগে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্যারিয়ার অ্যান্ড সেটেলমেন্ট ওয়ার্কশপ ২০২৬। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই কর্মশালা বা ওয়ার্কশপের মাধ্যমে কানাডায় নতুন আসা অভিবাসী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের জীবন ও কর্মজীবনে আবাসনভিত্তিক অনিশ্চয়তা দূর করে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করা হয়।
শিক্ষার্থী, নতুন অভিবাসী ও কমিউনিটির সদস্যদের কানাডায় ক্যারিয়ার গঠন, সঠিকভাবে এবং স্থায়ী আবাসন ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, দিকনির্দেশনা ও বাস্তবভিত্তিক সহায়তা প্রদান করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানটি মূলত দুটি পর্বে বিভক্ত ছিল।

কর্মশালায় পেশাদার জীবনবৃত্তান্ত ও আবেদনপত্র (কভার লেটার) তৈরি, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট, চাকরি খোঁজার কৌশল, নিয়োগ প্রক্রিয়া, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, ইমিগ্রেশন, আবাসন এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নতুন অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অভিবাসীরা কীভাবে কানাডার বিভিন্ন সংস্থা ও সেবা খাতের সাথে সংযুক্ত হতে পারবেন, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিতে অনুষ্ঠানে শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কর্মরত অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ, এইচআর (মানবসম্পদ) প্রতিনিধি ও ক্যারিয়ার কাউন্সিলরদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
এ ছাড়া, সাইমন ফ্রেসার ইউনিভার্সিটির (এসএফইউ) শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও কানাডার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক দিকনির্দেশনা ও বক্তব্য প্রদান করেন।
সরাসরি প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা কানাডার চাকরির বাজার ও জীবনের নানা দিক সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জনের সুযোগ পান। ভ্যানকুভারের বিভিন্ন পেশায় কর্মরত অভিবাসী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের পেশার তথ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন স্লাইড উপস্থাপন করেন এবং মূল্যবান বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তা ও গুণীজনদের মধ্যে ছিলেন—মানসিক ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিসি পাবলিক সার্ভিসেসের সার্টিফাইড কাউন্সিলর (শিশু ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ) ফাইজা চৌধুরী (এমসি, সিসিসি), ফ্রেজার হেলথ অথরিটির এইচআর অ্যান্ড বিজনেস অপারেশনস স্পেশালিস্ট স্যাম অ্যান্টো, বিসিসিডিসি-এর ড. মুহাম্মদ মোর্শেদ পিএইচডি, ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান ড. আতিকুর রহমান, ক্লিনিক্যাল কাউন্সিলর তানিয়া দিনা (এমএসডব্লিউ, এমপিএ, আরসিসি, আরএসডব্লিউ) এবং পিএইচএসএ-এর পেশেন্ট কেয়ার কোয়ালিটি লিয়াজোঁ নাফিসা নাজমুল (এমএ, পিএমপি)। ইমিগ্রেশন ও সেটেলমেন্টে নিবন্ধিত কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট (আরসিআইসি) আলী আশরাফ খান ও মাহবুবুল ইসলাম, সাউথ ভ্যানকুভার নেইবারহুড হাউসের অ্যাক্টিভিটিজ কোঅর্ডিনেটর ও ক্যারিয়ার কাউন্সিলর সৈয়দা সামিয়া আলী এবং এমপ্লয়মেন্ট অ্যাডভাইজর রেনু শর্মা।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার (ইউবিসি) এইচআর কোঅর্ডিনেটর অ্যান্ড অ্যানালিস্ট ফারজানা ফেন্সি, মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী জওয়াতা আফনান, অপশনস কমিউনিটি সার্ভিসেসের হিউম্যান রিসোর্সেস স্পেশালিস্ট ফারহান আহমেদ (সিপিএইচআর, এমএএস), ওয়াইপিও ইনকরপোরেটেডের এইচআর স্পেশালিস্ট কাজী নাহিদুল হক (সিপিএইচআর, এসএইচআরএম–এসসিপি), কানাক্স স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের এইচআর ফয়েজ আব্দুল এবং হেরিটেজ কমিউনিটি কলেজের অ্যাডমিশনস অ্যাডভাইজর নিত্যা ওবেরয় ও ফাইরুজ তাহসিন।

কর্পোরেট, প্রযুক্তি, অর্থ ও আবাসনে বার্গার কিং-এর ম্যানেজার রুবেল আহমেদ, কস্টকো-এর ফ্রন্ট অ্যান্ড সুপারভাইজার সালমান, কুয়া স্মার্ট সার্ভিসেসের এনার্জি ম্যানেজার শামস ইসলাম, সিবিআরই-এর থার্মাল এনার্জি ম্যানেজার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ভুঁইয়া, ইওয়াই-এর স্টাফ অ্যাকাউন্ট্যান্ট আবরার শাহরিয়ার ইব্রাহিম, ডি-ওয়েভ-এর আরঅ্যান্ডডি ল্যাব অপস টিমের ইন্টার্ন মো. রৌনক অবতাহী দিগন্ত, স্নোটেক্স গ্রুপ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চেয়ারম্যান এস এম খালেদ, রিয়াজুল ট্যাক্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিংয়ের রিয়াজুল রাসেল (সিপিএ, সিজিএ) এবং রিয়েলটর জহির উদ্দিন ও আজাদ শেখ।
বক্তারা তাদের অতীত কাজ ও কানাডায় কর্ম–অভিজ্ঞতার আলোকে মূল্যবান তথ্যবহুল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
কয়েক শ নবাগত অভিবাসী এবং স্থানীয় অনেকের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি একটি জমজমাট ও তথ্যসমৃদ্ধ আয়োজনে পরিণত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে ভ্যানকুভারের জনপ্রিয় বাংলা স্কুলসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আলাদা বুথ রাখা হয়েছিল। সেখানে অতিথিরা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সব তথ্য লাভের সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ পর্বে ২০২৬ সালে হাইস্কুল (গ্রেড ১২) এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (ইউবিসি) থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট (স্নাতক) পর্যায় সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের ও অভিবাসীদের সন্তানদের তাদের অসামান্য শিক্ষাগত অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সামগ্রিক আয়োজনে জিভিবিসিএ-এর সভাপতি মাহমুদুল হক লিটন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আবিদ হুসাইন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সম্মানিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তারা কমিউনিটির শিক্ষার্থী, নতুন অভিবাসী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য ভবিষ্যতে আরও কার্যকর এবং সময়োপযোগী কর্মসূচি আয়োজনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই বিশেষ কর্মশালাটি কমিউনিটির কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া ও প্রশংসা লাভ করেছে। আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা সবাই এই ধরনের উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী, প্রয়োজনীয় ও কানাডার জীবনের সঠিক রূপরেখা গঠনে অত্যন্ত উপকারী বলে অভিহিত করেন। জিভিবিসিএ-এর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের সকল অতিথি, বক্তা, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবক, স্পন্সর, পৃষ্ঠপোষক এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে মাঝপর্যায়ে চা ও কফির বিড়তি রাখা হয়। সব শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য দেশি স্বাদের খাবার ব্যবস্থা করা হয়।

ভ্যানকুভারে জিভিবিসিএ আগামী দিনেও শিক্ষার্থী, নতুন অভিবাসী এবং পুরো বাংলা কমিউনিটির সার্বিক কল্যাণে এ ধরনের পেশাভিত্তিক, তথ্যসমৃদ্ধ ও সুদূরপ্রসারী সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্য তাদের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এই সফল ও সুন্দর উদ্যোগ নবাগত অভিবাসীদের সকল অনিশ্চয়তা কাটিয়ে কানাডার ভানকুভারে নতুন জীবনের পথ চলাকে নিশ্চিতভাবেই সহজ ও সুগম করে তুলবে।

তাদের এই উদ্যোগের প্রতি আমাদের আন্তরিক শুভ কামনা। এই আয়োজনের প্রতিবেদনে সার্বিক তথ্য দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করার জন্য আমি সংগঠনের সভাপতি মাহমুদুল হক লিটন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আবিদ হুসাইনের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক দলের সম্মানে ইসলামাবাদে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
এই কর্মসূচিটি দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তির একটি অংশ, যার লক্ষ্য হলো উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সদিচ্ছা এবং জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ককে আরও জোরদার করা।

নিহত প্রবাসীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ পেতে সহযোগিতা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি আরবে নিহত নুরুল হকের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ে মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে পরিবারটি ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণ করে।

গ্রিসের এজিয়ান সাগরে অভিবাসীবাহী নৌকা দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ১২
তুরস্ক থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় অভিবাসন প্রত্যাশীদের কাছে এজিয়ান সাগর একটি বহুল ব্যবহৃত সমুদ্রপথ। তবে এই বিপজ্জনক পথে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের আইনি সুরক্ষা ও সমান অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
চুক্তিতে নারী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে উল্লেখ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ সমান সুযোগ পাবেন।