উপার্চায বদলের প্রতিবাদে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার শিক্ষকদের প্রতি লেখা এক খোলা চিঠিতে শ্রেণিকক্ষে ফেরার পরিবেশ তৈরিতে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন শিক্ষার্থীরা।
একই দাবিতে কর্মবিরতিতে থাকা চুয়েট শিক্ষক সমিতিও শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কবে থেকে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মাহতাব চরচাকে বলেন, “শ্রেণিকক্ষে ফেরার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীরা খোলা চিঠি দিয়েছে। আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে শ্রেণিকক্ষে ফেরার জন্য শিক্ষক সমিতিকে চিঠি দেয়া হয়েছে।” তবে কবে নাগাদ ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।
মাহতাব বলেন, “৩৪ দিন ধরে আমরা আন্দোলনে আছি, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। আমাদের শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করেই ফেরার কথা বলেছি। ক্লাস-পরীক্ষা চললেও উপার্চায বদলের প্রতিবাদে আন্দোলন চলমান থাকবে। তবে নতুন নিয়োগ পাওয়া উপার্চায ক্যাম্পাসে এলে আবারো ক্লাশ-পরীক্ষা বন্ধ করা হবে।”
চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক সামিউন বাসির চরচাকে বলেন, “আমাদের সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে ফিরতে চায় বলে জানিয়েছে। এর বাইরে কিছু সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে জানানো হবে।”
গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে বাদ দিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পর দিন থেকে এক দফা দাবিতে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। আন্দোলনের কারণে চুয়েটের ক্লাস পরীক্ষাসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক র্কাযক্রম বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজার জন্য চুয়েট বন্ধ রয়েছে। আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ থাকবে। আগামী মঙ্গলবার থেকে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারার সম্ভাবনা রয়েছে।