
মেধা ও মানসিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখার উপায়
বয়স বাড়লে মানসিক ক্ষমতা কমে যাওয়া খুব সাধারণ একটি বিষয়, যা বার্ধক্যের অন্যতম একটি ভীতিজনক দিক। তবে বুদ্ধিমত্তা বা চিন্তাশক্তি কমে যাওয়া কিন্তু একেবারেই অনিবার্য নয়।
মহাকাশ ভ্রমণ দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কল্পনার জগতে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানিগুলোর দ্রুত উত্থানের ফলে সেই কল্পনা এখন বাস্তবের দিকে এগোচ্ছে। সায়েন্টিফিক আমেরিকান-এ প্রকাশিত জোনাথান ও’কালাঘানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অদূর ভবিষ্যতে মহাকাশে হোটেল তৈরির পরিকল্পনা বাস্তব রূপ নিতে চলেছে। তবে এই স্বপ্নের পেছনে যেমন রয়েছে অভূতপূর্ব সম্ভাবনা, তেমনি রয়েছে বহু জটিল প্রযুক্তিগত ও বাস্তব সীমাবদ্ধতা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মের বেসরকারি মহাকাশ স্টেশনগুলো– যেগুলোকে ‘অরবিটাল হ্যাবিট্যাট’ বলা হচ্ছে, শুধু মহাকাশচারীদের জন্য নয়, ধনী পর্যটকদের জন্যও উন্মুক্ত হতে পারে। এই স্টেশনগুলোতে কাঠের প্যানেলিং, আরামদায়ক ইন্টেরিয়র, উন্নতমানের স্লিপিং পড এবং পৃথিবীর অসাধারণ দৃশ্য দেখার জন্য বড় জানালা থাকবে। অনেকটা বিলাসবহুল হোটেলের অভিজ্ঞতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মতো।
তবে বাস্তবতা হলো, বর্তমান ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন বা আইএসএসের অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন। এটি সংকীর্ণ, গন্ধযুক্ত এবং সীমিত আরামের পরিবেশে পরিচালিত হয়, যা মহাকাশে বিলাসিতার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।
এই বৈপরীত্যই যে প্রশ্ন ওঠে– মহাকাশে সত্যিই কি বিলাসবহুল জীবন সম্ভব? মহাকাশ শিল্প বিশেষজ্ঞ এবং নাসার সাবেক ব্যবস্থাপক জেফ নোসানভ এই ধারণা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, একটি কার্যকর মহাকাশ স্টেশন পরিচালনা করাই অত্যন্ত কঠিন কাজ, সেখানে বিলাসিতা যোগ করা আরও জটিল। মহাকাশে বায়ুমণ্ডল নিয়ন্ত্রণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং যান্ত্রিক ব্যবস্থাগুলো সচল রাখা– সবই বড় চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতিতে, নতুন বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনগুলোর পরিকল্পনা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক কোম্পানি ভাস্ট তাদের ‘হেভেন–১’ স্টেশন ২০২৭ সালের শুরুতে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে। এছাড়া টেক্সাসের অ্যাক্সিওম স্পেস -এর অ্যাক্সিয়ম স্টেশন এবং ব্লু ওরিজিন-এর নেতৃত্বাধীন অরবিটাল রিফ প্রকল্পও এই দশকের মধ্যেই চালু করার লক্ষ্য নিয়েছে। একইসঙ্গে ভয়েজার টেকনোলজিস তাদের ‘স্টারল্যাব স্পেস স্টেশন’ তৈরির কাজ করছে, যা ২০২৯ সালে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
এই নতুন স্টেশনগুলো মূলত আইএসএসের উত্তরসূরি হিসেবে তৈরি হচ্ছে, কারণ ২০৩০-এর দশকে আইএসএস–এর অবসর নেওয়ার কথা। ফলে মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মহাকাশ স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব সরকারি সংস্থা থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই স্টেশনগুলো সাধারণত পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫০ মাইল উচ্চতায় কক্ষপথে ঘুরবে এবং একসঙ্গে ৪ থেকে ১০ জন মানুষকে ধারণ করতে পারবে। পরিবহন ব্যবস্থায় স্পেস এক্স-এর ক্রিউ ড্রাগন বা বোয়িং-এর স্টারলিনার ব্যবহৃত হতে পারে। শুরুতে কয়েক সপ্তাহের জন্য ভ্রমণ হলেও ভবিষ্যতে তা কয়েক মাস বা বছরের জন্যও বাড়ানো যেতে পারে।
তবে এই বিলাসবহুল ভ্রমণের খরচ হবে অত্যন্ত বেশি– প্রতিজনের জন্য প্রায় ১০ কোটি ডলার পর্যন্ত। ফলে সম্ভাব্য গ্রাহকের সংখ্যা সীমিত থাকবে। নিউইয়র্ক-ভিত্তিক কোম্পানি স্পেস ভিআইপি-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা রোমান চিপরুখার মতে, বিশ্বে হয়তো হাতেগোনা এক হাজার মানুষ আছেন যারা এই ধরনের ব্যয় বহন করতে সক্ষম।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো– এই হোটেলগুলো শুধুমাত্র পর্যটনের জন্য নয়। গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি উৎপাদন (যেমন সেমিকন্ডাক্টর বা ওষুধ) এবং সরকারি মহাকাশ কর্মসূচির জন্যও ব্যবহৃত হবে। ফলে এগুলোকে কেবল ‘মহাকাশ হোটেল’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। বরং এগুলো হবে বহুমুখী বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।
তবে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো এখনো বড় বাধা। মহাকাশে ঘুমের সমস্যা একটি বড় বিষয়, কারণ দিনে ১৫-১৬ বার সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত ঘটে। তাই কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে দিন-রাতের চক্র তৈরি করতে হবে। একইভাবে, টয়লেট ব্যবস্থাও অত্যন্ত জটিল এবং অস্বস্তিকর– যা বিলাসবহুল অভিজ্ঞতার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো রক্ষণাবেক্ষণ। আইএসএসে মহাকাশচারীদের অধিকাংশ সময় ব্যয় হয় স্টেশন সচল রাখার কাজে। নতুন স্টেশনগুলোতেও একই চ্যালেঞ্জ থাকবে। ফলে শুধু পর্যটক নয়, দক্ষ মহাকাশচারীদের উপস্থিতি অপরিহার্য হবে।
এই প্রেক্ষাপটে, মহাকাশ হোটেলের ধারণা যতটা আকর্ষণীয়, বাস্তবতা ততটাই কঠিন। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, উচ্চ ব্যয়, সীমিত গ্রাহক এবং জটিল অপারেশন– সব মিলিয়ে এটি একটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি মানব সভ্যতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি
অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে সুপারকারসে রোমাঞ্চ, শেষ রেসে ব্রক ফিনির জয়
দ্বিপক্ষীয় নাকি বহুপক্ষীয়, কোন কূটনীতির পথে বিএনপি সরকার?
‘দেশের অসংখ্য নাগরিক সৌদিতে কারাগারে আছেন’
শ্রেণিকক্ষে ফিরলেও চুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলবে

মেধা ও মানসিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখার উপায়
বয়স বাড়লে মানসিক ক্ষমতা কমে যাওয়া খুব সাধারণ একটি বিষয়, যা বার্ধক্যের অন্যতম একটি ভীতিজনক দিক। তবে বুদ্ধিমত্তা বা চিন্তাশক্তি কমে যাওয়া কিন্তু একেবারেই অনিবার্য নয়।

সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের গুরুত্ব কতটা?
গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সিনিয়র সিটিজেন সপ্তাহ। সারা বিশ্ব ব্যাপী এটা পালিত হয় প্রবীণ নাগরিকদের সন্মান জানিয়ে। সেই উপলক্ষে প্রবীণ নাগরিকদের সবাইকে জানাই ‘সিনিয়র সিটিজেন’ সপ্তাহের শুভেচ্ছা!

সম্রাট শাহজাহানের পছন্দের কাচ্চি বিরিয়ানি রাঁধে কীভাবে?
ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, সম্রাট শাহজাহানের হেঁশেলেই আজকের মাটন বিরিয়ানির আদি রূপ রান্না হতো। আর এর প্রমাণ মেলে ওই আমলের কুকবুক ‘নুশখা-ই-শাহজাহানি’তে। ‘নি’মতনামা-ই-নাসির শাহি’, ‘আইন-ই-আকবরি’তেও অনেক খাবারের উল্লেখ থাকলেও ‘বিরিয়ানি’ পাওয়া যায় না।

শিশুর ডেঙ্গু হলে করণীয় কী?
অনেক অভিভাবক শুরুতে জ্বরকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর মনে করে বাড়িতেই চিকিৎসা চালিয়ে যান। কিন্তু ডেঙ্গুতে দেরিতে চিকিৎসা শুরু হলে ঝুঁকি বেড়ে যায়, বিশেষ করে প্লাটিলেট কমে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।