টাইফুন নারার কারণে ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট ব্যাপক বন্যা চীনের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে আজ মঙ্গলবার আরও তীব্র হয়েছে। বন্যায় বাড়িঘর ও দোকানপাট পানিতে তলিয়ে গেছে এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে আরেকটি ঝড় জাপান ও তাইওয়ানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
চীনের গুয়াংসি অঞ্চলের চুংজুও শহরটি বিশাল জলপ্রপাত ও কার্স্ট চুনাপাথরের পাহাড়ের জন্য বিখ্যাত। সেখানে পানির উচ্চতা ২০০৮ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বন্যার পানি বাড়তে থাকায় গুয়াংসি অঞ্চলে মোট ৫৪ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নারা কয়েক দিন ধরে দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত বেইবু উপসাগরের ওপর অবস্থান করছে। এটি টনকিন উপসাগর নামেও পরিচিত। এর ফলে গুয়াংসি এবং আশপাশের হাইনান ও গুয়াংডং প্রদেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ চীনের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। গুয়াংসি, গুয়াংডং, হাইনান ও ফুজিয়ান অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
চুংজুও শহরে নদীর পানি উপচে পড়ে শহরের ভেতরে ঢুকে গেছে। কোথাও কোথাও পানির উচ্চতা ভবনের ছাদ ও বিদ্যুতের তার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
চুংজুও কর্তৃপক্ষ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দাদের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফিরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাপান ও তাইওয়ানের দিকে টাইফুন সাউদেল
এদিকে মাঝারি শক্তির টাইফুন সাউদেল দক্ষিণ জাপান ও উত্তর তাইওয়ানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এরই মধ্যে তাইওয়ান জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে আরেকটি আবহাওয়াজনিত দুর্যোগে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং চারজন নিখোঁজ রয়েছেন।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, টাইফুন সাউদেল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের দ্বীপগুলোর দিকে এগিয়ে আসায় ধ্বংসাত্মক দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এতে অত্যন্ত শক্তিশালী বাতাস ও উত্তাল সমুদ্রও সৃষ্টি হতে পারে।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, সাউদেল তাইওয়ানের উত্তর দিক দিয়ে অতিক্রম করবে এবং বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ধীরে ধীরে ঝড়টির শক্তি কমে আসবে এবং ঝড়ো বাতাসের বিস্তৃতিও সংকুচিত হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।