চীনে টাইফুন নারা স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় আরেকটি ঝড় দেশটির পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি উপকূল ও দক্ষিণাঞ্চলে কয়েক দিন ধরে তীব্র বৃষ্টিপাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
টাইফুন নারা গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ প্রদেশ হাইনানে ক্রান্তীয় ঝড় হিসেবে আঘাত হানে। এর আগে কয়েক দিন ধরে এটি বেইবু উপসাগরের ওপর অবস্থান করছিল। এ সময় গুয়াংশি, হাইনান ও গুয়াংডংজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
চীনের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, নারা ও এর সঙ্গে থাকা টাইফুন সাউদেল এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় গায়েনারি ও আতসানি—এই চারটি ঝড় একই সময়ে উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরজুড়ে ঘূর্ণায়মান থাকায় এটি একটি বিরল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
একসঙ্গে একাধিক ঝড়ের এই পরিস্থিতিতে গুয়াংশি ও হাইনানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, পর্যটন কার্যক্রম স্থগিত এবং কয়েক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে গুয়াংশির নদীগুলোর পানি সতর্কতামূলক সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে।
চীনের পূর্ব উপকূলীয় ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান প্রদেশের মধ্যবর্তী কোনো একটি স্থানে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে টাইফুন সাউদেল আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার মডেলগুলো বলছে, ঝড়টির বাইরের বৃষ্টিবলয় গুয়াংশি পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
আজ বুধবার ভোরে সাউদেল জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। এর ফলে আবহাওয়া সংস্থাগুলো ধ্বংসাত্মক বাতাস ও উত্তাল সমুদ্রের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করে। ঝড়টি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাগোশিমা প্রিফেকচারের আমামি দ্বীপপুঞ্জও ঝড়ের শক্তিশালী বাতাসের আওতায় পড়ে। কিউশু ইলেকট্রিকের তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রায় ৩৫ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে।
এদিকে বুধবার ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের বিভিন্ন বিমানবন্দরগামী মোট ৯২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, দেশটির প্রধান বিমান সংস্থা অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) প্রিফেকচারের প্রধান প্রবেশদ্বার নাহা বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়া সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, সাউদেল তাইওয়ানের উত্তরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে ঝড়ের পরিধি কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণ তাইওয়ানের কিছু অংশে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে।